দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ সোরাইসিস

দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ সোরাইসিস

দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ সোরাইসিস

মানবদেহ এক জটিল যন্ত্র। নানা কারনে এর অভ্যন্তরে এবং বর্হিভাগে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন জটিলতা। সাধারণতঃ যে সমস্ত জটিলতা বা রোগ দেখা দেয় তার অনেকগুলোই ‘সাদা চোখে’ ধরা পড়ে না। তবে ডাক্তারগণ কিন্তু অনেক রোগের ব্যাপারই রোগীদের সচেতন করে দেন। এর একটি হচ্ছে চর্মরোগ। চর্মরোগের মধ্যে সবচে ভয়াবহ যা কখনোই নির্মূল হয় না, তা হচেছ সোরাইসিস। মুলত সোরাইসিসকে অনেকটা বংশগত ব্যাধি হিসেবে ধরা হলেও এটি কিন্তু সংক্রামক নয়। দেশর অধিকাংশ লোকই সোরাইসিস সর্ম্পকে অসচেতনন। তাই সোরাইসিস নামক ভয়াবহ চর্মরোগ সর্ম্পকে মোটামুটি  ধারনা নেবার জন্যেই এই নিবন্ধ-

সোরাইসিসকে একটি জটিল চর্মরোগ। এতে ত্বকের কোনও কোন ও অংশ উচু হয়ে ওঠে এবং সাদা সাদা মামড়ি হয়ে সেই অংশটা ঢেকে যায়।

এই মামড়িগুলো সামান্য ঘষাঘষি বা আচড়াজনিতে খুব সহজেই খসে যায়। সব মামড়ি সরিয়ে ফেললে নীচের ত্বক বেরিয়ে পড়ে, তার রঙ হয় লালচে এবং তার মধ্যে বিন্দু বিন্দু রক্তক্ষরণ ঘটাতে দেখা যায়।

সোরাইসিস রোগ নান কারণে হতে পারে। কোন কোন বংশ এই রোগ বিভিন্ন প্রজন্মে দেখা যায়। আবার বিভিন্ন বাহ্যিক ও পারিপার্শ্বিক কারণ যেমন আঘাত পাওয়া পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণেও এই রোগ বাড়িয় তুলতে পারে। অন্যদিকে কিছু কিছু ওষুধ ও এই রোগের বীজ লুকিয়ে আছে বিভিন্ন বাহ্যিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে তাদের কারো কারো মধ্যে  এই রোগের প্রকাশ ঘটতে পারে। প্রাথমিকভাবে এই রোগ  দেখা যায় মাথায় বা হাত পায়ের বাইরের দিকে। বিশেষ করে হাটুতে বা কনুইয়ের উপর। পরে ত্বকের যে কোন অংশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সোরাইসিস রোগে হাতের ও পায়ের বাইরের দিকে। বিশেষ করে হাটুতে বা কনুইয়ের উপর। পরে ত্বকের যে কোন অংশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সোরাইসিস রোগে হাতের ও পায়ের নখেও কিছু পরিবর্তণ লক্ষ্য করা যায়। এই রোগের প্রভাবে নখের রং হলদেটে হয়। নখ মোটা হয়ে যায়। নখের তলায় হলদে রংয়ের গুড়া জমা হয়। নখের উপর ছোট ছোট গর্ত্ও দেখা যায়। খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রে হাত পা বা কোমরের গাটগুলো  এই অসুখে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মাথার ত্বকেও খুসকির মতো মামড়ি জমা হয়। কখনও ত্বকের আক্রান্ত অংশে ছোট ছোট পুজভরা ফুসকুড়ি দেখা যায়।

কখনও এই রোগ শরীরের একটা অংশে শুরু হওয়ার পর ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে সমস্ত ত্বকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সাধারণতঃ প্রাথমিক অবস্থায় ঠিকমতো চিকিৎসা হলে এই রোগের প্রসার অনেক ক্ষেত্রেই রোধ করা যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে ভূল চিকিৎসার কারণে এই রোগ সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর জন্য এক মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ থেকে রোগীর মৃত্যু পর্যণ্ত ঘটতে পারে। গোড়ার দিকে যখন ছোট ছোট জায়গায় এই অসুখ দেখা দেয়, তখন সঠিক চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়ি দাগগুলো মিলিয়ে যায়। এরপর সময়ে সময়ে ডাক্তার দেখলে বহুদিন পর্যন্ত রোগীকে ভালো রাখা সম্ভব। এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয় বা একবার চিকিৎসা হরে আর কোনদিন হবে না এমনটিও বলা যাবে না। কিছুদিন চিকিৎসা বন্ধ রাখলে অবার এই রোগ দেখা দিতে পারে।

সোরাইসিস যে কোনও বয়সেই হতে পার। সাধারণতঃ কুড়ি থেকে চল্লিশ বছরের প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে নবজাত শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ পর্যণ্ত যে কেউই এই রোগের শিকার হতে পারেন।

এই রোগ ছেয়ে গেছে নয়। একজনের থাকলে তার সংস্পর্শে অন্যজনের   এই রোগ হবার হবার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ এটা কোন জীবানুঘটিত সংক্রামক রোগ নয়। এটা একটি প্রদাহজনিত চর্মরোগ।  এই জন্য সোরাইসিস রোগীর ত্বক থেকে যদি মামড়ি খসে ঘরে অফিসে বা পারিপার্শ্বিক আবহে ছড়িয়ে পড়ে, তা থেকে অন্য কারো এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।  সোরাইসিস রোগীদের খাদ্যগ্রহণে কোন বিধিনিষেধ নেই এবং যাদের শরীরের অনেকটা অংশ এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সারাদিনে অনেক মামড়ি খসে যায়। এই মামডির মাধ্যমে বেশ কিছু প্রোটিন ক্ষয় হয়। এই জন্য এই রোগীদের উচ্চ  প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। তাহলে কিছুদিন পর প্রোটিনের ঘাটতিজনিত অসুখের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সোরাইসিস রোগীর কয়েকটি ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। দেখতে হবে শরীর যেন কোন অবস্থায় কেটে বা ছিড়ে না যায়্ কারণ কাটা, ছেড়া বা পোড়া জায়গায় এই রোগ দেখা দেবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সোরাইসিস রোগীর খুব বেশি চড়া রোদে ঘুরাফেরা করা ‍ উচিত নয়।  কারণ রোদে পোড়া অবস্থায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সোরাইসিস রোগীকে ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সাবধনতা অবলম্বন করতে হবে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ হৃদরোগে ব্যবহৃত বিটা ব্লকারজাতীয় ওষুধ। হাপানি বা অন্য কোন কারণে যদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেতে দেয়া হয তাতেও বিপদের সম্ভাবনা থাকে।

সোরাইসিসের চিকিৎসা র্নিভর করে শরীরের কতটা অংশ  এতে আক্রান্ত হয়েছে এবং রোগীর কতটা অসুবিধা হচ্চে তার উপর। যেহেতু এই রোগে কোন যন্ত্রণা হয় না, জ্বালা হয় না, চুলকানিও সামান্য সেহেতু অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ শরীরের অনেকটা জায়গা জুড়ে হলেও রোগজনিত কষ্ট তেমন কিছুই হয় না। শুধুমাত্র দৃষ্টিকটু চর্মরোগের জন্য আমাদের দেশে অনেকেই এর চিকিৎসায় তেমনটি গরজ দেখান না। সাধারণভাবে বলা যায় ছোট খাট দাগ যেগুলো রোগীর শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলোর জন্য বাইরে তেকে লাগানো ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করাই ভালো। এছাড়া যদি শরীরের খুব বেশি অংশ আক্রান্ত হয়ে থাকে অথবা এর সঙ্গে গাটে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে তখন খাবার ওষুধ ব্যবহার করতে হয়।

সোরাইসিসের চিকিৎসায় খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী ভালো থাকেন। তবে কিছুদিন বাদে যখন আবার রোগ দেখা দিতে থাকবে তখন আবার চিকিৎসা করাতে হবে। অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগের দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। রোগ সারানোর জন্য প্রয়োজন মতো চিকিৎসা করানোই উত্তম।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


About Author

Khaled

I am Khaled, the owner of the Khaled rent a car.

Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar