নবদম্পতিদের বেড়ানোর জন্য মনোরম পার্ক – গার্ডেন

নবদম্পতিদের বেড়ানোর জন্য মনোরম পার্ক – গার্ডেন

নবদম্পতিদের বেড়ানোর জন্য মনোরম পার্ক – গার্ডেন   (Visiting places for the new couple)

নবদম্পতিরা একটু বিনোদনের জন্য আশপাশের কিংবা দূরের কোন নির্জন পার্কে বেড়াতে যেতে পারেন। সবুজ গাছগাছালি ও ফুলের বাগানে বেড়ানো ও এখানে সময় কাটানোর জন্য ঢাকা মহানগরীসহ দেশের প্রতিটি জেলা শহরে মনোরম পার্ক ও গার্ডেন রয়েছে। এর কোথাও কোথাও দম্পতীদের বসার সিট রয়েছে। কৃত্রিম লেক কিংবা নদী তীরেও বেড়ানো যেতে পারে। দম্পতিদের বেড়ানোর জন্য নিচে কয়েকটি বড় শহর ও উল্লেখযোগ্য স্পট বা পার্ক রয়েছে তার বর্ণনা নিচে দেয়া হল।

ঢাকাঃ ঢাকার জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন), চন্দ্রিমা উদ্যান, গুলিস্তান চিলড্রেন পার্ক, গুলশান পার্ক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পার্ক গার্ডেন রয়েছে। জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানটি হল মিরপুর চিড়িয়াখানা সংলগ্ন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে বেড়ানো যায় দর্শনীর বিনিময়ে। এখানে বিভিন্ন গাছের সমারোহ দেখতে পাবেন। কৃত্তিম পাহাড়, লেক, ফুলের বাগান ও বাঁধ অন্যতম আকর্ষণ। শেরে বাংলা নাগরে ‘চন্দ্রিমা উদ্যান’। প্রতিদিন এটিও খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য নেই। সন্ধ্যার পরে এখানে অবস্থান নিরাপদ নয়। চন্দ্রিমা উদ্যানের বনবীথি প্রান্তরে বসা কিংবা হাঁটার দারুণ বৈচিত্র রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক পাশাপাশি। সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা। বলধা গার্ডেনটি ওয়ারীতে। তিরিশের দশকে নরেন্দ্র নারায়ণ নামে রায় জনৈক প্রভাবশালী লোক বলধা গার্ডেনে বিভিন্ন ফুলের গাছ, পদ্ম পুকুর, রেস্ট হাউস স্থাপন করেন। এখানে প্রবেশ করে পদ্ম পুকুর ঘাটে বসতে পারেন। প্রাকৃতিক ঘরিটিও দেখুন। সংসদ ভবনের সামনের গার্ডেনেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদে বেড়ানো যায়। লালবাগ দুর্গের গার্ডেনে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত বেড়ানো যায়।  লালবাগ দুর্গের গার্ডেনে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত বেড়ানো যায়। শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১২ টা এবং দুপুর ২ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

ভাওয়ালঃ ঢাকা থেকে ৪০ কিমি. দূরে ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক। এখানে জাবেন সড়ক পথে বাসে। প্রাইভেট কার নিয়েও যেতে পারেন। ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কের গজারি বন ও অন্যান্য বৃক্ষরাজির মর্মর শব্দ সবুজ গাছ গাছালির আপুর্ব সমারোহ, পাখীর সুরেলা ডাক আপনার মন নিমিষেই আকৃষ্ট করবে। ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কটি এদেশের সবচেয়ে বড় পার্ক। এখানে দম্পতিরা সারাদিন ঘুরে প্রবল আনন্দ পাবেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে অবস্থান করবেন।

সোনারগাঁও পার্কঃ ঢাকা থেকে ২৪ কিমি. দূরে সোনারগাঁও গেলে পার্ক দেখতে পারবেন। গার্ডেনও আছে। বাগানে বছরের যে সময় যাবেন তখনই মনে হবে বাংলার ষড়ঋতুর অপরূপ বৈচিত্র বুঝি সব এক হয়ে মিশেছে এখানে। কদম-কামিনী, রজনীগন্ধা, জুঁই, চামেলি, বকুল, শেফালী ছুলে আচ্ছাদিত সোনারগাঁও-এর বাগান।

চট্টগ্রামঃ এখানে নাসিরাবাদ পার্ক, বাটালী হিলস পার্ক, টাইগার পাস পার্ক, পাঁচলাইশ পার্কে বেড়াতে পারেন সারাদিন। এসব পার্কের সর্বত্রই ফুলের বাগান আছে। বাটালি হিলস পার্কের মনোরম দৃশ্য দম্পতিদের মনকে আকৃষ্ট করবে। সিঁড়ি বেয়ে পাহাড় শীর্ষে উঠে বেড়াবেন। সারাটা দিন এখানে কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হবে হাতে হাত রেখে প্রেমের কথা বলে। হয়তো বা তখন হৃদয়ের কোণে জেগে উঠবে- ‘প্রেম একবার এসেছিল নীরবে আমারও দুয়ার প্রান্তে সে তো হায় মৃদু পায়… ।’

খুলনাঃ এখানে হাদিস পার্কটি দম্পতীদের মন কেড়ে নেবে। ফুলের বাগানে পায়ে হেঁটে বেড়াবেন নয়তো গাছ তলায় বসবেন। এখানে লেক দেখতে পাবেন। প্রেমিক-প্রেমিকা ও নবদম্পতিদের বেড়ানোর সুন্দর জায়গা খুলনার ‘প্রেমকানন’। এখানে তাজা গাছের তৈরি মানুষ, বানর ঘোড়া, হাতি, বাঘ, হরিণ, ভল্লুক দেখতে পাবেন। বাগানের এক কোণে পাথরের তৈরী কৃত্তিম পাহাড় ও হ্রদ রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসে নবদম্পতিরা বর্তমান ও আগামী দিনের কথা ভেবে ভেবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠবেন হয়তোবা।

রাজশাহীঃ এ শহরের শেষপ্রান্তে জজ কোর্টের কাছে রাজশাহী উদ্দ্যান। উদ্দ্যান সংলগ্নে পর্যটনের হোটেল। রাজশাহী উদ্যানে ফুলের বাগান, লেক, ফোয়ারা আছে। উদ্দ্যান সংলগ্ন ক্যানেল নদী দেখবেন। এখানে বেড়ানোর জন্য বট পাবেন – দম্পতিরা এই বোটে বেড়ায়ে সুখকর আনন্দ খুঁজে পাবেন। শহর সংলগ্ন পদ্মা নদী – এই নদী তীরে বেড়ানোর জন্য পার্ক – গার্ডেন আছে। দম্পতীরা সিটে বসে পদ্মা নদীকে উপভোগ  করতে পারেন। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে পায়ে হেঁটে বেড়াতে এখানে কোন ক্লান্তি নাই। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা শহরে পার্ক রয়েছে, এর সর্বত্রই দম্পতিরা বেড়াতে পারবেন। এর সব পার্কেই সুন্দর গাছপালা, ফুলের বাগান আছে – সুধু তাই নয়, বসার ব্যবস্থাও আছে। প্রায় পার্কই খুব নির্জন। তাই গাছ গাছালির নিচে কিংবা ফুল বাগানের পাশে শুধু বসেই থাকতে ইচ্ছে হবে – তখন দম্পতীদের মন আনন্দে ভরে উঠবে। তবে পাহাড়ি শহর বান্দরবান, রাঙামাটির পার্কে বেড়ানোর সময় উঁচুনিচু পথ ধরে কিংবা পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে উঠার সময় আরও বেশি আনন্দ বেশি লাগে। রাঙামাটির পার্কে বেড়ানোর সময় লেকের তীরে ঘন্টার পর ঘণ্টা ঘরে বসে থাকতে ইচ্ছে হয়। তারপর… ওই যে হ্রদে স্পিডবোট নয়ত টলার ভাড়া করে নিয়ে নবদম্পতিরা বেড়াবেন। আর তখনই নবদম্পতিদের মুখে এসে ভির করবে – ‘অনাদিকালের স্রোতে ভাসা মোরা দুটি প্রাণ নয়নে নয়ন রাখি… ’ গানের এই কথাগুলো।

By লিয়াকত হোসেন খোকন


About Author

Khaled

I am Khaled, the owner of the Khaled rent a car.

Ask For Rent/ Fare

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

We will let you know the "Rent/Fare" within 10 minutes through SMS or Email.
Call Now ButtonCall Now!
Skip to toolbar