পাকস্থলীর ক্যান্সার

পাকস্থলীর ক্যান্সার

পাকস্থলীর ক্যান্সার

ডাঃ এস এ খালেক

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পাকস্থলীর ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা শতকরা দশভাগ। এখন প্রায় প্রতি বছর এর কারণে মৃত্যু ঘটে ১৫ হাজার লোকের। জাপান, মধ্য ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পাহাড় অঞ্চলে এর প্রকোপ বেশি। পক্ষান্তরে মেক্সিকো, মালেশিয়াতে ক্যান্সারের প্রকোপ কম। আমেরিকা এবং ইউরোপে পাকস্থলীর ক্যান্সারের হার অজানা কারণে ইদানিং কমে গেছে। যে সমস্ত জাপানি আমেরিকাতে অভিবাসী হয়েছেন তাদের ক্যান্সারের সংখ্যা কমেনি বটে কিন্তু তাদের সন্তানাদির মধ্যে এর প্রকোপ কম হতে দেখা যায়। চল্লিশ বছর আগে পাকস্থলীর ক্যান্সারে প্রতি লাখ লোকের মধ্যে যে সংখ্যা ছিল ৩০ তা এখন মাত্র ৮।

আমাদের দেশে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে যারা ক্যান্সার চিকিৎসার করেন তাদের ধারণা আমাদের দেশেও এর সংখ্যা বিরল নয়।

যে কোন বয়সেই এ ক্যান্সার দেখা দিতে পারে তবে প্রবীণদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব বেশি। শতকরা ৭৫ ভাগ ক্ষেত্রে রুগীর বয়স পঞ্চাশ বছরের  ‍উপর। ৪০ বছরের কম বয়সে দেখা দেয় মাত্র পাঁচ ভাগ ক্ষেত্রে । আমাদের দেশে অপেক্ষাকৃত কম বয়সে এ ক্যান্সার হয়। মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই আক্রান্ত হয় বেশি হারে। তাদের আনুপাতিক হার যথাক্রমে পুরুষ ২ মহিলা ১। এই ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাবের ব্যাপারে জাতিগত প্রভাব লক্ষণীয়। ককেশিয়ান, ইউরোপিয়ান ও জাপানীরা বেশি আক্রান্ত হয়। মালেশিয়াতে যেখানে মিশ্র শ্রেণীর লোকের বাস সেখানে মালেদের চেয়ে চীনাদের মধ্যে এদের প্রার্দুভাব বেশি। হাওয়াই দ্বীপে স্থানীয় লোকদের চেয়ে জাপানীরা আক্রান্ত হয় বেশি।

‘এ ’ রক্ত শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তিদের পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে দেখা যায়। অবশ্য এর কারণ এখনও জানা যায়নি। যাদের প্যাপিলোমা, এডিনোমাজাতীয় টিউার বেশি হয় । ইউরোপীয় শলা চিকিৎসকরা মনে করেন যাদের পেপটিক আলসারে অস্ত্রোপাচার হয়েছে তাদের ১০-১৫ বছর পর ক্যান্সার হবার আশংকা বেশি।

পাকস্থলীর কোন জায়গা হতে ক্যান্সার হয় ?

পাকস্থলীর নিম্নলিখিত জায়গা হতে ক্যান্সার জন্ম নিতে পারে ঃ

১. পাইরোলাস বা পাকস্থলী বার মুখের এক ইঞ্চির মধ্যে (যদিও পাইরোস নয়) ৭০ শতাংশ।

২. ডানদিকের প্রাণ্ত রেখা বরাবর ২৫ শতাংশ।

৩. দেহের মধ্যভাগ হতে ৫ শতাংশ।

ক্যান্সারের ধরণ কি ? শ্রেণী বিভাগ কেমন?

খালি চোখে দৃশ্যমান চেহারার বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এরা হতে পারে।

১) কলিফ্লাওয়ার অথবা ফুলকপি সদৃশ।

২) আলসোরেটিভ বা ক্ষত।

৩) ডিফিউজড

       দেখতে কেমন ?

কলিফ্লাওয়ার জাতীয় টিউমার গন্ডিকারে নালীর অভ্যন্তরে বেরিয়ে থাকে। এর উপরতল এবড়োথেবড়ো আকার ধারন করে। ফলে ফুলকপির মত দেখতে হয়। তাদের বৃন্ত থাকতে পারে বা বৃন্তহীন হয়। এদের সাইজ ২-২.০ সেন্টিমিটার (গড়ে ৮ সেন্টিমিটার)। এর নরম, ভঙ্গুর হয় যা সহজেই ভেঙ্গে যায়। রং রক্তাক্ত ধূসর, ঝিল্লি কোষ পর্যন্ত ব্যাপ্ত হয় বলে বাইরে থেকে নজরে পড়ে না।

আলসারেটিভ জাতীয় ক্যান্সার শক্ত গন্ডিকা আকারে শুরু হলেও শিগগিরই ক্ষতগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ক্ষতের পরিধি গড়ে ১-২ সেন্টিমিটার। কিনারা সাপের মত আকাবাকা। ক্যান্সার বাড়ার সাতে সাথে কিনারা স্ফীত হয়ে পড়ে। ক্ষতের নিচে বা মেঝে কঠিন অসমতল। তার রং ধূসর বা গোলাপি। ঝিল্লি রস দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে চকচকে দেখায়।

ডিফিউজ শ্রেণীর ক্যান্সার খালি চোখে দেখলে কোন ঘা বা টিউমার নজরে পড়ে না। দেখা যায় গা শক্ত ও মোটা হয়ে যায়। সাধারণ অবস্থার চেয়ে ৪-৫ গুন পুরু জায়গা নিয়ে কেন্দ্রীভূত থাকতে পারে বা বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে তা হতে পারে। সমগ্র দেয়াল আক্রান্ত হলে পাকস্থলীটা লেদার বোতল বা বিস্তিওয়ালার পানির বোতলের রূপ নিতে পারে। স্পর্শ করলে পাথরকুচির মত অনুভূতি হয়।

অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে অবলোকন করলে দেখা যায় তারা এডিনোকারসিনোমাজাতীয় ক্যান্সার। ছোট বড় বিভিন্ন মাপের গ্লান্ডসমূহ এলোমেলো আতাড়ি পাতাড়িভাবে রয়েছে যা তন্দুকলা দ্বারা বিভাজিত। অনেক সময় কোন গ্লান্ড দেখা পাওয়া যায় না। এনাপ্লাসটিক কোষসমূহ বিস্তির্ণভাবে রয়েছে।

কোষসমূহের মধ্যে মিউকাস জমা হয়ে আছে কোন কোন কোষের নিউক্লিয়াস এক পাশে তাপের ফলে কোনঠাসা হয়ে গেছে। দেখতে অনেকটা আংটির মত। তাদের সিগনেট সেল বলে।

       ছড়ায় কেমন করে ?

পাকস্থলীর কারসিনোমা নিম্নলিখিত পন্থায় প্রসার লাভ করে ঃ

ক) স্থানীয়ভাবে পাশ্ববর্তী এলাকায় বিস্তার লাভ করে।

খ) লসিকা প্রবাহের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। লসিকা প্রবাহের মাধ্যমে এই টিউমার দেহের অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়। নিম্নলিখিত লসিকা গ্রন্হি আক্রান্ত হয়ে থাকে। লেসার কারভেচারের গ্রন্থি প্রি এয়োটিক ও অবশেষে সাবক্লাভিকুলার লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয়। সুপারাক্লাভিলার গ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে বহু আকার ধারণ করে। তখন তাকে ভারকোজ গ্রন্থি বলা হয়।

গ) ট্রান্সপেরিটোনিয়ামঃ পেরিটোনিয়াম গহ্বরের মাধ্যমেও এ ছড়াতে পারে। এই পথে বিভিন্ন অঙ্গসমূহ আক্রান্ত হয়। উদাহারণ স্বরূপ বলা যায় ডিম্বকোষ, রেকটাম ক্রকেনাবাস, টিউমার ইত্যাদি।

ঘ) রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে কিছু কিছু ক্যান্সার গ্রস্থ কোষ রক্তে ঢোকে এবং রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে স্থানান্তরিত হতে পারে। এই পথে সর্বাপেক্ষা অধিকহারে আক্রান্ত হয় যকৃত। অন্যান্য অঙ্গ যা এ পথে আকান্ত হতে পারে তা হল ফুসফুস ও হাড়।

       লক্ষণ কি ?

রোগের লক্ষণ দেখে সাধারণত পেপটিক আলসার না ক্যান্সার অনেক সময় তা বোঝা যায় না। মাত্র এক চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের টিপিকাল লক্ষণ দেখা দেয়। সমস্ত লক্ষণ হচ্ছে প্রথমত পেটের উপর এদিকে ডিসপেপসিয়াজনিত অস্বস্তি যেমন পেট ভর্তি ভাব, চিনচিন ব্যাথা। ব্যাথা প্রচন্ড রূপ নিতে পারে। খাদ্যে অরূচি, এমনকি গা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

শরীরের ওজন দারুনভাবে কমে যায়। রক্তশূরণ্যতা, দূর্বলতা, শীর্ণতা ইত্যাদি দেখা দেয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। পরে পেটে ফাকা দেখা দেয় বা টিপলে ব্যাথা লাগে।

রোগ নির্ণয়ে কি কি ইনভেসটিপেন করা দরকার ?

       রোগ ধরতে- নিম্নলিখিত ইনভেসটিপেশন সাধারণত করেন ডাক্তাররা। রক্ত পরীক্ষা, রক্তশূণ্যতা বিদ্যামান থাকে যা সাধারণত পারশিনাসজাতীয়। রক্তে শ্বেতকণিকার সংখ্যা সর্বাধিক বৃদ্ধি পায়। পায়খানায় অকাল্টাব্লাড টেস্ট পায়খানায় এই পরীক্ষার সাথে রক্ত যায় তা ধরা পড়ে। পেটের এক্সরে পেটের বেরিয়াম মিল্ক এক্সরে করা হয় এবং ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তাতেই ক্যান্সার ধরা পড়ে।

সাইঠোরাজী বা কোষ পরীক্ষা বায়োপসি

এক্স রেতে অনেক সময় ক্যান্সার নিশ্চিত হওয়া যায় না তাই এনডোস্কপীর মাধ্যমে বায়োপসি করে মাইক্রোসকোপের তলায় দেখা হয়।

চিকিৎসা কি ?

অস্ত্রোপচার হচ্ছে পাকস্থলীর ক্যান্সার চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়। ক্যান্সার যদি খুব প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে এবং শুধু উপরের অংশে কেন্দ্রীভূত অবস্থায় থাকে, তবে অস্ত্রোপাচার সুফল দেয়। রুগী অনেক বছর জীবিত থাকে।

যদি ক্যান্সার আর অস্ত্রোপাচারের পর্যায়ে না থাকে তবে সেক্ষেত্রে এর চিকিৎসা হচ্ছে রেডিও থেরাপী বা কেমোথেরাপী বা দুয়ের সমন্বয়। রেডিও থেরাপী মানে তেজস্ক্রিয়তা আর কোমোথেরাপী মানে ক্যান্সার নাশ ওষুধ খাওয়ান।

পাকস্থলীর কারসিনোমা নিম্নলিখিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে ঃ

ক) রক্তপাত হতে পারে এর ফলে রক্ত বমন হতে পারে।

খ) রক্তশূণ্যতাঃ রক্তপাত ও ইনটিনজিক ফ্যাকটরের অভাবে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়।

গ) পাকস্থলীর দেয়াল ফুটো হয়ে পেরিপোনাইটিস সৃষ্টি হতে পারে।

ঘ) গ্রাসট্রো কলিক ফিসটুলা পার্শ্বস্থ বৃহদান্ত্রের সাথে একটি নালী সৃষ্টি হতে পারে।

ঙ) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া।

রোগ ভবিষ্যৎ ও পরিণতিঃ পাকস্থলীর কারসোনোমার ভবিষ্যৎ খুব অন্ধকার। রোগীর পাঁচ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কেবলমাত্র শতকরা দশ ভাগ।

নিম্নলিখত ক্ষেত্রে এর ভবিষ্যৎ অপেক্ষাকৃত ভাল ঃ

ক) যদি পলিমারে শ্রেণীর টিউমার উপরের অংশে কেন্দ্রিভূত থাকে ও তখন তা অস্ত্রোপাচারের দ্বারা ফেলে দেয়া হয়।

খ) ক্ষতের আয়তন যখন ছোট (চার সেন্টিমিটারের চেয়ে কম হয়)

গ) পাকস্থলীর অসুখের লম্বা ইতিহাস। সে ক্ষেত্রে প্রতিরোধকরা ইঙ্গিত বহন করে।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


About Author

Khaled

I am Khaled, the owner of the Khaled rent a car.

Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar