মরণব্যাধি এইডস

মরণব্যাধি এইডস

Tags :

Category : Ambulance Service

মরণব্যাধি এইডস

এ কে সালাহ আহমদ

এক সময় প্লেগ, কলেরা, বসন্ত, যক্ষা ইত্যাদিকে বলা হতো মারাত্মক ব্যাধি। পৃথিবীর বহুদেশে বহু জনপদে এসব রোগামাহারী আকারে দেখা দিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি বিশেষ করে চিকিৎিসা বিজ্ঞান উন্নতির ফলে আজ এগুলো মারাত্মক কোন রোগ বলে বিবেচিত হচ্ছে না। তাছাড়া চিকিৎসার মাধ্যমে এগুলো এখন নিরাময় সহজসাধ্য হয়েছে। কলেরা ও বসন্ত রোগ সম্পূর্ণ রূপে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। রাজরোগ হিসেবে পরিচিত এবং বকে সময় যেমন বলা হতো যার হয় যক্ষা তার নেই রক্ষা’ আজ তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সেই রাজরোগকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তুলছে। তারপর এল ক্যান্সার নামক ব্যাধি। যাকে বলা হয় দুরারোগ্য ব্যাধি। চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি একদিন এটাও চিকিৎসার সম্পূর্ন আওতায় এসে যাবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চিকিৎসাবিদগণ এর জন্য গবেষনা চালিয়ে যাচেছ এবং এর সফলতা সম্পর্কে তারা অনেকটা আশাবাদী।

কিন্তু বিশ্বে যখন বিংশ শতাব্দীকে বিদায় জানিয়ে একবিংশ শতাব্দীকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি নিচেছ ঠিক তখনই বিশ্ব সভ্যতাকে প্রকম্পিত করে আশির দশকের প্রথম দিকে দুনিয়ায় আগমণ ঘটেছে ‘এইডস’  নামক এক মরণব্যাধি। প্রথমে আফ্রিকায় বিভিন্ন অঞ্চলে এ রোগের প্রার্দুভাব ঘটলেও ক্রমে ক্রমে তা বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও মহাদেশে বিস্তার লাভ শুরু করে। এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু করল এর উপর গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা। আবিষ্কৃত হলো এর কারণ। এই ভাইরাস দেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে মানুষের সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জীবনী শক্তি ধ্বংস করে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। আশির দশকের প্রথমদিকে এইডস নাম এই মরণব্যাধির কথা জানা গেছে। প্রথমে আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে েএই রোগ এশিয়া ও ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে এর প্রকোপ এশিয়া মহাদেশের উন্নয়নশীল ও উন্নয়নকামী দেশসমুহে বেশি বিস্তার লাভ করছে। এ পর্যণ্ত পৃথিবীর প্রায় পৌনে দু শত বদেশে এইডস বিস্তার লাভ করেছে। এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে দেড় কোটি লোক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে বর্তমান শতাব্দীর শেষ নাগাদ এ সংখ্যা ৩ থেকে  ৪ কোটিতে গিয়ে দাড়াভে। ফলে তখন পুর্ণাঙ্গভাবে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হবে এক থেকে দেড় কোটি এবং তার নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বে বর্তমানে ত্রিশ লাখ এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত মহিলা রয়েছে এবং এদের সবাই সন্তানের ধারণের বয়সের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব থেকে আরও জানা গেছে,  এ ত্রিশ লাখ আক্রান্ত মহিলার মধ্যে ২৫ লাখ মহিলা আফ্রিকায় বসবাস করে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ সংখ্যক এইডস আক্রান্ত মহিলা বসবাস করে ল্যাটিন অ্যামেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। ১৯৮৯ সাল থেকে এশিয়া মহাদেমে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

পৃথিবীতে এখন এইডস বিষয়ক আলোচনা সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ এই রোগের কারণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা নিয়ে নিরলসভাবে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া জাতিসংঘের সহযোগীতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য, ইউনিসেফ, ইউনোস্কো, ইউএনডিপি, ইউএনএফপি ইত্যাদি আর্ন্তজাতিক সংস্থা এইডস রোগের বিস্তার রোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচেছ।

এইডস রোগের জীবাণূ এইচআইভ ভাইরাস একটি অতি ক্ষুদ্র এবং বিশেষ ধরনের জীবানু যা মানুষের দেহের সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। এইডস রোগের উপর পরিচালিত গবেষনার ফলাফলে জানা গেছে, এই মারাত্মক ভাইরাস সাধারণত যৌনাঙ্গ এবং পায়ুপথেই মানব দেহে প্রবেশ করে। যৌন ব্যভিচার, বহুকামিতা, সমকামিতা ইত্যাদি বিকৃত যৌনাচারের মাধ্যমেই এর বিস্তার ঘটে। আবার আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্ত সঞ্চালন, ইনজেকশনের সুই এবং আক্রান্ত মায়ের গর্ভজাত সন্তান উত্তরাধিকার হিসেবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এক কথায় পবিত্র যৌনজীবনকে কুলষিত করার ফল হিসেবেই এই রোগ আক্রমণ করে। লক্ষণীয় যে, আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে শতকরা ৭০% রোগী হল ১৫ -২৪ বছর বয়সী যুবক যুবতী। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, এ বয়সের যুবক যুবতীরে বিকৃত রুচি ও নোংড়া যৌন ব্যভিচারের ফলেই এটা হয়ে থেকে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বলা যায়, এইডস নামক এই মরণব্যাধির স্রষ্টার গজব। আজ পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন চিকিৎসা আবিষ্কার করতে পারেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অদূর ভবিষ্যতেও এর কোন চিকিৎসা আবিষ্কৃত হবে এমন আশা করা যায় না।

১, ৪৪, ০০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের আমাদে এই ছোট দেশটির চারদিকের দেশসমুহে এইডস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে হাজার হাজার ঘাতক ব্যাধি এইডস এ আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী গত িএক বছরে এশিয়ায় এইডস রোগাক্রান্ত লোকের সংখ্যা আটগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।  এ অবস্থা আমাদের দেশকেও যথেষ্ট ভাবনায় ফেলছে। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম েএকজন এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে সরকারী হিসেবে জানা গেছে এবং এদের কয়েকজন মারাও গেছে। এ হিসাবটা সঠিক কিনা তাতে সন্দেহ আছে। কারণ, ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকরির ইত্যাদির কারণে আমাদের জনসংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিনিয়ত এইডস আক্রান্ত দেশসমূহের ভ্রমণ করে থাকে এবং ঘটনা/দুর্ঘটনায় সেসব দেশের আক্রান্তদের সাথে অসাবধান যৌন জীবনযাপনের মাধ্যমে এই মারাত্মক ভাইরাস নিজ দেহে বহন করে দেশে ফিরে আসতে পারে। ঘটনা দুর্ঘটনার কেউ এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হলে লজ্জায় এবং ভয়ে অনেকে তা প্রকাশ নাও করতে পারে। ফলে গোপনে গোপনে রোগটি এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তাছাড়া যেহেতু এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বিশেষ বিশেষ পরীক্ষাগার ছাড়া অন্য খানে এটা করা সম্ভব হয় না ফলে গোপন রোগটি গোপনই থেকে যেতে পারে।

দেশে এইডস প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনডিপি, ইউনিসেপ,  ইউএসআইডিসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থা সহযোগীতায় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে  এইডসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে খসড়া জাতীয় এইডস নীতি প্রণীতি হয়ে চূড়ান্ত করণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পেশ করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেশকিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছে। আমরা আশা করি, আমাদের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দেশকে এইডসের থাবা থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হবো।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


About Author

Khaled

I am Khaled, the owner of the Khaled rent a car.

Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar