স্মৃতিশক্তি বাড়ান যায় কি ?

  • by

স্মৃতিশক্তি বাড়ান যায় কি ?

কল্পনা করুন বন্ধু বান্ধবের সাথে হয়ত ঠেসে আড্ডা দিচেছন। মাঝখানে একজনের নাম মনেই আসছে না কিছুতেই। গল্পর মজাটাই মাঠে মারা গেল। বাড়ি থেকে বের হবার মুখে গিন্নি পইপই করে বলে দিল মরণচান থেকে সন্দেশ এন। বাড়ি ফিরলেন খালি হাতে। কথাটা মনেই নেই। একেবারে। অবস্থাটা ভেবে দেখুন। স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যেককেই কতই না এ ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়।

স্মৃতিশক্তি মানুষের জন্য সত্যই এক অমুল্য ধন। ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি এক বিড়ম্বনা। জীবনে উন্নতি করতে হলে পর্যাপ্ত স্মৃতিশক্তি একান্ত প্রয়োজন।

ছাত্র হোক, ব্যবসায়ী হোক, কর্মচারী হোক সকলের জন্যই কথাটা সত্য। যে ছাত্র তার পাঠ্যবস্তু যত বেশি মনে রাখতে পারে পরীক্ষায় তার রেজাল্ট হয় তত বেশি ভাল। এমনকি যেসব রাজনৈতিক নেতার স্মরণশক্তি যত প্রখর, যে যত বেশি তার দলের কর্মীদের নাম ও মুখ মনে রাখতে পারে যত বেশি জনপ্রিয় সে। সে জন্যেই দেখা যায়, বিখ্যাত নেতাদের স্মরণশক্তি অধিকারী ছিলেন বলে শোনা যায়। আমার এক আত্মীয় অবসরপ্রাপ্ত বড় অফিসারের সাথে শেখ সাহেবের দেখা হলে তার দীর্ঘ বিশ বছর পূর্বে সেই গ্রামে সভ্য উপলক্ষে স্থাণীয় যেসব নেতাদের সাথে তার আলাপ হয়েছিল তাদের নাম ধরে তাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করা দেখে স্মম্ভিত হয়ছিল। আমাদের সময়ৈ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় যে প্রথম হয়েছিল পরবর্তীকালে স নাম করা আমলা হয়েছিল। ইসলামাবাদে থাকাকালে একবার তার সাথে হওয়া কথোপকথন দিন সাতআট পর হুবুহু লাইন বাই লাইন শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বুঝেছিলাম অকল্পনীয় প্রখর স্মরণশক্তি তার উন্নতির মূল স্তম্ভ। আমাদের সময় মেডিকাল কলেজে চক্ষু বিভাগে এক অধ্যাপক ছিলেন যিনি ছাত্রদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়  ছিলেন। এর প্রধাণ কারণ ছিল তিনি তার ছাত্রদের প্রায় প্রত্যেকের নাম ধরে ডাকতে পারতেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বস্তু স্মৃতিশক্তি সম্বন্ধে আমরা কতটুকু জানি? বলতে গেলে কিছুই না। স্মরণশক্তি  এক বিশাল সমুদ্র যা এখনও রহস্যে রয়ে গেছে। অবশ্য বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এর তল উম্বোচনের প্রয়াসে ব্যাপক গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ফলশ্রুতিতে কিছু কিছু তথ্য উদঘাটিত হয়েছে  এবং হচেছ।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মৃতি বলতে শুধুমাত্র একক এক বস্তুকেই বোঝায় না। স্মৃতি একটা বড় ছাতার মত। বিরাট তার ছায়ায় নানা উপাদান, নানা রহস্য। স্মরণশক্তিকে আমরা মোটামুটি দু ভাগে ভাগ করতে পারি। এক ক্ষণস্থায়ী বা শটটার্ম মেমোরী (এসটিএম)  এর স্থায়ীত্ব আধ মিনিট থেকে দু মিনিট মাত্র। এর উদাহারণস্বরূপ বলা যায় একজন তার সেক্রেটারির কাছ থেকে কারও টেলিফোন নম্বর জেনে নিয়ে টেলিফোন করল। তারপর সেটা ভুলে গেল। দুই দীর্ঘস্থায়ী বা লংটার্ম মেমোরী (এলটিএস) এর স্থায়ীত্ব  অত্যান্ত দীর্ঘকাল ধরে।   এর উপমা বেশ কয়েক বছর পূর্বে যে বাড়িতে বাস করতেন তার কথা, স্কুলে পড়া না পারলে হেড পন্ডিত কেমন ক েবেত্রাঘাত করতেন তার কথা অনেকেরেই মানস পটে থেকে যায় বহুদিন। অতীতকালের বহু ঘটনার কথা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের মনে থাকে বলতে গেলে অপ্রতুল। এর মধ্যেও কথা আছে। অতীতে ঘটে যাওয়া কোন কোন ঘটনা মনে থাকে আবার কোন কোন ঘটনা অচিরেই  বিস্মৃতির অতল তলে তলিয়ে যায়। আমার ব্যক্তিগত জীবনের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। শৈশবকালে পরিবারের সাথে আমি একবার আসামে বেড়াত গিয়েছিলাম। কোলাহল মুখর শিলাইদহ স্টেশন থেকে আসাম মেল ছাড়ার কথা, হুহু করে ছুটে চলা ট্রেনের জানালায় দিয়ে দেখা বাইরে লাইনের ধারে নালার জল এবং সাথে কাশবনের ডেউখেলানি, নীল আকাশে শুভ্র মেঘের আনাগোনার দৃশ্য, নাটোর স্টেশনে প্লাটফর্মের ওভারব্রিজের নিচে ভেন্ডরের ‘চাই কাঁচা গোল্লা’ ডাক স্পষ্ট মানস পটে গাথা রয়েছে এখনও। কিছু ভুলে গেছি মাসাধিককালে সেই ভ্রমণের ঘটনা। কেন এমন হয় ? কোন কোন ঘটনা মনেথাকে অনেক দিন, কোন ঘটনা মনে থাকে অনেক দিন, কোন কোনটা ভুলে যাই তাড়াতাড়ি?

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ডাঃ ম্যাক্সি ফাইক বলেন, ‘প্রায় শতভাগ লোকই পঞ্চাশ বা তার কিছু আগে পরের বয়স’ স্থতে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। যদি এমন কোন রাসায়নিক পর্দাথ উদ্ভাবণ করা যেত যার দ্বারা এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস করা যায় তবে অনেক উপকার হত।

ম্সৃতিশক্তি একক কোন পদার্থ এ কথা বলা যাবে না যে ওর  স্মৃতিশক্তি ভাল তার স্মৃতিশক্তি কম। কারণ দেখা যায় কোন কোন বিষয়ে কারও স্মৃতি শক্তি ভাল নয় অবার অন্য ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক। কেউ নাম মুখের আদল মনে রাখতে পারে না অথচ জায়গার নাম, দিন তারিখের কথা, ইতিহাসের তারিখ ঠিকই মনে রাখতে পারে।

আমেরিকার প্রবীণদের ইনস্টিটিউটে ২০ -৫৫ বছর বয়স্ক ৬৬ জন ব্যাক্তির উপর গবেষনা চালিয়ে দেখা গেছে যে কানে শোনা কথা বা শিক্ষা বেশ মনে থাকে বহুদিন কিন্তু চোখে দেখা জিনিস বা কোন অভিজ্ঞতার কথা মানুষ ভূলে দ্রুততর। এর একটা কারণ অবশ্য এই যে মানুষ সাধারণত দেখার সময় তীক্ষ্ন ভাবে তা দেখে না। ডাঃ রুবীন ডেভিড গবেষণার ভিত্তিতে বলেন, লোকেরা নিজেদের জীবনের বিশেষ বিশেষ বয়সের কথা অন্যান্য বয়সের কথার চেয়ে বেশি স্মরণ রাখতে সক্ষম। প্রায়ই দেখা যায় সকল মানুসের ক্ষেত্রে সময়কালটা সমান। লোকেরা মধ্য বয়স এবং বৃদ্ধ বয়সে ইদানিংকালের চেয়ে প্রথম যৌবন এবং পূর্ণ যৌবনকালের কথা বেশি করে স্মরণ রাখতে পারে।

স্মৃতিশক্তির মেকানিজম বা কার্যকারণ সম্বন্ধে নিশ্চয় করে কিছু বলা যায় নি এখনও। বিভিন্ন তত্ব  এ বিষয়ে চালু আছে। ডাঃ লিঞ্চের মতে মস্তিষ্ক হতে ক্যাপলিন নামের পর্দাথ। এর ফলে তারা মস্তিষ্কের কলাতে নতুন নতুন সংযোগ স্থাপন করতে সমর্থ হয়। তার ফলে স্মরণ প্রক্রিয়া চলে থাকে।

এমনিতে ক্যাপলিন খুব ধীর গতিতে কার্যক্ষম হয় যার কারণে মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ু কোষে সংযোগ সৃষ্টিতে বিলম্ব ঘটে। উদাহারণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝান যায়। কোনো নাম যদি পুনঃ পুনঃ উচ্চারিত হয় তবে ক্যাপলিন সৃষ্টি হয় ঘন ঘন। ফলে নতুন নতুন সংযোগ সৃষ্টিকার স্নায়ুকোষ সৃষ্টি হয়। নামটি তখন স্মৃতির অতল তলে চলে যায়। তাকে বহু বছর পরও মনে করা সম্ভবপর হয়। এটাই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি বা এলটিএস এর রহস্য।

অন্য আর একভাবে এই এনজাইম অধিক মাত্রায় উৎপাদিত হতে পারে। কোন ঘটনা স্মরণ করার প্রচন্ড চেষ্টা চালালে এই এনজাইম সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে সুদূর অতীতকালের সামান্যতম স্মৃতিও ভেসে উঠে মানসপটে।

প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের স্মৃতিশক্তির কি উন্নতি করা যায় ?

কিছুকাল পূর্বেও বিজ্ঞানিদের ধারণা ছিল তা সম্ভবপর নয়। যতটুকু স্মরণশক্তি নিয়ে একজন জন্মগ্রহণ করে তার চেয়ে বাড়ান আর সম্ভব নয়।

অবশ্য মানুষ তার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অত্যান্ত আগ্রহী এবং তার জন্য নানাবিধ উপায় অবলম্বন করে। এ সম্বন্ধে নিশ্চয় কিছু বলা শক্ত। তবে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে রাসায়নিক পদার্থের ভূমিকা সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। তারা মনে করেন স্মৃতিশক্তি এমনকি দু তিন গুণ বাড়ান সম্ভবপর হবে। এ ব্যাপারে তারা স্বপ্ন দেখে চলেছেন। স্বপ্ন হলেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এমন ওষুধ আবিষ্কার হতে খুব দেরী নয় বলে মনে করা যেতে পারে।

ডাঃ গ্যারী লিনচ পরীক্ষাগারে ইদুরের স্মরণশক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে   এখনও তা সম্ভবপর হয়নি। বেলজিয়াম ও স্পেনের বিজ্ঞানীরা মস্তিস্কের পিটিউটারী গ্রন্থি হতে হরমোনের মতো এক রাসায়নিক পর্দাথ তৈরি করতে সর্মথ হয়েছেন যা মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সমর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। পদার্থটির নাম ডেসোপ্রেসিন। ডঃ ফ্রঙ্কের বলেন, এ সমস্ত ওষুধ যথা পিটুইটারি বা এসিটিএইচ হরমোনের নিউরোপেথটাউট অংশ ২০ জন রিটার্ডেড বাচচাদের স্মরণশক্তির কিছুটা উন্নতি করতে সমর্থ হয়েছে বলে গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে। কিন্তু মানুষদের ক্ষেত্রে এ সমস্ত ওষুধের কার্যকারিতা নিখুতভাবে প্রমাণিত হয়নি।  এ সিটিএইচ মস্তিস্কের নিচের দিকে একটি অংশে বিদ্যমান পিটিউটারী গ্রহ্ণি হতে নিঃসৃত হয়। বর্ষীয়ানদের এর ইনজেকশন দেয়ার পর দেখা যায় তাদের স্মরণ শক্তির উন্নতি হয়েছে, তার তা খুব সামন্য। আমেরিকার নিউ অরলিনসে রাজ্যে প্রশাসনিক হাসপাতালের ডাঃ কনোটিনের মতে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় ঠিকই কিন্তু ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যথেষ্ট সম্ভাবনা বিদ্যমান

ডাঃ এস  এ খালেক

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/