Monthly Archives: October 2016

মধুপুরের বনে বাদাড়ে

Madhupur Sal Forest – Madhupur Tangail

এক ব্রিহস্পতিবার অথবা আপনার সুযোগ সুবিধা মত একদিন খালেদ রেন্ট এ কার থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আশুন মধুপুরের বনে বাদাড়ে। মধুপুর টাঙ্গাইল এর একটি থানা। রাত কাটাবার জন্য আপনাকে কোন কষ্ট পোহাতে হবে না। মাঝারি গোছের আবাসিক হোটেল পাবেন। বন বিভাগের একটি বাংলোও আছে।

সকালে মধুপুর গরের দিকে যান। ভিতরে প্রবেশ দুঃসাধ্য এবং কষ্টকর। ভয়ঙ্কর প্রাণিও আছে। বনের আশে পাশেই আপনাকে পায়ে হেটে চলতে হবে। ভাগ্য ভাল হলে হরিণ, শূকর, বন মোরগ, বন্য কুকুর, খরগোশ দেখতে পাবেন। বিভিন্ন গাছ পালা চোখে পরবে। শাল-গজারী শোনাল, চাম্বেল আর কত কি! আম, জাম, কাঁঠাল গাছও আছে। ৫০ থেকে ৭০ ফুট লম্বা গজারি কিংবা শাল গাছ দেখতে পাবেন। মধুপুর গরের ভিতর দিয়ে আপনি গার উপজাতিদের পারায় যেতে পারেন। সেখানে গিয়ে পাবেন আর বৈচিত্র্য। অধিকাংশ বাড়ি উঁচু মাচায় তৈরি এবং তা ছনের। এরূপ ঘর তৈরি করার পিছনে রয়েছে একটিই কারণ, সেটা হল বন্য-জন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া।

মধুপুরের বনে বাদাড়ে

মধুপুরের বনে বাদাড়ে

মধুপুর বনে আপনি আনারসের বাগান দেখতে পাবেন। বর্ষার সময় আপনি ওখানে প্রচুর আনারস পাবেন। দামেও তা সস্তা অর্থাৎ এক জোড়া আনারস ৫-৬ টাকা। খেতেও দারুণ মিষ্টি। ইচ্ছে করলে আপনি ওখান থেকে কয়েক জোড়া আনারাস নিয়েও আস্তে পারেন। এই বনের আয়তন প্রায় ৪৫০ বর্গ মাইল। এ নিয়ে অনেক কিংবদন্তী ছড়িয়ে আছে। কথিত আছে মধুপুরের কাঙ্গাল সগর দিঘি এবং বন দিঘির কাছে গুপ্ত বৃন্দাবন অবস্থিত ছিল। এই গুপ্ত ব্রিন্দাবন শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধার রোমাঞ্চকর প্রেম কাহিনীর জন্য বিখ্যাত।

মধুপুর থানা হাট বাজার বন এলাকা একদিনে আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন না। তাই আপনাকে আর একটা দিন ওখানে কাটাতে হবে। সব ঋতুই মধুপুর ভ্রমনের উপযুক্ত সময়। দুএকদিন ওখানে অবস্থান ও ভ্রমণ করে আপনি সুখকর স্মৃতি নিয়ে ফিরবেন।

মধুপুরের বনে pineapple

মধুপুরের বনে pineapple


নবাবরা নেই, স্মৃতি হয়ে আছে আহসান মঞ্জিল

ahsan manzil

ahsan manzil

ঢাকার কয়েক শ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে এখনো যে কয়টি স্থাপনা টিকে আছে আহসান মঞ্জিল তার অন্যতম। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে যেসব প্রকাশনা আছে তার প্রায় সবখানেই এর বর্ণনা রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে প্রকাশিত ‘আলোকচিত্রে সেকালের ঢাকা’ অ্যালবামে ১৮৮৮ সালের ৭ এপ্রিল টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত এই নওয়াববাড়ি এলাকার অন্য রকম একটি ছবি পাওয়া গেল। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, মোগল আমলে এখানে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহর রংমহল ছিল। তাঁর ছেলে মতিউল্লাহর কাছ থেকে কিনে ফরাসিরা এখানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ঢাকার নওয়াব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলীমুল্লাহ ১৮৩০ সালে ফরাসিদের কাছ থেকে কুঠিবাড়িটি কিনে সংস্কার করে বাসভবনে পরিণত করেন। তাঁর ছেলে আবদুল গনি আধুনিক নকশায় সেখানে নতুন একটি ভবন করে নিজের ছেলে খাজা আহসানউল্লাহর নামে নাম রাখেন ‘আহসান মঞ্জিল’। ১৮৫৯ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে শেষ হয়। নবনির্মিত প্রাসাদ ভবনটি তখন রংমহল এবং আগের ভবনটি অন্দরমহল নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ১৮৮৮ সালে ৭ এপ্রিল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে অন্দরমহলটি একেবারে ভেঙে পড়ে। পরে সংস্কারের সময় বর্তমানে যে সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে সেটি সংযোজন করা হয়। ব্রিটিশ ভারতের যেসব ভাইসরয়, গভর্নর ও লে. গভর্নর ঢাকায় আসতেন সবাই এখানে এসেছেন। তবে ঢাকার নওয়াবদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে আহসান মঞ্জিলের জৌলুশও স্তিমিত হতে থাকে। জমিদারি উচ্ছেদ আইনের আওতায় ১৯৫২ সালে ঢাকা নওয়াব এস্টেট অধিগ্রহণ করা হলে নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ প্রাসাদটি ছেড়ে পরীবাগে চলে যান। অংশীদাররা বাছবিচার না করে প্রাসাদের কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়ায় ভবনটি ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝে ১৯৮৫ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে সংস্কার করে। ১৯৯২ সাল থেকে এটি জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নবাব আমল নেই, তবে এখনো ঢাকার গর্ব হয়ে টিকে আছে এই আহসান মঞ্জিল।

আহসান মঞ্জিল খোলার সময়

বার খোলার সময় বন্ধের সময়
শনিবার সকাল ১০:৩০ বিকাল ৫:৩০
রবিবার সকাল ১০:৩০ বিকাল ৫:৩০
সোমবার সকাল ১০:৩০ বিকাল ৫:৩০
মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ বিকাল ৫:৩০
বুধবার সকাল ১০:৩০ বিকাল ৫:৩০
ব্রিহস্পতিবার বন্ধ বন্ধ
শুক্রবার বিকাল ৩:০০ রাত ৮

Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar