Monthly Archives: December 2018

কাশি প্রতিরোধে করণীয়

কাশি (cough) প্রতিরোধে করণীয়

সাধারণতভাবে কাশি আলাদা কোনো রোগ নয়। অন্য রোগের উপসর্গ। যেসব রোগে গলা, ফুসফুস বা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হয় সেসব রোগের উপসর্গ হিসেবে কাশি দেখা দেয় এবং কাশি হচ্ছে গলায় ফুসফুসে জমানো শ্লেষ্মা বা জীবানু বের করার প্রক্রিয়া।  এতে শ্বাস প্রক্রিয়া সহজ হয়। কাজেই যখন কাশিতে শ্লেষ্মা বের হচ্ছে তখন তা বন্ধ করতে ওষুধ খাবেন না বরং এমন কিছু করুন যাতে শ্লেষ্মা তরল হয়ে বের হয়ে আসে।

কাশি

কাশি

যেমন

১. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পটাশিয়াম আয়োডাইডেও উপকার হতে পারে।

২. গরম পানির ভাপ নিতে বেশি পরিমাণ গরম পানি বালতিতে নিয়ে উঁচু জায়গায় এসে বালতিসহ মাথা একটি চাদর দিয়ে ঢেকে বালতিসহ মাথা একটি চাদর দিয়ে ঢেকে বালতি থেকে যে বাষ্প উঠছে তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে নাক দিয়ে টেনে নিন। এভাবে প্রায় ১৫ মিনিটের মতো দিনে কয়েকবার করে ভাপ নিন।

৩. সব ধরনের কাশিতে বিশেষ করে শুকনো কাশিতে নিজেদের বানানো সিরাপ দিতে পারেন। (এক ভাগ মধু + ১ ভাগ লেবুর রসের মিশ্রন) দুই অথবা তিন ঘন্টার পরপর এক চামচ করে দেয়া যেতে পারে।

৪. মারাত্মক কাশির কারণে ঘুমোতে না পারলে তবে সিরাপের সঙ্গে কোরাল হাইড্রটের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন তবে শ্লেষ্মার পরিমাণ বেশি বা শব্দসহ কাশির ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার না করাই ভালো।

৫. কাশিতে শব্দ হলে পানির সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে নাক দিয়ে টেনে নিন এতে শ্বাসকষ্ট কমবে।

৬. কি রোগের কারণে কাশি হয়েছে তা খুঁজে বের করে চিকিৎসা করুন। যদি কাঁশি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কাশিতে রক্ত, পুঁজ অথবা দুর্গন্ধ থাকে অথবা যদি তার ওজন কমে যায় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে বা চিকিৎসককে দেখান

৭. যেকোনো কাশি থাকলে আপনি ধুমপান থেকে বিরত থাকুন। কাশি থেকে মুক্তি পেতে হলে যে কারণে কাশি হয়েছে তার চিকিৎসা করুন।

সৈকত নন্দী

রংপুর মেডিকেল কলেজ।


সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীর নানান দুর্ভোগ

সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীর নানান দুর্ভোগ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট, শিক্ষিতে হার এক শতাংশেরও কম

আবদুল কুদ্দুস রানা

দেশের দক্ষিণ সীমান্তে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার একটি ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন। সদর টেকনাফ থেকে প্রায় ৩০ কি, মি. দূরে ৩ দশমিক ৩৭ বর্গ কি. মি. আয়তনের এই দ্বীপের লোকসংখ্যা 6 হাজার। পেশা ৫ % কৃষি, ৯৫% মাছ শিকার।  দ্বীপের প্রধান সমস্যা ভেড়িবাধ। যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় ছয় মাস এ দ্বীপ মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। শিক্ষা ও স্থাস্থ্য সমস্যা প্রকট। দ্বীপের শিক্ষার হার শতাংশেরও কম। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে নারকেল, পেঁয়াজ অন্যতম। এছাড়া রয়েছে বিপুল মৎস্যসম্পদ।

স্টিমার সার্ভিস দীর্ঘ দিনও চালু হয়নি

সমুদ্রপথে যাতায়াত সমস্যা দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের। সদর টেকনাফ থেকে ৩০ কি. মি. দূরে সেন্টমার্টিনে যেতে ছোট ছোট যান্ত্রিক নৌযান নিয়ে প্রথম নাফ নদী এবং পরে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে হয়। বর্ষায় সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে তখন প্রায়্ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে থাকে। অথচ দ্বীপবাসী দীর্ঘদিন ধরে  জানিয়ে আসছে এ পথে স্টিমার সার্ভিস চালুর জন্য। সেন্টামার্টিন দ্বীপে পা পড়েনি এমন কোন রাষ্টপ্রতি, প্রধানমন্ত্রি, উর্দ্ধতন কর্মকর্তা দেশে নাই বলে গর্ব করে  বলে থাকেন দ্বীপের লোকজন। তারা প্রত্যেকেই দ্বীপের উন্নয়নের কথা বলে যান। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেন্টমার্টিন থেকেই আশ্রায়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী তার নির্বাচনী ওয়াদা পূরন করতে এ পথে স্টীমার সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে দ্রুত কিংবা জরুরী সংবাদ আদান প্রদানে এ দ্বীপে কোন সুষ্টু ব্যবস্থা নেই। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি ওয়ারলেস সেট কিছুটা হলেও মানুষের উপকারে আসছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত খবর নেয়া যায় দু তিন দিন পর। টি এন্ডটির আওতাধীন ভিএইএফ এর একটি স্টেশন স্থাপিত হলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তা অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

হাসপাতাল স্থাপনের আশ্বাস

দ্বীপের স্থাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার হাল করুন। একটি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র থাকলেও ডাক্তারের অনুপস্থিতির কারনে এটি জনগনের কোনো উপকারে আসে না। লোকজনকে বহু কষ্টে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফ হাসপাতালে আসতে হয়। অর্থাভাবে যারা টেকনাফে যেতে পারে না দ্বীপেই তাদের মৃত্যুবরণ করতে হয়।  সমুদ্র দ্বীপে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে দুজন গ্রাম্য ডাক্তার। ওষুধের দোকান রয়েছে দুটি। তিনগুন দামে বিক্রি হয় ওষুধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেন্টমার্টিন এসে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের আশ্বাস দেন। এরপর কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও এখন তা বন্ধ। হাসপাতালের জন্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

শিক্ষার হার যেখানে এক শতাংশের কম

দ্বীপের ৬ হাজার অধিবাসীর মধ্যে স্নাতক পাস করেছেন একজন। তিনি বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার সামসুল ইসলাম। এক সময় তিনি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এইচ এস সি পাস একজন ও এস এস সি পাস আছে তিনজন। শিক্ষিতের হার এক শতাংশের কম। উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান বলতে একটি হাই স্কুল। আরো রয়েছে একটি সরকারি, দুটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও পাঁচটি মক্তব।

বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত দ্বীপবাসী

বর্তমান সরকার সারাদেশে ৫৭ বয়সোর্ধ্ধদের জন্য ১০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা চালু করলেও সেন্টমার্টিনবাসী এখনো তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই দ্বীপের ৯০ জনের তালিকা নির্ণয় করা হয় মার্চ মাসে। শুধুমাত্র ছবির অভাবে তাদেরকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা যাচ্ছে না। এলাকার বয়স্করা ৩০ মাইল দুরে এসে ছবি তোলার প্রয়োজন অনুভব করেছেন না। অনেকের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ছবি তোলার উদ্যোগ নিচ্চিত না। ইতিমধ্যে তালিকাভূক্ত বয়স্কদের কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বয়স্ক ভাতা তাদের ভাগ্যেও জোটে না।

সাইক্লোনের সংকেতে আতঙ্কিত দ্বীপবাসী

ঘূর্ণিঝড় কিংবা সাইক্লোনের সংকেত শুনলেই দ্বীপবাসীর মাঝে নেমে আসে আতঙ্ক। দ্বীপের চতুর্দিকে ভেড়িবাধ না থাকায় ঘূর্ণিঝড় দ্বীপটি প্লাবিত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ১৯৯৪ সালের ২ মে  এবং ১৯৯৬-৯৭ সালের কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপটি প্লাবিত হয়। দ্বীপের তিনটি মাত্র ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজনরে তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।  দ্বীপবাসী চতুর্দিকে পাথরের বাধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

প্রধান পেশা মৎস্য শিকার

দ্বীপের ৯৫ শতাংশ লোকের প্রধান পেশা মৎস্য শিকার। বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে আট মাস সাগরে নামতে পারে। বাকি সময় বেকার থাকে। কারন এই সময় সাগর উত্তাল থাকে। সাগরে জলদস্যূদের উৎপাত, মায়ানমারের নাসাকা বাহিনিীর সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে বহু জেলে নৌকা, জাল, মাছ হারিয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে বহু জেলে। অথচ এখানে নেই কোনো মৎস্যজাত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। দ্বীপে ওঠানামার জন্য নেই কোন জেটি। ফলে জেলেরা ন্যায্যমূল্যে মাছ বিক্রি ও সংরক্ষণ করতে পারে না।

শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য

প্রাকৃতিক সৌন্দ ছাড়াও উদ্ভিদ, প্রাণী ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সেন্টমার্টিন শিক্ষা সফরের জন্য আর্কষণীয়। এখানে দূর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং হাঙ্গর দেখা যায়। জীববিজ্ঞানের ছাত্রদের কৌতূহল মেটাতে তারামাছ, লবস্টার, চিংড়ি, রাজকাকরা, কচ্ছপ, কালামুনাইস, সিপিয়া, মুলস্কাসহ ১০৩ প্রজাতির মাছ এখানে সহজলভ্য।

দ্বীপের চেয়ারম্যান যা বলেন

দ্বীপের চেয়ারম্যান মাস্টার সামসুল ইসলাম জানান দ্বীপের নানা সমস্যার কথা। দ্বীপের চারদিকে পাথরের বাঁধ নির্মাণ, সমুদ্রপথে স্টীমার সার্ভিস চালু, দ্বীপে ওঠানামার জন্য জেটি নির্মাণেল দাবি জানান। তিনি জানান, সেন্টমার্টিনকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে হাজার হাজার পর্যটক দিনে এসেই ফিরে যেতো না। পর্যটকদের জন্যে এখানে থাকা খাওয়ার উন্নত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। চেয়্যারম্যান আরো জানান, শিক্ষার হার বাড়াতে এখানে আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে আরো আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ এবং পানীয় জল সমস্যা নিরসনে দ্বীপে প্রচুর নলকূপ স্থাপন জরুরী। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ হাল বর্ণনা করে তিনি বলেন, কোনো ডাক্তারই এখানে থাকতে চায় না। ফলে লোকজনের দুর্ভোগ বাড়ে। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বহু লোকের মৃত্যু হয়।

সীমান্তবর্তী দ্বীপ বিধায় সেন্টমার্টিন সামরিক স্থাপনার দিক দিয়েও যথেষ্ট গুরুত্বর্পূন। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে সেন্টমার্টিন বাসী তাদের দূর্ভোগের অবসান চায়, পাশাপাশি সরকারও এখানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করে পেতে পারে বিপুল পরিমান রাজস্ব।


মেঘলা ঘুরে

মেঘলা ঘুরে

স্বরুপ সোহান

পাহাড়ের আকাবাঁকা পথ ধরে ছুটে চলেছে আমাদের বাস। চট্রগ্রাম থেকে কাটায় কাটায় সকাল ১০ টায় বাসে চড়েছি আমরা। দলে সবশুদ্ধ আটজন। গন্তব্য আমাদের মেঘলা। শুনেছি দারুন ‍সুন্দর জায়গা। বান্দরবনের সড়ক দিয়ে আমাদের  বাস ছুটছে তো ছুটছেই। একবার দেখছি বাস পাহাড়ের উপর আবার পরক্ষনেই একেবারে নিচে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই ঘন সবুজ পাহাড়। পাহাড়ের উপর ছোট্র ছোট্র ঘর। বেশিরভাগই মাটির। দূরের পাহাড়গুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। পাশে বসা তানভীরকে জিজ্ঞেস করতেই বললো আদিবাসিরা ঐ পাহাড়গুলোতে চাষ করে। চাষ করার আগে ওরা পাহাড়ে খড়কুটো জড়ো করে আগুন দেয়। ঐ আগুনের ধোঁয়া থেকেই বোঝা যায়, ওখানে চাষ করা হবে। বান্দরবনের রাস্তাগুলোতে এতোটাই আঁকাবাঁকা যে বাইরে তাকালেই মনে হয় বাস এক্ষুণি পড়ে যাবে। শত শত ফুট নিচে খাদে। ঘড়ি জানান দিচ্ছে বেলা প্রায় সোয়া ১২ টা। সিটের পেছন থেকে এনাম বললো আর মাত্র মিনিট দশেক পরেই আমরা মেঘালয় পৌছে যাবে। ১০ মিনিটের আগেই বাসের কন্ডাক্টর চেচিয়ে উঠলো,  মেঘলা! মেঘলা! হ্যান্ডারস্যাফ, পানি ইত্যাদি নিয়ে নেমে গেলাম আমরা আটজন।

বান্দরবন শহর এখন থেকে আরো প্রায় ৪ কি. মি. দূরে। বাস আমাদের নামিয়ে দিয়েই ছুটে পালালো বান্দরবনের দিকে।  এই সেই মেঘলা। এতো শুনেছি এই জায়গায় নাম। ততোক্ষনে আমরা সম্বিত ফিরে পেয়েছি। ওর পিছু নিলাম সবাই। চট্রগ্রাম বান্দরবন মহসড়কের পাশ দিয়েই হাঁটলাম কিছুক্ষণ। একটু পরই চোখে পড়ল  মেঘলা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। বড়সড়ো একটি গেট গেটের পাশেই টিকিট কাউন্টার। তপু বললো চল টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি। রাজি গেলাম সবাই। আটটি টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম ভিতরে। গেটের ভিতরে ঢুকতেই বিস্ময়ে সবার মুখ হা হয়ে গেলো এক সঙ্গে। কি অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। গেট থেকে ঢাল বেয়ে নেমে গেছে সিড়ি। বাঁয়ের লেকে টলমলে পানি। চারদিকে পাহাড়। সিঁড়ি বেয়ে একেবারে নিচে নামালাম আমরা। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে এই  সিড়ি। চারদিকেই গাছ আর গাছ। যেন সবুজ রং মাখানো হয়েছে জায়গাটায়। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই সবুজ। আমরা আটজন হঠাত নিস্তব্দ। প্রকৃতির মধ্যে মিশে গেলে কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিস্তব্দতার মধ্য প্রকৃতিই যেন চুপি চুপি কথা বলছে আমাদের সবার সঙ্গে। শাফি ওর ক্যামেরায় শার্টার টিপে চলছে সমানে। কিছুদূর ‍এগুনোর পর আমরা লেকের পাড়ে এসে পৌছালাম। লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক একটি নৌকা। ঘাটে দাড়ানো এক লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক লোকের কাছে জানা গেলো, দড়ি টেনে নৌকা নিয়ে লেকের ওপারে যাওয়া যায়। হুড়মুড় করে আমরা আটজন উঠে পড়লাম নৌকায়। মিনিট চারেক পরই নৌকা এসে ভিড়লো লেকের ওপারে। ওপারে নামতেই চোখে পড়লো সাইনবোর্ড লেখা, পাহাড়ের ওপর চিড়িয়াখানা, তিনটি হরিণ, দুটি অজগর, চারটি শেয়াল, কয়েক প্রজাতির সাপ, আর বেশ কিছু বানর এই সম্বল। তারপরও বেশ সাজানো গোছানো।

বানরের সঙ্গে বাদরামি করলো কিছুক্ষণ লিপু। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড় আর নিচে এঁকে বেঁকে গেছে টলমলে লেক। যেন শিল্পির তুলির টান। নৌকা দিয়ে আবার এপারে চলে এলাম আমরা। পেটে তখন  ছুঁচোর নাচন। পর্যটনের সব কিছু থাকলেও কোনো রেস্টুরেন্ট নেই এখানে। আচে একটি কনফেকশনারি। েএকজনকে প্রশ্ন করে জানা গেলো, বেশিরভাগ লোকই এখানে আসে পিকনিক করতে। আরো জানা গেলো লেকের উপর দিয়ে চমতকার একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তখন লেকটি আরে সুন্দর লাগবে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে পড়লাম আমরা। বান্দরবনের বাস ধরতে হবে আমাদের। এবার আমাদের গন্তব্য বান্দরবন।

আপনাদের জন্য

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবনের বাসে উঠে পড়ুন এবং মেঘালয় এসে নেমে পড়ুন। বাস ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা। মেঘালয় থেকে কোন আবাসিক হোটেলও নেই। তাই এখানে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন না। বনভোজনে যেতে পারেন।

এখানে আগুন জ্বালানো যায়। সুতারাং ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় খাওয়া কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা আগেই করুন। শক্ত জুতো অথবা স্যান্ডেল পরবেন। কেননা, পাহাড়ে উঠতে হবে।

মেঘলা পর্যটনে ঢুকতে টিকিটের মূল্য ২0 টাকা। ক্যামেরা অবশ্যেই সঙ্গে নিন। না হলে জীবনে দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্যগুলো মিস করবেন। সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিস্তদ্ধতার মধ্যে প্রকৃতিই যেন চুপি চুপি কথা বলছে আমাদের সবার সঙ্গে। শাফি ওর ক্যামেরার শার্টার টিপে চলছে সমানে। কিছুদুর এগুনোর পর আমরা লেকের পাড়ে এসে পৌছালাম। লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক লোকের কাছে জানা গেলো, দড়ি টেনে নৌকা নিয়ে লেকের ওপারে যাওয়া যায়। হুড়মুড় করে আমরা আটজন উঠে পড়লাম নৌকায়। মিনিট চারেক পরই নৌকা এসে ভিড়লো লেকের ওপারে। ওপারে নামতেই চোখে পড়লো সাইনবোর্ড। লেখা, ‘পাহাড়ের ওপর চিড়িয়াখানা’। ওঠা শুরু করলাম আমরা। ছোট্র একটি চিড়িয়াখানা তিনটি হরিণ দুটি অজগর, চারটি শেয়াল, কয়েক প্রজাতির সাপ, আর বেশ কিছু বানর, এই সম্বল। তারপরও বেশ সাজানো গোছানো।

বানরের সঙ্গে বাঁদরামি করলো কিছুক্ষণ লিপু। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড় আর নিচে একেবেঁকে গেছে টলমলে লেক। যেন শিল্পির তুলির টান। নৌকা দিয়ে আবার এপারে চলে এলাম আমরা। পেটে তখন ছুঁচোর নাচন। পর্যটনের সব কিছু থাকলেও কোনো রেস্টুরেন্ট নেই এখানে। আছে একটি কনফেকশনারি। একজনকে প্রশ্ন করে জানা গেলো, বেশিরভাগ লোকই এখানে আসে পিকনিক করতে। আরো জানা গেলো লেকের উপর দিয়ে চমৎকার একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তখন লোকটি আরো সুন্দর লাগবে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে  পড়ালাম আমরা। বান্দরবানের বাস ধরতে হবে আমাদের। এবার আমাদের গন্তব্য বান্দরবান।

আপনাদের জন্য

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবানের বাসে উঠে পড়ুন। মেঘালয় এসে নেমে পড়ুন। বাস ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা। মেঘালয় কোনো আবাসিক হোটেল নেই। তাই এখানে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন না। বনভোজনে যেতে পারেন।

ওখানে আগুন জ্বালানো যায়। সুতারাং ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় খাওয়ার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা আগেই করুন।

শক্ত জুতো অথবা স্যান্ড পরবেন। কেননা পাহাড়ে উঠতে হবে।

মেঘলা পর্যটনে ঢুকতে টিকিটের মূল্য ২ টাকা। ক্যামেরা অবশ্যই সঙ্গে নিন। না হলে জীবনে দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্যগুলো মিস করবেন।


বিজয় দিবস – স্মৃতির পথে হাঁটা

 বিজয় দিবস – স্মৃতির পথে হাঁটা

নজরুল ইসলাম

আর পাঁচদিন পর ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস। প্রতি বছর দেখা যায় বিজয় দিবসে শহরের রাস্তায় রাস্তায় অসংখ্য মানুষকে বিজয় মিছিলে, সমাবেশ। বাবা কিংবা মায়ের হাত ধরে ছোটরা, বন্ধুরা এক সঙ্গে দল বেধে। অযথা পরিবারের সবাই মিলে ঘুরছেন সারাদিন। দেখছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলো। নকশার পাঠকদের জন্য চলুন ঘুরে আসা যাক এই শহরে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হয়ে থাকা ভাষ্কর্য, স্থান কিংবা যাদুঘর থেকে।

৬ ডিসেম্বর সকাল। ঘুম থেকে উঠেই মনে পড়ল ৭১ এর ঠিক এই দিনেই বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশে হিসেবে  প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি পেয়েছিল। আর এদিনেই নকশার এসাইনমেন্ট নিয়ে দেখা হলো ঢাকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় স্মারকগুলো। গাবতলী টার্মিনাল থেকে বাসে উঠলাম। বন্ধু বাতেনের সৌজন্যে পূর্বাশা হাই চয়েস কোচে করে পৌছে গেলাম সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে। গাবতলী থেকে ২০/৩০ টাকা দিলে লোকাল বাসগুলো নবীনগর বাস স্টপেজে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে একটু এগিয়ে গেলেই স্মৃতিসৌধ। বিজয় দিবস উপলক্ষে ধোয়ামোছার কাজ চলছে স্মৃতিসৌধের। এই ব্যস্ততা, কর্মাচাঞ্চল্য ছাড়িয়ে এক লাফে চোখ চলে যায় ৪৫ মিটার উচু স্মৃতিসৌধের চুড়ায়। ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭১ বাংলাদেশের ইতিহাসের স্মরণীয় এই সাতটি বছরের স্মরণে ৭টি স্তম্ভ নিয়ে এই স্মৃতির মিনার। এখানে এলেই বিজয়ের আনন্দে মনটা ভরে যায়। ৮৪ একর জায়গা নিয়ে এর বিশাল বিস্তৃতি। তার ওপর চারপাশ জুড়ে আছে ২৪ একর জায়গা জুড়ে ‍বৃক্ষবলয়। মিনারের দিকে এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে একটি ফলক, যার মধ্যে লেখা বীরের এ রক্তস্রোত মাতার এ অশ্রুধারা, এ যত মূল্য সেকি ধারার ধলায় হবে হারা/স্বর্গ কি হবে না কেনা/ বিশ্বের ভান্ডারী শুধিবে না এত ঋণ। সত্যিই তো, এ ঋণ আমরা এগুলো শুধবো কিভাবে? এই স্মৃতিসৌধ কেন বানানো হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই ধোয়ামোছায় ব্যস্ত মজিদ বললেন, ৭১ এর গন্ডগোলর লাইগা। যাই হোক, ঘোলা পানির উপর ফুটে থাকা লাল পদ্ম দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম মিনারে। এর উপর বসা নিষেধ, জুতা নিয়ে ওঠা নিষেধ, মিনারের গায়ে লেখা নিষেধ। কিন্তু সবই চলছে। বেরিয়ে গিয়ে রাস্তা পার হলেই পর্যটনের ফুডশপ। ইচ্ছে ছিলো নাস্তাটা সেরে নেয়ার। কিন্তু পকেটের সঙ্গে দামের ফারাক দেখে ইচ্ছেটা মাটি হয়ে গেলো। আবার বাসে চড়ে গাবতলী। আরিচা রোড দিয়ে আসার সময় মনে হলো, এই রাস্তা দিয়েই তো মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ঢাকা আক্রমনের জন্য যাচ্ছিল। তখন তাদের যে আনন্দ হচ্ছিল, মনে হচ্ছে আমারও আজ সেই আনন্দ।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

গাবতলী নেমে মানিকগঞ্জ হোটেলে নাস্তা সেরে গেলাম মিরপুরের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। তালগাছে ঘেরা লাল ইটের চারটি মিনারের মাঝে স্মৃতিফলক। এখানেও চলছে ধোয়ামোছার কাজ। এখানেই মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে রাজাকারদের সহায়তার পাকবাহিনী হত্যা করে এদেশের অমূল্য সন্তানদের। এখান থেকে বেরিয়ে গেলাম লালকুঠিতে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারে। গেটে তালা ঝুলছে, খোলা হয়না অনেকদিন। দেশের বিশিষ্ট লেখকদের দান করা অজস্র ভালো বই নাকি একজন সংগঠকদের বাসায় বস্তাবন্ধী হয়ে পড়ে আছে।

আবার চড়লাম রিকশায়, গন্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরের নাম বলো রিকশাঅলাকে চেনাতে পারলাম না, বলতে হলো ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর। বুধবারে এটা বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন ১০টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা। ৩ বছর বয়স পর্যন্ত বিনা টিকিটে ঢোকা যায়। বাকিদের ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়। সুন্দর ছিমছাম জাদুঘর। সামনে সিরামিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। ভেতরে অনেক তথ্যমূলক ছবি। ৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে ১২ টায় যে পাঠকক্ষে বসে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা লিখেছিলেন সে কক্ষটিও আছে আগের মতোই, তবে সেখান কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। বাইরে থেকেই যা দেখার দেখে নিতে হয়। ১৫ আগষ্ট রাতে নিহতদের ছবি আছে নিচতলায়। উপরতলায় বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত দ্রবাদি আছে।

শহীদ মিনার

শহীদ মিনার

জাদুঘর থেকে গেলাম রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। বেড়িবাধের পাশে বিশাল জায়গা জুড়ে নির্মিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ। এখানে ৯১ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রজন্ম ৭১ তৈরি করেছিল ছোট একটি স্মৃতিসৌধ। পরবর্তী ৯৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। কাজ শুরু হয় ৯৭ এর এপ্রিল মাসে। এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বর্তমানে  এর যাতায়াত ব্যবস্থা খুব খারাপ। মোহাম্মদপুর বাসট্যান্ড থেকে ধুলাবালি সমৃদ্ধ দীর্ঘপথ পায়ে হেটে পৌছতে হয় এখানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গেলাম। ঢুকতেই কলাভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা। এটি এখন দাঁড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রতীক হয়ে। অপরাজেয় বাংলা পার হয়ে মধুর ক্যান্টিনে গেলাম। মধুদার মূর্তি কালো কাপড়ে ঢাকা। এখানে হালকা খাওয়া দাওয়া করে টিএসসিতে গেলাম। বাংলা একাডেমীর দেয়ালে সিরামিক দিয়ে আকা আছে ৫২ থেকে ৭১ এর সংগ্রামী দিনের চিত্রমালা। ড্যাসের পেছনে ২৫ মার্চ ৮৮ তে শামীম শিকদারের করা ভাষ্কর্য স্পোপার্জিত স্বাধীনতা পার হয়ে সোজা জাতীয় জাদুঘর। বৃহস্পতি ও শুক্রবার এটা বন্ধ থাকে। খোলা থাকে শনি থেকে বুধবার। শীতকালীন সময়সূচি সকাল ৯.৩০ থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা আর গ্রীষ্মকালীন সময়সুছি সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে বিকেল সোয়া ৫ টা পর্যন্ত। এখানেও ৩ বছর বয়সীরা বিনা পয়সায় ঢুকতে পারে। যাহোক ২০ টাকার টিকিট কিনে ঢুকে পরলাম শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে। এর তিনতলায় আছে মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত দ্রব্য আগ্নেয়াস্ত্র, লাটিসোটা থেকে শুরু করে পাকবাহীনির নিপীড়ন পর্যন্ত সবই আছে এ জাদুঘরে। চিত্রকলার গ্যালারিতেও অধিকাংশ চিত্রকর্মই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। আবার রিকশা, এবারের গন্তব্য সেগুন বাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। রিকশা থেকেই দেখলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেখে কে বলবে ৭১এর ৭ মার্চ এখানেই বয়ে গিয়েচির আগুনের বন্যা।

স্মৃতি সৌধ

স্মৃতি সৌধ

এই পার্কে উপস্থিত লাখো মানুষ হয়ে গিয়েছিল জ্বলন্ত আগুন, আগুনে পুড়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি শোষণ। সে আগুনেরই ক্ষুদ্র রূপ এখন জ্বলছে শিখা চিরন্তন হয়ে। রিকশায় বসেই চোখে পড়ল অশ্লীল একটি ইংরেজী ছবির পোষ্টার। চলছে গুলিস্থান সিনেমা হলে। এই সিনেমা হলটি নাকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের। ধরণী দ্বিধা হও, এ লজ্জা কোথায রাখি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর রোববার ছাড়া বাকি সবদিনই সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটা। টিকিট ২০ টাকা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু স্মারক, ছবি, পোষ্টার ও পেপারকাটিং আছে। আছে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত দ্রবাদি। সারাদিন এখানে মুক্তিযুদ্ধের গান বাজে, টিভিতে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের ডকুমেন্টরি। প্রাঙ্গণে আছে ক্যাফে, ক্যাফে থিয়েটার, লাইব্রেরি, সেমিনার কক্ষ ও জ্বলন্ত শিখা। আটজন ট্রাস্টি্র উদ্যোগে সেগুনবাগিচার সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত। এরপর গেলাম রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। ঢুকতে হলো না, রাস্তা থেকেই বেশ দেখতে পেলাম মাথা উচু করে দাঁড়িযে আছে স্মৃতির মিনার। ততোক্ষনে শীতের সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বাসায় ফিরছি, বুকপেটে তখনো সাভার স্মৃতিসৌধের ছবি সম্বলিত একটি পঞ্চাশ টাকার নোট। মুক্তিযুদ্বের সবকিছুই সগর্বে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। থাকবে নাইবা কেনো। এই তো আমাদের সর্বশেষ্ট অহংকার। আমরা রক্তের দামে স্বাধীনতা অর্জন করে নিতে পেরেছি।

ছবিঃ আফতাব আহমেদের ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’ বই থেকে নেয়া হয়েছে


সীতাকুন্ড ঘুরে

সীতাকুন্ড ঘুরে

আমাদের বাস সীতাকুন্ড বাজারে এসে থামলো। ঘড়িতে তখন বেলা এগরোটা দশ। চট্রগ্রাম থেকে এখানে পৌঁছাতে সময় খরচা হলে প্রায় দ ঘন্টা। রাস্তার উল্টোদিকেই ভাঙাচোরা নামবিহীন এক হোটেল। এখানে আসার আগেই জানা গিয়েছিল এই হোটেলের কলিজা ভূনা আর পরোটার খ্যাতি নাকি ভুবনজোড়া। তাই এক দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে সোজা হোটেলে। খেতে খেতেই চললো প্ল্যান। আমরা যাবো চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। উঠতে হবে একেবারে চূড়োয়। কাধেঁ আছে হ্যাভারস্যাক। ওটাতে ছুরি, কাঁচি থেকে শুরু করে বাইনোকুলার, ফার্স্ট এইড বক্স সবই আছে। দুই বোতল মিনারেল ওয়াটারও কেনা হলো। বাজারের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি রিকশা। রিকশাওয়ালারা গলা ফাটিয়ে চেচাচ্ছে ঢাল, ঢাল, পাহাড়ের ঢাল। দরদাম করে ১০ টাকায় রফা হলো। শুরু হরো পথ চলা। মাটির রাস্তা, চারপাশে ঘন সবুজ পাহাড়। পাহাড় দিয়ে ঘেরা ছোট্র শহর সীতাকুন্ড। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান বলা যায়। হিন্দু পুরাণের বহু ঘটনার স্বাক্ষী এই সীতাকুন্ড। চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুন্ডের সবচেয়ে উচু পাহাড়। এই পাহাড়ের চুড়ায় রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির। হিন্দুধর্ম ভক্তরা ব্শ্বিাস করন অত্যান্ত পবিত্র এই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করলে মনষ্কমনা পূর্ণ হয়। যাই হোক, রিকশায় যেতে যেতে হঠাৎ পড়লো অসম্ভব সুন্দর আর বিরাট পুকুর। স্বচ্চ পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ দিঘিটি। জানা গেলো, সীতা দেবী এই দিঘিতেই স্লান করতেন। এরপর কিছুদূর এগোতেই চোখে পড়লো একটি বটগাছ। বিশালি এই বটবৃক্ষের চারপাশে লোহা তার দিয়ে ঘেরা। এই বটগাছের ছায়াতেই স্বামী বিবেকানন্দ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। বটগাছটি পার হতেই এক আশ্রম। বিশাল এই আশ্রম। এই আশ্রম পেরোতেই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢাল। রিকশা থেমে গেল। রিকশা থেকে নেমে আমরা পাহাড়ের ঢালে বেয়ে ওঠা শুরু করলাম। পাহাড় ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি মন্দির। নিমতলা মন্দির, ভবনী মন্দির, শ্রী শ্রী সম্ভুনাথ মন্দির এবং একদম চূড়োয় চন্দ্রনাথ মন্দির।

প্রত্যেকটি মন্দির সুন্দর। সম্ভুনাথ মন্দিরেই রয়েছে শিব লিঙ্গের প্রকৃত পাথরটি। যা আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে অলৌকিকভাবে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চুড়োয় ওটার পথে এই মন্দিরগুলোই হচ্ছে দর্শনীয় স্থান। পাহাড় কেটে কেটে তৈরি করা সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে আমরা চূড়োয় উঠছি। কতোটুকু উঠছি জানি না। হঠাৎ চোখে পড়লো অপূর্ব সুন্দর এক ঝরনা। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নেমে আসছে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি। এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে ও্ই ঝর্নার পানিতে গোসল করছে। বড়ো অপরূপ সেই ছেলেখেলা! আমাদের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই বোতলে ঝরনার পানি ভরে নিলাম। আহ, কি মিষ্টি পানি! আবার আমাদের ওপরে ওঠা শুরু হলো। যতোই উপরে উঠছি, ততোই চারদিক পাহাড় যেন বিস্তৃত হচ্ছে। হঠাৎ এক জায়গায় দেখলাম একটা সেতুর মতো তৈরি করা। জানা গেলো ওখানে দাড়িয়ে নাকি হাজার বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের রানী প্রতিদিন সূর্যকে পূজো করতেন। ওই সেতুতে দাড়িঁয়ে সোজা তাকালে সমুদ্র চোখে পড়বে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। এতোক্ষন খেয়ালই করিনি। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলাম প্রায় দু ঘন্টা কেটে গেছে। চুড়ার দেখা এখনো মেলেনি। উঠছি তো উঠছিই। আরো প্রায় আধঘন্টা পার হলো। ঠিক সেই সময় চন্দ্রনাথ মন্দিরের চূড়োটি চোখে পড়লো। লাফিয়ে উঠলাম আমরা। চলে এসেছি চুড়োয়। চন্দ্রনাথ মন্দিরে তখন কেউ নেই। নির্জন পাহাড়ের চূড়োয় শুধু আমি আর আমার বন্ধু দাড়িয়ে। মন্দিরের সামনে দাড়াতেই মন পবিত্র হয়ে গেলো। আড়াই ঘন্টা পাহাড়ে ওঠার ক্লান্তি নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরের চারপাশে ঘুরে বেড়ালাম আমরা। এবার নিচে নামার পালা।

আপনাদের জন্য –:

  • চট্রগ্রাম থেকে সীতাকুন্ডের বাস ছাড়ে। দু ঘন্টার পথ। ভাড়া ২০ টাকা। ঢাকা থেকে যেতে চাইলে চট্রগ্রামের বাসে উঠে পড়ুন।
  • সীতাকুন্ড বাজারে নেমে পড়বেন। সীতাকুন্ডে ভালো আবাসিক হোটেল নেই। তাই থাকার জায়গা নিশ্চিত করে নিন।
  • পাহাড়ে ওঠার সময়ে হালকা কাপড় চোপড় পরাই ভালো। যেমন, জিন্স, টি শার্ট।
  • হ্যাভারস্যাকে পানি রাখুন। কারণ পাহাড়ে ওঠার পথে ঝরনা দেখার আগে পানি পাবেন না।
  • প্রচুর পরিমানে চকলেট সাথে নিন। কারণ পাহাড়ে উঠলে শরীর সুগারের পরিমান কমতে থাকে। ওপরে উঠবেন আর চকলেট খাবেন।
  • চুড়োয় ওঠার পথে ঝরনার পানিতে গোসল করে নিন। ভালে লাগবে।
  • বাসায় ফিরে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুটো প্যারসিটামল খেয়ে নিন।

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

নওরোজ ইমতিয়াজ

একবার এলেই জায়গাটির প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা। শান্ত, সমাহিত, অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হচ্ছে এই রাঙামাটি।

ঢাকা থেকে সরাসরি ডলফিনের বাস যায় সকালে আর রাতে। আর নয়তো চট্রগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর রাঙ্গামাটির বাসে। বিমান বা ট্রেনে যাওয়া সম্ভব নয় রাঙ্গামাটিতে। একটু কষ্ট বৈকি। কিন্তু নিজের দেশকে চেনার জন্য  এগুলো কোন সমস্যা না। রাঙ্গামাটির যেখানটাতেই থামেন সেটাই দেখার মতো জায়গা। যেদিকে তাকানো হোক সেটাই ছবি তোলার মতো সুন্দর। আকাশ, পাহাড় আর পানি। সাথে গাঢ় সবুজ অরণ্য। সবকিছুর বিচিত্র সহাবস্থান শিল্পির কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবার কথা। প্রকৃতি মনে হয় তার অবসর সময়ে একটু একটু করে পরম যত্ন নিয়ে বানিয়েছে গোটা এলাকা। রাঙ্গামাটি জেলাটাই একটা বিরাট পাহাড়ি এলাকা। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে কম বেশৗ এক দেড়শ ফুট ওপরে। পাহাড় কেটে কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। এই ঢালু তো এই খাড়া। তার ওপর বেশ কঠিন কঠিন সব মোড়। ওপাশ থেকে কি আসছে না আসছে বোঝার উপায় নেই। সে কারনে যে আস্তে আস্তে যাবো তারও উপায় নেই । তাহলে গাড়ি উঠবেই না খাড়া ঢাল বেয়ে। গাড়ি ঘোড়া মোড় নেয়ার সময় তাই বিকট শব্দে হর্ন বাজতে হয়। রাঙ্গামাটি শহরে কোনো রিকশ, ভ্যান, সাইকেল নেই। শুধু কিছু স্কুটার ঘোরাফরা করে। স্কুটারের ভাড়াটাও বেশ চমৎকার। নির্দিষ্ট একটা রেঞ্চের মধ্যো যেখানেই যাওয়া যাক জনপ্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া। এর বাইরে গেলে ১০ টাকা। এর বেশি না। রাঙ্গামাটি শহরের অভিজাত এলাকা হচ্ছে বনরূপা। ঢাকার গুলশান, বনানীর মতো। সমস্ত বড় বড় সরকারী, বেসরকারি অফিস আর বসতবাড়ী। তারপর হচ্ছে তবলছড়ি। এটাও বেশ সুন্দর জায়গা। শহরে একটু পরপর নানারকম দোকান, অফিস, বাড়িঘর। সীমান্ত অঞ্চলে থেকে আসা উন্নতমানের কাঠের ব্যবসা আছে। ঢাকা থেকে লোকজন এসে তা দিয়ে দরকার মতো আসবাবপত্র বানিয়ে নিতে পারে। খানিকটা দূরে দূরে নানারকম হ্যান্ডিক্যাফটের দোকান। স্থানীয় উপজাতি মেয়েদের বানানো জামা কাপড়, ব্যাগ, টুপি, মাটির বা কাঠের খেলনা, পুতুল সব পাওয়া যায়।

রাঙ্গামাটি পর্যটনের জন্য বিরাট সুবিধা। পর্যটন করপোরেশনের মোটেল আছে। এসি, ননএসি সবরকম থাকার ব্যবস্থা আছে। আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল সুফিয়া। অগ্রিম বুকিং এর জন্য ফোন নম্বর হলো: ০৩৫১২১৪৫।

পর্যটনের পাশে দেখার জায়গা হলো ঝুলন্ত ব্রিজ। ব্রিজের দুপাশে লেক আর পাহাড়। বোটের ব্যবস্থা আছে। একঘন্টা এক থেকে পাঁচশ টাকা ভাড়া। দেখার মতো আরো আছে পর্যটনের রেস্ট হাউস, শুটিং স্পট, তারপর আরেকটু ভেতরে গেলে আদিবাসীদের গ্রাম, প্রাচীন মন্দির,পুরোনো রাজবাড়ি। স্থানীয় মানুষজন খুব উদারমনা ধরনের, বেশ অতিথি বৎসল। দেখা হলে বন্ধু বন্ধু চেহারা করে এগিয়ে এসে কথাটথা বলে। খুব সহজ সরল। তবে রাঙ্গামাটি এসে বেড়ানোর ভয় একটাই, ম্যালেরিয়া। রাত হলেই বিশাল বিশাল সাইজের মশারা টহল দিতে শুরু করে । শহরের দিকে এই সমস্য অল্প হলেও গ্রামাঞ্চলে বিষয়টা ভয়াবহ পর্যায়ের। অতএব, রাঙ্গামাটি বেড়াতে হলে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক সাথে রাখা জরুরী।

আপনাদের জন্য

  • ঢাকা থেকে সরাসরি শুধু ডলফিন পরিবহনের বাস যায় সকালে আর রাতে।
  • চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির বাস যায়। দুই ঘন্টার রাস্তা। ভাড়া ৩৫ টাকা।
  • ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক নিয়ে নেবেন। এই রোগের বিরাট উপদ্রব রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।
  • রাস্তায় চলাফেরার সময় ট্রাফিক আইন কানুন মেনে চলুন। রং সাইডে চলে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
  • হালকা পোশাক পরুন। ফর্মাল হতে গেলে চলাফেরা সমস্যা্।
  • সাথে একটা ক্যামেরা নেন। ছবি তোলার জন্য এক রকম দৃশ্য আর পাবেন না।

Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar