Monthly Archives: January 2019

স্মৃতিশক্তি বাড়ান যায় কি ?

স্মৃতিশক্তি বাড়ান যায় কি ?

কল্পনা করুন বন্ধু বান্ধবের সাথে হয়ত ঠেসে আড্ডা দিচেছন। মাঝখানে একজনের নাম মনেই আসছে না কিছুতেই। গল্পর মজাটাই মাঠে মারা গেল। বাড়ি থেকে বের হবার মুখে গিন্নি পইপই করে বলে দিল মরণচান থেকে সন্দেশ এন। বাড়ি ফিরলেন খালি হাতে। কথাটা মনেই নেই। একেবারে। অবস্থাটা ভেবে দেখুন। স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যেককেই কতই না এ ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়।

স্মৃতিশক্তি মানুষের জন্য সত্যই এক অমুল্য ধন। ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি এক বিড়ম্বনা। জীবনে উন্নতি করতে হলে পর্যাপ্ত স্মৃতিশক্তি একান্ত প্রয়োজন।

ছাত্র হোক, ব্যবসায়ী হোক, কর্মচারী হোক সকলের জন্যই কথাটা সত্য। যে ছাত্র তার পাঠ্যবস্তু যত বেশি মনে রাখতে পারে পরীক্ষায় তার রেজাল্ট হয় তত বেশি ভাল। এমনকি যেসব রাজনৈতিক নেতার স্মরণশক্তি যত প্রখর, যে যত বেশি তার দলের কর্মীদের নাম ও মুখ মনে রাখতে পারে যত বেশি জনপ্রিয় সে। সে জন্যেই দেখা যায়, বিখ্যাত নেতাদের স্মরণশক্তি অধিকারী ছিলেন বলে শোনা যায়। আমার এক আত্মীয় অবসরপ্রাপ্ত বড় অফিসারের সাথে শেখ সাহেবের দেখা হলে তার দীর্ঘ বিশ বছর পূর্বে সেই গ্রামে সভ্য উপলক্ষে স্থাণীয় যেসব নেতাদের সাথে তার আলাপ হয়েছিল তাদের নাম ধরে তাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করা দেখে স্মম্ভিত হয়ছিল। আমাদের সময়ৈ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় যে প্রথম হয়েছিল পরবর্তীকালে স নাম করা আমলা হয়েছিল। ইসলামাবাদে থাকাকালে একবার তার সাথে হওয়া কথোপকথন দিন সাতআট পর হুবুহু লাইন বাই লাইন শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বুঝেছিলাম অকল্পনীয় প্রখর স্মরণশক্তি তার উন্নতির মূল স্তম্ভ। আমাদের সময় মেডিকাল কলেজে চক্ষু বিভাগে এক অধ্যাপক ছিলেন যিনি ছাত্রদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়  ছিলেন। এর প্রধাণ কারণ ছিল তিনি তার ছাত্রদের প্রায় প্রত্যেকের নাম ধরে ডাকতে পারতেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বস্তু স্মৃতিশক্তি সম্বন্ধে আমরা কতটুকু জানি? বলতে গেলে কিছুই না। স্মরণশক্তি  এক বিশাল সমুদ্র যা এখনও রহস্যে রয়ে গেছে। অবশ্য বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এর তল উম্বোচনের প্রয়াসে ব্যাপক গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ফলশ্রুতিতে কিছু কিছু তথ্য উদঘাটিত হয়েছে  এবং হচেছ।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মৃতি বলতে শুধুমাত্র একক এক বস্তুকেই বোঝায় না। স্মৃতি একটা বড় ছাতার মত। বিরাট তার ছায়ায় নানা উপাদান, নানা রহস্য। স্মরণশক্তিকে আমরা মোটামুটি দু ভাগে ভাগ করতে পারি। এক ক্ষণস্থায়ী বা শটটার্ম মেমোরী (এসটিএম)  এর স্থায়ীত্ব আধ মিনিট থেকে দু মিনিট মাত্র। এর উদাহারণস্বরূপ বলা যায় একজন তার সেক্রেটারির কাছ থেকে কারও টেলিফোন নম্বর জেনে নিয়ে টেলিফোন করল। তারপর সেটা ভুলে গেল। দুই দীর্ঘস্থায়ী বা লংটার্ম মেমোরী (এলটিএস) এর স্থায়ীত্ব  অত্যান্ত দীর্ঘকাল ধরে।   এর উপমা বেশ কয়েক বছর পূর্বে যে বাড়িতে বাস করতেন তার কথা, স্কুলে পড়া না পারলে হেড পন্ডিত কেমন ক েবেত্রাঘাত করতেন তার কথা অনেকেরেই মানস পটে থেকে যায় বহুদিন। অতীতকালের বহু ঘটনার কথা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের মনে থাকে বলতে গেলে অপ্রতুল। এর মধ্যেও কথা আছে। অতীতে ঘটে যাওয়া কোন কোন ঘটনা মনে থাকে আবার কোন কোন ঘটনা অচিরেই  বিস্মৃতির অতল তলে তলিয়ে যায়। আমার ব্যক্তিগত জীবনের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। শৈশবকালে পরিবারের সাথে আমি একবার আসামে বেড়াত গিয়েছিলাম। কোলাহল মুখর শিলাইদহ স্টেশন থেকে আসাম মেল ছাড়ার কথা, হুহু করে ছুটে চলা ট্রেনের জানালায় দিয়ে দেখা বাইরে লাইনের ধারে নালার জল এবং সাথে কাশবনের ডেউখেলানি, নীল আকাশে শুভ্র মেঘের আনাগোনার দৃশ্য, নাটোর স্টেশনে প্লাটফর্মের ওভারব্রিজের নিচে ভেন্ডরের ‘চাই কাঁচা গোল্লা’ ডাক স্পষ্ট মানস পটে গাথা রয়েছে এখনও। কিছু ভুলে গেছি মাসাধিককালে সেই ভ্রমণের ঘটনা। কেন এমন হয় ? কোন কোন ঘটনা মনেথাকে অনেক দিন, কোন ঘটনা মনে থাকে অনেক দিন, কোন কোনটা ভুলে যাই তাড়াতাড়ি?

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ডাঃ ম্যাক্সি ফাইক বলেন, ‘প্রায় শতভাগ লোকই পঞ্চাশ বা তার কিছু আগে পরের বয়স’ স্থতে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। যদি এমন কোন রাসায়নিক পর্দাথ উদ্ভাবণ করা যেত যার দ্বারা এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস করা যায় তবে অনেক উপকার হত।

ম্সৃতিশক্তি একক কোন পদার্থ এ কথা বলা যাবে না যে ওর  স্মৃতিশক্তি ভাল তার স্মৃতিশক্তি কম। কারণ দেখা যায় কোন কোন বিষয়ে কারও স্মৃতি শক্তি ভাল নয় অবার অন্য ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক। কেউ নাম মুখের আদল মনে রাখতে পারে না অথচ জায়গার নাম, দিন তারিখের কথা, ইতিহাসের তারিখ ঠিকই মনে রাখতে পারে।

আমেরিকার প্রবীণদের ইনস্টিটিউটে ২০ -৫৫ বছর বয়স্ক ৬৬ জন ব্যাক্তির উপর গবেষনা চালিয়ে দেখা গেছে যে কানে শোনা কথা বা শিক্ষা বেশ মনে থাকে বহুদিন কিন্তু চোখে দেখা জিনিস বা কোন অভিজ্ঞতার কথা মানুষ ভূলে দ্রুততর। এর একটা কারণ অবশ্য এই যে মানুষ সাধারণত দেখার সময় তীক্ষ্ন ভাবে তা দেখে না। ডাঃ রুবীন ডেভিড গবেষণার ভিত্তিতে বলেন, লোকেরা নিজেদের জীবনের বিশেষ বিশেষ বয়সের কথা অন্যান্য বয়সের কথার চেয়ে বেশি স্মরণ রাখতে সক্ষম। প্রায়ই দেখা যায় সকল মানুসের ক্ষেত্রে সময়কালটা সমান। লোকেরা মধ্য বয়স এবং বৃদ্ধ বয়সে ইদানিংকালের চেয়ে প্রথম যৌবন এবং পূর্ণ যৌবনকালের কথা বেশি করে স্মরণ রাখতে পারে।

স্মৃতিশক্তির মেকানিজম বা কার্যকারণ সম্বন্ধে নিশ্চয় করে কিছু বলা যায় নি এখনও। বিভিন্ন তত্ব  এ বিষয়ে চালু আছে। ডাঃ লিঞ্চের মতে মস্তিষ্ক হতে ক্যাপলিন নামের পর্দাথ। এর ফলে তারা মস্তিষ্কের কলাতে নতুন নতুন সংযোগ স্থাপন করতে সমর্থ হয়। তার ফলে স্মরণ প্রক্রিয়া চলে থাকে।

এমনিতে ক্যাপলিন খুব ধীর গতিতে কার্যক্ষম হয় যার কারণে মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ু কোষে সংযোগ সৃষ্টিতে বিলম্ব ঘটে। উদাহারণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝান যায়। কোনো নাম যদি পুনঃ পুনঃ উচ্চারিত হয় তবে ক্যাপলিন সৃষ্টি হয় ঘন ঘন। ফলে নতুন নতুন সংযোগ সৃষ্টিকার স্নায়ুকোষ সৃষ্টি হয়। নামটি তখন স্মৃতির অতল তলে চলে যায়। তাকে বহু বছর পরও মনে করা সম্ভবপর হয়। এটাই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি বা এলটিএস এর রহস্য।

অন্য আর একভাবে এই এনজাইম অধিক মাত্রায় উৎপাদিত হতে পারে। কোন ঘটনা স্মরণ করার প্রচন্ড চেষ্টা চালালে এই এনজাইম সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে সুদূর অতীতকালের সামান্যতম স্মৃতিও ভেসে উঠে মানসপটে।

প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের স্মৃতিশক্তির কি উন্নতি করা যায় ?

কিছুকাল পূর্বেও বিজ্ঞানিদের ধারণা ছিল তা সম্ভবপর নয়। যতটুকু স্মরণশক্তি নিয়ে একজন জন্মগ্রহণ করে তার চেয়ে বাড়ান আর সম্ভব নয়।

অবশ্য মানুষ তার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অত্যান্ত আগ্রহী এবং তার জন্য নানাবিধ উপায় অবলম্বন করে। এ সম্বন্ধে নিশ্চয় কিছু বলা শক্ত। তবে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে রাসায়নিক পদার্থের ভূমিকা সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। তারা মনে করেন স্মৃতিশক্তি এমনকি দু তিন গুণ বাড়ান সম্ভবপর হবে। এ ব্যাপারে তারা স্বপ্ন দেখে চলেছেন। স্বপ্ন হলেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এমন ওষুধ আবিষ্কার হতে খুব দেরী নয় বলে মনে করা যেতে পারে।

ডাঃ গ্যারী লিনচ পরীক্ষাগারে ইদুরের স্মরণশক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে   এখনও তা সম্ভবপর হয়নি। বেলজিয়াম ও স্পেনের বিজ্ঞানীরা মস্তিস্কের পিটিউটারী গ্রন্থি হতে হরমোনের মতো এক রাসায়নিক পর্দাথ তৈরি করতে সর্মথ হয়েছেন যা মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সমর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। পদার্থটির নাম ডেসোপ্রেসিন। ডঃ ফ্রঙ্কের বলেন, এ সমস্ত ওষুধ যথা পিটুইটারি বা এসিটিএইচ হরমোনের নিউরোপেথটাউট অংশ ২০ জন রিটার্ডেড বাচচাদের স্মরণশক্তির কিছুটা উন্নতি করতে সমর্থ হয়েছে বলে গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে। কিন্তু মানুষদের ক্ষেত্রে এ সমস্ত ওষুধের কার্যকারিতা নিখুতভাবে প্রমাণিত হয়নি।  এ সিটিএইচ মস্তিস্কের নিচের দিকে একটি অংশে বিদ্যমান পিটিউটারী গ্রহ্ণি হতে নিঃসৃত হয়। বর্ষীয়ানদের এর ইনজেকশন দেয়ার পর দেখা যায় তাদের স্মরণ শক্তির উন্নতি হয়েছে, তার তা খুব সামন্য। আমেরিকার নিউ অরলিনসে রাজ্যে প্রশাসনিক হাসপাতালের ডাঃ কনোটিনের মতে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় ঠিকই কিন্তু ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যথেষ্ট সম্ভাবনা বিদ্যমান

ডাঃ এস  এ খালেক

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


মহিলাদের ১০ টি ঘাতক রোগ

মহিলাদের ১০ টি ঘাতক রোগ

ডাঃ ভোরনন ফোরম্যান

এক. হৃদরোগ

অনেক মহিলাই মনে করে থাকেন শুধু পুরুষেরােই হৃদরোগে মারা যান। মহিলাদের এই ধারণা মোটেই সত্য নয়। বরং হৃদরোগে মহিলারাই বেশি মারা যায়।

যদিও পঞ্চান্ন বয়সের বেশি বয়স্ক মহিলারাই সবচেয়ে বেশি মারা যায়। তবে পঞ্চান্ন বয়সের কম বয়স্কা মহিলা সিরোসিস বা অন্যন্য লিভারজনিত রোগে মারা গেলেও হৃদরোগেই সবচেয়ে বেশি মহিলা মারা যায়।

বর্তমানে হৃদরোগের চিকিৎসায় অভূতপূর্র্ব উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ হাসপাতালেই আজকাল ওপেন হার্ট সার্জারির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হৃদরোগের রোগীদের সুস্থ করার চেয়ে এ রোগ প্রতিহত করা আরও সহজ। আর হৃদরোগের প্রতিরোধ করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ক) আপনার ওজনের প্রতি খেয়াল রাখুনঃ

মোটা হওয়ার ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে। তাই আপনার ওজন যদি দুই স্টোন বেশি হয় তা আপনার জন্য ঝুকিপূর্ণ। খাদ্য বন্ধ করে দেয়া খুব একটা ভালো নয়। এজন্য আপনার খাওয়ার অভ্যাসকে পরিবর্তন করতে হবে। শুধু ক্ষুধার সময় খাওয়ার অভ্যাস করা সবচেয়ে ভালো।

খ) সিগারেট এড়িয়ে চলুনঃ

যদি আপনি নিজেকে মেরে ফেলতে চান তাহলে সিগারেট খাওয়াটা আপনার জন্য একেবারেই বোকামী। সিগারেট আপনার ধমনীকে সঙ্কুচিত করে দেয়। যার ফলে আপনার হৃদ যন্ত্রে চাপ সৃষ্টি হয়।

গ) দুশ্চিন্তা দমনঃ

       অযাচিত চিন্তা জীবন থেকে দুর করুন। আপনার দুশ্চিন্তা কতগুরো অপ্রয়োজণীয় এবং কিভাবে নির্ভাবনারয় থাকা যায় সেই কৌশল আয়ত্ব করতে শিখুন। চিন্তাভাবনা দুর করে মানসিক, প্রশান্তি অর্জনের ব্যাপারে লাইব্রেরিতে অনেক বই ও ভিডিও টেপে অনেক সন্ধান থাকে। সেগুলো দেখুন। একবার সে কৌশল জানা হয়ে গেলে আপনি আপনার জীবনের সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন।

ঘ) সঙ্গত খাদ্য গ্রহনঃ

চর্বি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। সম্পূর্ণ বা আংশিক চর্বি উঠানো দুধ খাবেন। মাখনের পরিবর্তে কম তেলযুক্ত স্প্রেড রুটিতে খাবেন। এমন মাংস খাবেন যার মধ্যে কোন চর্বি থাকে না। যদিও বা ছিটোফোটা থাকে তা ফেলে দেবেন। বেশি পরিমাণে লাল রংয়ের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ঙ) নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ

ব্যায়াম অনুশীলনটা যেন কষ্টদায়ক না হয়। এতে যদি আপনাকে ব্যথা দেয় তা আপনার জন্য আরো ক্ষতিকর করা দরকার।

যেভাবে করলে আপনার ভালো লাগে সেভাবে করুন। কিন্তু নিয়মিত চালু রাখবেন। সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম হচ্ছে সাতার কাটা, নাচা, হাঁটা এবং সাইকেল চালানো। ব্যায়ামের জন্য এয়ারোবিক ক্লসগুলোর আপনার জন্য ভালো।

দুই.  স্ট্রোক বা হঠ্যাৎ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত প্রবাহে বাধা প্রাপ্ত হওয়া

দেহের অন্যান্য অংশের মত মস্তিষ্কও নিয়মিত রক্ত সরবারহ যদি বাধা প্রাপ্ত হয় অথবা কোন শিরা থেকে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে তাহলেই আপনার স্ট্রোক হবে। স্ট্রোকের তীব্রতা মৃদু হলেও আপনার দেহ অবশ হয়ে যেতে পারে বা আপনার কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে।

দেহের মাংসপেশি বা কোন অংবিশেষের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা নির্ভর করবে মস্তিস্কের কোন অংশে স্ট্রোক হয়েছে। বড় আকারের স্ট্রোক হলে আপনি মারা যেতে পারেন। ২ ধরনের উল্লেখযোগ্য স্ট্রোক আছে।

রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক

রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে এক স্থান রক্ত জমতে থাকলে সে চাপের সৃষ্টি হয় তাতে দেহের ঐ স্থান নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

রক্ত জমাটজনিত স্ট্রোক

মস্তিস্কের ধমনীর রক্ত জমাট বেধে গেলে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের সেই অংশে রক্ত এবং অক্সিজেন পৌছাতে পারে না। তবে ওঠেন। স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে যেসব রোগী হাটাতে পারতেন না তারাও আবার হাটতে পারেন।

নিম্নলিখিত জিনিসগুলো যদি আপনি করে থাকেন তাহলে আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ক) আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে।

খ) আপনি যদি খুব চর্বিযুক্ত খাদ্য খেয়ে থাকেন।

গ) আপনার যদি বহুমুত্র রোগ থাকে এবং তার কোন চিকিৎসা করানো হয়নি।

তাই আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা যদি কমাতে চান আর যদি আপনার বয়স ষাটের বেশি হয় তাহলে বছরে একবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রক্তের চাপ এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করাবেন।

আর আপনার পরিবারের কারো যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে আপনি বেশি লবণযুক্ত খাদ্য একেবারেই পরিহার করবেন এবং আলাদা লবণ গ্রহণ করবেন না।

আর পরিহার করতে চেষ্টা করবেন চর্বিযুক্ত খাদ্য। ধুমপান করবেন না।

       তিন. নিউমোনিয়া

যেসব রোগে মহিলাদের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউমোনিয়া তাদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই রোগে পুরুষের চেয়ে মেয়েরাই অনেক বেশি মারা যায়। সাধারণত বুড়ো ও জোয়ানরাই এই অসুখের শিকার। যে সমস্ত মহিলা সহজেই রোগ জীবানুর শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বিশেষ করে মদ্যপায়ীরা, তারা সহজেই এই রোগে আাক্রান্ত হয়।

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুস ফুলে যায়। ভাইরাস বা নানা ধরনের রোগজীবানুর কারণে এই রোগ হয়। এর প্রথম লক্ষণ হচ্ছে তীব্র জ্বর হওয়া, ঘন ঘন নিঃশ্বাস প্রশ্বাস টানা, কাপুনি ও ঘাম হওয়া এবং কাশির সাথে সাথে ঘন জমাট রক্তের কাশি বের হওয়া। পেনিসিলিন এবং আরো কয়েক ধরনের এন্টিবায়োটিক দিয়ে এই রোগ সারানো হয়। আবার অনেক সময় তাতেও রোগ নিরাময় হয় না।

নিউমোনিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে নিচে উল্লেখিত সাবধনতাগুলো অবলম্বন করতে হবেঃ

  • প্রচুর পরিমাণে ফল ও সবজি জাতীয় পুস্টিকর খাদ্য খাবেন।
  • ফুসফুসকে সুস্থ রাখার জন্য ধোয়া এবং ধুলাপুর্ন বাতাস যাতে নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • ধুমপায়ীদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন।
  • নিজেকে সব সময় স্বাস্থ্যবান রাখার চেষ্টা করবেন বিশেষ করে মদ্যপান করে স্বাস্থ্যের অবনতি ডেকে আনবেন না।

চার. ব্রেষ্ট ক্যান্সার

ব্রেষ্ট ক্যান্সার সাধারণতঃ বেশির ভাগ মহিলাদের হয়ে থাকে। তাই এ ব্যাপারে নীচে উল্লেখিত তথ্যগুলো মহিলাদের জানা প্রয়োজনঃ

মহিলাদের বয়স যখন বিশের নিম্নে এবং গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপানকালে তাদের ব্রেষ্ট ক্যান্সার সাধারণত হয় না। ত্রিশ থেকে ষাট বছর বয়সী মহিলাদের (ব্রেষ্ট ক্যান্সার হওয়ার সময়) প্রতি বিশজন মহিলার মধ্যে একজনের সাধারণত ব্রেষ্ট ক্যান্সার হয়।

যত তাড়াতাড়ি ব্রেষ্ট ক্যান্সার সনাক্ত করা যাবে তত তাড়াতাড়ি এর উপশম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বছরে একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করান খুব ভালো। তবে দেখানোর এক সপ্তাহ পরে যদি ব্রেষ্ট কোন লাম্প বা পিন্ড গঠিত হওয়া শুরু হয় তাহলে তখন  থেকে ৫১ সপ্তাহ পরে ঐ পিন্ড নজরে আসবে এবং তখনই চিকিৎসা শুরু করা দরকার।

  • কোন প্রকার বিলম্ব ঘটলে মারাত্মক হতে পারে।
  • আজকাল চিকিৎসকদের ধারণা যে আপনি যদি নিজে আপনার ব্রেষ্ট পরীক্ষা করতে পারেন সেটা সবচেয়ে ভালো।

মাসে একবার আপানার পরীক্ষা করা উচিত। মাসিক স্রাব বন্ধ হওয়ার ঠিক পরপরই এটা করা ভালো। কেননা এই সময় ব্রেষ্ট সবচেয়ে বেশি নরম থাকে। কোনটা পিন্ড আর কোনটা পিন্ড নয় সেটা বুঝতে যদি আপনার অসুবিধা থাকে তাহলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

এই ভাবে করার নিয়মঃ

ক) প্রথমে পোশাকটা খুলে একটা আয়নার সামনে বসুন বা দাড়িয়ে থাকুন আপনার দু পাশে হাত ঝুলিয়ে দিন আয়নার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, আপনার ব্রেষ্ট্রর আকারে কোন পরিবর্তণ এসেছে কি না। তারপর পরীক্ষা করে দেখুন আপনার ব্রেষ্টের নিপলে কোন রক্ত বা পানি ঝরে কিনা।

খ) তারপর শুয়ে পড়ুন।

গ) আপনার বাম হাতটা মাথার নীচে রাখুন এবং ডান হাত দিয়ে আপনার বাম দিকের ব্রেষ্ট পরীক্ষা করবেন। এজন্য হাতের তালু ব্যবহার করবেন আঙ্গুল দিয়ে নয়। ব্রেষ্টের নীচের এক পাশ দিয়ে হাতের তালু উপরে নিপলের দিকে নিয়ে যাবেন কিছু পিন্ড আছে কিনা তা অনুভব করার জন্য।

ঘ) মনে করবেন ব্রেষ্টের উপরিভাগে নরম জাতের এক ধরনের পিন্ডের মত থাকে যেগুলো চর্বি এবং দুধ তৈরির গ্রান্ড। উভয় পার্শ্বর ব্রেষ্ট মোটামুটি এক ধরনের হয়।

আপনার খুজতে হবে কোন প্রকার খন্ড বা পিন্ডের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে কি না।

ব্রেষ্টের অন্য পাশটাও একইভাবে পরীক্ষা করুন।

ঙ) বগলের তলায় কোন পিন্ড আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখেন।

চ) এরপর বাম হাত দিয়ে অনুরূপভাবে অন্য দিকের ব্রেষ্টটাও পরীক্ষা করে নিন।

ছ) যদি কোন পিন্ড নজরে আসে তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

জ) পিন্ড টাকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন না।

পাঁচ. ফুসফুসে ক্যান্সার

       ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার প্রধান কারণ। জীবনের যত তাড়াতাড়ি আপনি ধুমপান করা শুরু করবেন তত তাড়াতাড়ি আপনার ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার আশংকা বেশি থাকবে।

আর যতই আপনার ধুমপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে ততই বৃদ্ধি পাবে ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার আশংকাও বাড়বে।

আপনি যদি ধুমপায়ীদের সাথে থাকেন বা কাজ করেন সেই ধোঁয়ার শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে গিয়েও আপনার ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। ধুমপায়ীদের অবশ্য এ ব্যাপরে বলে থাকেন তাতে আর কি হবে ? আমাদের সবাইকে একদিন তো চলে যেতেই হবে। কিন্তু মরতে হবে। হয়তো বা চল্লিশের পর আপনার জীবনা শেষ হয়ে যাবে।

আর মৃত্যুটাও বড় যন্ত্রণাদায়ক

       এই অসুখের প্রথম লক্ষণগুলো হলো যে আপানার কাশি যেন মোটেই সারাতে চাইবে না। তারপর শুরু হবে কাশিতে রক্ত আসা, বুকে ব্যথা, হাই হাই শব্দ বুকের ভিতর এবং অতি ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ।

ফুসফুসের ক্যান্সার দেহের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন হাড্ডি, লিভার এবং মস্তিষ্কে। তখন শুরু হয় ব্যথা এই সমস্ত স্থানেও।

অস্ত্রোপাচার, ওষুধ ও রেডিওথেরাপী দিয়েও এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। শতকরা ১০ ভাগেরও কম রোগী ৫ বছর বেচে থাকতে পারে। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা পেলে অনেক অসুবিধা হয় (লক্ষণগুলো সম্বন্ধে চিকিৎসকর কাছে তাড়াতাড়ি জানানো দরকার)

ছয়. কোলোন বা মলাশয় ক্যান্সার

বড় অস্ত্রের সবচেয়ে বড় অংশকে মলাশয় বলা হয় এবং মলাশয়ে ক্যান্সার পশ্চিমাদের মধ্যে খুব বেশি হওয়া শুরু করেছে। অধিকাংশ চিকিৎসকের মতে আমাদের খাওয়ার উপরই এই অসুখ বেশি ভাগ নির্ভর করছে।

  • অতিমাত্রায় খাওয়া।
  • বেশি চর্বি খাওয়া।
  • কম আশ বহুল খাদ্য গ্রহণ

মলাশয়ে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে নীচে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

  • কম মাংস খাবেন বিশেষ করে লাল মাংস
  • কম চর্বিযুক্ত খাদ্য খাবেন।
  • আশবহুল খাদ্য বেশি করে খাবেন (ছিলকাসহ আলু খাবেন, বেশিক্ষণ ধরে সিদ্ধ করে সবজি খাবেন না, টাটকা ফল খাবেন, গমের আটা তৈরি রুটি এবং ব্রাউন চাল ও ওট মীল ও বেকডবীন খাবেন)

মলত্যাগের দৈনন্দিন ধারার কোন পরিবর্তণ দেখা দিলে  মলাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেক সময় ধরা যেতে পারে (হঠ্যাৎ হঠ্যাৎ ডায়রিয়া আবার পরবর্তীতে কোষ্ট্যকাঠিন্য দেখা দেয়া)। সপ্তাহব্যাপী এই রকম চলতে পারে।

সাত. ব্রনকাইটিস

ফুসফুসের ক্যান্সারের মত ব্রনকাইটিসের প্রধান কারণ সিগারেট খাওয়া। হয় আপনি নিজে অথবা আপনার আশপাশে অন্য কেউ সিগারেট খাওয়ার জন্যও ব্রনকাইটিস হতে পারে। সিগারেটের ধোয়ায় ফুসফুসর মাধ্যে বাতাস চলাচল করার যে ফুটা থাকে সেগুলো সরু হয়ে যায়  এবং বিজল তরণ পদার্থও বেশি পরিমাণে নির্গত হয়।

এতে রোগ দেখা দিতে থাকে ততই অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাই ব্রনকাইটিস হলেই প্রায়ই অফিস কামাই দিতে হয়ে।

দুঃখের বিষয় যে লক্ষ লক্ষ মহিলা ব্রনকাইটিসে ভোগেন। আর তাদের বেশিরভাগই চল্লিশের উর্দ্ধে।

সবচেয়ে দুরবস্থা শহরগুলোতে যেখানে দুষিত বায়ু শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্যে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে।

সব সময় কাশ, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হওয়া এবং বুকের ব্যথা হওয়া এই রোগের লক্ষণ।

এ্যান্টিবায়োটিকস দিয়েও চিকিৎসকগণ এই অসুখের চিকিৎসা করে থাকেন অথবা এমন ওষুধও ব্যবহার করে থঅকেন যা দিলে ফুসফুসে বাতাস যাতায়াতের পথগুলো বিস্তার কের দেয় যাতে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে। ব্রনকাইটিসের রোগীরা  তাদের কষ্ট নিয়ে বহুদিন বেচে থাকেন। তাদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস খুব ঘন ঘন নিতে হয় এবং যেখানে সেখানে যেতে পারেন না। ব্রনকাইটিস থেকে বাচার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচেছ সিগারেট না খাওয়া।

আট. পেটের ক্যান্সার

আগে  এই ক্যান্সার অনেক পরিমাণে দেখা যেতো। এখনও দশটি গুরত্বপূর্ণ রোগের মধ্যে  একটি। দিন দিন এই ক্যান্সার কমে যাওয়ায় সঠিক কারণ সম্বন্ধে কেউ কিছু বলতে পারে না। তবে খাওয়া দাওয়ার কারণেও হতে পারে। কোন কোন চিকিৎসক বলে থাকেন যে অধিক লবণ দিয়ে তৈরি খাদ্য, আচার এবং স্কোকড খাধ্য ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লক্ষণগুলো সাধারণত নিম্নরূপঃ

  • ক্ষুদা নষ্ট
  • ব্যাথা
  • অর্ধেক খাওয়ার পরেই মনে হবে পেট ভরে গেছে।
  • বমি বমি ভাব ও বমি
  • ওজন কমা

অস্ত্রোপাচার করে চিকিৎসা করাটাই ভালো। তাতে কিছু ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সব রোগীকে অস্ত্রোপাচার করা যায় না, বিশেষ করে যদি ক্যান্সার অন্যত্রও ছড়িয়ে গিয়ে থাকে।

তাড়াতাড়ি চিকিৎসা হওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজন।

উপরিউক্ত লক্ষণসমুহ দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

নয়. জরায়ুতে ক্যান্সার

সারজিক্যাল ক্যান্সার থেকে জরায়ুতে ক্যান্সার হয়ে মহিলা বেশি মারা যান। যে কোন বয়সী মহিলার জরায়ুতে ক্যান্সার হতে পারে। তবে চল্লিশ উর্দ্ধ মহিলাদেরই সাধারণত হয়ে থাকে। যে সমস্ত মহিলাদের সাধারণত হয়ে থাকে। যে সমস্ত মহিলাদের সন্তান হয়নি তাদের জরায়ুতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৩  গুন বেশি। কিন্তু যে সমস্ত মহিলা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেয়ে থাকেন তাদের জরায়ুতে ক্যান্সার কম হয়।

জরায়ুতে ক্যান্সার হওয়ার আগে অনেক সময় ডিম্বকোষে ক্যান্সার হয়। আবার অনেক সময় অন্য  এক স্থানে  ক্যান্সার হওয়ার কারণে যেমন ব্রেস্টে ক্যান্সার হওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় জরায়ুতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথম লক্ষণে পেটে অবছা আবছা ব্যথা বোধ করবেন এবং পেটেও ফুলে উঠতে পারে। অনেক সময় বমি বমি ভাব থাকে এবং বমিও হয়। আর একটা লক্ষণ হচ্ছে যোনী নালীতে রক্তপাত।

ল্যাপরোসকপি করে। সুক্ষ একটা টিউবের মধ্যদিয়ে পেটের ভিতর দেখা অথবা ল্যাপরেটমী করে (পেটের চামড়া কেটে ভিতরে দেখা)। অস্ত্রপাচার করে সাধারণতঃ রোগ নির্ণয় করে থাকেন।

এবার চিহ্নিতকরণ হয়ে গেলে অস্ত্রোপাচার এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত জরায়ু ও ডিম্বকোষ দুটোই ফেলে দেয়া হয়। এরপর রেডিওথেরাপি নেয়া হয় এবং সেই সাথে চলে ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ। ইতিমধ্যে অন্যান্য স্থানে কতখানি ছড়িয়ে পড়েছে তার উপর নির্ভর করবে রোগীর সুস্থতা।

দশ. বহুমুত্র

পৃথিবীতে ২ শত কোটি বহুমুত্র রোগী আছে এবং  এই রোগ দিন দিন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে।

প্রতি ৫০ জন মহিলার মধ্য একজনের বহুমুত্র রোগ আছে। সব রোগীর একই সমস্যা। তাদের রক্তে থাকে চিনির আধিক্য।

সাধারণত আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা চুর্ণবিচুর্ণ হয়। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে চিনি তৈরি করা কারবোহাইড্রেটের কাজ। চিনি আমাদেরকে শক্তি যোগায়। রুটি, আলু, কেক, বিস্কুট, জ্যাম, পাস্তা, চকলেট এবং ফলের মধ্যে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। এই মুহুর্তে যদি চিনি উদ্বৃত থাকে তা লিভারে গিয়ে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য জমা থাকে এবং শরীরে যে চিনির প্রয়োজন পড়ে তা রক্তে চলে যায়। প্যাংক্রিয়াস গ্ল্যান্ড দ্বারা তৈরি ইনসুলিন নামক এক হরমোন চিনির রক্তে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

যাদের বহুমুত্র রোগ হয় তাদের শরীরে প্রয়োজনমতো ইনসুলিন হয় না।

প্রধানতঃ দু ধরনের বহুমুত্র রোগ আছে

এক ধরনের বহুমুত্র আছে যে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে অথবা ইনসুলিন বৃদ্ধিকারক ট্যাবলেট খেয়ে বা ইঞ্জেকশন দিয়ে বহুমুত্র রোগকে আয়ত্তে রাখা যায়। যাদের বহুমুত্র রোগের তীব্রতা বেশি তাদের ইনসুলিন ইঞ্জেশন নেয়া নেয়া উচিত।

বহুমুত্র রোগের লক্ষণসমূহ সব সময় এক থাকে  না। বহুমুত্র রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • ওজন কমে যাওয়া
  • তৃষ্ণার্ত হওয়া
  • ক্লান্ত হয়ে পড়া।
  • ঘন ঘন প্রসাব পাওয়া
  • অনেক ফোড়া হওয়া বা
  • সব সময় ক্ষুদা লাগা

বহুমুত্র এমন একটা ব্যাধি যা বংশ পরপম্বর চলে। তাই পরিবারের কোন লোক বিশেষ করে আপনজনের যদি বহুমুত্র থাকে তাহলে আপনারও বহুমুত্র রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণতভাবে শুধু প্রসাব পরীক্ষা করেই চিকিৎসকগণ বলে দিতে পারেন কারো বহুমুত্র রোগ আছে কিনা। পরে রক্ত পরীক্ষা করালেও চলে। একবার প্রমাণ যদি হয় যে আপনার বহুমুত্র হয়েছ আপনার নিজের পরীক্ষা নিজেই করতে পারবেন এরপর থেকে। বহুমুত্র নিয়ন্ত্রণ না করলেও যে সমস্য দেখা দিতে পারে এক কথায় নিম্নে তা বর্ণিত হলোঃ

  • চোখ নষ্ট
  • কিডনি নষ্ট
  • স্নায়ু নষ্ট
  • রক্ত চলাচল অসুবিধা
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • হৃদপিন্ডে সমস্যা

বর্তমানে পরীক্ষা করার জন্য নানা রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়েছে (য বাসাতে বসেই পাওয়া যায়)। তাই বহুমুত্র রোগীরা আগের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি তাদের অসুখকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

বহুমুত্র রোগীরা যদি তাদের রক্তের চিনির মাত্রাকে সাবধানতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে তারাও এক স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারেন।

অনুবাদঃ নাজমা রহমান

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


চিনি – অমৃত গরল সংবাদ

চিনি (Sugar)- অমৃত গরল সংবাদ

ডাঃ শুভাগত চৌধুরী

দৈনন্দিন আহারে চিনির পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হচ্ছে বিজ্ঞানী মহলে কিছুকাল ধরে। কোন কোন দেশে লোক বেশি চিনি ও মিষ্টি খাবার খান এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা তাই সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

চিনির পক্ষে বিপক্ষে লড়াইও বেশ জমে উঠেছে। দু পক্ষের প্রবক্তরাই বেশ জোরালো যুক্ত উপস্থাপন করেছেন। পক্ষের প্রবক্তরা বলেছেন শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে চিনির জুড়ি নেই। বিপক্ষের লোকেরা বলেছেন, চিনি হল শুণ্য ক্যালরির নামান্তর।

শুধু মানুষ কেন, অন্য প্রাণীদেরও চিনির প্রতি আর্কষণ দূর্নিবার। গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে সাকারিন ইনজেকশন দিল জরায়ুত স্যাকারিন  ইনজেকশন দিলে ফিটাস (ভ্রুণ) মিষ্ট অন্তভ্রুণাবরণের জন্য তরল পর্দার্থ (েএমনিওটিক ফ্লুইড) পান করা বাড়িয়ে দেয়। ইদুরকে যদি পুষ্টিকর খাদ্য এবং মিষ্টি পানি দুটোর মধ্যে পছন্দ করতে দেয়া যায় তাহলে ইদুর মিষ্টি পানিই পান করবে, পুষ্টিকর খাদ্য ছোবে না। অপুষ্ট হয়ে মরে গেলেও না।  এমন দেখা গেছে, কোন কোন দেশে চিনির দাম যখন ৫ ‍গুণ বেড়েছে তখনও চিনি খাওয়া কমেছে মাত্র ৭ শতাংশ। আমাদের দেশেও েএর ব্যতিক্রম নয়। চিনি খাওয়া কমেনি।

কোন কোন বিজ্ঞানী বলেছেন, সুস্বাস্থ্যের বড় শত্রু  হল চিনি। প্রায় েএক দশক আগে আমেরিকার পুষ্টি বিষয়ক সিনেট কমিটি কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে জণগণকে চিনি খাওয়া ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন হলঃ সুগার বা চিনি মানে কি? রাসায়নিকভাবে অনেকগুলো দ্রব্যকে চিনি নামে অভিহিত করা হলেও কেবল কতিপয় দ্রব্য আমাদের খাদ্যে বর্তমান। স্টার্চের মত চিনিও একটি শর্করা দ্রব্য। প্রকৃতিজাত চিনিগিুলোর মধ্যে রয়েছে লেকটোজ (দুগ্ধ শর্করা), সুক্রোজ (ইক্ষু বা বিট থেকে প্রস্তুত পাতে খাওয়া চিনি), গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে ফল ও সব্জিতে। এছাড়া রয়েছে ডেক্সট্রোজ, ম্যালটোজ ও গ্যলাকটোজ। রক্তে যে শর্করা থাকে তা হল গ্লুকোজ। খাদ্যে যে মিষ্টি দ্রব্য (সুইটেনার) যোগ করা হয় তা হল সুক্রোজ বা চিনি (ইক্ষু বা বিট সুগার) এবং কর্ণ সিরাপ।

বিজ্ঞানীদের অভিমত, শরীরে শকর্রর চাহিদা, আজকাল বিশেষত উন্নত দেশের লোকেরা মুলত চিনি দিয়েই মেটাচেছন অনেক ক্ষেত্রে। আমেরিকানরা মোট ক্যালোরির প্রায় ২০ শতাংশই খান চিনি। এতে অসুবিধা হচ্ছে এই, শর্করার অন্যান্য প্রকৃতিজাত উৎস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে। ফল, শাকসবজি, শস্য, ভাত, রুটি ইত্যাদিতে শর্করা ছাড়াও রয়েছে আশ ভিটামিন  এবং খনিজ দ্রব্য পরিশোধিত চিনি ক্যারোরিরই নামান্তর। বিজ্ঞানীরা বলেন, সুক্রোজ বা চিনির এমন কোন জরুরী শারীরবৃত্তিক চাহিদা নেই যা অন্য পুষ্টিদ্রব্য দ্বারা পূরণ করা যাবে না। দেহ যেমন স্টার্চ বা শ্বেত সার থেকে সুগার পেতে পারে, তেমনি তা পেতে পারে ফল ও সব্জি থেকে। অনেকে বলেন, দ্রুত শক্তির উৎস হল চিনি এ কথার ই কথা। এমনটি হয় বিরল পরিস্থিতিতে, যেমন ইনসুলিন শক ঘটলেই কেবল চিনি তেমন দায়িত্ব পালন করে।

খালি পেটে যদি চিনির ঘন দ্রবণ পান করেন তাহলে প্রায় আধ ঘন্টার মধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যাবে বেড়ে, নিঃসৃত হবে ইনসুলিন, গ্লুকোজ, যকৃতে গ্লাইকোজেন রূপে জমা হবে চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইড। ব্যায়ামের সময় শরীর দেহের গ্লাইকোজের সঞ্চায় থেকে গ্লুকোজ নেয়। ব্যায়ামের পূর্বে চিনি খেলে শরীর একে সঞ্চিত করে মাত্র। দীর্ঘ সময় শরীর চর্চার মধ্যে বাদ চিনি গ্রহণ করেন, তাহলেই কেবল রক্তশর্করা সরবারহ করবে।

চিনিরি পক্ষে যারা তাদের অভিযোগ হলঃ এমন বলা হয় যে পরিশোধিত সাদা চিনি ক্ষতিকর এবং স্বাভাবিক মিষ্টি দ্রব্যগুলো ভাল। কিন্তু একটি চিনি অনু তা পরিশোধিত হোক বা না হোক, তা চিনিরই অণূ। একথা যদিও সত্য যে টেবল সুগারে কোন ভিটামিন, খনিজ দ্রব্য বা প্রোটিন থাকে না, তবে ম পরিশোধি চিনি যেমন বাদামী চিনি বা মধুতেও এগুলো এত অল্প থাকে যে তা ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না। বাদামী চিনি বা মধু খেতে ভাল লাগে খান, আপত্তি নেই। তবে এগুলো খেয়ে পুষ্টিকর জিনিস খাওয়া হল এমন ভাবাতক নয়।

চিনির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে যেমন, তেমনি সে অভিযোগগুলো খন্ডনও করেছেন চিনি প্রেমিকরা।

প্রথম অভিযোগ হল ঃ মেদুস্থলতা। অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে এমন ঘটে। উৎস যাই হোক না কেন। চিনির পক্ষে লোকজন বলেনঃ কারণটি হল ক্যালোরি, কোথা থেকে এল, তা বিচারের বিষয় নয়। যেমন প্রতি আউশ চর্বি থেকে যে ক্যালোরি পাওয়া যায় তা সমপরিমাণ শর্করা বা প্রোটিনের প্রায় দ্বিগুন। সুতারাং রুটির টুকরোতে পুরু মাখন লাগালে যে পরিমাণ ক্যালোরি পাওয়া যাবে তা সমপরিমাণ জেলির প্রায় দ্বিগুন। সুতারায় মোটা হওয়া ঠেকাতে গিয়ে চিনি পরিহার করলেন আথচ চর্বিযুক্ত খাবার ও তেল ভাজা বা তেলে চপ চপ খাবার খেলেন, এতে লাভ কি হল? চিনি বিরোধীরা বলেনঃ কথা ঠিক, তবে ব্যাপার হল, চিনি বা মিষ্ট দ্রব্য যেমন রসগোল্লা এতে চিনি আছে ঘনীভূত হয়ে। রসগোল্লা খেতে শুরু করলে অনেকে থামতেই চান না, সুতারায় পেট ভর্তি এমন অনুভুতির আগেই গপাগপ কয়েকটি রসগোল্লা পেটে চালান হয়ে গেছে। কয়টি খাওয়া হল, এমন হিসেবেও করেন না অনেকে। আর একটি উদাহারণ। আমরা জানি খাবার, খেতে যখন তৃপ্তি হয়, তখন আমরা থামি। এক পাউন্ড আপেল খেতে সময় লাগে অনেক অথচ একটি দু আউনসের কেনডি চকলেট এক নিমিষেই সাবাড় তৃপ্তির পরোয়া করার সময় কই। অথচ দুটোর ক্যালরির পরিমাণ এক।

দ্বিতীয় অভিযোগ হলঃ দন্তক্ষয়। চিনি অবশ্যই দাঁতের কেরিজ রোগ ঘটানো ত্বরানিত করে। মুখের ব্যাকটেরিয়া দন্তপৃষ্টের চিনি হজম করে, উৎপন্ন করে অলম্। সেই অল্ম সুরক্ষাকারী দাতের এনাকমেল নষ্ট করে এবং মাড়ির রোগ ঘটাতে সাহায্য করে। মজার ব্যাপার হলো, তাদের সংস্পর্শে চিনি কত সময় থাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ, কতটুকু চিনি খাওয়া হল এক্ষেত্রে তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। সুতারায় চকলেট চোষা এবং মিষ্টিদ্রব্য চোষা চিনির সরবত বা আইসক্রিমের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর অন্তত দাঁতের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর দাতের বেলায়। অতএব দন্তক্ষয় বা কেরিজ এড়াতে হলে যে কোন মিষ্ট ্রদব্য ভক্ষনের পর কুলি করুন এবং দাত ব্রাশ করুন। আহাারের মধ্যবর্তী সময় মিষ্টি খাওয়া পরিহার করুন। চিনি প্রেকিরা এসব যুক্তি খন্ডন করেছেন তাদের ভাষা হলঃ চিনি দাত নষ্ট করে সত্যি তবে এর বদলে প্রকৃতিজাত মধু বা শুকনো ফল খেলেই যে খুব সুসার হবে, তা নয়। মিষ্টি কত সময় দাতের সংস্পর্শে থাকল, তাই হল জরুরী বিষয়। মিষ্টি দ্রব্যট যত বেশি আঠালো হবে, দাতের সংস্পর্শে এটি থাকেবে তত বেশি সময়। সুতারাং একে এড়াতে হলে আহারের মর্ধবর্তী সময় আঠালো মিষ্টি খাওয়া চলবে না। দাঁতকে বারবার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। মুখে য ব্যাকটেরিয়া রয়েছে  এটি মিষ্টির জাত বিচার করে না। বস্তুতপক্ষে কিছু কিছু তথাকথিত স্বাস্থ্যকর খাবার যমন কিসমিস, মনক্কা এগুলো দাঁতের মধ্যে সারাদিন স্বাস্থ্যন্দের সাথে থেকে ব্যাকটেরিয়ার সুবিধাই করে দেয়।

বহুমুত্র রোগ তৃতীয় অভিযোগ। বহুমুত্র রোগে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত করতে পারে না। রক্তের গ্লুকোজ তাই বেড়ে যায়। সুতারাং বহুমুত্র রোগীদেরকে অতিরিক্ত চিনি খেতে মানা করা হয় যাতে শর্করা মাত্রা খুব বেশি না হয়ে যায়।

এমন ধারণা রয়েছে যে, যেসব লোক বংশগত বহুমুত্র প্রবণ তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ সুগারযুক্ত খাদ্য বহুমুত্র প্রবণ তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ সুগারযুক্ত খাদ্য বহুমুত্র ‍সৃষ্টি করতে পারে। ইদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চিনির পখেষ যারা আছেন তাদের বক্তব্য হলঃ বহুমুত্র রোগে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে  না অথবা  ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা ইনসুলিন প্রস্তুত হলে তা সঠিকভাবে কার্যকর হতে পারে না।

সুগারযুক্ত খাবার খাওয়াই যে বহুমুত্র রোগের কারণ, এটি ঠিক নয়।

চতুর্থ হলঃ হৃদরোগ। এথারো সেক্লরোসিস এবং হৃদরোগ ঘটাতে চর্বি ও কোলেস্টেরলের ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। তবে এমন মতামত অনেকে দিচ্ছেন যে উচ্চমাত্রার সুগারযুক্ত খাদ্যও এসব রোগ সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ কর পারে।

১৯৬৪ সালে জন ‍উডকন নামে একজন ইংরেজ চিকিৎসক এই তত্বের প্রবক্তা। তবে অন্যন্য দেশে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এ তত্বের পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ পাননি। যেমন ভেনিজুয়েলা, কিউবা, ব্রাজিল িএবং কোস্টাকিার লোকেরা খুব বেশি চিনি খায়, তাদের হৃদরোগ বেশি হয় এমন প্রমাণ নেই।

পঞ্চম অভিযোগঃ চিনি বেশি খেলে কোন কিছু শেখার ক্ষমতা কমে যায়। তবে চিনি প্রবক্তারা বলেন অনিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা, মতামত  এবং অনুমান আন্দাজের উপর ভিত্তি করেই এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত।

চিনি ‘গুণ্য ক্যালোরি’ এমন ধাররণারও বিপক্ষে আছেন অনেকে। সব ক্যালোরিই পূর্ণ ক্যালেরিই শক্তির উৎস। চিনিজাত দ্রব্য যদি অন্যন্য পুষ্টি দ্রব্যের পরিবর্তে খাওয়া হয়, তাহলে পুষ্টি ঘাটতি দেখা যায়। তবে দৈনিক ক্যালোরি ও পুষ্টিমান বজায় রাখলে স্ন্যাক খাবার খেতে দোষ কি ?

চিনির প্রবক্তরা তাই বলেন, চিনি মিষ্টি একথা সত্যি। এ জন্য আপনার জন্য মন্দ তা ঠিক নয়। বিপক্ষের লোক যারা তারা সত্য, উদঘাটনের চেষ্টা করতে চান। পরিশোধিত চিনির পক্ষে যুক্তি তেমন নেই। সুগার পরিপূর্ণ খাদ্য হয়ত ‍হৃদরোগ বা বহুমুত্রের কারণ নয়, তবে এটি মেদস্থুলতা ও অন্যান্য অসুবিধা ঘটাতে পারে এবং অবশ্যই এটা দাতের কেরিজ ঘটাতে সহায়তা করে। চিনি কম খাওয়া ভাল অন্তত এখন যা খাচ্ছি আমরা তার চেয়ে কম। চিনি বেশি খাওয়ার পক্ষে যুক্তি নেই। তবে পরিমিত খান এমন কথা বলতেই পারি আমরা। এ ছাড়া বেশি চিনি খেলে দেহ মোটা হতে পারে, সারাদিন চকলেট, লেবেঞ্চুস এবং কেন্ডি চুষলে দাতে কেরিজ হতে পারে এমন সত্য কথা উচ্চারণ করা যর্থাথ। সুতারাং চিনি খান আপত্তি নেই তবে বুঝেসুঝে খান।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Ask For Rent/ Fare

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

We will let you know the "Rent/Fare" within 10 minutes through SMS or Email.
Call Now ButtonCall Now!
Skip to toolbar