Monthly Archives: January 2019

স্মৃতিশক্তি বাড়ান যায় কি ?

স্মৃতিশক্তি বাড়ান যায় কি ?

কল্পনা করুন বন্ধু বান্ধবের সাথে হয়ত ঠেসে আড্ডা দিচেছন। মাঝখানে একজনের নাম মনেই আসছে না কিছুতেই। গল্পর মজাটাই মাঠে মারা গেল। বাড়ি থেকে বের হবার মুখে গিন্নি পইপই করে বলে দিল মরণচান থেকে সন্দেশ এন। বাড়ি ফিরলেন খালি হাতে। কথাটা মনেই নেই। একেবারে। অবস্থাটা ভেবে দেখুন। স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রত্যেককেই কতই না এ ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়।

স্মৃতিশক্তি মানুষের জন্য সত্যই এক অমুল্য ধন। ক্ষীণ স্মৃতিশক্তি এক বিড়ম্বনা। জীবনে উন্নতি করতে হলে পর্যাপ্ত স্মৃতিশক্তি একান্ত প্রয়োজন।

ছাত্র হোক, ব্যবসায়ী হোক, কর্মচারী হোক সকলের জন্যই কথাটা সত্য। যে ছাত্র তার পাঠ্যবস্তু যত বেশি মনে রাখতে পারে পরীক্ষায় তার রেজাল্ট হয় তত বেশি ভাল। এমনকি যেসব রাজনৈতিক নেতার স্মরণশক্তি যত প্রখর, যে যত বেশি তার দলের কর্মীদের নাম ও মুখ মনে রাখতে পারে যত বেশি জনপ্রিয় সে। সে জন্যেই দেখা যায়, বিখ্যাত নেতাদের স্মরণশক্তি অধিকারী ছিলেন বলে শোনা যায়। আমার এক আত্মীয় অবসরপ্রাপ্ত বড় অফিসারের সাথে শেখ সাহেবের দেখা হলে তার দীর্ঘ বিশ বছর পূর্বে সেই গ্রামে সভ্য উপলক্ষে স্থাণীয় যেসব নেতাদের সাথে তার আলাপ হয়েছিল তাদের নাম ধরে তাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করা দেখে স্মম্ভিত হয়ছিল। আমাদের সময়ৈ ম্যাট্রিক পরীক্ষায় যে প্রথম হয়েছিল পরবর্তীকালে স নাম করা আমলা হয়েছিল। ইসলামাবাদে থাকাকালে একবার তার সাথে হওয়া কথোপকথন দিন সাতআট পর হুবুহু লাইন বাই লাইন শুনে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বুঝেছিলাম অকল্পনীয় প্রখর স্মরণশক্তি তার উন্নতির মূল স্তম্ভ। আমাদের সময় মেডিকাল কলেজে চক্ষু বিভাগে এক অধ্যাপক ছিলেন যিনি ছাত্রদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়  ছিলেন। এর প্রধাণ কারণ ছিল তিনি তার ছাত্রদের প্রায় প্রত্যেকের নাম ধরে ডাকতে পারতেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয় বস্তু স্মৃতিশক্তি সম্বন্ধে আমরা কতটুকু জানি? বলতে গেলে কিছুই না। স্মরণশক্তি  এক বিশাল সমুদ্র যা এখনও রহস্যে রয়ে গেছে। অবশ্য বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা এর তল উম্বোচনের প্রয়াসে ব্যাপক গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ফলশ্রুতিতে কিছু কিছু তথ্য উদঘাটিত হয়েছে  এবং হচেছ।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মৃতি বলতে শুধুমাত্র একক এক বস্তুকেই বোঝায় না। স্মৃতি একটা বড় ছাতার মত। বিরাট তার ছায়ায় নানা উপাদান, নানা রহস্য। স্মরণশক্তিকে আমরা মোটামুটি দু ভাগে ভাগ করতে পারি। এক ক্ষণস্থায়ী বা শটটার্ম মেমোরী (এসটিএম)  এর স্থায়ীত্ব আধ মিনিট থেকে দু মিনিট মাত্র। এর উদাহারণস্বরূপ বলা যায় একজন তার সেক্রেটারির কাছ থেকে কারও টেলিফোন নম্বর জেনে নিয়ে টেলিফোন করল। তারপর সেটা ভুলে গেল। দুই দীর্ঘস্থায়ী বা লংটার্ম মেমোরী (এলটিএস) এর স্থায়ীত্ব  অত্যান্ত দীর্ঘকাল ধরে।   এর উপমা বেশ কয়েক বছর পূর্বে যে বাড়িতে বাস করতেন তার কথা, স্কুলে পড়া না পারলে হেড পন্ডিত কেমন ক েবেত্রাঘাত করতেন তার কথা অনেকেরেই মানস পটে থেকে যায় বহুদিন। অতীতকালের বহু ঘটনার কথা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের মনে থাকে বলতে গেলে অপ্রতুল। এর মধ্যেও কথা আছে। অতীতে ঘটে যাওয়া কোন কোন ঘটনা মনে থাকে আবার কোন কোন ঘটনা অচিরেই  বিস্মৃতির অতল তলে তলিয়ে যায়। আমার ব্যক্তিগত জীবনের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। শৈশবকালে পরিবারের সাথে আমি একবার আসামে বেড়াত গিয়েছিলাম। কোলাহল মুখর শিলাইদহ স্টেশন থেকে আসাম মেল ছাড়ার কথা, হুহু করে ছুটে চলা ট্রেনের জানালায় দিয়ে দেখা বাইরে লাইনের ধারে নালার জল এবং সাথে কাশবনের ডেউখেলানি, নীল আকাশে শুভ্র মেঘের আনাগোনার দৃশ্য, নাটোর স্টেশনে প্লাটফর্মের ওভারব্রিজের নিচে ভেন্ডরের ‘চাই কাঁচা গোল্লা’ ডাক স্পষ্ট মানস পটে গাথা রয়েছে এখনও। কিছু ভুলে গেছি মাসাধিককালে সেই ভ্রমণের ঘটনা। কেন এমন হয় ? কোন কোন ঘটনা মনেথাকে অনেক দিন, কোন ঘটনা মনে থাকে অনেক দিন, কোন কোনটা ভুলে যাই তাড়াতাড়ি?

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ডাঃ ম্যাক্সি ফাইক বলেন, ‘প্রায় শতভাগ লোকই পঞ্চাশ বা তার কিছু আগে পরের বয়স’ স্থতে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। যদি এমন কোন রাসায়নিক পর্দাথ উদ্ভাবণ করা যেত যার দ্বারা এই স্মৃতিশক্তি হ্রাস করা যায় তবে অনেক উপকার হত।

ম্সৃতিশক্তি একক কোন পদার্থ এ কথা বলা যাবে না যে ওর  স্মৃতিশক্তি ভাল তার স্মৃতিশক্তি কম। কারণ দেখা যায় কোন কোন বিষয়ে কারও স্মৃতি শক্তি ভাল নয় অবার অন্য ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক। কেউ নাম মুখের আদল মনে রাখতে পারে না অথচ জায়গার নাম, দিন তারিখের কথা, ইতিহাসের তারিখ ঠিকই মনে রাখতে পারে।

আমেরিকার প্রবীণদের ইনস্টিটিউটে ২০ -৫৫ বছর বয়স্ক ৬৬ জন ব্যাক্তির উপর গবেষনা চালিয়ে দেখা গেছে যে কানে শোনা কথা বা শিক্ষা বেশ মনে থাকে বহুদিন কিন্তু চোখে দেখা জিনিস বা কোন অভিজ্ঞতার কথা মানুষ ভূলে দ্রুততর। এর একটা কারণ অবশ্য এই যে মানুষ সাধারণত দেখার সময় তীক্ষ্ন ভাবে তা দেখে না। ডাঃ রুবীন ডেভিড গবেষণার ভিত্তিতে বলেন, লোকেরা নিজেদের জীবনের বিশেষ বিশেষ বয়সের কথা অন্যান্য বয়সের কথার চেয়ে বেশি স্মরণ রাখতে সক্ষম। প্রায়ই দেখা যায় সকল মানুসের ক্ষেত্রে সময়কালটা সমান। লোকেরা মধ্য বয়স এবং বৃদ্ধ বয়সে ইদানিংকালের চেয়ে প্রথম যৌবন এবং পূর্ণ যৌবনকালের কথা বেশি করে স্মরণ রাখতে পারে।

স্মৃতিশক্তির মেকানিজম বা কার্যকারণ সম্বন্ধে নিশ্চয় করে কিছু বলা যায় নি এখনও। বিভিন্ন তত্ব  এ বিষয়ে চালু আছে। ডাঃ লিঞ্চের মতে মস্তিষ্ক হতে ক্যাপলিন নামের পর্দাথ। এর ফলে তারা মস্তিষ্কের কলাতে নতুন নতুন সংযোগ স্থাপন করতে সমর্থ হয়। তার ফলে স্মরণ প্রক্রিয়া চলে থাকে।

এমনিতে ক্যাপলিন খুব ধীর গতিতে কার্যক্ষম হয় যার কারণে মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ু কোষে সংযোগ সৃষ্টিতে বিলম্ব ঘটে। উদাহারণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝান যায়। কোনো নাম যদি পুনঃ পুনঃ উচ্চারিত হয় তবে ক্যাপলিন সৃষ্টি হয় ঘন ঘন। ফলে নতুন নতুন সংযোগ সৃষ্টিকার স্নায়ুকোষ সৃষ্টি হয়। নামটি তখন স্মৃতির অতল তলে চলে যায়। তাকে বহু বছর পরও মনে করা সম্ভবপর হয়। এটাই দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি বা এলটিএস এর রহস্য।

অন্য আর একভাবে এই এনজাইম অধিক মাত্রায় উৎপাদিত হতে পারে। কোন ঘটনা স্মরণ করার প্রচন্ড চেষ্টা চালালে এই এনজাইম সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে সুদূর অতীতকালের সামান্যতম স্মৃতিও ভেসে উঠে মানসপটে।

প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের স্মৃতিশক্তির কি উন্নতি করা যায় ?

কিছুকাল পূর্বেও বিজ্ঞানিদের ধারণা ছিল তা সম্ভবপর নয়। যতটুকু স্মরণশক্তি নিয়ে একজন জন্মগ্রহণ করে তার চেয়ে বাড়ান আর সম্ভব নয়।

অবশ্য মানুষ তার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অত্যান্ত আগ্রহী এবং তার জন্য নানাবিধ উপায় অবলম্বন করে। এ সম্বন্ধে নিশ্চয় কিছু বলা শক্ত। তবে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে রাসায়নিক পদার্থের ভূমিকা সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। তারা মনে করেন স্মৃতিশক্তি এমনকি দু তিন গুণ বাড়ান সম্ভবপর হবে। এ ব্যাপারে তারা স্বপ্ন দেখে চলেছেন। স্বপ্ন হলেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এমন ওষুধ আবিষ্কার হতে খুব দেরী নয় বলে মনে করা যেতে পারে।

ডাঃ গ্যারী লিনচ পরীক্ষাগারে ইদুরের স্মরণশক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে   এখনও তা সম্ভবপর হয়নি। বেলজিয়াম ও স্পেনের বিজ্ঞানীরা মস্তিস্কের পিটিউটারী গ্রন্থি হতে হরমোনের মতো এক রাসায়নিক পর্দাথ তৈরি করতে সর্মথ হয়েছেন যা মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সমর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। পদার্থটির নাম ডেসোপ্রেসিন। ডঃ ফ্রঙ্কের বলেন, এ সমস্ত ওষুধ যথা পিটুইটারি বা এসিটিএইচ হরমোনের নিউরোপেথটাউট অংশ ২০ জন রিটার্ডেড বাচচাদের স্মরণশক্তির কিছুটা উন্নতি করতে সমর্থ হয়েছে বলে গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে। কিন্তু মানুষদের ক্ষেত্রে এ সমস্ত ওষুধের কার্যকারিতা নিখুতভাবে প্রমাণিত হয়নি।  এ সিটিএইচ মস্তিস্কের নিচের দিকে একটি অংশে বিদ্যমান পিটিউটারী গ্রহ্ণি হতে নিঃসৃত হয়। বর্ষীয়ানদের এর ইনজেকশন দেয়ার পর দেখা যায় তাদের স্মরণ শক্তির উন্নতি হয়েছে, তার তা খুব সামন্য। আমেরিকার নিউ অরলিনসে রাজ্যে প্রশাসনিক হাসপাতালের ডাঃ কনোটিনের মতে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায় ঠিকই কিন্তু ভবিষ্যতে এ বিষয়ে যথেষ্ট সম্ভাবনা বিদ্যমান

ডাঃ এস  এ খালেক

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


মহিলাদের ১০ টি ঘাতক রোগ

মহিলাদের ১০ টি ঘাতক রোগ

ডাঃ ভোরনন ফোরম্যান

এক. হৃদরোগ

অনেক মহিলাই মনে করে থাকেন শুধু পুরুষেরােই হৃদরোগে মারা যান। মহিলাদের এই ধারণা মোটেই সত্য নয়। বরং হৃদরোগে মহিলারাই বেশি মারা যায়।

যদিও পঞ্চান্ন বয়সের বেশি বয়স্ক মহিলারাই সবচেয়ে বেশি মারা যায়। তবে পঞ্চান্ন বয়সের কম বয়স্কা মহিলা সিরোসিস বা অন্যন্য লিভারজনিত রোগে মারা গেলেও হৃদরোগেই সবচেয়ে বেশি মহিলা মারা যায়।

বর্তমানে হৃদরোগের চিকিৎসায় অভূতপূর্র্ব উন্নতি হয়েছে। বেশিরভাগ হাসপাতালেই আজকাল ওপেন হার্ট সার্জারির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হৃদরোগের রোগীদের সুস্থ করার চেয়ে এ রোগ প্রতিহত করা আরও সহজ। আর হৃদরোগের প্রতিরোধ করতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ক) আপনার ওজনের প্রতি খেয়াল রাখুনঃ

মোটা হওয়ার ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে। তাই আপনার ওজন যদি দুই স্টোন বেশি হয় তা আপনার জন্য ঝুকিপূর্ণ। খাদ্য বন্ধ করে দেয়া খুব একটা ভালো নয়। এজন্য আপনার খাওয়ার অভ্যাসকে পরিবর্তন করতে হবে। শুধু ক্ষুধার সময় খাওয়ার অভ্যাস করা সবচেয়ে ভালো।

খ) সিগারেট এড়িয়ে চলুনঃ

যদি আপনি নিজেকে মেরে ফেলতে চান তাহলে সিগারেট খাওয়াটা আপনার জন্য একেবারেই বোকামী। সিগারেট আপনার ধমনীকে সঙ্কুচিত করে দেয়। যার ফলে আপনার হৃদ যন্ত্রে চাপ সৃষ্টি হয়।

গ) দুশ্চিন্তা দমনঃ

       অযাচিত চিন্তা জীবন থেকে দুর করুন। আপনার দুশ্চিন্তা কতগুরো অপ্রয়োজণীয় এবং কিভাবে নির্ভাবনারয় থাকা যায় সেই কৌশল আয়ত্ব করতে শিখুন। চিন্তাভাবনা দুর করে মানসিক, প্রশান্তি অর্জনের ব্যাপারে লাইব্রেরিতে অনেক বই ও ভিডিও টেপে অনেক সন্ধান থাকে। সেগুলো দেখুন। একবার সে কৌশল জানা হয়ে গেলে আপনি আপনার জীবনের সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন।

ঘ) সঙ্গত খাদ্য গ্রহনঃ

চর্বি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। সম্পূর্ণ বা আংশিক চর্বি উঠানো দুধ খাবেন। মাখনের পরিবর্তে কম তেলযুক্ত স্প্রেড রুটিতে খাবেন। এমন মাংস খাবেন যার মধ্যে কোন চর্বি থাকে না। যদিও বা ছিটোফোটা থাকে তা ফেলে দেবেন। বেশি পরিমাণে লাল রংয়ের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ঙ) নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ

ব্যায়াম অনুশীলনটা যেন কষ্টদায়ক না হয়। এতে যদি আপনাকে ব্যথা দেয় তা আপনার জন্য আরো ক্ষতিকর করা দরকার।

যেভাবে করলে আপনার ভালো লাগে সেভাবে করুন। কিন্তু নিয়মিত চালু রাখবেন। সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম হচ্ছে সাতার কাটা, নাচা, হাঁটা এবং সাইকেল চালানো। ব্যায়ামের জন্য এয়ারোবিক ক্লসগুলোর আপনার জন্য ভালো।

দুই.  স্ট্রোক বা হঠ্যাৎ করে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত প্রবাহে বাধা প্রাপ্ত হওয়া

দেহের অন্যান্য অংশের মত মস্তিষ্কও নিয়মিত রক্ত সরবারহ যদি বাধা প্রাপ্ত হয় অথবা কোন শিরা থেকে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে তাহলেই আপনার স্ট্রোক হবে। স্ট্রোকের তীব্রতা মৃদু হলেও আপনার দেহ অবশ হয়ে যেতে পারে বা আপনার কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে।

দেহের মাংসপেশি বা কোন অংবিশেষের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা নির্ভর করবে মস্তিস্কের কোন অংশে স্ট্রোক হয়েছে। বড় আকারের স্ট্রোক হলে আপনি মারা যেতে পারেন। ২ ধরনের উল্লেখযোগ্য স্ট্রোক আছে।

রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক

রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে এক স্থান রক্ত জমতে থাকলে সে চাপের সৃষ্টি হয় তাতে দেহের ঐ স্থান নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।

রক্ত জমাটজনিত স্ট্রোক

মস্তিস্কের ধমনীর রক্ত জমাট বেধে গেলে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কের সেই অংশে রক্ত এবং অক্সিজেন পৌছাতে পারে না। তবে ওঠেন। স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে যেসব রোগী হাটাতে পারতেন না তারাও আবার হাটতে পারেন।

নিম্নলিখিত জিনিসগুলো যদি আপনি করে থাকেন তাহলে আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ক) আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে।

খ) আপনি যদি খুব চর্বিযুক্ত খাদ্য খেয়ে থাকেন।

গ) আপনার যদি বহুমুত্র রোগ থাকে এবং তার কোন চিকিৎসা করানো হয়নি।

তাই আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা যদি কমাতে চান আর যদি আপনার বয়স ষাটের বেশি হয় তাহলে বছরে একবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রক্তের চাপ এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করাবেন।

আর আপনার পরিবারের কারো যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে আপনি বেশি লবণযুক্ত খাদ্য একেবারেই পরিহার করবেন এবং আলাদা লবণ গ্রহণ করবেন না।

আর পরিহার করতে চেষ্টা করবেন চর্বিযুক্ত খাদ্য। ধুমপান করবেন না।

       তিন. নিউমোনিয়া

যেসব রোগে মহিলাদের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউমোনিয়া তাদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই রোগে পুরুষের চেয়ে মেয়েরাই অনেক বেশি মারা যায়। সাধারণত বুড়ো ও জোয়ানরাই এই অসুখের শিকার। যে সমস্ত মহিলা সহজেই রোগ জীবানুর শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বিশেষ করে মদ্যপায়ীরা, তারা সহজেই এই রোগে আাক্রান্ত হয়।

নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুস ফুলে যায়। ভাইরাস বা নানা ধরনের রোগজীবানুর কারণে এই রোগ হয়। এর প্রথম লক্ষণ হচ্ছে তীব্র জ্বর হওয়া, ঘন ঘন নিঃশ্বাস প্রশ্বাস টানা, কাপুনি ও ঘাম হওয়া এবং কাশির সাথে সাথে ঘন জমাট রক্তের কাশি বের হওয়া। পেনিসিলিন এবং আরো কয়েক ধরনের এন্টিবায়োটিক দিয়ে এই রোগ সারানো হয়। আবার অনেক সময় তাতেও রোগ নিরাময় হয় না।

নিউমোনিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে নিচে উল্লেখিত সাবধনতাগুলো অবলম্বন করতে হবেঃ

  • প্রচুর পরিমাণে ফল ও সবজি জাতীয় পুস্টিকর খাদ্য খাবেন।
  • ফুসফুসকে সুস্থ রাখার জন্য ধোয়া এবং ধুলাপুর্ন বাতাস যাতে নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।
  • ধুমপায়ীদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন।
  • নিজেকে সব সময় স্বাস্থ্যবান রাখার চেষ্টা করবেন বিশেষ করে মদ্যপান করে স্বাস্থ্যের অবনতি ডেকে আনবেন না।

চার. ব্রেষ্ট ক্যান্সার

ব্রেষ্ট ক্যান্সার সাধারণতঃ বেশির ভাগ মহিলাদের হয়ে থাকে। তাই এ ব্যাপারে নীচে উল্লেখিত তথ্যগুলো মহিলাদের জানা প্রয়োজনঃ

মহিলাদের বয়স যখন বিশের নিম্নে এবং গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপানকালে তাদের ব্রেষ্ট ক্যান্সার সাধারণত হয় না। ত্রিশ থেকে ষাট বছর বয়সী মহিলাদের (ব্রেষ্ট ক্যান্সার হওয়ার সময়) প্রতি বিশজন মহিলার মধ্যে একজনের সাধারণত ব্রেষ্ট ক্যান্সার হয়।

যত তাড়াতাড়ি ব্রেষ্ট ক্যান্সার সনাক্ত করা যাবে তত তাড়াতাড়ি এর উপশম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বছরে একবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করান খুব ভালো। তবে দেখানোর এক সপ্তাহ পরে যদি ব্রেষ্ট কোন লাম্প বা পিন্ড গঠিত হওয়া শুরু হয় তাহলে তখন  থেকে ৫১ সপ্তাহ পরে ঐ পিন্ড নজরে আসবে এবং তখনই চিকিৎসা শুরু করা দরকার।

  • কোন প্রকার বিলম্ব ঘটলে মারাত্মক হতে পারে।
  • আজকাল চিকিৎসকদের ধারণা যে আপনি যদি নিজে আপনার ব্রেষ্ট পরীক্ষা করতে পারেন সেটা সবচেয়ে ভালো।

মাসে একবার আপানার পরীক্ষা করা উচিত। মাসিক স্রাব বন্ধ হওয়ার ঠিক পরপরই এটা করা ভালো। কেননা এই সময় ব্রেষ্ট সবচেয়ে বেশি নরম থাকে। কোনটা পিন্ড আর কোনটা পিন্ড নয় সেটা বুঝতে যদি আপনার অসুবিধা থাকে তাহলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

এই ভাবে করার নিয়মঃ

ক) প্রথমে পোশাকটা খুলে একটা আয়নার সামনে বসুন বা দাড়িয়ে থাকুন আপনার দু পাশে হাত ঝুলিয়ে দিন আয়নার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন, আপনার ব্রেষ্ট্রর আকারে কোন পরিবর্তণ এসেছে কি না। তারপর পরীক্ষা করে দেখুন আপনার ব্রেষ্টের নিপলে কোন রক্ত বা পানি ঝরে কিনা।

খ) তারপর শুয়ে পড়ুন।

গ) আপনার বাম হাতটা মাথার নীচে রাখুন এবং ডান হাত দিয়ে আপনার বাম দিকের ব্রেষ্ট পরীক্ষা করবেন। এজন্য হাতের তালু ব্যবহার করবেন আঙ্গুল দিয়ে নয়। ব্রেষ্টের নীচের এক পাশ দিয়ে হাতের তালু উপরে নিপলের দিকে নিয়ে যাবেন কিছু পিন্ড আছে কিনা তা অনুভব করার জন্য।

ঘ) মনে করবেন ব্রেষ্টের উপরিভাগে নরম জাতের এক ধরনের পিন্ডের মত থাকে যেগুলো চর্বি এবং দুধ তৈরির গ্রান্ড। উভয় পার্শ্বর ব্রেষ্ট মোটামুটি এক ধরনের হয়।

আপনার খুজতে হবে কোন প্রকার খন্ড বা পিন্ডের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে কি না।

ব্রেষ্টের অন্য পাশটাও একইভাবে পরীক্ষা করুন।

ঙ) বগলের তলায় কোন পিন্ড আছে কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখেন।

চ) এরপর বাম হাত দিয়ে অনুরূপভাবে অন্য দিকের ব্রেষ্টটাও পরীক্ষা করে নিন।

ছ) যদি কোন পিন্ড নজরে আসে তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

জ) পিন্ড টাকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন না।

পাঁচ. ফুসফুসে ক্যান্সার

       ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার প্রধান কারণ। জীবনের যত তাড়াতাড়ি আপনি ধুমপান করা শুরু করবেন তত তাড়াতাড়ি আপনার ফুসফুস ক্যান্সার হওয়ার আশংকা বেশি থাকবে।

আর যতই আপনার ধুমপানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে ততই বৃদ্ধি পাবে ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার আশংকাও বাড়বে।

আপনি যদি ধুমপায়ীদের সাথে থাকেন বা কাজ করেন সেই ধোঁয়ার শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে গিয়েও আপনার ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। ধুমপায়ীদের অবশ্য এ ব্যাপরে বলে থাকেন তাতে আর কি হবে ? আমাদের সবাইকে একদিন তো চলে যেতেই হবে। কিন্তু মরতে হবে। হয়তো বা চল্লিশের পর আপনার জীবনা শেষ হয়ে যাবে।

আর মৃত্যুটাও বড় যন্ত্রণাদায়ক

       এই অসুখের প্রথম লক্ষণগুলো হলো যে আপানার কাশি যেন মোটেই সারাতে চাইবে না। তারপর শুরু হবে কাশিতে রক্ত আসা, বুকে ব্যথা, হাই হাই শব্দ বুকের ভিতর এবং অতি ঘন ঘন শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ।

ফুসফুসের ক্যান্সার দেহের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন হাড্ডি, লিভার এবং মস্তিষ্কে। তখন শুরু হয় ব্যথা এই সমস্ত স্থানেও।

অস্ত্রোপাচার, ওষুধ ও রেডিওথেরাপী দিয়েও এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। শতকরা ১০ ভাগেরও কম রোগী ৫ বছর বেচে থাকতে পারে। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা পেলে অনেক অসুবিধা হয় (লক্ষণগুলো সম্বন্ধে চিকিৎসকর কাছে তাড়াতাড়ি জানানো দরকার)

ছয়. কোলোন বা মলাশয় ক্যান্সার

বড় অস্ত্রের সবচেয়ে বড় অংশকে মলাশয় বলা হয় এবং মলাশয়ে ক্যান্সার পশ্চিমাদের মধ্যে খুব বেশি হওয়া শুরু করেছে। অধিকাংশ চিকিৎসকের মতে আমাদের খাওয়ার উপরই এই অসুখ বেশি ভাগ নির্ভর করছে।

  • অতিমাত্রায় খাওয়া।
  • বেশি চর্বি খাওয়া।
  • কম আশ বহুল খাদ্য গ্রহণ

মলাশয়ে ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে নীচে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

  • কম মাংস খাবেন বিশেষ করে লাল মাংস
  • কম চর্বিযুক্ত খাদ্য খাবেন।
  • আশবহুল খাদ্য বেশি করে খাবেন (ছিলকাসহ আলু খাবেন, বেশিক্ষণ ধরে সিদ্ধ করে সবজি খাবেন না, টাটকা ফল খাবেন, গমের আটা তৈরি রুটি এবং ব্রাউন চাল ও ওট মীল ও বেকডবীন খাবেন)

মলত্যাগের দৈনন্দিন ধারার কোন পরিবর্তণ দেখা দিলে  মলাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেক সময় ধরা যেতে পারে (হঠ্যাৎ হঠ্যাৎ ডায়রিয়া আবার পরবর্তীতে কোষ্ট্যকাঠিন্য দেখা দেয়া)। সপ্তাহব্যাপী এই রকম চলতে পারে।

সাত. ব্রনকাইটিস

ফুসফুসের ক্যান্সারের মত ব্রনকাইটিসের প্রধান কারণ সিগারেট খাওয়া। হয় আপনি নিজে অথবা আপনার আশপাশে অন্য কেউ সিগারেট খাওয়ার জন্যও ব্রনকাইটিস হতে পারে। সিগারেটের ধোয়ায় ফুসফুসর মাধ্যে বাতাস চলাচল করার যে ফুটা থাকে সেগুলো সরু হয়ে যায়  এবং বিজল তরণ পদার্থও বেশি পরিমাণে নির্গত হয়।

এতে রোগ দেখা দিতে থাকে ততই অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাই ব্রনকাইটিস হলেই প্রায়ই অফিস কামাই দিতে হয়ে।

দুঃখের বিষয় যে লক্ষ লক্ষ মহিলা ব্রনকাইটিসে ভোগেন। আর তাদের বেশিরভাগই চল্লিশের উর্দ্ধে।

সবচেয়ে দুরবস্থা শহরগুলোতে যেখানে দুষিত বায়ু শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্যে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে।

সব সময় কাশ, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হওয়া এবং বুকের ব্যথা হওয়া এই রোগের লক্ষণ।

এ্যান্টিবায়োটিকস দিয়েও চিকিৎসকগণ এই অসুখের চিকিৎসা করে থাকেন অথবা এমন ওষুধও ব্যবহার করে থঅকেন যা দিলে ফুসফুসে বাতাস যাতায়াতের পথগুলো বিস্তার কের দেয় যাতে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে। ব্রনকাইটিসের রোগীরা  তাদের কষ্ট নিয়ে বহুদিন বেচে থাকেন। তাদের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস খুব ঘন ঘন নিতে হয় এবং যেখানে সেখানে যেতে পারেন না। ব্রনকাইটিস থেকে বাচার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচেছ সিগারেট না খাওয়া।

আট. পেটের ক্যান্সার

আগে  এই ক্যান্সার অনেক পরিমাণে দেখা যেতো। এখনও দশটি গুরত্বপূর্ণ রোগের মধ্যে  একটি। দিন দিন এই ক্যান্সার কমে যাওয়ায় সঠিক কারণ সম্বন্ধে কেউ কিছু বলতে পারে না। তবে খাওয়া দাওয়ার কারণেও হতে পারে। কোন কোন চিকিৎসক বলে থাকেন যে অধিক লবণ দিয়ে তৈরি খাদ্য, আচার এবং স্কোকড খাধ্য ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লক্ষণগুলো সাধারণত নিম্নরূপঃ

  • ক্ষুদা নষ্ট
  • ব্যাথা
  • অর্ধেক খাওয়ার পরেই মনে হবে পেট ভরে গেছে।
  • বমি বমি ভাব ও বমি
  • ওজন কমা

অস্ত্রোপাচার করে চিকিৎসা করাটাই ভালো। তাতে কিছু ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সব রোগীকে অস্ত্রোপাচার করা যায় না, বিশেষ করে যদি ক্যান্সার অন্যত্রও ছড়িয়ে গিয়ে থাকে।

তাড়াতাড়ি চিকিৎসা হওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজন।

উপরিউক্ত লক্ষণসমুহ দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

নয়. জরায়ুতে ক্যান্সার

সারজিক্যাল ক্যান্সার থেকে জরায়ুতে ক্যান্সার হয়ে মহিলা বেশি মারা যান। যে কোন বয়সী মহিলার জরায়ুতে ক্যান্সার হতে পারে। তবে চল্লিশ উর্দ্ধ মহিলাদেরই সাধারণত হয়ে থাকে। যে সমস্ত মহিলাদের সাধারণত হয়ে থাকে। যে সমস্ত মহিলাদের সন্তান হয়নি তাদের জরায়ুতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৩  গুন বেশি। কিন্তু যে সমস্ত মহিলা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেয়ে থাকেন তাদের জরায়ুতে ক্যান্সার কম হয়।

জরায়ুতে ক্যান্সার হওয়ার আগে অনেক সময় ডিম্বকোষে ক্যান্সার হয়। আবার অনেক সময় অন্য  এক স্থানে  ক্যান্সার হওয়ার কারণে যেমন ব্রেস্টে ক্যান্সার হওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় জরায়ুতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথম লক্ষণে পেটে অবছা আবছা ব্যথা বোধ করবেন এবং পেটেও ফুলে উঠতে পারে। অনেক সময় বমি বমি ভাব থাকে এবং বমিও হয়। আর একটা লক্ষণ হচ্ছে যোনী নালীতে রক্তপাত।

ল্যাপরোসকপি করে। সুক্ষ একটা টিউবের মধ্যদিয়ে পেটের ভিতর দেখা অথবা ল্যাপরেটমী করে (পেটের চামড়া কেটে ভিতরে দেখা)। অস্ত্রপাচার করে সাধারণতঃ রোগ নির্ণয় করে থাকেন।

এবার চিহ্নিতকরণ হয়ে গেলে অস্ত্রোপাচার এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত জরায়ু ও ডিম্বকোষ দুটোই ফেলে দেয়া হয়। এরপর রেডিওথেরাপি নেয়া হয় এবং সেই সাথে চলে ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ। ইতিমধ্যে অন্যান্য স্থানে কতখানি ছড়িয়ে পড়েছে তার উপর নির্ভর করবে রোগীর সুস্থতা।

দশ. বহুমুত্র

পৃথিবীতে ২ শত কোটি বহুমুত্র রোগী আছে এবং  এই রোগ দিন দিন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে।

প্রতি ৫০ জন মহিলার মধ্য একজনের বহুমুত্র রোগ আছে। সব রোগীর একই সমস্যা। তাদের রক্তে থাকে চিনির আধিক্য।

সাধারণত আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা চুর্ণবিচুর্ণ হয়। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে চিনি তৈরি করা কারবোহাইড্রেটের কাজ। চিনি আমাদেরকে শক্তি যোগায়। রুটি, আলু, কেক, বিস্কুট, জ্যাম, পাস্তা, চকলেট এবং ফলের মধ্যে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। এই মুহুর্তে যদি চিনি উদ্বৃত থাকে তা লিভারে গিয়ে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য জমা থাকে এবং শরীরে যে চিনির প্রয়োজন পড়ে তা রক্তে চলে যায়। প্যাংক্রিয়াস গ্ল্যান্ড দ্বারা তৈরি ইনসুলিন নামক এক হরমোন চিনির রক্তে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

যাদের বহুমুত্র রোগ হয় তাদের শরীরে প্রয়োজনমতো ইনসুলিন হয় না।

প্রধানতঃ দু ধরনের বহুমুত্র রোগ আছে

এক ধরনের বহুমুত্র আছে যে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে অথবা ইনসুলিন বৃদ্ধিকারক ট্যাবলেট খেয়ে বা ইঞ্জেকশন দিয়ে বহুমুত্র রোগকে আয়ত্তে রাখা যায়। যাদের বহুমুত্র রোগের তীব্রতা বেশি তাদের ইনসুলিন ইঞ্জেশন নেয়া নেয়া উচিত।

বহুমুত্র রোগের লক্ষণসমূহ সব সময় এক থাকে  না। বহুমুত্র রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • ওজন কমে যাওয়া
  • তৃষ্ণার্ত হওয়া
  • ক্লান্ত হয়ে পড়া।
  • ঘন ঘন প্রসাব পাওয়া
  • অনেক ফোড়া হওয়া বা
  • সব সময় ক্ষুদা লাগা

বহুমুত্র এমন একটা ব্যাধি যা বংশ পরপম্বর চলে। তাই পরিবারের কোন লোক বিশেষ করে আপনজনের যদি বহুমুত্র থাকে তাহলে আপনারও বহুমুত্র রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণতভাবে শুধু প্রসাব পরীক্ষা করেই চিকিৎসকগণ বলে দিতে পারেন কারো বহুমুত্র রোগ আছে কিনা। পরে রক্ত পরীক্ষা করালেও চলে। একবার প্রমাণ যদি হয় যে আপনার বহুমুত্র হয়েছ আপনার নিজের পরীক্ষা নিজেই করতে পারবেন এরপর থেকে। বহুমুত্র নিয়ন্ত্রণ না করলেও যে সমস্য দেখা দিতে পারে এক কথায় নিম্নে তা বর্ণিত হলোঃ

  • চোখ নষ্ট
  • কিডনি নষ্ট
  • স্নায়ু নষ্ট
  • রক্ত চলাচল অসুবিধা
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • হৃদপিন্ডে সমস্যা

বর্তমানে পরীক্ষা করার জন্য নানা রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হয়েছে (য বাসাতে বসেই পাওয়া যায়)। তাই বহুমুত্র রোগীরা আগের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি তাদের অসুখকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

বহুমুত্র রোগীরা যদি তাদের রক্তের চিনির মাত্রাকে সাবধানতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে তারাও এক স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারেন।

অনুবাদঃ নাজমা রহমান

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


চিনি – অমৃত গরল সংবাদ

চিনি (Sugar)- অমৃত গরল সংবাদ

ডাঃ শুভাগত চৌধুরী

দৈনন্দিন আহারে চিনির পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত এ নিয়ে বেশ বিতর্ক হচ্ছে বিজ্ঞানী মহলে কিছুকাল ধরে। কোন কোন দেশে লোক বেশি চিনি ও মিষ্টি খাবার খান এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা তাই সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

চিনির পক্ষে বিপক্ষে লড়াইও বেশ জমে উঠেছে। দু পক্ষের প্রবক্তরাই বেশ জোরালো যুক্ত উপস্থাপন করেছেন। পক্ষের প্রবক্তরা বলেছেন শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে চিনির জুড়ি নেই। বিপক্ষের লোকেরা বলেছেন, চিনি হল শুণ্য ক্যালরির নামান্তর।

শুধু মানুষ কেন, অন্য প্রাণীদেরও চিনির প্রতি আর্কষণ দূর্নিবার। গর্ভাবস্থায় জরায়ুতে সাকারিন ইনজেকশন দিল জরায়ুত স্যাকারিন  ইনজেকশন দিলে ফিটাস (ভ্রুণ) মিষ্ট অন্তভ্রুণাবরণের জন্য তরল পর্দার্থ (েএমনিওটিক ফ্লুইড) পান করা বাড়িয়ে দেয়। ইদুরকে যদি পুষ্টিকর খাদ্য এবং মিষ্টি পানি দুটোর মধ্যে পছন্দ করতে দেয়া যায় তাহলে ইদুর মিষ্টি পানিই পান করবে, পুষ্টিকর খাদ্য ছোবে না। অপুষ্ট হয়ে মরে গেলেও না।  এমন দেখা গেছে, কোন কোন দেশে চিনির দাম যখন ৫ ‍গুণ বেড়েছে তখনও চিনি খাওয়া কমেছে মাত্র ৭ শতাংশ। আমাদের দেশেও েএর ব্যতিক্রম নয়। চিনি খাওয়া কমেনি।

কোন কোন বিজ্ঞানী বলেছেন, সুস্বাস্থ্যের বড় শত্রু  হল চিনি। প্রায় েএক দশক আগে আমেরিকার পুষ্টি বিষয়ক সিনেট কমিটি কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে জণগণকে চিনি খাওয়া ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেবার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন হলঃ সুগার বা চিনি মানে কি? রাসায়নিকভাবে অনেকগুলো দ্রব্যকে চিনি নামে অভিহিত করা হলেও কেবল কতিপয় দ্রব্য আমাদের খাদ্যে বর্তমান। স্টার্চের মত চিনিও একটি শর্করা দ্রব্য। প্রকৃতিজাত চিনিগিুলোর মধ্যে রয়েছে লেকটোজ (দুগ্ধ শর্করা), সুক্রোজ (ইক্ষু বা বিট থেকে প্রস্তুত পাতে খাওয়া চিনি), গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে ফল ও সব্জিতে। এছাড়া রয়েছে ডেক্সট্রোজ, ম্যালটোজ ও গ্যলাকটোজ। রক্তে যে শর্করা থাকে তা হল গ্লুকোজ। খাদ্যে যে মিষ্টি দ্রব্য (সুইটেনার) যোগ করা হয় তা হল সুক্রোজ বা চিনি (ইক্ষু বা বিট সুগার) এবং কর্ণ সিরাপ।

বিজ্ঞানীদের অভিমত, শরীরে শকর্রর চাহিদা, আজকাল বিশেষত উন্নত দেশের লোকেরা মুলত চিনি দিয়েই মেটাচেছন অনেক ক্ষেত্রে। আমেরিকানরা মোট ক্যালোরির প্রায় ২০ শতাংশই খান চিনি। এতে অসুবিধা হচ্ছে এই, শর্করার অন্যান্য প্রকৃতিজাত উৎস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে। ফল, শাকসবজি, শস্য, ভাত, রুটি ইত্যাদিতে শর্করা ছাড়াও রয়েছে আশ ভিটামিন  এবং খনিজ দ্রব্য পরিশোধিত চিনি ক্যারোরিরই নামান্তর। বিজ্ঞানীরা বলেন, সুক্রোজ বা চিনির এমন কোন জরুরী শারীরবৃত্তিক চাহিদা নেই যা অন্য পুষ্টিদ্রব্য দ্বারা পূরণ করা যাবে না। দেহ যেমন স্টার্চ বা শ্বেত সার থেকে সুগার পেতে পারে, তেমনি তা পেতে পারে ফল ও সব্জি থেকে। অনেকে বলেন, দ্রুত শক্তির উৎস হল চিনি এ কথার ই কথা। এমনটি হয় বিরল পরিস্থিতিতে, যেমন ইনসুলিন শক ঘটলেই কেবল চিনি তেমন দায়িত্ব পালন করে।

খালি পেটে যদি চিনির ঘন দ্রবণ পান করেন তাহলে প্রায় আধ ঘন্টার মধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যাবে বেড়ে, নিঃসৃত হবে ইনসুলিন, গ্লুকোজ, যকৃতে গ্লাইকোজেন রূপে জমা হবে চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইড। ব্যায়ামের সময় শরীর দেহের গ্লাইকোজের সঞ্চায় থেকে গ্লুকোজ নেয়। ব্যায়ামের পূর্বে চিনি খেলে শরীর একে সঞ্চিত করে মাত্র। দীর্ঘ সময় শরীর চর্চার মধ্যে বাদ চিনি গ্রহণ করেন, তাহলেই কেবল রক্তশর্করা সরবারহ করবে।

চিনিরি পক্ষে যারা তাদের অভিযোগ হলঃ এমন বলা হয় যে পরিশোধিত সাদা চিনি ক্ষতিকর এবং স্বাভাবিক মিষ্টি দ্রব্যগুলো ভাল। কিন্তু একটি চিনি অনু তা পরিশোধিত হোক বা না হোক, তা চিনিরই অণূ। একথা যদিও সত্য যে টেবল সুগারে কোন ভিটামিন, খনিজ দ্রব্য বা প্রোটিন থাকে না, তবে ম পরিশোধি চিনি যেমন বাদামী চিনি বা মধুতেও এগুলো এত অল্প থাকে যে তা ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ে না। বাদামী চিনি বা মধু খেতে ভাল লাগে খান, আপত্তি নেই। তবে এগুলো খেয়ে পুষ্টিকর জিনিস খাওয়া হল এমন ভাবাতক নয়।

চিনির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে যেমন, তেমনি সে অভিযোগগুলো খন্ডনও করেছেন চিনি প্রেমিকরা।

প্রথম অভিযোগ হল ঃ মেদুস্থলতা। অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে এমন ঘটে। উৎস যাই হোক না কেন। চিনির পক্ষে লোকজন বলেনঃ কারণটি হল ক্যালোরি, কোথা থেকে এল, তা বিচারের বিষয় নয়। যেমন প্রতি আউশ চর্বি থেকে যে ক্যালোরি পাওয়া যায় তা সমপরিমাণ শর্করা বা প্রোটিনের প্রায় দ্বিগুন। সুতারাং রুটির টুকরোতে পুরু মাখন লাগালে যে পরিমাণ ক্যালোরি পাওয়া যাবে তা সমপরিমাণ জেলির প্রায় দ্বিগুন। সুতারায় মোটা হওয়া ঠেকাতে গিয়ে চিনি পরিহার করলেন আথচ চর্বিযুক্ত খাবার ও তেল ভাজা বা তেলে চপ চপ খাবার খেলেন, এতে লাভ কি হল? চিনি বিরোধীরা বলেনঃ কথা ঠিক, তবে ব্যাপার হল, চিনি বা মিষ্ট দ্রব্য যেমন রসগোল্লা এতে চিনি আছে ঘনীভূত হয়ে। রসগোল্লা খেতে শুরু করলে অনেকে থামতেই চান না, সুতারায় পেট ভর্তি এমন অনুভুতির আগেই গপাগপ কয়েকটি রসগোল্লা পেটে চালান হয়ে গেছে। কয়টি খাওয়া হল, এমন হিসেবেও করেন না অনেকে। আর একটি উদাহারণ। আমরা জানি খাবার, খেতে যখন তৃপ্তি হয়, তখন আমরা থামি। এক পাউন্ড আপেল খেতে সময় লাগে অনেক অথচ একটি দু আউনসের কেনডি চকলেট এক নিমিষেই সাবাড় তৃপ্তির পরোয়া করার সময় কই। অথচ দুটোর ক্যালরির পরিমাণ এক।

দ্বিতীয় অভিযোগ হলঃ দন্তক্ষয়। চিনি অবশ্যই দাঁতের কেরিজ রোগ ঘটানো ত্বরানিত করে। মুখের ব্যাকটেরিয়া দন্তপৃষ্টের চিনি হজম করে, উৎপন্ন করে অলম্। সেই অল্ম সুরক্ষাকারী দাতের এনাকমেল নষ্ট করে এবং মাড়ির রোগ ঘটাতে সাহায্য করে। মজার ব্যাপার হলো, তাদের সংস্পর্শে চিনি কত সময় থাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ, কতটুকু চিনি খাওয়া হল এক্ষেত্রে তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। সুতারায় চকলেট চোষা এবং মিষ্টিদ্রব্য চোষা চিনির সরবত বা আইসক্রিমের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর অন্তত দাঁতের তুলনায় বেশি ক্ষতিকর দাতের বেলায়। অতএব দন্তক্ষয় বা কেরিজ এড়াতে হলে যে কোন মিষ্ট ্রদব্য ভক্ষনের পর কুলি করুন এবং দাত ব্রাশ করুন। আহাারের মধ্যবর্তী সময় মিষ্টি খাওয়া পরিহার করুন। চিনি প্রেকিরা এসব যুক্তি খন্ডন করেছেন তাদের ভাষা হলঃ চিনি দাত নষ্ট করে সত্যি তবে এর বদলে প্রকৃতিজাত মধু বা শুকনো ফল খেলেই যে খুব সুসার হবে, তা নয়। মিষ্টি কত সময় দাতের সংস্পর্শে থাকল, তাই হল জরুরী বিষয়। মিষ্টি দ্রব্যট যত বেশি আঠালো হবে, দাতের সংস্পর্শে এটি থাকেবে তত বেশি সময়। সুতারাং একে এড়াতে হলে আহারের মর্ধবর্তী সময় আঠালো মিষ্টি খাওয়া চলবে না। দাঁতকে বারবার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। মুখে য ব্যাকটেরিয়া রয়েছে  এটি মিষ্টির জাত বিচার করে না। বস্তুতপক্ষে কিছু কিছু তথাকথিত স্বাস্থ্যকর খাবার যমন কিসমিস, মনক্কা এগুলো দাঁতের মধ্যে সারাদিন স্বাস্থ্যন্দের সাথে থেকে ব্যাকটেরিয়ার সুবিধাই করে দেয়।

বহুমুত্র রোগ তৃতীয় অভিযোগ। বহুমুত্র রোগে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত করতে পারে না। রক্তের গ্লুকোজ তাই বেড়ে যায়। সুতারাং বহুমুত্র রোগীদেরকে অতিরিক্ত চিনি খেতে মানা করা হয় যাতে শর্করা মাত্রা খুব বেশি না হয়ে যায়।

এমন ধারণা রয়েছে যে, যেসব লোক বংশগত বহুমুত্র প্রবণ তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ সুগারযুক্ত খাদ্য বহুমুত্র প্রবণ তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ সুগারযুক্ত খাদ্য বহুমুত্র ‍সৃষ্টি করতে পারে। ইদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। চিনির পখেষ যারা আছেন তাদের বক্তব্য হলঃ বহুমুত্র রোগে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে  না অথবা  ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা ইনসুলিন প্রস্তুত হলে তা সঠিকভাবে কার্যকর হতে পারে না।

সুগারযুক্ত খাবার খাওয়াই যে বহুমুত্র রোগের কারণ, এটি ঠিক নয়।

চতুর্থ হলঃ হৃদরোগ। এথারো সেক্লরোসিস এবং হৃদরোগ ঘটাতে চর্বি ও কোলেস্টেরলের ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। তবে এমন মতামত অনেকে দিচ্ছেন যে উচ্চমাত্রার সুগারযুক্ত খাদ্যও এসব রোগ সংঘটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ কর পারে।

১৯৬৪ সালে জন ‍উডকন নামে একজন ইংরেজ চিকিৎসক এই তত্বের প্রবক্তা। তবে অন্যন্য দেশে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এ তত্বের পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ পাননি। যেমন ভেনিজুয়েলা, কিউবা, ব্রাজিল িএবং কোস্টাকিার লোকেরা খুব বেশি চিনি খায়, তাদের হৃদরোগ বেশি হয় এমন প্রমাণ নেই।

পঞ্চম অভিযোগঃ চিনি বেশি খেলে কোন কিছু শেখার ক্ষমতা কমে যায়। তবে চিনি প্রবক্তারা বলেন অনিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা, মতামত  এবং অনুমান আন্দাজের উপর ভিত্তি করেই এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত।

চিনি ‘গুণ্য ক্যালোরি’ এমন ধাররণারও বিপক্ষে আছেন অনেকে। সব ক্যালোরিই পূর্ণ ক্যালেরিই শক্তির উৎস। চিনিজাত দ্রব্য যদি অন্যন্য পুষ্টি দ্রব্যের পরিবর্তে খাওয়া হয়, তাহলে পুষ্টি ঘাটতি দেখা যায়। তবে দৈনিক ক্যালোরি ও পুষ্টিমান বজায় রাখলে স্ন্যাক খাবার খেতে দোষ কি ?

চিনির প্রবক্তরা তাই বলেন, চিনি মিষ্টি একথা সত্যি। এ জন্য আপনার জন্য মন্দ তা ঠিক নয়। বিপক্ষের লোক যারা তারা সত্য, উদঘাটনের চেষ্টা করতে চান। পরিশোধিত চিনির পক্ষে যুক্তি তেমন নেই। সুগার পরিপূর্ণ খাদ্য হয়ত ‍হৃদরোগ বা বহুমুত্রের কারণ নয়, তবে এটি মেদস্থুলতা ও অন্যান্য অসুবিধা ঘটাতে পারে এবং অবশ্যই এটা দাতের কেরিজ ঘটাতে সহায়তা করে। চিনি কম খাওয়া ভাল অন্তত এখন যা খাচ্ছি আমরা তার চেয়ে কম। চিনি বেশি খাওয়ার পক্ষে যুক্তি নেই। তবে পরিমিত খান এমন কথা বলতেই পারি আমরা। এ ছাড়া বেশি চিনি খেলে দেহ মোটা হতে পারে, সারাদিন চকলেট, লেবেঞ্চুস এবং কেন্ডি চুষলে দাতে কেরিজ হতে পারে এমন সত্য কথা উচ্চারণ করা যর্থাথ। সুতারাং চিনি খান আপত্তি নেই তবে বুঝেসুঝে খান।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


কর্মক্ষেত্রে বুকের দুধ খাওয়ানো

কর্মক্ষেত্রে বুকের দুধ  খাওয়ানো

ডাঃ নাহরিনা দেওয়ান

শিশুর ক্রমবিকাশ ও জীবন রক্ষায় মায়ের বুকের দুধের গুরত্ব এখন আন্তজার্তিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বুকের দুধের পক্ষে এখন জোর প্রচার অভিযান চলছে। পাঁচ মাস পর্যন্ত কেবলমাত্র বুকের ‍দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট, তদুপরি একটি শিশুকে দু বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর যেমন কোরআনের নির্দেশ আছে, তেমনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখাও রয়েছে। এতদসত্বেও বিভিন্ন কারণে মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে সফলভাবে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না।

বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলারা মাতৃকালীন ছুটি শেষে কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবার কারণে মাতৃদুধের বিকল্প বাজারজাত শিশু খাদ্য ব্যবহারে বাধ্য হন। কিন্তু ইচ্ছে করলে কর্মজীবী, মহিলারাও সফলভাবে দু বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে পারেন। েএর জন্য যেমন চাই স্বামী ও পরিবারের অন্য সকলের সহযোগীতা, তেমনি একটি সুন্দর মাতৃবান্দব কর্মপরিবেশ যেখানে কাজের ফাঁকে ফাঁকে মায়েরা তাদের শিশু সন্তানদেরকে বুকের দুধ দিতে পারবেন।

ব্যাপারটা অসম্ভব বা কাল্পনিক মনে হলেও ঢাকার মহাখালীস্থ আর্ন্তজাতিক উদারময় গবেষণা কেন্দ্রের ( আইসি ডিডি আরবি) মহিলা কর্মীরা তাদে শিশুদের কর্মক্ষেত্রে বুকের দুধ দেবার এমন এক দুর্লভ সুযোগ পাচ্ছেন।  ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে েএই কেন্দ্রের মহিলা কর্মীদের উদ্যোগে একটি শিশু পরিচর্যা কক্ষ চালু করা হয়। কেন্দ্রে কর্মরত সকল নারী ও পুরুষ সহকর্মীদের আর্থিক সহযোগীতায় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে এই কক্ষটিকে সাজানো হয়। শিশুদের দেখাশোনার জন্য রাখা হয়েছে তিনজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী। সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এই কক্ষ ব্যবহারের জন্য খোলা থাকে। কর্মরত মায়েরা ডিউটির সময় সঙ্গে করে শিশুদের নিয়ে আসেন এবং এই কক্ষে রেখে তাদের নিজ নিজ কাজে চলে যান। কাজের ফাকে ফাকে মায়েরা নিজের সুবিধাজনক সময়ে এসে শিশুকে বুকের দুধ দিয়ে যান। কক্ষে  প্রবেশের পর পরেই মা নিজের হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে একটি পার্টিশন দেয়া পৃথক জায়গায় গিয়ে আন্তরিকভাবে শিশুকে বুকের দুধ দিতে পারেন।

এখানে ৩ মাস থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের রাখা হয়। গড়ে ৬ থেকে ১২ জন শিশুর মা েএই কক্ষ ব্যবহার করতে পারেন।

শিশু পরিচর্যার কক্ষের উপকারিতা

  • শিশুরা কর্মস্থলে আছে বলে মায়েরা নিশ্চিন্তে থাকেন এবং কাজের প্রতিও মনোযোগী থাকেন।
  • বুকের দুধ চালিয়ে যেতে পারার কারণে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে, সে কম অসুস্থ হয় এবং মাকেও শিশুর জন্য ছুটি নিতে হয় না।
  • অনেক মহিলারা শিশুর বুকের দুধ না খাওয়াতে পারার জন্য বা দেখাশোনা করতে না পারার জন্য বা দেখাশোনা করতে না পারার কারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হতেন এ সুযোগ থাকাতে মাকে চাকরি ছাড়তে হচেছ না।
  • চাকরির পাশাপাশ শিশুর অধিকার মায়ের দুধ দিতে পারাতে মহিলারা ঘর সংসারের সাথে সাথে চাকরি করে সংসারে আর্থিক সহায়তা করতে পারছেন এবং সবার উপরে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস স্থাপন করতে পারছেন।

এইজন্য এবারের বিশ্ব মাতৃ দুগ্ধ’ সপ্তাহের মূল বিষয় ‘মায়ের দুধ কওয়ানঃ মায়ের ক্ষমতা বাড়ান’ বাস্তবায়িত করতে আই সিডি ডি আরবি র মত শিশুর পরিচর্যা কক্ষ বা ‘ক্রেশ’. দেশে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে থাকা খুবই প্রয়োজন। এর জন্য প্রথমত চাই কমকর্তার  মাতৃবান্ধব মনোভাব, দ্বিতীয়ত এবং বিশেষভাবে চাই মহিলা কর্মীদের দাবি ও উদ্যেগ। বিভিন্ন স্থানে কর্মরত মহিলা কর্মীগণ আপনাদের কর্মস্থলে পরে থকা কোনো একটি খালি কক্ষকে রূপান্তরিত করতে পারেন, আপনাদের শিশু রাখার স্থান হিসেবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানের বা আপনাদের কোনো বাড়তি খরচ করতে হবে না। প্রতিষ্টানের কিছু অব্যবহৃত আসবাবপত্র দিয়েই আপনারা কক্ষটিকে সাজাতে পারেন। আপনাদের কর্মক্ষেত্রে একটি ‘ক্রেশ’ তৈরির জন্য আপানারা যে কোনো সময় আই সি ডিডি আর বির র কক্ষটি দেখে যেতে পারেন। কক্ষ ব্যবহারকারী মায়েদের সঙ্গে আলাপ করে আপনিও এমন  একটি সুযোগ আপনার কর্মক্ষেত্রে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


সুস্থ হার্ট সুস্থ জীবন

Category : Ambulance Service

সুস্থ হার্ট সুস্থ জীবন

সুস্থভাবে জীবন যাপনের জন্য সুস্থ্য হার্ট অত্যান্ত প্রয়োজনীয়। আমাদের নাগরিক সমাজ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছুটা সচেতনাতার কারণে বর্তমানে অন্ততঃ এটুকু বুঝতে পেরেছেন যে, হৃদযন্ত্র বা হার্ট অসুস্থ হরে হৃদরোগে হয়ে থাকে এবং এর পরিণাম হয় অত্যান্ত ভয়াবহ। হৃদরোগ হচ্ছে অতিপুস্টির দৈহিক প্রক্রিয়া, শরীর চর্চাবিহীন জীবনযাপন ও মেদ স্থুলতার ফলাফল। অপরদিকে অতিরিক্ত প্রাণীজ চর্বি, কোলেস্টেরলমুক্ত অধিক খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি সুস্থ হার্ট গঠনে বিরাট অন্তরায়।

সুস্থ জীবন যাপনের পূর্বশর্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হার্ট বা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রেখে সুস্থ জীবনযাপনের পূর্বশর্ত হচ্ছে চর্বি ও প্রোটিন জাতিয় খাদ্যের পরিমিত গ্রহণ, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, মদ সিগারেট  বর্জন, দেহের স্থুলতা ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীর চর্চা। পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, আমাদের গ্রামীন সমাজে হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অত্যান্ত কম এবং প্রায় শুন্যের কোঠায়। এর কারণ হচ্ছে সেখানে অতি পুষ্টির অভাব এবং তারা প্রতিদিন শরীর চর্চা বা দৈহিক পরিশ্রম করে থাকে।

বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত

বিশেজ্ঞদের মতে খাদ্যে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ শরীর সংগৃহীত মোট ক্যালরীর শতকরা ১০ ভাগ থাকতে হবে এবং প্রতিদিনের খাদ্যে কোলেস্টেরলের পরিমাণ থাকতে হবে ৩শ মিলিগ্রামের মধ্যে। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যভাস ও খাদ্য নির্বাচনে অবশ্যই এ নিয়ম মেনে চলা উচিত। গরু, খাসী, ভেড়ার মাংস ও ডালভাতে প্রচুর প্রাণীজ চর্বি বিদ্যমানে এবং অপরদিকে ডিমের কুসুম, প্রানীজ গ্রহ্ণি জাতীয় খাদ্য যেমন লিভার, কিডনি, হৃৎপিন্ড ইত্যাদি এবং চিংড়ি জাতীয় মাছে প্রচুর কোলেস্টেরল বিদ্যমান। তাই খাবারের ক্ষেত্রে  এসব খাদ্য অব্যশই কমিয়ে আনতে হবে এবং মাছ, শাকসবজি ও বীচি বা গুটি জাতীয় খাদ্য ও নানারকম ফলমুল খেয়ে সেই শুণ্যস্থান পূরণ করতে হবে।  একটি গবেষণায় জানা গেছে, মাছের তেল রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ মহলের অন্য একটি মতামত থেকে জানা যায়, সিগারেট, মদ ও দৈহিক স্থুলতা এই তিনটরি যোগসাজশ বা সমষ্টি শরীরের পক্ষে মারাত্মক, বিশেষ করে করোনারী হৃদরোগে তৈরির ক্ষেত্রে। আর এসবের সাথে যদি ডায়াবেটিস থাকে বা যোগ দেয়, তাহলে জীবনের ঝুঁকি আরো বিপদজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়। কাজেই এ বিপদ থেকে রেহাই পেতে হলে দেহের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ও মদ্যপান অব্যশই বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি ওষুধ বা শরীর চর্চার মাধ্যমে রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

       আমাদের যা করা উচিত

সুস্থ হার্ট গঠন এবং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপন করতে হলে আমাদের শুধু একটু সতর্কতা ও কয়েকটি পরামর্শ বা নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট। আসুন আমরা সবাই এ নিয়মগুলো মেনে চলি এবং অনুসরণ করি।

প্রদীপ সাহা

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


শুটকিতে কীটনাশকঃ অসুস্থ হচ্ছে মানুষ

শুটকিতে কীটনাশকঃ অসুস্থ হচ্ছে মানুষ

রফিকুল ইসলাম

শুটকিতে  মাছের সাথে বিষ খাচ্ছে দেশের কোটি মানুষ। ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে। দেশের গোটা উপকুলীয় অঞ্চল জুড়ে বিষ মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে নানা জাতে শুটকি মাছ। দেশের উপকুলীয় অঞ্চলে শুটকি শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের ধারাবাহিকতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও এতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ঘটনা অতি সাম্প্রতিক। ইতিপূর্বে শুটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি ছিলো প্রকৃতিনির্ভর। কিন্তু এখন তা নেই। শুটকি ব্যবসায়ীরা অধিক লাভ ও মুনাফার লোভে নান জাতের কীটনাশক নগস, বরিক পাউডার ইত্যাদি ব্যবহার করছে। এক তথ্যে জানা গেছে, শুটকি রপ্তানি, পন্য হিসেবে গন্য হবার পর থেকেই এ ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার শুরু হয়। এবং এটা সম্ভবতঃ ১৯৮৩- ৮৪ সাল থেকে। শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সয়শ্লিষ্টরা অবশ্য বলেছেন, দীর্ঘকালীন সময়ের মধ্যে যাতে মাছগুরো কীটদ্বারা আক্রান্ত না হয়, সে কারণে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।

শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঐ কারখানাগুলোতে মাছ শুকানোর জন্য ক্ষতিকর ডিভিটি, নগস বরিক পাউডার ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। তবে যে সব কারখানা থেকে সরাসরি শুটকি রপ্তানি করা হয়, সেগুলোতে কীটনাশক সরবারহ, ব্যবহার বিধি ও ব্যবহার সরাসরি ক্রেতার তরফে হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরার বলেছেন, এই কীটনাশক যে কোন প্রাণীর জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। তারা বলেন, জমিতে ধান উৎপাদনের জন্য যে ডিডিটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, ঐ ধানের চাল কোন প্রানীর পেটে গেলে দীর্ঘ সময় নিয়ে তার একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুটকি মাছের বিষক্রিয়া প্রাণীকে ক্ষতি করে।

সাম্প্রতিককালে দেশের সর্বত্র শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ পুরোপুরি কীটনাশকের উপরই নির্ভরশীল। সওদাগররা কীটনাশক ব্যবহারের পর এর ফলাফল অর্থ্যাৎ মুনাফা বেশি পাওয়াতে কোন ঝুকি নেন না। ফলে কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা বেশ ব্যাপক। বর্তমান সময়ে, বলতে গেলে মাছ, পানি, থেকে তোলার পরেই কীটনাশক ব্যবহার শুরু হয়ে যায় শুটকি হয়ে চালান হওয়ার সময়ও পাউডার ব্যবহার করা হয়। গুদামে রাখার সময় আবার ছিটানো হয় পাউডার।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পাড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ উপকুলীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। বরগুনা, পটুয়াখাল, বরিশাল, খুলনা, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট প্রভৃতি এলাকায় কারখানা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ভৌগলিক কাঠামো অনুযায়ী প্রধানত উপকুলীয় অঞ্চলগুলাই শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতিগত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।  এখানকার মাঝারি ধরনের কারখানাগুরো সমুদ্র থেকে মাছ সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণের ভেতর দিয়ে আর্ন্তুজাতিক বাজার পর্যন্ত পৌছে দেয়। প্রতিটি কারখানায় সংগ্রহকারী নির্দিষ্ট দর মোতাবেক মাছ সরবারহ করে। তাদের সরবারহকৃত মাছ এ্ই কারখানাগুলোর চালিকাশক্তি কারখানা থেকে আর্ন্তজাতিক বাজারে আজ অবধি যেসব প্রজাতির মাছ চাহিদা সৃষ্টি করেছে সে গুলোর মধ্যে অন্যতম পোয় মাছ । এছাড়াওি ল্যাইটা, পুটি, রুপচান্দা, হাঙ্গর প্রর্ভতি কিছু কিছু ক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক বাজারে সামান্য চাহিদের সৃষ্টি করেছে তবে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পুটি, রূপচান্দা ও লাইট্যা মাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বাংলা কার্তিক থেকে বৈশাখ মাছ পর্যন্ত এ কাজ চলে। কুয়াকাটার কারখানাগুলোতে মাছ সরবারহ করার লক্ষ্যে যে সব জেলে ও সংগ্রহকারীরা সাগর থেকে মংস্য শিকার করে, তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই সংগ্রহ করা পর্যন্ত দায়িত্ব শেষ। কারণ কারখানাগুলোর নিজেদের যে নৌযান রয়েছে, সেগুলোই সাগর রক্ষে এগিয়ে যায় সংগৃহীত মাছের সরবারহ নেয়ার জন্য। কোন কোন ক্ষেত্রে সংগৃহীত মাছের মুল্য আকার অনুযায়ী নির্ধারিত থাকে, আবার অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। সংগ্রহকারীদের জন্যে কিনারে পৌছাতে দুরপাল্লায় পথ হলে কদাচিৎ বরফ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি সংগ্রহকারীরা মাছের পেটের বর্জনীয় নৌকায় বসেই ফেলে দেয়।

উপকূলীয় অঞ্চলের সাগরের অথবা নদীর মোহনায়, কিংবা জেগে ওঠা, চরে শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ চলে। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা, তালতলী, আশার চর, লালদিয়া, নলী, নলবুনিয়া, পটুয়াখালী জেলার গঙ্গামতি, কুয়াকাটা, রাঙাবিল, খেপাপাড়া, মহিপুর, সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরে মৌসুমে প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ চলে এসব স্থানে মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য এপ্রিল  পর্যন্ত বিপুল সমারোহ প্রক্রিয়াজাতকরণ এর কাজ চলে। মৌসুমে এসব অঞ্চলে বাইরে থেকে নিসম্বল পরিবারগুলো এসে কাজে যোগ দেয়। নারী পুরুষ শিশু সম্বন্বয়ে এই পরিবারগুলো এসে এখানে অস্থায়ী বসতি গড়ে। এরা ভাগ হয়ে পড়ে ব্যবসায়ী, মৎস্য শিকারী এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শ্রমিকে। মৌসুমে শেষে সবাই আবার ফিরে যায় নিজ নিজ স্থানে।

সাগর থেকে জেলেরা নির্দিষ্ট মৌসুমে মাছ শিকার করে ব্যবসায়ীদের নিকট তা নির্দিষ্ট করে বিক্রি করে দেয় এবং ব্যবসায়ীরা তা পর্যায়ক্রমে শুটকি প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। সাগর মোহনায় একটি স্থান “আশার চর” পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেলা, সেখানে মৌসুমে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। নারী পুরুষ শুধু নয়, শিশুরাও সেখানে শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত। ইতিমধ্যে ‘আশারচর’ শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। ফাতারারবন পরিবেষ্টিত এ অঞ্চলে বাংলা কার্তিক মাছ থেকে চৈত্র্যে বৈশাখ মাস পর্যন্ত শুটকি মাছ এর প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের আরেকটি স্থান হলো ‘দুবলারচর’। এটি সুন্দরবন সংলগ্ন। এখানে মৎস্য সংগ্রহ ও সাগরবক্ষে পরিবহনে যে ট্রলারগুলো নিয়োজিত সে গুলোর অধিকাংশই ৯শ থেকে এক হাজার কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন। গোটা দুবলারচর এলাকায় মৎস্য ব্যবসার সরকারী খাজনা আদায় করে বাংলাদেশ বন বিভাগ। বনবিভাগ এক মৌসুমে নৌকা প্রতি দশ টাকা করে টোল আদায় করে । এটা কেবলমাত্র আহরণ ক্ষেত্রে উপস্থিতি চাদা। এটা কেবলমাত্র আহরণ ক্ষেত্রে উপস্থিতি চাদা। এরপর মৎস্য শিকার কর উপকুলে আসার পর প্রতিমণ মাছের জন্য ৬৫ টাকা বনবিভাগকে দিতে হয়। বনবিভাগ অবশ্য এ টাকা গ্রহণের রশিদ প্রদান করে।

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন কক্সবাজারের বাজার ঘাটায় একটি শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ করাখানা প্রতিষ্ঠা করেছে। বার্ষিক এক হাজার টন পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বর্তমানে এ কারখানাটি পরিচালিত হচেছ। জানা গেছে তাৎক্ষনিকভাবে অভ্যন্তরীন বাজারে যে প্রজাতির মাছের চাহিদা নেই, সেগুলো সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে প্রক্রিয়াজাত করাই এই থেকে কিনে প্রক্রিয়াজাত অন্যতম লক্ষ্য। নির্দিষ্ট কোন প্রজাতির উপর নেই বলে প্রায় ৫শ ব্যবসায়ী ও সংগ্রহকারী বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এ কারখানায় সরবারহ করে থাকে। প্রতি কেজির ক্রয় মুল্য থাকে ৭ থেকে ১৫ টাকা এই প্রতিষ্ঠানের তৈরিকৃত পোলট্রি খাবারের ক্রেতা হলো সরকার পরিচালনাধীন সকল পোলট্রী খামার এবং অধিকাংশ বেসরাকারী খামারগুলো।

শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করলে বাস্তব কিছু চিত্র ধরা পড়ে। স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলো বরগুনা জেলার বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ‘আশারচর’। আশারচরে প্রতিবছর মৌসুমে হাজার হাজার নারী পুরুষ শিশু আসে এ কাজের জন্য। এখানে কথা হয় নারী শ্রমিক আমেনা খাতুনের সাথে।

আমেনা বললেন, জীবন বাচানোর তাগিদে এখানে এসেছি। স্বামী নেই। দু মেয়ে নিয়ে সংসার। কোন মতে সংসার চলছে। সুর্য তখনও মাথার উপরে আসেনি। রোদের তাপ বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে আশার চরের মানুষের ব্যস্ততা মানুষগুলো জীবন সংগ্রামে এখানে এসেছে। কেউ মাছ ধরে, কেউ শুকায়। আবার কেউবা মাছ বাছাই করে। হাজারো মানুষের মাঝেই কথা হয় আমেনার সাথে।

আমেনা জীবন বাচানোর শেষ চেষ্ঠায় এসেছেন এখানে। তার বাবার বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার চরখানল গ্রামে। বাবা শাহাদাত আলী হাওলাদার আমেনাকে তুলে দে পার্শ্ববর্তী গ্রামের তোরাব আলীর হাতে। তোরাব আলী এর আগে চারটি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু আমেনাকে বিয়ে করার সময় সে তথ্য গোপন থাকে। বিয়ের পরপরই তারা চলে যায় চট্রগ্রামের পাহাড় এলাকায়। নিজেদের জমি জমা যা ছিলো, তা সব বিক্রি করে তারা সেখানে চলে যায়।

দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর আমেনা খাতুনের স্বামী তোরাব আলী বনে গাছ কাটতে গেলে শান্তিবাহীনির গুলিতে প্রাণ হারান। সেই থেকেই আমেনার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। তিনি নিরুপায় হয়ে চলে আসেন বরগুনা জেলার এই চরে। এখানে জীবন বাচানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

আমেনা বলেন, কাজ করতে পারলে ৮/১০ টাকা পাওয়া যায় প্রতিদিন। এ দিয়ে সংসার চলে না। কোন মতে পাতার চাল বেড়া দিয়ে আমেনা এইখানে আছেন তার বাচ্চাদের নিয়ে। বছরে পাঁচ মাস আশারচরে আমেনার মতো মহিলাদের কর্মসংস্থান মেলে। বাকি সাতমাস থাকতে হয় অন্য কাজে। আমেনা মৌসুম শেসে এখান থেকে চলে যান অনত্র। তার নির্ধারিত কোন  স্থান নেই। কোন মহাজনদরে বাড়ি ঝি এর কাজ জুটবে আমেনা নিজেও তা জানেনা।

কথা বলতে বলতে  আমেনা মাছ ভাঙ্গার কথা ভুলেই যান। তার চোখ ভিজে ওঠে। দৌড়ে এসে মেয়ে জাকিয়া কোলে উঠলে মায়ের। চুমু খোলো কয়েকটি। এই চুমুর সাথেই হয়তো মা মেয়ের গভীর অনুমতি লুকিয়ে আছে। বাইরে থেকে বোঝা যায়, অনেক ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও মেয়ের জন্য আমেনা কিছু করতে পারছে না। আমেনা বলেন, বাচ্চার লেখাপড়ার চিন্তাতো করাই যাচ্চে না। আগে পেট, তারপর অন্য কিছু।

তলতলীর চরাঞ্চল। স্বপন মাঝি (৪০) সবেমাত্র বাসায় ফিরেছেন। সকাল থেকে বাইরে কাজ দেখাশুনায় ব্যস্ত ছিলেন। মাঝি মাল্লাসহ তারা নৌকায় নদীতে মাছ ধরতে গেছে। বিকেলে ঘাটে ফেরার কথে।

স্বপন মাঝি বললেন, মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিতে নিতে মোরা তো শেষ হইয়া গেছি। সিজন তো আস্তে আস্তে খারাপ হইতাছে। মোরা বাচুম কেমনে। স্বপন মাঝি প্রায় তোরো বছর ধরে এ পেশায়। তার বাড়ি বরগুনা জেলার বাইরে।  এখানে মাছ ধরতে আসে মৌসুমে।

প্রতি বছর কার্তিকের মাঝামাঝি ছয় মাসের জন্য তালতলীর চরাঞ্চলে মাছ ধরত আসেন স্বপন মাঝি। তার কর্মচারীর সংখ্যা সব মিলিয়ে ১৫ জন। এর মধ্যে আটজন নৌকায় থাকে। বাকিরা বাসায় অন্যান্য কাজ করে । মাসে কর্মচারীরা বেতন বাবদ স্বপন মাঝিকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা গুনতে হয়।

রোদের তাপে তপ্ত হচ্ছে বাতাস। স্বপন মাঝি হাতে পাখা নিলেন। পাশেই স্ত্রী বিমলা, রনী দাড়িয়ে। বিমলা এখানে এসেছেন বিশেষ কাজে। তিনি সাধারণত বাড়িতেই থাকেন- বিমলা  বলেন, সাগরের লবণ, পানির সাথে তাদের জীবন মিশে গেছে।  একটি ছেলে আর তিনটি মেয়ে আছে তার। ওরা বাড়িতেই থাকে। কেউ পড়াশুনা করে, আবার কেউ সংসারী।

সাগরে মাছ ধরার জন্য স্বপন মাঝিকে প্রতিবছরই এই মৌসুমে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিতে হয়। এবছর তিনি পুজি খাটিয়েছেন প্রায় ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্ধেকটাই দাদন নেয়া। স্বপন বলেন, দাদন নেয়ার বিনিময় মহাজনদের চাকা, চালী, টাইগার ও মটকা নামের মাছগুলো দিতে হয়। এভাবেই দাদনের টাকা শোধ হয়। টাকা শোধ হয়ে গেলে অতিরিক্ত মাছের টাকা ফেরত দেয়া হয় জেলেকে।

স্বপন মাঝি জানান, অন্যান্য জাতে মাছগুলো শুটকি করে বিক্রি করেন। তিনি বলেন  সাগর থেকে মাছ ধরে আনার পর সেগুলো বাচাই, করা হয় বাচাই শেষে মাহজনদের দেয়া হয় কিছু মাছ বাকি মাছ ভেঙ্গে শুটকি করা হয়। মাথা ভাঙ্গার জন্য মজুরী দিতে হয় কেজি প্রতি ২ টাকা। এছাড়া শুটকি মাছ শহরে পাঠাতে কেজিপ্রতি ২ টাকা ট্রলার ভাড়া দিতে হয় জেলেকে।

শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি- গত সমস্য যেমন আছে তেমনি বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা। দীর্ঘদিনেও শুটকির সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বাজার ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। কক্সবাজারে পদ্ধতিগত যে প্রক্রিয়াজাতকরণ চলছে, তা প্রধাণতঃ আর্ন্তজাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে। পোয়া মাছ রপ্তানির প্রতি সেখানকার ব্যবসায়ীদের ঝোক বেশি। চট্রগ্রামের কারখানাগুলো থেকে হংকং এর তিনটি প্রতিষ্ঠানের ক্রেতারা পোয়ামাছ ক্রয় করে। অভ্যান্তরীণ বাজার আছে চট্রগ্রামের আসাদগঞ্জে। সেখানকার যেসব আড়তদারী ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা বিভিন্ন ধরনের শুটকি মাছ কক্সবাজার থেকে সড়ক পথে এই শুটকি চট্রগ্রামের আসাদগঞ্জে পৌছানো হয়।

বরিশাল বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা প্রভৃতি অঞ্চলের মাঝারি ও ছোট কারখানগুলো থেকে শুটকি মাছ চালান করা হয় কক্সবাজারে। সেখান থেকে যথারীতি চলে যায় চট্রগ্রামের আসাদগঞ্জে। এ অঞ্চল থেকে চিংড়ি ও অন্যন্য ছোট মাছের শুটকি ছাড়াও হাঙ্গর জাতীয় মাছের শুটকি দেশের বাইরেও চালান করা হয়।

দুবলারচরের বিশাল উৎপাদনেও সরাসরি আসাদগঞ্জের বাজারে পাঠানো হয়। দুবলারচর থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকার আসাদগঞ্জে পৌছাতে ২৪ ঘন্টার মতো সময় লাগে। তবে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শুটকি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত নৌকাগুলো মাঝারি আকারের। ১৫০ কেজির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন প্রতি টুকরি শুটকির সর্বোচ্চ ৬টি পর্যন্ত নৌকাগুলো বহন করতে পারে।

যে বাজার ব্যবস্থা প্র্রচলিত আছে, তাতেও দেশের চাহিদা মিটিয়ে গত পাচ বছরে শুটকি রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে শুটকিযোগ্য মৎস্য শিকারের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার অনেক জেলে তাদের বাপ দাদার পুরানো পেশা গুটিয়ে নিচ্ছে। ফলে শুটকি উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালে ২ হাজার টন শুটকি রপ্তানি হলেও জেলেদের নানাবিষ সমস্যার কারণে ১৯৯০ সালে ১৬শ টন, ১৯৯১ সালে ১৩শ টন এবং ১৯৯২ সালে তা ১২শ টনে পৌছেছে। আর্থিক সংকট, আসবাবপত্রের অভাব এবং বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি  জ্ঞানের অভাবে শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এ বেহাল অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে স্থানীয় অধিবাসীরা বলেছেন।

তারপরও দেশে পপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এর প্রতি। কর্মসংস্থান যেমন ‍সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি মাছের দামও অপেক্ষাকৃত বাড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে শুটকিযোগ্য মাছের সহজপ্রাপ্যতা রয়েছে। কিন্তু সেদিকে কারো নজর নেই।

কেবলমাত্র বরগুনা পটুয়াখালীর বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ সমুদ্র উপকুলবর্তী এলাকা কুয়াকাটা থেকে প্রতি বছর হাজার মন শুটকি তৈরি হচ্ছে। যার মধ্যে রপ্তানিযোগ্য মাছ থাকলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তিগত কোন প্ল্যান্ট না থাকায় রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছেনা। এসব এলাকায় প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট গড়ে উঠরে প্রতি বছর শুটকি মাছের রপ্তানি করে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

এছাড়া বর্তমানে পোলট্রি শিল্পে শুটকি ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাপক হারে। দেশের পোলট্রি শিল্পের মালিকগন শুটকির গুড়া খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। সাম্প্রতিককালে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটায় শুটকির চাহিদা বেশ বেড়ে গেছে। দেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে এ শিল্পের মালিকরা বিদেশ থেকেও অনেক সময় খাবার আমদানি করে তাদের চাহিদা পুরণ করছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার যথেষ্ট অপচয় হচ্ছে।

দেশের উকুলবর্তী জেলেদের মধ্যে সহজ শর্তে ঋণ ও গভীর সমুদ্রে শুটকিযোগ্য মাছ আহরনের জন্য যান্ত্রিক ট্রলার ও নৌকা সরবারহ করে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এর ফলে একদিকে যেমন পোল্ট্রি ফার্মের জন্য বিদেশ থেকে খাবার আমদানি বন্ধ হবে তেমনি রপ্তানিযোগ্য অতিরিক্ত শুটকি বিদেশে চালান দিয়ে আরো বেশি পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

শুটকি উৎপাদন যাতে হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পায়, সে জন্যে দেশের শুটকিযোগ্য মাছের ‍প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকি উৎপাদন নিশ্চিত করার সাথে সাথে জেলেদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দেয়া একান্ত পড়েছে।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


শিশুর সর্দি কাশি

শিশুর সর্দি কাশি

১. কাশিতে আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত (ঘন ঘন) নিঃশ্বাস নিলে বুঝতে হবে শিশু ঝুঁকির সম্মুখিন। এ অবস্থায় শিশুকে তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যকর্মীর নিকট অথবা হাসপাতালে নিতে হবে।

২. শিশুকে প্রথম পাচ মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খেতে দিয়ে পরিমিত পুষ্টি জুগিয়ে ও তাদের সময়মত সবগুলো টিকা দিয়ে মা বাবা নিউমোনিয়া থেকে শিশুকে রক্ষা করতে পারেন।

৩. সর্দি কাশি হলে শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার ও পানীয় দিতে হবে।

৪. সর্দি কাশি হলে শিশুকে বেশি নয়, তবে সামান্য গরমে রাখতে হবে। ধোয়াবিহীন নির্মল বাতাসে শিশুকে শ্বাস নিতে হবে।

সর্দি কাশি সহায়ক তথ্য

১. কাশিতে আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত (ঘন ঘন) নিঃশ্বাস নিলে বুঝতে হবে শিশু ঝুকির সম্মুখীন। এ অবস্থায় শিশুকে তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যকর্মীর নিকট অথবা হাসপাতালে নিতে হবে।

  • অধিকাংশ সর্দি কাশি ও নাক দিয়ে পানি ঝরা আপনা আপনি সেরে যায়। কিন্তু কখনো কখনো সাধারণ সর্দি কাশি নিউমোনিয়া মোড় নেয় এবং শিশুর জীবন হুমকির সম্মুখীন হয়ে। নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যু শিশুকে বাচানোর উপায় হলোঃ
  • মা বাবাকে জানতে হবে কখন কাশি ও সর্দি নিউমোনিয়ায় মোড় নেয় আর তখনই দরকার জরুরী স্বাস্থ্য সেবা।
  • চিকিৎসা সাহায্য ও স্বল্প মূল্যের ওষুধ নাগালের মধ্যে রাখা।
  • সর্দি কাশিতে আক্রান্ত শিশুর মা বাবাকে নীচের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখতে হবে এবং যেকোন একটি লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্র স্বাস্থকর্মী অথবা নিকটতাম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিুশুকে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা হবে। লক্ষণগুলো হলো ঃ-
বয়স প্রতি মিনিটে কত দ্রুত শ্বাস নেয়
০ – ২ মাস ৬০ বা তারও বেশি
২ -১২ ৫০ বা তারও বেশি
১২ – ৫ বছর ৪০ বা তারও বেশি
  • যদি শিশুর বুকের নীচের অংশ শ্বাস নেয়ার সময় ভেতরে দিকে চেপে বা ডোবে যায়।
  • যদি শিশুটি ভালভাবে পানীয় গ্রহণ করতে না পারে।
  • কোন রকম ওষুধপত্র ছাড়াই বাড়িতে মায়ের যত্নে সর্দি কাশিতে আক্রান্ত স্বাভাবিক শ্বাস গ্রহণরত শিশুকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। সর্দি কাশির জন্য বাজারে যেসব ওষুধ বিক্রি হয় তার অধিকাংশ শুধু অকার্যকর নয় বরঞ্চ ক্ষতিকর।

২। শিশুকে প্রথম পাঁচ মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খেতে দিয়ে, পরিমিত পুষ্টি জাগিয়ে ও তাদের সময়মত সবগুলো টিকা দিয়ে মা বাবা নিউমোনিয়া থেকে শিশুকে রক্ষা করতে পারবেন।

মায়ের দুধ খাওয়ানো

মায়ের দুধ বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের হাত থেকে শিশুকে রক্ষা করে। যেসব শিশু বোতলে দুধ খায়, সেসব শিশুর নিউমোনিা আক্রান্ত হওয়ার হার যেসব শিশু মায়ের দুধ খায় তাদের চেয়ে দ্বিগুনের বেশি। শিশুর জন্মের প্রথম পাচ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো বিশেষ প্রয়োজন।

খাবার দেয়া

নিউমোনিয়া আক্রান্ত যেকোন বয়সী শিশুকে সঠিকভাবে খাওয়ালে তার অসুখ গুরত্বর হবার সম্ভাবনা অথবা নিউমোনিয়াজনিত আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার সম্ভাবনা কম থাকে।

ভিটামিন এ

মায়ের বুকের দুধ, কমলা বা হলুদ রং এর ফলমূল ও সবুজ শাক সবজিতে যে ভিটামিন ‘এ’ থাকে তা শিশুকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহা্যে করে।

       টিকাদান

শিশুর বয়স এক বছর হওয়ার আগেই সবগুলা টিকা দিয়ে নিতে হবে। সবগুলো টিকা দেয়া হলে শিশু হুপিং কাশি, যক্ষা ও হামজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

মানুষের ভিড়

মানুষের বেশি ভিড় সর্দি কাশি ছড়াতে সাহায্য করেন।

৩। সর্দি কাশি হলে শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবার ও পানীয় দিতে হবে।

যখন কোন শিশুকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা হবে তখন নীচের এই জরুরী তথ্যগুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবেঃ

       খাবার চালিয়ে যাওয়া

বুকের দুধ খাওয়া শিশুর সর্দি কাশি হলে তাকে খাওয়ানো কঠিন হয়। তবে খাবার, রোগ সংক্রমণ থেকে শিশুকে বাঁচাতে ও তার বেড়ে উঠায় সাহায্য করে। এ কারণে শিশুকে বারবার বুকের দুধ খেতে দিতে চেষ্টা করা উচিত। শিশুর নাকের সর্দি পরিষ্কার করে দিলে শিশুর পক্ষে চোষা সহজ হয়। যদি শিশু ‍ভালভাবে খেতে না পারে তাহলে তাকে অব্যশই স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে অথবা নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

যে সব শিশু বুকের দুধ খায় না তাদের কে নানারকম চেষ্টা করে অল্প পরিমাণ খাবার বারে বারে খাওয়াতে হবে। অসুখ বিসুখ হরে শিশু খেতে চায় না বলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি কমে যায়। অসুখ সেরে গেলে এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন অন্ততঃ একবার তাকে বেশি করে খেতে দিতে হবে।

শিশুকে প্রচুর তরল খাবার দিতে হবে

সর্দি কাশিতে আক্রান্ত শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার দিতে হবে।

৪। সর্দি কাশি হলে শিশুকে বেশি নয়, তবে সামান্য গরমে রাখতে হবে। ধোয়াবিহীন নির্মল বাতাসে শিশুকে শ্বাস নিতে হবে।

       তপ্ত নয়, গরম রাখুন

নবজাত শিশুর গায়ের তাপ সহজেই কমে যায়। এ কারণে শিশুকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে গরম করে রাখা প্রয়োজন। তবে বেশি গরম যেন না লাগে অথবা বেশি শক্ত করেও শিশুকে জড়াতে নেই।

স্বর সবসময় যে মারাত্মক ‍অসুখের লক্ষণ, তা নয়। তবে জ্বর হলে শিশুকে প্যারাসিটামল দেয়া যেতে পারে।  এমতাবস্থায় শিশুকে বেশি কাপড় চোপড় জড়িয়ে রাখা যাবে না।

শ্বাস প্রশ্বাস নিতে সাহায্য করা

বুকের দুধ খাওয়ানো ও ঘুমানোর আগে শিশুর নাক ‘পরিষ্কার’ করতে হবে। ভেজা আবহাওয়া শিশুকে সহজভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করতে পারে।

প্রতিদিন দরজা বা জানালা খুলে শিশুর ঘরের বাতাষ নির্মল রাখতে হবে।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


দেহগঠন ও পরিপুষ্টিতে প্রোটিন

দেহগঠন ও পরিপুষ্টিতে প্রোটিন

ডাঃ এস কে অপু

মানুষের খাদ্যে মোট ছয়টি উপাদান বিদ্যমান। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমিষ বা প্রোটিন। খাদ্যের সর্বপ্রথম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলে তার প্রোটিন। গ্রীক ভাষায় ‘প্রোটিও’ শব্দের অর্থই ‘সর্বপ্রথম গুরুত্বপূর্ণ’।

দেহের গঠনে আমিষের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। মানবদেহের প্রতিটি জীবন্ত কোষই আমিষে তৈরি। এ একটি মুখ্য পুষ্টি উপাদান। দেহের মাংসপেশী থেকে শুরু করে অস্থি, চামড়া, রক্তের প্রধান উপাদানই হচ্ছে আমিষ।

প্রাণীতে উদ্ভিদে কিংবা অনুজীব যেখানেই প্রাণের লক্ষণ ও স্পন্দন সেখানেই আমিষ। যে সমস্ত খাদ্যে আমিষ বেশি এবং যা দেহ গঠনে সাহায্য করে এগুলোকে শরীর গঠনের খাদ্য’ (Food for body forming) বলে।

দেহের সমস্ত বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্যকারী এনজাইমগুলো দেহকে ক্ষতিকর পর্দাথ ও রোগজীবানু রক্ষাকারী ‘এন্টিবডি’ গ্রহ্ণিগুলো হতে নিঃসৃত ও বিভিন্ন সময়ে দেহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর অধিকাংশই আমিষ দ্বারা তৈরি।

সুতারাং আমিষ বা প্রোটিন হচ্ছে প্রধানত উচ্চ আণবিক ওজনের নাইট্রোজেন সম্বলিত একটি জটিল যৌগ এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র ‘এমাইনো এসিড’ এককের পেপটাইড বন্ধনে তৈরি যা জীবনধারনের জন্য অপরিহার্য উপাদান। খাদ্যর উপাদান হিসেবে মানুষ যে আমিষ গ্রহণ করে তা কিন্তু সরাসরি দেহে শোষিত। হয় না। আমিষ ভেঙ্গে ভেঙ্গে তৈরি হয় এমাইনো এসিড। তারপর এগুলো বিভিন্ন এনজাইমের সাহায্যে পরিপাক ও পরিশোধিত হয়ে মানুষের দেহের কাজে লাগে।

মূল গঠনের দিক দিয়ে দেখা যায়, সকল আমিষেই থাকে, কার্বন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার। কিছু কিছু বিশেষ আমিষে আরো যুক্ত থাকে ফসফরাস, আয়োডিন, আয়রণ, কপার, জিংক।

সুতারাং আমিষে শতকরা হিসেবে কার্বন ৫০%, নাইট্রোজেন ১৬%, অক্সিজেন ২৩%, হাইড্রোজেন ৭%, সালফার ০ -৩%, ফসফরাস ০ -৩%।

কিন্তু বড় বড় আমিষ অনু তৈরি হয় বহুসংখ্যক বহু ধরনের এ্যামাইনো এসিড একত্রে মিলিত হয়ে। এখনো দেখা গেছে, একটি জটিল আমিষ অনুতে কয়েক হাজার পর্যন্ত এ্যামাইনো এসিড বিভিন্ন অনুপাতে ও দ্বারাবিন্যসে অবস্থান করে।

মানবদেহে মাত্র ২২ টি বিভিন্ন ‘এম্যাইনো এসিড’ আছে। এগুলো নিয়েই বিভিন্ন প্রোটিন যেমন সরল যুগ্ম  এবং গৌন প্রোটিন গঠিত হয়।

এ্যামাইনো এসিড

মানবদেহে বিশ থেকে বাইশটি এমাইনো এসিড প্রয়োজন যেগুলো হলোঃ মিথিয়েনিন,  লাইসন, এলানিন, সিরিন, সিসটিন, টাইরোসিন, এসপারটিক  এসিড, গ্লুমাটিক এসিড, হাইড্রক্সিলাইসিন, প্রোলিন, হাইড্রাক্সিপ্রোলিন এবং প্লাইসিন।

এই এমাইনো এসিডগুলোর মধ্যে প্রথম ৮টি, আবার কারো মতে প্রথম ১০ টি মানুষের দেহ সরাসরি তৈরি করতে পারে না বলে খাদ্যের সাথে গ্রহণ করতে হয়। তাই এদেরকে বলা হয় ‘অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড’ । বিশেষ করে হিস্ট্রিডিন’ এবং আরজিনিন শিশুর দেহবৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডের সবগুলো একই সময়ে এবং সাথে উপস্থিত থাকলে তবেই তা থেকে দেহ আমিষ তৈরি করতে পারে। এসব এমাইনো এসিডের পরিমাণ বিবেচেনা করেই আমিষের মান ঠিক করা হয়।

দশটি ছাড়া বাকি এমাইনো এসিডগুলো খাদ্যের সাথে গ্রহণ না করলেও দেহের তেমন কোন ক্ষতি হয় না। কারণ এগুলো দেহে নিজেই তৈরি করতে পারে। ডিমের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিদ্যমান। ছকঃ অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডের দৈনিক মোট চাহিদার পরিমাণ এমাইনো এসিড পরিমাণ

ফিনাইনল এলানিন   ১.১০ গ্রাম

মিথিয়োনিন           ১. ১০ “

লিউসিন               ১. ১০ “

ভেলিন                 ০. ৮০ “

আইসোলিউসিন      ০ . ৭০ “

থ্রিয়োনিন              ০. ৫০ “

ট্রিপটোফেন           ০ .২৫ “

আমিষের কাজ

আমিষ দেহ গঠন করে মানবদেহে আমিষের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক। দেহ পরিচালনার জন্য দেহের সকল কাজ প্রোটিন বা আমিষ বিভিন্নভাবে করে। প্রোটিনের মূল কাজ অনেক।

১। খাদ্যের প্রোটিন দেহের প্রোটিন নির্মাণের প্রধান উৎস্য।

২। প্রোটিন দেহকোষের প্রটোপ্লাজমের প্রধান ও সাংগঠনিক উপাদান।

৩। প্রোটিন দেহেতে পানি, অক্সিজেন, আয়রণ এবং অন্যন্য জৈবযৌগ পরিবহন করে।

৪। এনজাইম বা জৈব প্রভাবক প্রোটিনে তৈরি।

৫। হরমোনজাতীয় প্রোটিন হের নির্দিষ্ট প্রাণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

৬। এন্টিবডি তৈরি হয় প্রোটিনে যা দেহের রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ পড়ে।

৭। ভাইরাস প্রোটিনে দেহের রোগের বিস্তারও ঘটে।

তাতে দেখা যায়, মানুষের দেহে হরমোন, এন্টিবডি, এনজাইম, পাসকরস, রক্তের প্লাজমা, হিমোগ্লোবিন ইত্যাদি তৈরিতে প্রোটিনের ভূমিকিা সর্বাগ্রে। শুধু বড়দের নয়, বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের দেহ বৃদ্ধি করে। নতুন দেহকোষ গঠন করে ক্ষয়পুরণ করে।

শিশুর বুদ্ধিমত্তা ঠিকভাবে বিকাশ লাভ করতে পারে যদি শিশুর খাদ্য প্রোটিনের মারাত্মক ঘাটতি থাকে। ১ – ৫ বছরের শিশুর মধ্যে এ ঘাটতি পরবর্তীকোলে তা কোন উপায় পূরণ করা যায় না। যদি দেহ শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের কমতি ঘটে তখন প্রোটিনে ক্যালরি বা শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

       আমিষের চাহিদাঃ দেহে আমিষের চাহিদা অনেক কিছুর উপর নির্ভরশীল। বেশি নিভর করে আমিষ গ্রহণকারীর দেহের আয়তন, বয়স, লিঙ্গ, দেহের অবস্থা  এবং আমিষের পুষ্টিমান ও এর পরিপাক ও শোষিত হবার ক্ষমতার উপর।

শিশুদের দেহগঠন ও দেহের দ্রুত বৃদ্ধি বা পরিপুষ্টির জন্য অন্য সব বয়সের তুলনায় আমিষের চাহিদা বেশি। তারপর বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেহবৃদ্ধির গতি কমে বলেই আমিষের চাহিদা আনুপাতিক হারে কমতে থাকে। মানুষের বৃদ্ধি প্র্রায় পচিশ বছর পর্যন্ত বজায় থাকে। তারপর শুধু দেহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্যেই আমিষ প্রয়োজন। ফলে বুড়োদের আমিষের চাহিদা সবচেয়ে কম।

সাধারণত মহিলাদর আমিষের চাহিদা পুরুষের চেয়ে কম। কিন্তু দেহাবস্থার পরিবর্তনে অর্থ্যাৎ গর্ভাবস্থায় ও প্রসুতিদের চাহিদা বেড়ে যায়। এর কারণ, গর্ভাবস্থায় শিশুর দেহগঠনের জন্য এবং প্রসূতি অবস্থায় দুধ উৎপাদনের আমিষের  চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

ফাও এবং হ এর বিশেষজ্ঞ কমিটি ১৯৭৩ সালে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সকল বয়সের ও সকল অবস্থায় নারী ও পুরুষের জন্য আমিষের চাহিদার পরিমাণ নির্ধারণ করে।

শিশুদের ক্ষেত্রে

গড়পড়তা দৈনিক প্রতি কিলোগ্রাম দেহ ওজন হিসেবে জন্ম থেকে ৩ মাস বয়সের শিশুদের ২.৪০ গ্রাম, ৩ তেকে ৫ মাসের ক্ষেত্রে ১. ৮৫গ্রাম, ৬ -১১ মাসে ১. ৫৩ গ্রাম , ১ -৩ বছরে ১. ১৯ গ্রাম, ৪ -৬ বছরে ১. ০১ গ্রাম, এবং ৭ -৯ বছরের শিশুদের ০. ৮৮ গ্রাম আমিষ প্রয়োজন।

বাড়ন্ত বয়সের ছেলেদের ক্ষেত্রে

দৈনিক প্রতি কিলোগ্রাম দেহ ওজন হিসেবে ১০ -১২ বছরের ছেলেদের ০ .৮১ গ্রাম, ১৩- ১৫ বছরে, ০.৭২ গ্রাম আমিষ প্রয়োজন।

বাড়ন্ত বয়সের মেয়েদেরে ক্ষেত্রে

১০ -১২ বছরের মেয়েদের দৈনিক প্রতি কিলোগ্রাম দেহ ওজনে ০. ৭৬ গ্রাম, ১৩ -১৫ বছরের ০. ৬৩ গ্রাম, ১৬ -১৯ বছরে ০.৫৫ গ্রাম আমিষ প্রয়োজন।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে

পুরুষের ০ .৫৭ গ্রাম এবং মহিলাদের ০ . ৫২ গ্রাম আমিষ দরকার। অন্যন্য ক্ষেত্রে বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের দৈনিক মোট আমিষের চেয়ে ৯ গ্রাম বেশি এবং প্রসূতিদের ১৭ গ্রাম বেশি দিতে হবে।

স্থান, অবস্থান ভেদে আমিষের চাহিদার যেমন পরিবর্তণ হয়, তেমনি আমিষের গুণগত মান কম হলে তখন আমিষের পরিমাণও বাড়াতে হয়।

ছকঃ  দৈনিক আমিষে র চাহিদার পরিমাণঃ বয়স ও প্রতি কেজি ওজনে

অবস্থায় গ্রাম
শিশু  
০ -৩ মাস ২.৪০ গ্রাম
৩-৫ ১.৮৫
৬-১১ ১.৫৩
১-৩ বছর ১.১৯
৪-৬ ১.০১
৭-৯ ০.৮৮
ছেলে
১০ -১২ বছর ০. ৭৬ গ্রাম
১৩- ১৫ ০. ৬৩
১৬ -১৯ ০. ৫৫
বয়স্ক পুরুষ ০. ৫৭ গ্রাম
বয়স্কা মহিলা ০. ৫২ গ্রাম
গর্ভবর্তী মা + ৯ গ্রাম বেশি
প্রসূতি মা  + ১৭ গ্রাম বেশি

 

আমিষে উৎস্য

আমিষ বা প্রোটিন তবে কিভাবে পাই? আমিষ পাওয়া যায় প্রাণী থেকে। যাকে বলা হয় প্রাণিজ প্রোটিন এবং উদ্ভিদ থেকে পাওয়া প্রোটিনকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলে।

প্রাণীজ প্রোটিন-  হচ্ছে উচ্চমানের আমিষ। কারণ এতে অত্যাবশ্যকীয় বা অপরিহার্য এমাইনো এসিডের পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী থাকে। প্রাণীজ প্রোটিন হচ্ছে মাছ, শুটকি, মুরগির ডিম ও মাংস, খাসীর মাংস, গরুর মাংস, ডিম, দুধ, গুড়া দুধ, মায়ের দুধ, ভেড়ার মাংস ইত্যাদি।

প্রাণীজ প্রোটিন হিসেবে ১০০ গ্রাম মাছে আমিষ তাক ৮-২০ গ্রাম, শুটকিতে ৬০ -৭০ গ্রাম, মুরগীর মাংসে ২০.২ গ্রাম, খাসীর মাংসে ১৮.২ গ্রাম, গরুর মাংসে ১৮.৬ গ্রাম, ভেড়ার মাংসে ১৮ গ্রাম, ডিমে ১২ -১৪ গ্রাম, ‍দুধে ৩-৪ গ্রাম, মায়ের দুধে ১.৪ গ্রাম, গুড়ো দুধে ২৬- ২৭ গ্রাম।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন- এই ধরনের আমিষে এক বা একাধিক অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড পাওয়া যায়। এতে প্রোটিনের পুষ্টিমানও অনেক বেড়ে যায়,। সুতারাং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উচ্চমানের প্রাটিন নয়। দুই বা ততোধিক এই প্রোটিনের মিশ্রনে গুনগত মান বেড়ে প্রায় প্রাণীজ প্রোটিনের সমান হয়।

প্রোটিনের পুষ্টিমানও অনেক বেড়ে যায়,। সুতারাং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উচ্চমানের প্রাটিন নয়। দুই বা ততোধিক এই প্রোটিনের মিশ্রনে গুনগত মান বেড়ে প্রায় প্রাণীজ প্রোটিনের সমান হয়।

ছকঃ ১০০ গ্রাম প্রানীজ প্রোটিনে আমিষের পরিমাণ

খাদ্য পরিমান (গ্রাম)
মাছ ১৮ – ২০ গ্রাম
শুটকি ৬০ -৭০ “
মুরগীর মাংস ২০ .২ “
খাসীর মাংস ১৮. ২ “
গরুর মাংস ১৮. ৬ ”
ভেড়ার মাংস ১৮. ০ “
ডিম ১২ – ১৪ ”
দুধ  ৩- ৪ “
মায়ের দুধ ১.৪ ”
গুড়ো দুধ ২৬ -২৭ ”
ছক ঃ ১০০ গ্রাম উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে আমিষের পরিমান
খাদ্য পরিমান (গ্রাম)
ডাল ১৮-২৪ গ্রাম
 শিমের বীচি ২৪ ”
মটরশুটি ৭ ”
বাদাম ও তৈলবীজ ১৮ – ৪০ ”
বাদাম ও তৈলবীজ ১৮ – ৪০ ”
চাল ৭ -৯ ”
আটা ১৩ ”
ভুট্রা ১২ ”
ছোলা ১৭ .১ ”

 

যেমন চালের প্রোটিনে মেথিয়োনিন বেশি। ডালের প্রোটিনে লাইসিন বেশি। চাল ও ডাল মিশিয়ে খেলে দুটোই একত্রে পাওয়া যায় এবং খিচুড়ির গুনগত মান বাড়ে এবং প্রাণীজ প্রোটিনের সমান হয়।

তেমনি আটা,  দুধ, চিনি, বা সুজি, দুধ, চিনি বা গুড় কিংবা শিমের বীচির গুড়ো, গুড়, গমের আটা বা ছাতু, গুড় আটা মিশিয়ে খেলে প্রোটিনের মান বৃদ্ধি পায়। প্রানীজ প্রোটিনের অভাবে শিশু, গর্ভবতী মা ও স্তনদানকারী মায়েদের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দু তিন প্রকার মিশিয়ে খাওয়া উচিত।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হিসেবে ১০০ গ্রাম ডালে আমিষ থাকে ১৮ -২৪ গ্রাম, শিমের বীচিতে ২৪ গ্রাম, মোটরশুটিতে ৭ গ্রাম, বাদাম ও তৈল বীজে ১৮ -৪০ গ্রাম, চালে ৭-৯ গ্রাম, আটায় ১৩ গ্রাম, ভুট্রায় ১২ গ্রাম, ছোলা ১৭. ১ গ্রাম।

       আমিষের অভাবজনিত সমস্যা

দেহের চাহিদা অনুযায়ী আমিষ কম হরে ধীরে দীরে নানা রোগ শোক দেখা দেয়। নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমনঃ

১। আমিষের অভাবে নতুন দেহকোষ তৈরি হয় না। তাতে মাংসপেশীর গঠনও সঠিক হয় না। দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে।

২। খাদ্যদ্রব্য সঠিক পরিপাক না হওয়ার ফলে বদহজম, পাতলা পায়খানা এবং রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

৩। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে। রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়ায় দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪। দেহের মূল্যবান গ্রন্থিগুলোর কাজে ব্যঘাত ঘটে। ফলে কর্মক্ষমতা কমে যায়।

৫। দেহের চামড়া ও চুলের উজ্বলতা হারায়। ফ্যাকাশে রং হয়।

৬। শিশুদের শরীর বৃদ্ধি হয় না। দেহের ওজন কমে হ্রাস পায়। মনের বিকাশ ব্যহত হয়। মেধা ও স্মরণ শক্তি কমে যায়।

৭। বয়স্কদের আমিষের অভাবে দেহে পানি আসে। গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত হয় অথবা সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই অপরিণত শিশুর জন্ম দেয়। কখনো রক্ত শূণ্যতা দেখা দেয়।

৮। শিশুর প্রয়োজনীয় আমিষের অভাবে যে রোগ হয় এর নাম কোয়ারশিওকর। এ রোগে শিশুদের দেহে পানি জমে। ফুলে যায় হাত পা। ওজন ও উচ্চতা কমে। বৃদ্ধির বিকাশ ঘটে না। গ্রামে গঞ্জে বলে ফোলা রোগ।

৯। এছাড়া হতে পারে শিশুর ‘হাড্ডিসার রোগ’ বা ম্যারাসমাস। দেহের মাংসপেশী শুকিয়ে যায়। চামড়া কুচকে যায়। ক্ষুধা মন্দা দেখা দেয়। ডায়রিয়া হয়। মুখাকৃতি বানরের মতো দেখায়। দেহের বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটে।

আমিষ গ্রহণে পরামর্শ

আমিষের যাতে অভাব না হয় সেজন্য আমিষের অভাব জনিত রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে হবে। যেমনঃ –

১। শিশুকে ৫ মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে। তাতেই আমিষের চাহিদা পুরণ হয়।

২। সাথে সাথে মাকেও প্রচুর পরিমাণে আমিষসমৃদ্ধ সুষম খাবার দিতে হবে।

৩। শিশুর ৫ মাস বয়সের পর বুকের দুধের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে বাড়তি আমিষ জাতীয় খাবার দিতে হবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্যে। আমিষ হতে হবে প্রচুর ও গুনগত মানের।

৪। গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের আমিষের চাহিদা বেশি বলেই অতিরিক্ত আমিষ দিতে হবে। গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধি, ওজন ও বিকাশ এই আমিষের উপর নির্ভর।

৫। স্তন্যদায়ী মায়েদেরকে অতিরিক্ত আমিষ দিতে হবে শিশুর দেহের দ্রুত বৃদ্ধির জন্যেই যা বুকের – দুধ থেকে শিশু পায় ।

২। শিশুদের খাদ্যে বেশির ভাগ আমিষ প্রানীজ উৎস্য থেকে দিতে হবে। বয়স্কদের কম হলেও চলে।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ সোরাইসিস

দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ সোরাইসিস

মানবদেহ এক জটিল যন্ত্র। নানা কারনে এর অভ্যন্তরে এবং বর্হিভাগে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন জটিলতা। সাধারণতঃ যে সমস্ত জটিলতা বা রোগ দেখা দেয় তার অনেকগুলোই ‘সাদা চোখে’ ধরা পড়ে না। তবে ডাক্তারগণ কিন্তু অনেক রোগের ব্যাপারই রোগীদের সচেতন করে দেন। এর একটি হচ্ছে চর্মরোগ। চর্মরোগের মধ্যে সবচে ভয়াবহ যা কখনোই নির্মূল হয় না, তা হচেছ সোরাইসিস। মুলত সোরাইসিসকে অনেকটা বংশগত ব্যাধি হিসেবে ধরা হলেও এটি কিন্তু সংক্রামক নয়। দেশর অধিকাংশ লোকই সোরাইসিস সর্ম্পকে অসচেতনন। তাই সোরাইসিস নামক ভয়াবহ চর্মরোগ সর্ম্পকে মোটামুটি  ধারনা নেবার জন্যেই এই নিবন্ধ-

সোরাইসিসকে একটি জটিল চর্মরোগ। এতে ত্বকের কোনও কোন ও অংশ উচু হয়ে ওঠে এবং সাদা সাদা মামড়ি হয়ে সেই অংশটা ঢেকে যায়।

এই মামড়িগুলো সামান্য ঘষাঘষি বা আচড়াজনিতে খুব সহজেই খসে যায়। সব মামড়ি সরিয়ে ফেললে নীচের ত্বক বেরিয়ে পড়ে, তার রঙ হয় লালচে এবং তার মধ্যে বিন্দু বিন্দু রক্তক্ষরণ ঘটাতে দেখা যায়।

সোরাইসিস রোগ নান কারণে হতে পারে। কোন কোন বংশ এই রোগ বিভিন্ন প্রজন্মে দেখা যায়। আবার বিভিন্ন বাহ্যিক ও পারিপার্শ্বিক কারণ যেমন আঘাত পাওয়া পুড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণেও এই রোগ বাড়িয় তুলতে পারে। অন্যদিকে কিছু কিছু ওষুধ ও এই রোগের বীজ লুকিয়ে আছে বিভিন্ন বাহ্যিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে তাদের কারো কারো মধ্যে  এই রোগের প্রকাশ ঘটতে পারে। প্রাথমিকভাবে এই রোগ  দেখা যায় মাথায় বা হাত পায়ের বাইরের দিকে। বিশেষ করে হাটুতে বা কনুইয়ের উপর। পরে ত্বকের যে কোন অংশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সোরাইসিস রোগে হাতের ও পায়ের বাইরের দিকে। বিশেষ করে হাটুতে বা কনুইয়ের উপর। পরে ত্বকের যে কোন অংশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সোরাইসিস রোগে হাতের ও পায়ের নখেও কিছু পরিবর্তণ লক্ষ্য করা যায়। এই রোগের প্রভাবে নখের রং হলদেটে হয়। নখ মোটা হয়ে যায়। নখের তলায় হলদে রংয়ের গুড়া জমা হয়। নখের উপর ছোট ছোট গর্ত্ও দেখা যায়। খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রে হাত পা বা কোমরের গাটগুলো  এই অসুখে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মাথার ত্বকেও খুসকির মতো মামড়ি জমা হয়। কখনও ত্বকের আক্রান্ত অংশে ছোট ছোট পুজভরা ফুসকুড়ি দেখা যায়।

কখনও এই রোগ শরীরের একটা অংশে শুরু হওয়ার পর ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে সমস্ত ত্বকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে সাধারণতঃ প্রাথমিক অবস্থায় ঠিকমতো চিকিৎসা হলে এই রোগের প্রসার অনেক ক্ষেত্রেই রোধ করা যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে ভূল চিকিৎসার কারণে এই রোগ সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর জন্য এক মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ থেকে রোগীর মৃত্যু পর্যণ্ত ঘটতে পারে। গোড়ার দিকে যখন ছোট ছোট জায়গায় এই অসুখ দেখা দেয়, তখন সঠিক চিকিৎসায় খুব তাড়াতাড়ি দাগগুলো মিলিয়ে যায়। এরপর সময়ে সময়ে ডাক্তার দেখলে বহুদিন পর্যন্ত রোগীকে ভালো রাখা সম্ভব। এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয় বা একবার চিকিৎসা হরে আর কোনদিন হবে না এমনটিও বলা যাবে না। কিছুদিন চিকিৎসা বন্ধ রাখলে অবার এই রোগ দেখা দিতে পারে।

সোরাইসিস যে কোনও বয়সেই হতে পার। সাধারণতঃ কুড়ি থেকে চল্লিশ বছরের প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে নবজাত শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ পর্যণ্ত যে কেউই এই রোগের শিকার হতে পারেন।

এই রোগ ছেয়ে গেছে নয়। একজনের থাকলে তার সংস্পর্শে অন্যজনের   এই রোগ হবার হবার কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ এটা কোন জীবানুঘটিত সংক্রামক রোগ নয়। এটা একটি প্রদাহজনিত চর্মরোগ।  এই জন্য সোরাইসিস রোগীর ত্বক থেকে যদি মামড়ি খসে ঘরে অফিসে বা পারিপার্শ্বিক আবহে ছড়িয়ে পড়ে, তা থেকে অন্য কারো এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।  সোরাইসিস রোগীদের খাদ্যগ্রহণে কোন বিধিনিষেধ নেই এবং যাদের শরীরের অনেকটা অংশ এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সারাদিনে অনেক মামড়ি খসে যায়। এই মামডির মাধ্যমে বেশ কিছু প্রোটিন ক্ষয় হয়। এই জন্য এই রোগীদের উচ্চ  প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। তাহলে কিছুদিন পর প্রোটিনের ঘাটতিজনিত অসুখের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সোরাইসিস রোগীর কয়েকটি ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। দেখতে হবে শরীর যেন কোন অবস্থায় কেটে বা ছিড়ে না যায়্ কারণ কাটা, ছেড়া বা পোড়া জায়গায় এই রোগ দেখা দেবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সোরাইসিস রোগীর খুব বেশি চড়া রোদে ঘুরাফেরা করা ‍ উচিত নয়।  কারণ রোদে পোড়া অবস্থায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সোরাইসিস রোগীকে ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সাবধনতা অবলম্বন করতে হবে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ হৃদরোগে ব্যবহৃত বিটা ব্লকারজাতীয় ওষুধ। হাপানি বা অন্য কোন কারণে যদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেতে দেয়া হয তাতেও বিপদের সম্ভাবনা থাকে।

সোরাইসিসের চিকিৎসা র্নিভর করে শরীরের কতটা অংশ  এতে আক্রান্ত হয়েছে এবং রোগীর কতটা অসুবিধা হচ্চে তার উপর। যেহেতু এই রোগে কোন যন্ত্রণা হয় না, জ্বালা হয় না, চুলকানিও সামান্য সেহেতু অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ শরীরের অনেকটা জায়গা জুড়ে হলেও রোগজনিত কষ্ট তেমন কিছুই হয় না। শুধুমাত্র দৃষ্টিকটু চর্মরোগের জন্য আমাদের দেশে অনেকেই এর চিকিৎসায় তেমনটি গরজ দেখান না। সাধারণভাবে বলা যায় ছোট খাট দাগ যেগুলো রোগীর শরীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলোর জন্য বাইরে তেকে লাগানো ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করাই ভালো। এছাড়া যদি শরীরের খুব বেশি অংশ আক্রান্ত হয়ে থাকে অথবা এর সঙ্গে গাটে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে তখন খাবার ওষুধ ব্যবহার করতে হয়।

সোরাইসিসের চিকিৎসায় খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী ভালো থাকেন। তবে কিছুদিন বাদে যখন আবার রোগ দেখা দিতে থাকবে তখন আবার চিকিৎসা করাতে হবে। অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগের দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। রোগ সারানোর জন্য প্রয়োজন মতো চিকিৎসা করানোই উত্তম।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। ইমেইলঃ kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


বুড়ো বয়সে মূল্যবান পুষ্টি

বুড়ো বয়সে মূল্যবান পুষ্টি

ডা. শুভাগত চৌধুরি

বুড়ো হওয়া অনিবার্য।  একে এড়াবার উপায় নেই। কিন্তু বার্ধ্যেক্যের বিধ্বংসী ক্রিয়াকে রোধ করা যায়। বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। সঠিক পথ্যবিধি দ্বারা ব্যর্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে মানুষ। প্রত্যেকের জীবনেই বার্ধ্যেকের পরিচিত দৃশ্য দেখা যায়ঃ শরীর নুয়ে পড়ে, চুলের রং যায় বদলে, চামড়া ঝুলে পড়ে, হাতে পায়ে গিটে হয় ব্যাথা।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বার্ধক্যের এই দৃশ্য বদলে দেয়া যায়। বিজ্ঞানীরা অনেক আগেই দেখেছেন, মানুষ যত বুড়ো হয় দেহযন্ত্রের ওজন তত বদলে যেতে থাকে। পরিবর্তন যদিও সামান্য। একজন আশিবছরের বুড়া ভদ্রলোকের মস্তিষ্ক, যকৃত এবং ফুসফুসের ওজন একজন যুবকের তুলনায় সামান্য কমে। তবে থাইমাস নামে একটি যন্ত্র আছে যা শুকিয়ে যায় অনেকখানি।

থাইমাস একটি আশ্চর্য দেহযন্ত্র। পটল ধুসর, চ্যাপ্টা আকৃতির ‍দুই লোববিশিষ্ট এই গ্রন্থিটি বক্ষদেশে বক্ষফলক এবং ফুসফুসের পেছনে অবস্থিত। থাইমাস,  এর হরমোনের মাধ্যমে দেহের শ্বেতকণিকাদের কর্মবৃত্তি ও পুষ্টির সঙ্গে সর্ম্পকিত। এই শ্বেতকণিকারা হল লিষ্ফোসাইট বা লসিকাকণিকা যা দেহ প্রতিরোধী বস্তু।

দেহরক্ষী সেনাদের একট হল টি লিষ্ফোসাইট। এদের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হল এই থাইমাস। কোন বিদেশী অবাঞ্চিত আগন্তুক যেমন ভাইরাস বা ক্যান্সার কোষের সঙ্গে যখন টি লিষ্ফোসাইটের দেখা হয় তখন এরা উদ্দীপিত হয়ে বিভাজিত হয় আরো বড় সক্রিয় কোষে। আগন্তুকের সঙ্গে যুদ্ধ করে এদেরকে ধ্বংস করে। ইতিমধ্যে টি কোষগুলো দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্যান্য অংশকেও করে উদ্দীপিত। এদের নাম ম্যাক্রোফেজ কোষ। এছাড়া রয়েছে বি কোষ’। এন্টিবডি তৈরির মাধ্যমে বিদেশী এন্টিজেনকে করে পর্যুদস্ত। দেহ যদি সবল থাকে তাহলে টি কোষ এবং অন্যান্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেহ শত্রুদেরকে ‍যুদ্ধে পরাজিত করে অজান্তেই।

বার্ধ্যক্যে থাইমাস যখন শুকিয়ে যায় তখন এর হরমোন নিঃসরণ যায় কমে টি কোষের সংখ্যাও অনেক কমে। বৃদ্ধ টি কোষগুলোর পুনঃজননের ক্ষমতাই শুধু কমে না, ‘বি কোষকে’ এন্টিবডি উৎপাদনের জন্য উদ্দীপিত করার শক্তিও যায় নিঃশেষ হয়ে। বার্ধে্যক্যে সঙ্গে দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণও শিথিল হয়ে পড়ে। বাল্টিমারের জরাবিজ্ঞানী  উইলিয়াম এভলারের বক্তব্য এই।

অনেকের অভিমতঃ বৃদ্ধ লোকদের রোগব্যাধী এবং মৃত্যু, বিশেষতঃ ক্যান্সার ও সংক্রমণজনিত মৃত্যুর জন্য থাইমাসের কার্যকালাপ এবং টি কোষের কার্যকালাপের অধোগতিই দায়ী। আগে একে বার্ধক্য প্রক্রিয়ার অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই দেখা হত। নিউফাউল্যান্ডের মেমোরিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ রঞ্জিতকুমার চন্দ্রের অভিমত হল,  বুড়ো বয়সে দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বৈকল্যের জন্য যে রোগগুলো দেখা যাচেছ, সেগুলো সবই স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়ার কারণে নয়, এমন একটি ধারণার সম্ভাবনা উজ্জল: প্রতিবেশগত কিছু কিছু উপাদান যেমন খাদ্য পথ্যেরও কিছু ভূমিকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল থাইমাসজাত হরমোন। ভারম্যান্ট স্কুল অফ মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উইলিয়াম এসলার টেস্টটিউবের মাধ্যমে মানব লসিকাকোষের উপর থাইমাস হরমোন থাইমোসিনের প্রভাব পরীক্ষা করেছেন। এরপর সরাসরি মানব দেহেও এর প্রভাব দেখেছেন।

দেহ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে থাইমোসিন হরমোনের ভূমিকা স্বীকৃত ব্যাপার। তবে একটি মূল্যবান ধাতু প্রয়োগেও  ত্বরিত সুফল পাওয়া সম্ভব। সেই ধাতুর নাম দস্তা। ডাঃ এসলারের অভিমত হল, বেশ কয়েকজন গবেষক দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য দস্তা ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। এর কারণ কি ? থাইমাস গ্রহ্নিটি দস্তা ধাতুতে পরিপূর্ণ। প্রোটিন সংশ্লেষ এবং কোষ বিভাজনের জন্য দস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতার জন্য এ দুটো বিষয় প্রয়োজনীয়, সন্দেহ নেই।

দস্তার কার্যকারিতা সম্বন্ধে আরো গবেষণা করেছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এবং অনাক্রম্য তত্ববিদ রবার্ট গুড। অপুষ্টির শিকার শিশুদের মধ্যে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করলেন তাদের অপুষ্টির সঙ্গে যুক্ত আছে দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মারাত্মক অধোগতি। ডাঃ গুড দেখলেন দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার মূলে রয়েছে দস্তার ঘাটতি। আরো অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে দেহ প্রতিরোধ ব্যবস্থার  এই বৈকল্য দস্তা প্রয়োগ করে সংশোধন করা সম্ভব। অপুষ্টির শিকার শিশুদের দেহ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে আরো গবেষণা করেছেন ডাঃ রঞ্জিতকুমার চন্দ্র। দস্তা প্রয়োগ করে মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা যায়, এমন পর্যবেক্ষণ করেছেন ডাঃ চন্দ্র। সম্প্রতি দস্তা নিয়ে গবেষণা করেছেন ইটালির একদল গবেষক। শিশুদের এক ধরনের বংশগত রোগ ‘ডাইনস সিনড্রোম’ এর কার্যকারিতা দেখেছেন তারা।

পুষ্টি উপাদানের মধ্যে কেবল দস্তাই যে গবেষকদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে তাই নয়। কিছুসংখ্যাক গবেষক বার্ধ্যক্য পীড়িত অন্যক্রমা ব্যবস্থার উপর ভিটামিন ই এর প্রভাবও পরীক্ষা করে দেখেছেন। বোস্টরেনর মহিলা বিজ্ঞানী সিমিনি মেইডানি বৃদ্ধ ইদুরদের অন্যক্রম্য প্রতিক্রিয়ায় সঙ্গে ভিটামিন ই এর সম্পর্ক সন্ধান করেছেন।

ফলাফল হলঃ ভিটামিন ই প্রয়োগে অন্যক্রম্য (ইম্যুন) ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাঃ মেইডানি মনে করেন, প্রাষ্টাগ্লান্ডিন নামক  এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ অবদমনের মাধ্যমে ভিটামিন ই কার্যকরা হয়েছে। দেহ অন্যক্রম্য ব্যবস্থায় (ইম্যুন সিস্টেম) কার্যকারিতা প্রোষ্টাগ্লান্ডিনের উপর কিছু অংশে নির্ভরশীল। অসম্পৃক্ত মেদ অম্ন থেকে প্রোস্টাগ্লান্ডিনের উৎপত্তি। প্রোষ্টাগ্লান্ডিন অন্যক্রম্য ব্যবস্থা ব্যহত করে এবং ভিটামিন ই প্রোষ্টাগ্লান্ডিনকে অবদমন করে। এই হচ্ছে ডাঃ মেইডানির ব্যাখা।

দেহের অনাক্রম্য ব্যবস্থাকে বলশালী করতে ভিটামিন সি র জুড়ি নেই, এ অভিমত বেলজিয়ামের একদল গবেষকের। বিশেষত এটি কার্যকর বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে। গবেষকদের অভিমত হলঃ নিষ্ক্রি, অপরিপক্ব, টি লিষ্ফোসাইটগুলোকে সক্রিয় এবং যোদ্ধা টি কোষে রূপান্তরিত করার জন্যঃ থাইমাস হরমোনের কার্যকলাপকে ভিটামিন ‘সি’ ত্বরান্বিত করে। এভাবে দেহ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পক্ককেশ বৃদ্ধদের সংখ্যা পৃথিবীতে বাড়ছে, একথা অস্বীকার করা যাবে না। আমাদের দেশেও জনগনের প্রত্যাশিত আয়ু বাড়ছে। সঙ্গতকারনেই বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। যদি বার্ধক্যকে রোগমুক্ত, স্বস্তিকর করার জন্য এখনই একটু ভাবা যায়, তাতে দোষ কি ? পুষ্টি ঘাটতিরে জন্য  যে বৃদ্ধদের দেহ অনাক্রমা ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে, এদের পুষ্টি ঘাটতি তো অন্তত পুরণ করা যায়। এতে তাদের দেহ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং সে সঙ্গে কমবে রোগ ব্যাধি। নিরোধ বাধর্ধক্য এ কামনা আমাদের সবার।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar