Monthly Archives: February 2019

দুদন্ড ধানমন্ডিতে

Category : ভ্রমণ

দুদন্ড ধানমন্ডিতে

 

মাথার উপরে সদ্য ফোটা লাল কৃষ্ণচুড়ার বাহারি পসরা, ডালে ডালে পাখির কলকাকলি আর হালকা দক্ষিণা বাতাস, সব মিলিয়ে এক প্রাণ চুড়ানো মনোরম আবহ। ইট-কাঠের এই কৃত্রিম নগরের প্রাণ কেন্দ্রে এ রকমই এক টুকরো  মোহময়ী  পরিবেশ নিয়ে স্বগর্বে  নিজেকে জানান দিচ্ছে ধানমন্ডি লেক।  নগরীর ঐতিহ্যেরও একটি অংশ এই লেক। দীর্ঘ লেক, লেকের পাড়ে পার্কের আদলে  বিস্তৃত খোলা জায়গা, বাহারি আর দৃষ্টি নন্দন  নানা প্রজাতির বৃক্ষ, লেকের পানির ওপরে মাথার ওপরে ছাদ দেয়া  বসার স্থান সব মিলে এক কথায় অসাধারণ পরিবেশ। আর এমন চমৎকার পরিবেশ তো মানুষকে টানবে এটাই স্বাভাবিক।  বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে সংস্কার কার্যক্রম  এর পর এর আকর্ষণ কয়েকগুণ বেড়েছে মানুষের কাছে।  আর তাই তো প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আগমনে মুখরিত হয় ধানমন্ডি লেক।  তাদের বিশিরভাগই আসে কাজের ফাকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, কেউবা আবার অবসরে। নানান পেশার, নানান বয়সের  মানুষ প্রতিদিন  আড্ডা  দেয় ধানমন্ডি লেকের বিভিন্ন স্পটে।  তবে তাদের  মধ্যে তরুন-তরুণীদের উপস্থিতি চোখে পরে বেশি।  সকাল থেকেই চলে আড্ডা বাজি।  তবে দুপুর গড়িয়ে  বিকেল নামতেই  সেটা বেড়ে যায়  বহুগুণে।  কেউ ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে , কেউ বিকেলের অবসরে  আবার কেউবা অফিস থেকে বের হয়ে  বাসায় যাওয়ার  আগে চুটিয়ে আড্ডা মারে এখানে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের  ব্রিজ পার হয়ে লেকে ঢোকার মুখে ডান দিকে লেকের পাড় ঘেঁসে আড্ডা দিচ্ছিল তেমনই  একদল তরুণ-তরুণী। উদ্দেশ্য খুলে বলা মাত্র তারাও সাদরে আমন্ত্রণ জানাল তাদের আড্ডায় যোগ দেয়ার জন্য।  সবাই বেশ প্রণবন্ত আর আন্তরিক আড্ডায়। ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় এর আলাদা তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থী সবাই।  তবে কলেজ জীবনে একই সঙ্গে পড়া এবং সবার বাসা ধানমন্ডি এলাকায় হওয়ায়  এখানে  আড্ডা দেয়া তাদের রুটিন হয়ে গেছে।  স্বাভাবিক ভাবেই তাদের কাছে প্রশ্ন, আড্ডা  দিতে ধানমন্ডি লেকে কেন ? ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের  ছাত্র নবীন বলেন ‘দেখতেই পাচ্ছেন কী সুন্দর পরিবেশ। নির্ঝাঞ্জাট খোলামেলা জায়গায় আড্ডা দিতে কার না ভাল লাগে বলুন। সারাদিন তো পিসি আর ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকি।  এর ফাঁকে বন্ধুদের সেঙ্গে আড্ডাটা যদি এমন সুন্দুর জায়গায় হয় তো মন্দ কী!

 

লামিয়া বলেন, আসলে আমরা এই এলাকার বাসিন্দা সেটাও একটা কারণ।  তারপরও ধানমন্ডি লেক কিন্তু  অসাধারণ স্থান আড্ডা দেয়ার জন্য।  লামিয়ার মৃদু প্রতিবাদ করে হিমেল – এই এলাকার  সেটাই আসল কথা নয়, আপনি দেখবেন অনেক দূর থেকেও  মানুষ আড্ডা দিতে  আসে এখানে।  আসলে জায়গাটা  সুন্দর তাই সবাই আসে। আড্ডার স্থান হিসেবে এটা কেমন ? এ প্রশ্নে সবাই একযোগে বলে ওঠে ‘অসাধারণ” ।  নবীন আবার বলে, অবশ্য মাঝে মাঝে বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনীয়দের আগমন এত বেশী হয় যে, নিরিবিলি আড্ডা দেয়ার সুযোগ নেই। তবে তাতে তো করার কিছু নেই, সবার ভালো লাগে তাই আসে। সামির বলে, ছুটির দিনের ভিড়টাও আবার আরেকদিক দিয়ে উপভোগ্য হয়, অসংখ্য মানুষ আসে।  এক কথায় জমজমাট পরিবেশ।  আর কী থাকে আপনাদের আড্ডায় এমন প্রশ্নে সব তরুণের মতোই তাদেরও সচকিত জবাব- আমাদের আড্ডায় কী থাকে সেটা নয়, বলুন কী নেই ? খুররাম বলেন, জগতের সব পাবেন এখানে। কোনো নির্দিষ্ট টপিক নেই, যা মনে আসে তাই বলি।  গল্প করি, বাদাম-আইক্রিম-ফেরিওয়ালার চা ইত্যাদি যখন যেটা পাই খাই।  এভাবেই সময় কেটে যায়।

 

উদ্যানের মাঝখানে সবুজ খাসের ওপর গোল হয়ে  বসে কাগজ-কলম নিয়ে কাজ করছে একদল তরুণ-তরুণী। কাছাকাছি যেতেই উৎসুক দৃষ্টিতে চাইল দু একজন। উদ্দেশ্য বলার পর তরুণদের মধ্যমণি নিলয় বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট করছি ভাই, এই ঝামেলা শেষ হলে আড্ডা দেব।  ধানমন্ডির একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা।  বললেন,  ’এখন যদিও ক্লাসের কাজ করছি, তবে আমরা নিয়মিত আড্ডা দেই। ক্লাসের  ফাঁকে সুযোগ পেলেই ছুটে আসি বন্ধুরা মিলে। কোনো রুটিন নেই, কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। সময় পেলেই ছুটে আসি আড্ডা মারতে। এসবের  মতো আরও শত শত মানুষ প্রতিদিন আড্ডা  দিতে আসে ধানমন্ডি লেকে। স্কুল থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত সব  বয়সের ছাত্ররা আড্ডা দেন কিছু পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষ, আশপাশের কোচিং সেন্টারগুলোর ছাত্র / ছাত্রীর অভিভাবকরা তাদের অপেক্ষার সময়টুকু কাটায় নিজেদের মধ্যে আড্ডা দিয়ে।  মনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে ও কেউ কেউ বেছে নেয় এই সুন্দুর জায়টিকে।

 

পাঁচ নম্বর ব্রিজের কাছে এক চা বিক্রেতাকে ঘিরে জটলা করে আছে কয়েকজন।  সবাব হাতে অফিস ব্যাগ।  আলাপ  করে জানা গের তারা একটি বাজারতাজকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী।  কজ শেষে  বাসায় ফেরার ফথে তাদের ভাষায় একটু হাওয়া খেতে এসেছেন লেকে। কাছাকাছি অফিস, তাই প্রতিদিন  অফিস শেষ করার পর কিছু সময় লেকে আড্ডা দিয়ে তারপর ঘরমুখো হন তারা।  তাদেরই একজন হালিম শেখ বলেন, সারাদিন  কাজের চাপে দম ফেলার সময় পাই না। তাই কাজ শেষে  একটু রিলাক্সড হয়ে বাসায় যাই।  আবার তো কাল সকালে উঠেই দৌড় শুরু হবে। বলতে বলতে হেসে ওঠেন তিনি।  হালিম শেখ  আর তার সহকর্মীরা যখন ফেরিওয়ালার  কেটলির চা শেষ করছিলেন, সেময় কলা বাগান ক্লাবের কাছের ব্রিজের ঢাল থেকে ভেসে আসেতে থাকে গিটারের টুংটাং শব্দ।  ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির একদল ছাত্র সেখানে জমিয়ে তুলেছে চারদিকের পরিবেশ। কাছে গিয়ে দেখা গেল একজনের হাতে গিটার, সবাই মিলে গাইছে গলা ছেড়ে।  শৌখিন  শখের  গিটার বাদক, আড্ডার সময় নিজের অল্পবিস্তর সংগীত প্রতিভা শেয়ার করেন বন্ধুদের সঙ্গে।  বন্ধুরা কেউ গানের শিল্পী না হলেও শৌখিন যখন গিটারের ঝঙ্কার তোলেন তখন কেউ আর চুপ থাকতে পারেন না।সরাসরি প্রশ্ন তাদের কাছে – আড্ডা দিতে লেকে কেন ?  পাল্টা প্রশ্ন করে তন্ময়- কোথায় যাব তাহেলে বলেন?  ভার্সিটি শেষে একটু আড্ডা মারি এখানে। সুন্দর  নিরিবিলি জায়গা। এর মতো আর কোথাও আছে নাকি ? তন্ময়ের মতো দলের আর সবারও একই মত।  সবাই একবাক্যে স্বীকার করে আড্ডার স্থান হিসেবে ধানমন্ডি লেক অনন্য।  তাই আর সবার মতো তারাও নিয়মিতই আড্ডা দেন এখানে।

 

এমনিভাবে যারাই আসেন লেকে আড্ডা দিতে, সবাই একটা জায়গায় একমত, এমন মনোরম পরিবেশ আর হয় না আড্ডার জন্য।  প্রাণ খুলে বন্ধুদের সঙ্গে মনের মতো সময় কাটানোর যে মানুষের সহজাত প্রবণতা তাকে পরিপূর্ণতা দিতেই যেন আড্ডার সব সহায়ক উপকরণ নিয়ে উপস্থিত ধানমন্ডি লেক।  আর তরুণরাও যে তা লুফে নিতে এক মুহুর্তও দেরি করতে রাজি নয়।  তাই তো প্রতিনিয়তই চলে আড্ডাবাজি, বাজে তারুণ্যের জয়ধ্বনি।

 


ইউরোপের ককপিটে

Category : ভ্রমণ

ইউরোপের ককপিটে

 

এ অঞ্চলে হ্রদ, বাগান ও বনের অপূর্ব সম্মিলন, পাখির ডাক ও পাতার মর্মর-ধ্বনি আবিষ্ট করে রাখে রাত দশ টা পর্যন্ত, আর তখনই বেলাটি ডোবে, এর আগে নয়।

 

২০০৯ সালের ২৬ মে সারাদিন আবুধাবি বিমানবন্দরে ঘুরেফিরে খেয়েদেয়ে নাদুসনুদুস হয়ে পরদিন ব্রাসেলস বিমানবন্দরের  নেমেই একটা ধাক্কা খাই। ইমিগ্রেশন  কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞেস করে, কোন উপলেক্ষে এসেছো? বলি বৈজ্ঞানিক সফরে, ল্যাবরেটরি ভিজিট।  তরুণ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক জিজ্ঞেস করে, বলো তো ‘HACCP’ বলতে কি বোঝোয় ? উত্তর দেই, জানি না। তাহলে ল্যাব ভিজিটে কী করে এলে ?  আবার বলি, আমি বিজ্ঞানী নই, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে দলে অর্ন্তুভুক্ত হয়েছে, এমন আরো আছে।  সো আমার দিকে তাকিয়ে হাসি-কান্নার মাঝামাঝি অভিব্যাক্তি নিয়ে পাসপোর্ট এ ইমিগ্রেশনের সিলটা সেঁটে দেয়।  আমি ভেতরে ঢুকে কিছুটা অস্বস্তির অনুভুতি নিয়ে ড. মমতাজ দৌলাতানাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এর অর্থ Hzard, Analysis Critcal Control Point. বলি, আগে যে কেন  আমাকে পড়িয়ে আনলেন না।

 

বেলজিয়ামকে বলা হয় ইউরোপের ককপিট। কারণ বেলজিয়ামে যুদ্ধক্ষেত্রের  সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।  যেমন- Oudenarde, Ramilies, Fortenoy, Fleurus, Jemmapes, Ligny, Quarter Bar, Waterloo ইত্যাদি।  এক সময় বেলজিয়াম থেকে ইউরোপ এর যে কোন দেশে সহজে গমনাগমন সম্ভব ছিল।  তখন ফ্রান্স থেকে জার্মানি আক্রমণ এবং জার্মানি থেকে ফ্রান্স কিংবা স্পেন থেকে নেদারল্যান্ডস আক্রমণে বেলজিয়াম এর মাটি ব্যবহৃত হতো।  ১৮৩০ – ৩৯ খ্রিষ্টাব্দের বেলজিয়াম বিল্পব আরো দুটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। নেদারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ।  তিন প্রতিবেশি একত্রে মিলে হয় Benelux. তাই আগে ভাগেই ভেবে নেই ককপিটে বসে বেনেলাক্সের পুরোটাই ভ্রমণ করব কিংবা যাব ফ্রান্স  অথবা অন্য কোথাও।

 

বেলজিয়ামের Federal Agency for the Safety of the Food Chain- এর প্রতিনিধি মিস ওরিয়ে ক্রিস্টিন বিমানবন্দরে আমাদের অভ্যার্থনা জানান।  এদিন বিকালে  ‘Grand Place’ দর্শনপূর্বক ব্রাসেলস শহরে একটা চক্কর দিয়ে চলে আসি হোটেল La Vignett এর  এটি উপশহর টারভুরেনে অবস্থিত।  এখনকার একটি জঙ্গলের ভেতর Food Chain এজেন্সির  ল্যাবটি স্থাপিত।  স্থানটি অতি চমৎকার। রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা আমাকে অচ্ছন্ন করে রাখে: কাজল গভীর এ বন মধুর লাগে, কিন্তু আমার ঢের কাজ বাকী আছে, যেতে হবে দূরে ঘমিয়ে পড়ার আগে।  কত দূর যাব জানি না, তবে ফ্রান্স আর নেদারল্যান্ডস তো অবশ্যই।  এই বন-জঙ্গলের মধ্যে হয়েছে আবার বৃষ্টি।  তাই সন্ধ্যায় সব ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি। ভাগ্যিস একটা পাতলা সোয়েটারে এনেছিলাম। মে মাস বিধায় অন্যেরা কেউ কিছু নেয়নি। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, আত্মীয় রফিকুল ইসলাম সস্ত্রীক চলে আসেন সাক্ষাৎ করতে।  জনালেন, গতকালই তাপমাত্রা উনত্রিশ ডিগ্রি ছিল, আজ হয়তো ছয়-সাত। বেলজিকরাই তাই বলে থাকে, আবহাওয়া আর আমাদের নারীর মন বোঝা ভার।  এবার রফিকের স্ত্রীকে একটু হাসতে দেখি।

 

পরদিন প্রতুষ্যে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে।  পাখ-পাখির  এতটা ডাকবে আগে ভাবিনি। এ অঞ্চলে হ্রদ, বাগান ও বনের অপূর্ব সম্মিলন, পাখির ডাক ও পাতার মর্মর ধ্বনি অবিষ্ট করে রাখে  রাত দশটা পর্যন্ত, আর তখনই বেলাটি ডোবে, এর আগে নয়। মেঘ কেটে দিয়ে রোদ উঠলে বেলজিকরা এখানে –সেখানে বসে আড্ডা দেয়, কিছুটা হৈ-হুল্লোর করে।  আজ উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হিসেবে পরিবদর্শন করি আফ্রিকান জাদুঘর। ভেতর ছাড়াও বাইরের পরিবেশ অতি চমৎকার।  এর চত্বরে রয়েছে কাষ্ঠনির্মিত অনেক হস্তমূর্তি। আর তাদের ইতিহাসের সাক্ষী বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর নির্দশন। ভেতরে প্রচুর অ্যানটিকের উপস্থিতি, যেন এক টুকরো আফ্রিকা।

 

বেলজিয়াম পুরো দেশটাই ইতিহাসের নানা ঘটনার  সাক্ষী। ইতিহাস এর বিভিন্ন পর্যায়ে  প্রচুর জাতিগত ও ভাষিক মিশ্রণ ঘটেছে। এখানকার ওলন্দাজ ভাষিকদের বলা হয় Flemish (Flanders), আবার ফরাসি ভাষীদের Walloons (Wallonia) ছেলেবেলায় প্রায়ই একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতাম: পথিবীর সবচেয়ে  মজবুত ও মানসম্পন্ন কাচ কোন দেশে উৎপন্ন হয় ?  বলাবাহুল্য সেটি বেলজিয়াম।  এখন কাচের স্থান দখল করেছে চকোলেট।  তবে পুজিবাদী বিশ্বে বেলজিয়াম এর খ্যাতির অন্ত নেই। ইউরোপীয়  দেশগুলোর ঐক্যের অন্যতম নেতা এ দেশটি, যেখানে অবস্থিত ন্যাটোর সদর দপ্তর।  ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানী এ বেলজিয়ামে ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও অবস্থিত। উল্লেখ্য, ইউরোপ ক’বছর  আগেই চালু করেছে তার নিজস্ব মুদ্রা  ইউরো, যা এখন বিশ্বের মুদ্রাবাজারের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। ইউরোপের এ সাফল্য বেলজিয়ামেরই জয়জয়কার ঘোষণা করছে।

 

তবে আমরা এখন সাফল্যের দিকে না তাকিয়ে আপাতত তাকাই ইতিহাসের দিকে।  স্থির হয় আগামী ত্রিশ মে যাব ওয়াটারলু। সকালে রফিকুল ইসলাম আসেন দূতাবাসের চালক দেলোয়ারকে  নিয়ে।  সঙ্গে তার নিজের  যানটিও। গিয়ে দেখি নেপোলিয়ানের যুদ্ধক্ষেত্র এখন ফসলের জমি,  তথায় নানা ফসলের চাষ হয়েছে। ট্যুরিস্ট বাসে মাঝেমধ্যেই ঘটনাকেন্দ্রিক বর্ণনা ও শব্দ বেজে উঠছে, যেমন:  অশ্বখুরধ্বনি, তলোয়ারের ঝনঝনানি ইত্যাদি। প্রথম ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্ট ও সাত মিত্রশক্তির ( যুক্তরাজ্য, প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়া, এবং অন্যান্য) মধ্যে ওয়াটারলুর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৮১৫ খ্র্রিষ্টাব্দ এর ১৮ জুন।  সপ্ত-মিত্রের দুই অধিনায়ক ছিলেন Duke of Wellington   এবং General Von. ওয়াটারলু ছিল  একটি কৌশলগত স্থান, যেখান থেকে মিত্রশক্তির দ্বারা নেপোলিয়নের বেলজিয়ামে অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব ছিল। ওয়াটারলুতে  পাহাড়ের ওপর ফ্রান্সের  দিকে মুখ করে একটি সিংহমূর্তি স্থাপিত হয়েছে, নাম La Butte du Lion. ২২৬ টি সিঁড়ি অতিক্রম করে ওখানে উঠতে হয়।  অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে ওয়েলিংটন জাদুঘর এবং সেন্ট যোসেফের রোমান ক্যাথলিক চার্চ, যেখানে ওয়েলিংটন যুদ্ধযাত্রার আগে প্রার্থনা করছিলেন।  এ স্থাপনায় ব্রিটিশ এবং ওলন্দাজদের স্মৃতিচিহ্নও দৃশ্যমান।

 

এবার আমাদের আস্তানা ব্রাসেলসের  হোটেল ব্লু ম দুপুরের পর বাঙ্গালি ভাইদের সহায়তায়ই রওনা দিই Atomium অভিমুখে।  এটোমিয়ামের স্থাপত্যশৈলী অপূর্ব।  Atomium ১০৩ মিটার  উচ্চাতার এক প্রতিকী কাঠামো, যা ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ব্রাসেলস বিশ্বমেলা উপলক্ষে স্থাপিত হয়।  স্থানটির নাম হিজেল।  স্থাপনাটির ডিজাইনার প্রকৌশলী মোজার্ট, আর স্থাপতিদ্বয় আঁন্দে ও জাঁ পোলাক। ভবনটির উচ্চতা ১০২ দুই মিটার।  এর ৯টি ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) ব্যাসযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের গোলক এমনভাবে টিউব দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে যাতে প্রতিটি স্বচ্ছ গোলক এক বিলিয়ন গুণ বড় হয়ে প্রদর্শিত হতে পারে।  এতে এস্কেলেটর ও লিফট এর সংযোগ রয়েছে, যেন নয় গোলক এর পাঁচটি বিচরণযোগ্য গোলকে দর্শনার্থীরা আরোহণ করতে পারে।  এসবে আছে Expo hall,  প্রদর্শনী হল ইত্যাদি।  শীর্ষ গোলকটি থেকে পর্যটকরা পেতে পারেন ব্রাসেলস শহরের প্যানারোমিক ভিউ।  সিএনএন এটিকে ইউরোপ এর সবচেয়ে উদ্ভট ভবন বলে আখ্যায়িত করেছে।

 

এটোমিয়ামের পর চলে আসা হয় পাশের পুরনো রাজবাড়িতে। চালক দেলোয়ারের বদান্যতায় কেবল পুরনো নয়, নতুন রাজবাড়িও গমন সম্ভব হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর পরিদর্শন এর  জন্য বিজ্ঞান সচিব নাজমুল হুদা খান আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।  তাই প্রথম ইউরোপলই দেখতে হলো। দুটো ভবনই আলিশান এবং অতি চমৎকার।  ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদর দপ্তরের সামনে গিয়ে স্তম্ভিত হই। এত বড় কাচ-ভবন ? ব্রাসেলসকে বল হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানী, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে কোন রাজধানী ঘোষণা করেনি।  আমস্টারডাম চুক্তির মাধ্যমে আসলে ব্রাসেলসকে পার্লামেন্টের কাজ চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। মে মাস বিদায়, জুনে  দ্বিতীয় দিবসে উঠি লেপেলবেড হোটেলে। সেটি মিলে শহর।  সরাদিন ল্যাব সাদা অ্যাপ্রোন পরে কাটিয়ে  Gent শহরে যাওয়া হয়।  পুরনো এ শহরে একটা খাল বা নদী পেয়ে পুলকিত হই। কাছে কোথাও  বিমানবন্দর থাকায় শহরের আকাশজুরে পাই বিমানের ধোয়ার আঁকিঝুঁকি, নকশা, ও ধুম্র-ডিজাইন।  শুনেছি গেন্ট এর বিশ্ববিদ্যালয়টি বিখ্যাত। এখানে খাল নদীর পাশাপাশি দেখি ফুলগাছ, আর চারদিকেই রেস্টুরেন্ট এর ছড়াছড়ি।  Melle Leeuw স্টেশনে হয়ে আবার লেপেলবেডে ফিরে আসি। আমাদের কাঠের কক্ষে অনেক স্পেস, চারটি বেড, মানুষ মাত্র দুইজন, আমি আর মোখলেছ।

 

রাতে ল্যাব কর্তৃপক্ষ আমাদের  নৈশভোজে  আমন্ত্রণ জানায়।  হোটেলে গিয়ে পাশের হলরুমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে পাই। তবে বিয়েটা হচ্ছে  দুই নারীতে। সমলিঙ্গের বিবাহ ওই সমাজে স্বীকৃত। প্রচুর লোক  সমাগম হয়েছে এবং ওরা নাচ-গানে একেবারেই মেতে উঠেছে। একটি নিগ্রো ও একটি শ্বেতাঙ্গ নারী। দুজনেই লম্বা, কালোজন মেয়ে পোষাক পরিহিতা, সাদাটি ছেলের মতো, কেবল বুক ঢাকা, তবে পিঠ উদাম। খেতে যুবক শাশার সঙ্গে আলাপ জমে উঠে।  সেও  একমত হয় এটা Lesbianism.  শাশা জানায়, নেদারল্যান্ডস এর আঞ্চলিক এবং  কিঞ্চিৎ অশ্লীল ভাষাটির নামই Flemish। তবে এটি নান্দনিক অশ্লিলতা।  উত্তম স্বাস্থের অধিকারী এ শাশাকে আমি নাম দিয়েছি ‘ বাঘের বাচ্চা’।   সে গতকাল বদলি হয়ে এ ল্যাবে যোগদান করেছে।  পরদিন বাড়ি ফেরার তাড়ায় প্রায় প্রত্যেকরেই ঘুম ভাংগে প্রত্যুষে।  খালি রাস্তায় বিশ মিনিটের পথ অতিক্রম করে খবর পাই, আমরা মাছুমাকে ফেলে এসেছি। সে ঘাবড়ে যায় এবং কান্নাকাটি করে হোটেল-অফিসের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম হয়।  একটা গাড়ি ফিরে যায় এবং  অতিরিক্ত অধাঘন্টা পর ওক বিমানবন্দরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এটি আসলে দলগত ব্যর্থতা, দলের মধ্যে এমনটি হওয়া কাঙ্খিত নয়।  তবে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত দায়িত্বও রয়েছে।

 

ইতিহাদ বিমানটি নড়েচড়ে দৌড় দিয়ে আকাশে উড়ল কত কথাই না মনে পড়ে!  মনে পড়ে আমস্টারডাম সিটি ট্যুর কীভাবে পরিদর্শন করেছিলাম ডায়মন্ড ফ্যাক্টরি, কোনো এক অজ্ঞাত রেলষ্টেশনে কীভাবে স্তম্ভিত হয়েছিলাম দেবশিশুর মতো সুন্দর শিশু দেখে। ওই খান থেকে ফিরতে কভিাবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ট্রেনটি মিস করে আধাঘন্টা পর অন্য ট্রেনে ব্রাসেলস ফিরেছিলাম।  স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল পরেরদিন কীভাবে প্যরিস মেতেছিল উন্মাদের মতো, পৃথিবীর কত শত ভাষার মানুষের  কথা শুনে ছিলাম আইফেল টাওয়ারের গোড়ায়।  তারপর লুভ মিউজিয়াম, মোনালিসার অদ্ভুত হাসি.. Thaly’s ট্রেনের ছাদে শিলাবৃষ্টি পতনের শব্দ..।  এবার ইউরোপে এসে এ স্বল্পকালীন প্রবাসেই অনেক আবেগের  জায়গা তৈরি হয়।  আমাদের এগিয়ে দিতে আসা মিস ক্রিস্টিন যতক্ষণ বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে আমাদের কাচের  ভেতর দিয়ে দেখা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত দাড়িয়ে ছিল।  বিমানবন্দরে শেষ মূহুর্তের স্যুভেনির  কেনাকাটায় আকাতরে বিলেয়েছে ধাতব ইউরো-মুদ্রা। আমরা তাকে হাত নেড়ে বিদায় জানাই। ইউরোপ এমনও হয়।

 

বিচিত্র অভিজ্ঞতা

 

  • Wetteren স্টেশনে যেতে বাসে অপর এক বৃদ্ধের সঙ্গে আলাপ হয়। তাকে এক পর্যায় জিজ্ঞেস করি:  Vous puvez parler Francais ?  তিনি ধরে নেন আমি খুব ভাল ফরাসি জানি। (এক সময় জানতাম বটে)  এ ধারণা থেকে তিনি আমার সঙ্গে অনর্গল নিজস্ব স্টাইলে ফরাসি ভাষায় কথা বলে যান, যার মাথামুন্ড কিছুই বুঝিনি।  কেবল তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলে গিয়েছি হ্যাঁ, না, অনেক ধন্যবাদ ইত্যাদি।  একথা  ল্যাবের  মিস মিক-কে জানালে তিনি খুব হাসাহাসি করেন। ( মিস মিকে পাতলা ও লম্বা যার বীপরীত মিস ক্রিস্টিন যে কি না আমাদের প্রটোকল দেন।)
  • বেলজিয়াম সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল উচ্চ। সেটি যথাযথ পেয়েছি, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করলাম। যেমন- ব্রাসেলস শহরটি কিছুটা নোংরা। স্টেশনে অনেক ময়লা-আবর্জনা দেখেছি, এমনকি বিষ্ঠাও  দেখতে পাই। যেভাবে হাইরাইজ ভবনের  সামনে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে অনেক পলিথিন ভাসতে দেখি, তাতে আশ্চর্য না হয়ে পারি না।
  • ইউরোপ বর্তমানে কৃপণ হয়ে গেছে। এখন আর শপিং করলে বিনা পয়সায় উন্নমানের পলিব্যাগ দেয় না।  একদিন Carrefour শপে কেনাকাটা শেষে শপিং ব্যাগ চাইলে  দোকানি বলে তোমাকে দশ সেন্ট দিয়ে নিতে হবে।  পাশে দাড়ানো একটি বেলজিক তরুণী ফোড়ন কাটে, এখানে তুমি কোনো কিছুই বিনা পয়সায় পাবে না। কারণ এটা বেলজিয়াম।  তারপর উভয়েই সশব্দে হেসে উঠি।
  • বেলজিয়াম এর সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশের অনেক মিল আছে।  এখানে অনেক খানাখন্দ, জলধারা দেখেছি। এসেবে বাংলাদেশের মতো অনেক বর্ষাকালীন জলজ উদ্ভিদ রয়েছে , যেমন – শাপলা, ও অন্যান্য।  বাতাসে সব সময় তুলোর মতো  কী যেন  ওরে। ‍  এগুলো হয়তো বায়ুদুষণ। শৌচাগারে প্রায়ই ময়লার স্তুপ দেখেছি।
  • এখানে বাস করে অনেক স্বল্পোন্নত দেশের মানুষ। মরোক্কানদের  বাঙালী নাম দিয়েছে খেজুর।  অনুন্নত দেশের মানুষ ওই খানে গিয়ে চুরি –চামারি করে দেশটাকে বিনষ্ট করেছে।  তাই বেলজিকরা সব সময় আমাদের ব্যাগ  ও মূল্যবান  দ্রব্য সাবধানে রাখতে বলে। একদিন গাড়ির সিটে ক্যামেরার  কভার রেখে কেবল ক্যামেরাটি নিতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন: এটিও নিয়ে নিন, কারণ  ওরা তো  আর জানবেনা যে কাভারটি খালি। কাজেই ওটা নিতে চোররা গাড়ির কাচ ভেঙ্গে ফেলবে।
  • ল্যাব ভিজিট এবং যে কোনো আলোচনায়  বসার আগে ওরা প্রায়ই  আমাদের academic discipline জানতে চেয়েছে।  বিসিএসআইআর এর বিজ্ঞানীরা বলেছেন কারো Chimistry কারো Molecular biology বা অন্য কিছু। বাকি তিন জন বলেছি Town Planning , Public Administration কিংবা আমাদের বিষয় শুনে ওরাহেসেছে, বিস্মিত হয়েছে।  এক পর্যায় ড. মমতাজ দৌলতানাকে বললাম, আপা পুনরায় কেউ জিজ্ঞেস করলে বলব,  Molecular Public Administration শুনে সবাই হাসলেন। তারপর মাছুমা  বলল, খুব বেশি  বলবেন স্যার এবং সাকুল্যে একবারই বলবেন।  কারণ বিষয়টি কী, কারো কারো জনার আগ্রহ জন্মাতে পারে।  বেলজিয়ামে আমাদের বিস্ময়ের  অন্ত ছিল না তাদের  খাদ্য দ্রব্যের  মান নিয়ন্ত্রণ এর দক্ষতা ও সামর্থ্য দেখে।  ভেজাল দূরীকরণেও তারা সিদ্ধহস্ত, যা থেকে আমরা অনেক অনেক দূরে।

 


পারিবারিক রোড ট্রিপস

পারিবারিক রোড ট্রিপস এর জন্য কেন গাড়ি ভাড়া করবেন তার ৬ টি কারণ

আপনার পরিবারকে সম্ভবত এখন একটি ট্রিপের জন্য জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। একটি অবিস্মরণীয় ট্রিপ যা তাদের শহর জীবন থেকে অব্যাহতিতে সাহায্য করবে, এবং আপনি অবশেষে এটি বিবেচনা করবেন। আপনি ইতিমধ্যে গন্তব্য ঠিক করে নিয়েছেন, এবং এখন আপনার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি গাড়ী খুঁজে বের করতে হবে। আপনি এই সড়ক পথে ভ্রমণের জন্য একটি গাড়ী ভাড়া করতে পারেন। অবশ্যই হ্যাঁ! পারিবারিক সড়ক পাথে ভ্রমণের জন্য সম্ভবত গাড়ি কেন ভাড়া নেওয়া উচিত তা আপনার জানা উচিত।

১। ব্যবহারাদির ফলে ক্ষয়

এটির সাধারণ ধারণা যে আপনি যত বেশি ড্রাইভ করবেন, তত বেশি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ ভ্রমণ আপনার গাড়ীতে আঘাত এবং মেরামতের প্রয়োজনীয়াতার সৃষ্টি করে। ১,০০০ মাইল এর জন্য আপনার গাড়ীর ড্রাইভিং কল্পনা করুন। কিন্তু আপনাকে শুধু গ্যাস ট্যাংক ভর্তি করার চেয়ে আরো বেশি কিছু করতে হবে।

সস্থায় পুরনো গাড়ি ভাড়া করবেন না। এতে আপনার গ্যাস বেশি খরচ হবে। গাড়ি রাস্তায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন ৫০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে আপনার ১০০০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাবে। আর আপনি পুরনো গাড়ীতে চরে আরামও পাবেন না।

  1. আপনি আরো স্থান অর্জন করতে পারেন

সমস্ত ভ্রমণ একই নয়। আপনার পরিবারকে সমুদ্র সৈকত থেকে ঘুড়িয়ে নিয়ে আসা আর আপনার বাড়ির কাছ থেকে একটি ছোট দূরত্বের এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণের মতো নয়। পুরো ট্রিপের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যাগ আর লাগেজ সংরক্ষণ করার জন্য একটি বড় গাড়ি ভাড়া করতে হবে।

আপনার গাড়ী সম্ভবত একটি পরিবার ট্রিপ জন্য খুব ছোট। তাই আপনার উচিৎ অতিরিক্ত স্থান আছে এমন গাড়ী যেমন SUV, বা একটি Minivan যেমন Noah X বা Hiace ভাড়া করে যেতে পারেন।

  1. ‘কি হবে’ আপনার এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই।

যদি আমার গাড়ীর রাস্তায় কিছু হয়? যদি এই গাড়ি টি এই ভ্রমণের জন্য উপজুক্ত না হয়? এটা হলে কি হবে, ওটা হলে কি হত? আপনি নিজেকে এই সমস্ত যদি জিজ্ঞেস করতে হপারেন। কার রেন্টাল এজেন্সি গুলো তাদের গাড়ী ভাড়া দেওয়ার পূর্বে ভাল করে পরীক্ষা করে।

গাড়ী নিয়ে আপনার সমস্যায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কোন এজেন্সি চায় না তাদের রেপুটেশন খতিগ্রস্থ হোক। তাই যা কিছু ঘটুক তারা তা দ্রুত সমধান করার চেষ্টা করবে। অনেক এজেন্সি ইনস্যুরেন্স করা থাকবে।

৪। ভিন্ন ভিন্ন গাড়ী চালানো আপনাকে আনন্দ দিবে।

আপনার হয়ত নিজের একটা গাড়ী আছে, এটা আপনাকে ভ্রমনে তেমন একটা বেশি আনন্দ দিবে না, কেননা এটা একই গাড়ী চালাতে আপনার ভাল নাও লাগতে পারে। ছুটি এবং ভ্রমণ আনন্দপূর্ণ হওয়া উচিৎ। হয়তবা আপনি এমন একটা গাড়ী ভাড়া করতে পারেন যেটা আপনি সব সময় চাইতেন, অথবা এমন একটি সুপার কার।

আপনি যখন একটি নতুন গাড়ী কিনতে যাবেন তখন রিভিউজ এর উপর নির্ভর না করে, এমন একটি গাড়ী কিনুন যেটা লং ড্রাইভ এর জন্য উপযুক্ত।

৫। আপনার কিচু অর্থ বাঁচান উচিৎ

সম্ভবত আপনাকে ভ্রমণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্চে, কিন্তু আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর অবস্থা যাচ্ছে তাই। কিন্তু আপনি আপনার ভ্রমন বাতিল করতেও পারছেন না। তেল খরচ কম হয় এমন গাড়ী ভাড়া করুন।

কিন্তু তেল কম খরচ হয় এমন গাড়ী পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই দেখে শুনে নিতে হবে, যেহেতু এগুলোর চাহিদা বেশি তাই আগে থেকেই বুকিং দিন।

আপনি প্রচুর টাকা বাঁচাতে পারেন যদি আপনি বোথ ওয়ে (যাওয়া আশা) গাড়ী ভাড়া করেন একজনের কাছে।

৬। একটি নতুন গাড়ী ভাড়া করুন যাতে আপনাকে কোন দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয়

একটা নতুন গাড়ীতে পুরাতন গাড়ির মত অত সমস্যা নেই। বেশীর ভাগ কার রেন্টাল কোম্পানিতেই নতুন গাড়ী পাওয়া যায়, যেগুল অল্প কিছু দূর চলেছে।

যে গাড়ী গুলো ভালো ভাবে মেইনটেইন করা হয়, তাদের গ্যাস মাইলেজ বেশী পাওয়া যায়। হয়তবা এগুলো আপনার ব্যক্তিগত গাড়ীর চেয়েও ভালো এবং ওয়েল ইকিউইপ্ট এবং অতিরিক্ত অনেক ফিচার পাওয়া যাবে।

ভ্রমণ হচ্ছে মধুর বিষয় – এবং এটা আপনার পরিবারকে যথেষ্ট আনন্দ দিতে সাহায্য করবে। একটি নতুন গাড়ী আপনার অভিজ্ঞতার ঝুড়িকে ভারী করবে এবং আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তুলবে। আপনার পরের ভ্রমণের জন্য একটি গাড়ী ভাড়া করুন।

 


ফ্যামিলি

ফ্যামিলি

 

সাফারির রোমাঞ্চকর অভিযানে একা কেন বেরোবেন, সঙ্গে নিন পরিবারের সকলকে। ভারতের বিভিন্ন জঙ্গল ও রাজস্থানের মরুভূমিতে চিপ, এলিফ্যান্ট আর ক্যামের সাফারিতে আপনার সঙ্গী আশোক মান্না ও তানাজী সেনগুপ্ত।

 

জিপ সাফারি।

 

’দি ল্যান্ড অফ টাইগার’ হিসেবে খ্যাত বান্ধবগড়।  ন্যাশনাল পার্ক কার সাফারির জন্যে বেশ পরিচিত।  মধ্যপ্রদেশের এই জাতীয় উদ্যান ৪৪৯ স্কোয়ার  মিটার জুড়ে এক সুবিস্তৃত সংরক্ষিত বনাঞ্চল। একে ঘিরে আছে বিন্ধ্য পর্বতের বত্রিশটি ছোট –বড় পাহাড়।  বাঘ ছাড়াও এখানে আছে নানা বন্যপ্রাণী। শম্বর, চিতল, বন্য শুয়োর, নীলগাই, চিঙ্কারা, চিতাবাঘ, প্যান্থার, হরিণ ও হায়না।  আছে  নানারকম পাখি এবং অসংখ্য প্রজাতির প্রজাতি। । চারদিকে রয়েছে শাল, আমলকী, মহুয়া, কেন্দু, বহেড়া গাছের  সারি।  গহিন জঙ্গল, ঘন ঘাস- মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে চরণগঙ্গা নদী । ওয়াটার হোল বা জলাশায় রয়েছে অনেক।

বান্ধবগড় ন্যাশনাল পার্কের ১০৫ বর্গকিমিতে ঘোরা যায় স্বচ্ছন্দে।  জিপ সাফারিতে একদিকে মেলে জঙ্গল ঘোরার আনন্দ, অন্যদিকে রোমাঞ্চও মেলে কম নয়।  ১৫ অক্টোবর থেকে ত্রিশ জুন পর্যন্ত এই সাফারিতে চলে দু’বার- সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছ’টার মধ্যে এবং দুপুর আড়াইটে থেকে চারটে মধ্যে। প্রথমবার সাড়ে চার ঘন্টার জন্য, বিকেলে তিন ঘন্টার জন্যে।  স্থানীয় রিসর্ট মালিক এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই সাফারিতে একটি জিপে পাঁচজন যাত্রী নেওয়া হয়, সঙ্গে থাকেন কর্তৃপক্ষ ‍নিযুক্ত একজন গাইড । তিনটি পার্ক সাফারি জোন আছে – তাল জোন (গেট ১) মাগদি জোন (গেট -২) ও পার্কে ঢুকে  এই জিপ সাফারিতে অংশ নিন।

কী ভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে মুম্বই মেলে কাটনি আসুন, সেখান থেকে জিপে বান্ধবগড়।

কোথায় থাকবেন: বান্ধবগড়ে প্রচুর বাজেট হোটেল আছে। আছে থ্রি স্টার, ফোর স্টার ও লাক্সারি রিসর্ট।

কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মে মাস।

 

এলিফ্যান্ট সাফারি

 

গুয়াহাটির উত্তর-পূর্বে ব্রক্ষপুত্রের ধারে গড়ে উঠেছে। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান। ভারতীয় একশৃঙ্গী গন্ডারের জন্যে কাজিরাঙা আজ বিশ্বখ্যাত। শুধু মাত্র বিভিন্ন ধরনের বন্য জন্তজানোয়ার  দেখার লোভেই নয় প্রকৃতির অনন্য রূপ সৌন্দর্য দেখার লোভেইও বহু প্রকৃতিপ্রেমিক কাজিরাঙ্গায় ছুটে আসেন।  এত গন্ডায় একসঙ্গে বিশ্বের আরও  কোনও ন্যাশনাল পার্কে দেখতে পাওয়া যায় না।  শুধু গন্ডারই নয় এখানে দেখতে পাবেন বাঘ, হাতি, বাইসন ইত্যাদি জন্তু এবং নান প্রজাতির অসংখ্য হরিণ। এসব দেখার জন্যে সরকারি তরফে রয়েছে জিপ এবং হাতি সাফারির ব্যবস্থা। বনবিভাগের জিপ বা হাতির পিঠে  সওয়ার হয়ে বার্ড ওয়াচিং ট্যুরে অংশ নিতে পারেন। পার্কের নান রেঞ্জ থেকে এই সাফারি শুরু হয়।  সকাল পাঁচটায় বনবিভাগের জিপ বা মিনিবাসে তিন কিমি গিয়ে মিহিমুখ হাতি পয়েন্ট থেকে হাতির পিঠে চড়ে বন্যজীবজন্ত দেখার ব্যবস্থা আছে।  ট্যুরিস্ট লজের কাছেই বনবিভাগের  অফিসে বুকিং করে নিন। হাতি সাফারির চাহিদা খুব বেশি।  তাই আগেভাগে বুক করে নিন।  সকাল পাঁচটা এবং ছটায় ঘন্টাখানেকর এই সফরে গোটা পঁচিশেক হাতি যাচ্ছে জঙ্গলের খাল বিল জলায়। ছ মিটার উচু শরবনের  ভিতর দিয়ে দুলকি চালে হাতি চলেছে গান্ডারের সাম্রাজ্যে।  এভাবে যেতে যেতে চোখে পরবে নানা ধরনের পাখি এবং পরিযায়ী হাঁস।  হরিণের পালও চোখে  পড়া বিচিত্র কিছু নয়। এখানে বিলের ধারে প্রায় মানুষ সমান ঘাস জন্মায়।  এই ঘাস বনেই বিশাল দেহ নিয় একশৃঙ্গী গন্ডার।  নির্ভয়ে মনের আনন্দে ঘাস খেয়ে বেড়ায়।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে অসমগামী যে কোন ট্রেনে গুয়াহাটিতে নামুন। সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে চজলে আসুন কাজিরাঙায়। নিকটতম বিমানবন্দর  জোড়হাট।  কলকাত থেকে বিভিন্ন সংস্থার বিমান এখানে আসে।

কোথায় থাকবেন: অসম পর্যন্টন বিভাগের অনেকগুলি ট্যুরিস্ট লজ আছে কাজিরাঙ্গায়।  উল্লেখযোগ্য কয়েকটি: প্রশান্তি ট্যুরিস্ট লজ, অরণ্য লজ, বনশ্রী লজ, প্রভৃতি।

 

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কাজিরাঙায় যেতে পারেন।  আগে বুকিং  করে নেবন।

 


পাহাড়েরর পথে পথে

পাহাড়েরর পথে পথে

 

পাহাড়ের টানে চলুন ভারতের নানা জায়গায় । জেনে নিন পাহাড়ের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

 

তুঙ্গনাথ

 

চোপতাকে বলা হয় তুঙ্গনাথের গেটওয়ে। উচ্চতা ৩৮৮৬ মিটারের কাছাকাছি। দুরূহ চড়াই পথ তবে গুর্গম নয়। কংক্রিটের বাধানো, মসৃণ।  এ পথে চলার জন্যে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলবে। স্বচ্ছন্দে সপরিবারে যাওয়া যায়। হাঁটতে না পারলে ঘোড়া, ডান্ডি কিংবা কান্ডিতেও যেতে পারেন। পঞ্চকেদারের অন্যতম এবং হিন্দুদের পবিত্র শৈবতীর্থ এই তুঙ্গনাথ। উচ্চতায় কেদারনাথের থেকেও বেশি। শুধু তাই নয়, ভারতের সর্বোচ্চ মন্দির তুঙ্গানাথ। তুঙ্গনাথের পথে কেদারের মতো ভিড় নেই, নেই দূষণ।  হাতে গোনা অল্প পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।  এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ চেয়ে দেখার মতো। মাথার উপর গাছের ছায়া, পাখির কাকলি আর বিচিত্রধর্মী ফুল- সব মিলেয়ে এক সুন্দর যাত্রা। কিছুটা এগোতেই সামনে পড়ে সবুজ ভেলভেটে মোড়া এক বিস্তৃত বুগিয়াল। দলে দলে ভেড়া চড়ছে সেখানে। উপত্যাকার একপাশে বেশ কিছু অস্থায়ী ঘরবাড়ি এবং দুটি চায়ের দোকানও আছে এখানে। বিশ্রামের জন্যে এর থেকে ভাল জায়গা আর কী হতে পারে! শীতকালটা এ সব জায়গা ঢেকে থাকে পুরু বরফের চাদরে।  ঘুরে দেখা যায় ভ্যালিটা।  কিছুক্ষণ এখানে কাটিয়ে আবার হাটতে শুরু করুন। যত সামনের দিকে যাবেন, পথ তত খাড়া। পথের বাঁদিকে রয়েছে বিপদজনক গভীর খাদ। এরকম এক বাঁকের মুখে একটা একটা দোকান পেয়ে আবার বসা। তৃষ্ণা নিবারণ করুন রডোডেনড্রনের নির্যাস থেকে তৈরি বিশেষ এক ধরনের পানীয় খেয়ে।  এটা নাকি বলবর্ধক এবং বেদনা নাশক। ‍তুঙ্গনাথ পৌছেতে মোট ঘন্টা দুয়েক লাগল। তুঙ্গনাথ ভ্যালিটা বেশ বড়।  মন্দিরের কিছুটা আগে থেকেই রাস্তার পাশে বেশ কিছু দোকান। মন্দিদেরর গঠনশৈলি কেদারনাথের মতো, তবে আয়তনে অনেক ছোট। পাশের পাহাড় বেয়ে তিনটি ঝরনা নামছে আকাশকুন্ডে।  আকাশগঙ্গা নদীর উৎস এই আকাশকুন্ড।  রাতে অসম্ভব ঠান্ডা পড়ে তুঙ্গনাথ। সে কারণে দিনের দিন তুঙ্গনাথ দর্শন করে চোপাতায় ফিরে আসাই ভাল।  আর যারা তুঙ্গনাথ থেকে চন্দশিলা যেতে চান, তাদের এখানে রাত্রিবাস আবশ্যক। কারণ চন্দ্রশিলালার প্রশস্তি সর্যোদয়ে।  তা ছাড়া গাড়োয়াল ও কুমায়ুন হিমালয়ের অসংখ্য নামীদামী পর্বতরাজি এখান থেকে সুন্দর দৃশ্যমান।

 

কীভাবে যাবেন: বাংলাদেশ থেকে হাওড়া। হাওড়া থেকে ট্রেনে হরিদ্বার।  হরিদ্বার কিংবা হৃষীকেশ থকে বাসে উখিমঠ।  উখিমঠ থেকে বসে বা শেয়ার জিপে চোপতা।  চোপতা থেকে হাঁটা পথে কিংবা ঘোড়ায় তুঙ্গনাথ।

 

কোথায় থাকবেন: চোপতায় থাকার জন্যে আছে হোটেল হিমালয়, রাজকমল, বুগিয়াল ছাড়াও  চটির হোটেল।  তুঙ্গনাথের থাকার জন্যে আছ হোটেল মোটেল তুঙ্গেশ্বর, চন্দ্রশিলা, নীলকন্ঠ, হিমালয় গণেশ এবং কালীকমলীর ধরমশালা ও মন্দির কমিটির রেস্ট হাউস।

কখন যাবেন:  মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তুঙ্গনাথ ভ্রমণের আদর্শ সময়।

 

রংপো

 

পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিমের সীমান্ত শহর রংপো।  শহর লাগোয়া শান্ত, শুনশান পাহাড়ের কোলে সবুজ বনাঞ্চল।  এন জে পি স্টেশন থেকে  মিলবে গাড়ি। শিলিগুড়ি শহরঞ্চল পার হলেই সেবক। চারচাকা অনেক নীচে তিস্তার খরস্রোতা জলরাশিতে রবাবের ভেলায় দেখা যাবে র‌্যাফটিংয়ের জলছবি।  ৩১ নং জাতীয় সড়ক ধরে যেতে যেতে পেরিয়ে যাবে কালীঝোরা, তিস্তাবাজার।  এরপর মেল্লি। পাহাড়ি পথের ধারে দোকানপাট, বাড়িঘর নিয়ে জমজমাট এই ছোট জনপদ।  মেল্লি ছেড়ে খানিক এগুতেই রাস্তার বুকে তোরণদ্বার ।   পার হলেই রংপো শহর শহরে ঢোকার আগেই পাহাড়ি পথের দুপাশে শাল-সেগুনের সংরক্ষিত সবুজ বন।  রাস্তা জুড়ে রৌদ্রছায়ার খেলা।  প্রথম দর্শনেই মন জয় করে নেয় কংক্রিটের ছোট দোতলা অরণ্যনিবাসটি।  চত্বরে একফালি বাহারী বাগান।  দূর থেকে দেখা যায় পাহাড়ের গয়ে সিকিমির ঘরবাড়ি। সবুজের আঙ্গিনায় বসে রৌদ্রস্নান করতে করতে উপভোগ করুন পাহাড়ে মেঘ – রৌদ্রের কত রঙ্গ।  বেরিয়ে পায়ে হেঁটে পাড়ি জমানো যায় পাহাড়িয়াদের বসতিতে।  যেতে যেতে সেই পথে সিঙ্কোনা, সেগুন, বাঁশঝাড় আর ঝাউয়ের শব্দ। দেখা হয়ে যায় আদা, এলাচে খেত।  গাড়ি নিয়ে এক দিনে যাওয়া যাওয়া যেতে পেরে মানসং, আলগাড়া –র-পথে। বিকেলে ঘোরাঘুরি করেত পারেন রংপো শহরে। খেতে পারেন অতি উপাদেয় গরমাগরম মোমো আর রসমালাই।

ঘুরে আসুন লেয়ার মার্তাম ওয়াটার গার্ডেন গ্যাংটকগামী পথের ধারে পাহাড়ি নদীর পাশে চমৎকার জায়গা। ভীতরে সিমেন্ট বাঁধানো  ছোট ছোট পদ্মপুকুর, মরশুমি ফুল, ফেয়ারি করা বাগান আর গাছপালায়  সাজানো। পাহাড়ি প্রকৃতিকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগের জন্যে পাতা রয়েছে কাঠের বেঞ্চ।  ক্যাফেটেরিয়াতে মিলবে চা, কফি, স্ন্যাকস। রাত্রিবাস করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও আছে।

কী ভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে এন জে  পি। স্টেশন চত্বর থেকেই পাওয়া যায় রংপো যাওয়ার প্রাইভেট গাড়ি।  পৌঁছে দেবে রংপো ফরেস্ট রেস্ট হাউসে।  বাসে ধর্মতলা থেকে মিলবে শিলিগুড়ির বাস। নামুন তেনিজিং নোরগে বাস টার্মিনালে।  গ্যাংটকগামী বাস বা জিপে আসুন।

 

কোথায় থাকবেন: বনবাংলোতে থাকতে চাইলে যোগাযোগ করুন- পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম, ৬এ, রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, কলকাতা -১৩। অথবা ডিভিশনাল ম্যানেজার কালিম্পং ডিভিশন, ডব্লু বিএফডিসি, কালিম্পং

কখন যাবেন: মার্চ  থেকে জুন ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর।

 

বিন্দু

 

ডুয়ার্সের পর্যন্টন পকেন্দ্রগুলোর মধ্যে বিন্দুর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ভারত-ভুটান সীমান্তে, জলঢাকা নদীর তীরে ভারতের শেষ গ্রাম বিন্দু। এর প্রাথমিক এবং ভৌলিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

 

দুর থেকে দেখা যায় পাহাড়ের গায়ে সিকিমের ঘরবাড়ি।

সবুজের আঙিনায় বসে রৌদ্রস্নান করতে করতে উপভোগ করুন পাহড়ে মেঘ-রৌদ্রের কত রঙ্গ।

বেরিয়ে পায়ে হাটে পাড়ি জমানো যায়।  পাহাড়িয়াদের বসতিতে।

যেতে সেই পথে সিমঙ্কোনা, সেগুন, বাঁশঝাড় আর ঝাউয়ের শব্দ।

দেখা হয়ে যায় আদা, এলাচের খেত বিকেলে ঘোরাঘুরি করতে পারেন রংপো শহরে।

ভারতের প্রথম জলবিদ্যুত কেন্দ্রে জলঢাকা হাইডেল প্রজেক্ট গড়ে ওঠে এখানেই।  চারপাশ পাহাড় ঘেরা, ছবির মতো সাজানো ঘরবাড়ি, গ্র্রামীণ হার্ট, অর্কিড আর ফুলের সমারোহ নিয়ে সারা বছরই সেজে থাকে বিন্দু।  এলাচ চাষের জন্যে বিন্দু বিখ্যাত ।  চা বাগানের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালই লাগবে।

 

শিলিগুরি থেকে মাত্র একশত চার কিমি দূরে বিন্দু।  যেহেতু সারাদিনে দুটি মাত্র বাস চলে এ পথে, তাই শিলিগুড়ি থেকে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সব যেমন ঘুরে দেখা যায়, বেড়ানোর মজাটাও তেমন উপভোগ করা যায় ষোলো আনা। এই পথে হাটতেও ভাল লাগবে।  গ্রামের রাস্তা ধরে ট্রেকিংও করতে পারেন।  ট্রেকিং এবং হাইকিং করার জন্যে বিন্দু আদর্শ। মাহানন্দ রিজার্ভ ফসেস্টের বুক চিরে ৬৪ কিমি দূরের চালসা হয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে কুনিয়া মোড় থেকে পথ ঘুরে যাবে উত্তরে চাপামারির অরণ্যের ভিতরে।  দুপাশে দু’পাশে পর্ণমোচী বৃক্ষের ঘন অরণ্, মাঝখানে পিচঢালা মৃসণ পথ – এপথেই আরও চার কিমি এগোলে চাপরামারির তোরণদ্বার।  মাঝে ছোট ছোট জনবসতি।  চোখে পড়তে পারে হাতির দলের রাস্তা পেরনোর দৃশ্য।  পুরো জঙ্গলই নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে।  তাই বার্ড ও ওয়াচিং করতে চাইলে বিন্দু আসতে পারেন।  বিন্দু ড্যাম গৌরীবাস। গৌরীবাসের প্রসিদ্ধি ভেষজ উদ্ভিদ চাষ ও ওষুধ তৈরির  জন্যে। এখানে গাড়ি থামিয়ে ঘুরে দেখে নেওয়া যায় বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সিঙ্কোনার চাষ। গৌরিবাস রেখে কিছুদূর এগোতেই আর এক গ্রাম ঝালং।  গ্রামের বুক দিয়ে বয়ে চলেছে জলঢাকা নদী। নদীর  তীরেই গড়ে উঠছে জলঢাকা হাইডেল প্রজেক্টের উপনগরী। বিন্দু আর ঝালং এর মাঝে পড়বে আর পাহাড়ি গ্রাম প্যারেন। ঘুরে দেখা যেতে পারে গ্রামটি। মূলত জলঢাকা নদী আর প্রকৃতি নিয়েই বিন্দু। চারিদিকে যেন সবুজ গালিচা বিছানো।  ভুটান থেকে বিন্দু নদী এসে মিশেছে জলঢাকায়, সঙ্গমে বাঁধ দিয়ে গড়ে উঠেছে জলঢাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কর্তপক্ষের  বিশেষ অনুমতি নিয়ে ঘুরে দেখা যায়  প্রকল্পটি। লকগেটের সেতু পেরোলেই ওপারে ওপাশে র‌য়্যাল  ভুটান রাষ্ট্র। পারপারের কোন বিধিনিষেধ নেই। চমৎকার পাহাড়, অরণ্য, নদী কমলালেবুর বাগান সব মিলিয়ে বেড়ানোর অপরূপ জায়গা উত্তরবঙ্গের বিন্দু।

 

কী ভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ির বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে চালসা হয়ে জিপে বা রিজার্ভড গাড়িতে বিন্দু পৌছনো যায়।

থাকবেন: বিন্দুতে বাজারের কাছে থাকার জন্যে আছে  শিবাজ ট্যুরিস্ট ইন, গাহুনবাড়ি দ্রুকিউল রিট্রিট প্রভৃতি বেশ কিছু হোটেল ও লজ।

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে মার্চ ।

 

 


পাহাড়চুড়োয় দুর্গ

পাহাড়চুড়োয় দুর্গ

 

পাহাড়েরর চুড়োয় একফালি ইতিহাস। পরিত্যাক্ত দুর্গের ফাটল, মন্দিরের কারুকাজে গেছে রাজারাজড়ার  কাহিনি, দেবদেবতার অখ্যান। বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস ছোঁয়ার রোমাঞ্চ এখানে ভ্রমণপ্রেমীর বাড়তি পাওনা।

 

দক্ষিণ ভারতের কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর কাছাকাছি ‘দেবরায়ন দুর্গ’  টুমকুর জেলায় অবস্থিত  এই পাহাড়চুড়োর   টুরিস্ট স্পটটি সেই সব  পর্যটকের ভাল লাগবে, যারা পাহাড়  ও প্রাচীন  মন্দির ভালবাসেন।  আজ থেকে দশ বছর আগেও এই শহরটিকে বলা হত  ভারতের  ‘শীততাপ নিয়ন্ত্রিত শহর’ কারণ গ্রীষ্মকালেও এখানে মনোরম থাকতো।  সমুদ্রতল থেকে ৩০৫০ ফুট উচুতে অবস্থিত হওয়ায় শহরটির তাপমাত্রা  গরমের দিনেও অত বেশি হয় না।  যদিও এখন দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের জন্য  আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।  তবে  ৪২০০ ফুট উচুতে অবস্থিত দেবরায়ান দুর্গ গ্রীষ্মকালে বেড়াবার পক্ষে আজও উপযুক্ত।

 

বেঙ্গালুরু-পুণে হাইওয়ে দিয়ে পঞ্চাশ কিমি গিয়ে ডোব্বাসপেট পৌছে ডান দিকে দেবরায়ন দুর্গের রাস্তা। এখান থেকেই পাহড়ে ওঠার রাস্তাটা দোক যায়। ছোট ছোট গ্রাম পেরিয়ে পাহাড়ের মাঝামাঝি এসে পৌছালে দেখা যায় চারদিক ঘন জঙ্গল ও পাথরে ঢাকা। দেবরায়ন দুর্গ পাহাড়ের  শুরু ওখান থেকেই।  সামনে দুটো রাস্তা চলে গিয়েছে।  বা দিকের রাস্তা গিয়েছে ভোগ নৃসিংহ মন্দিরের দিকে।  এই মন্দিরের ইতিহাস বলে যে ত্রেতা যুগে ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা অম্বরিষ যখন এই পাহাড়ে তপস্যা শেষে উপবাস ভঙ্গ করার উদ্রেগ করে ছিলেন তখন সেখানে ঋষি দুর্বাসা এসে উপস্থিত হন ও রাজাকে বলেন যে, তিনি স্নান করে না আসা পর্যন্ত রাজা যেন অভুক্ত থাকেন। ‍ ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর রাজা ঋষিকে ফিরতে না দেখে  এক গন্ডূষ জলে খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন ও ঠিক সেই সময়েই সেখানে এসে উপস্থিত হন দুর্বাসা। ঋষি রাজাকে জল খেতে দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দেন যে, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে  তার  প্রাণ যাবে।  বলার সঙ্গে সঙ্গে সুদর্শন চক্র রাজাকে তাড়া করে।  নিজের প্রাণ বাচানোর জন্যে রাজা অম্বরিষ ভগবান বিষ্ণুকে স্তব করেন ও  বিষ্ণুর আদেশে সুদর্শন চক্রটি রাজাকে ছেড়ে  ঋকে তাড়া করতে শুরু করে।

 

ঋষি তখন বিষ্ণুর কাছ ক্ষমা চেয়ে নিলে সুদর্শন অদৃশ্য হয়।  ভগবান বিষ্ণু তখন ঋষিকে নৃসিংহরুপে দেখা দেন।  এই কারণেই এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

ঐতিহাসিকদের মতে মন্দিরটি হাজার হাজার বছর আগেও ছিল।  চুতর্দশ শতেকে বিজয় নগরে সম্রাটরা এই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।  গর্ভগৃহের মধ্যে শ্রীনৃসিংহ বসে আছেন ও তার ডান কোলে দেবী লক্ষ্মী।  মন্দিরের  সামনের গোপুরমটি নির্মাণ করেন সপ্তদশ শতকে মহীশুরের রাজা চিক্কাদেব ওডোয়ার।  নৃসিংহদেবের মন্দিরের কাছেই রয়েছে লক্ষ্মীর মন্দির।  এই ঐতিহাসিক মন্দিরের পিছনে আছে মন্দিরের  পুষ্করিণী।  এখান থেকে অন্য চুড়োটি খুব সুন্দর দেখায়। ঠিক বাঁ দিকে একটু এগিয়ে হনুমান মন্দির। চতুর্দশ শতকে বিখ্যাত বৈষ্ণুব সাধক বদিরাজ মন্দিরটি নির্মাণ করেন।   পাহাড়ের সর্বোচ্চ চুড়ো, উচ্চতা হল ৩৭৫০ ফুট।  অনেক পাখি দেখা যায় এখানে। উল্লেখ্য বিরল হলুদ রঙের বুলবুল পাখি।  চারদিকের সৌন্দর্য বেশ মনোরম। কিছুটা পথ এগিয়েই পাথরের তৈরি এবড়োখেবড়ো একশ মিটার সিড়ি।  সিড়ি দিয়ে উঠে গেলে সামনেই দুর্গের দরজা।  ছোট্ট অথচ সুন্দর এই কেল্লাটি ইতিহাসে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।   ত্রয়োদশ শতকে এই দুর্গটি তৈরি করেন স্থানীয় সামন্ত রাজা জাডাকা।  পরে ষোড়শ শতকে বিখ্যাত বিজয়নগর সম্রাট কৃষ্ণদেবরায় এই কেল্লা ও পাহাড়টি দখল করেন।  কেল্লাটিতে ছয়টি প্রবেশপথ আছে।  তবে এখন আর কেউ এর ভিতরে যায় না।  এর সামনে থেকে দেখা যায় পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত যোগনৃসিংহ মন্দির।  কেল্লার ঠিক উল্টো দিকে পাথরের খোদিত হনুমান ও গরুড়ের সুন্দর মূর্তিটি।  কেল্লার ঠিক উল্টো পিছনেই মন্দিরটি।  পরিবেশ বেশ শান্ত ও সৌম্য।  মন্দিরের ঢোকার আগে ৪২০০ ফুট উচু পাহাড়চুড়োয় দাড়ালে দেখা যায় নীচের অভাবনীয়  সুন্দর উপত্যাকা। মন্দিরের  সামনে পুকুর। গুহরি মতো গর্ভগৃহে যোগাসনে বসে আছেন ভগবান নৃসিংহ। । এ ছাড়া  রয়েছে বৈষ্ণবসাধক রামানুজাচার্যর মুর্তি ও অন্যঅন্য সাধকেদের মূর্তি। ফেরার সময় পাহাড়ের নীচে দেখ যায় জয়ামঙ্গলী নদী । জয়া ও মঙ্গলী  নামক দুট দলধারা মিলে জয়ামঙ্গলী। ছোট্ট একটি গুহাতে রয়েছে রামের মূর্তি।  প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে বনবাসের  সময় শ্রীরাম, সীতা ও লক্ষণের সঙ্গে এসেছিলেন।   কপলে তিলক পরার পর জন্যে  রাম তির দিয়ে পাথর কেটে জলধারা বের করেছিলেন সেই জলধারা এখনও বইছে।  এর নাম ’নমচিলুমে’ স্থানীয় ভাষায় ’নম’ মানে তিলক।  এখানকার সৌন্দর্য মনকে মুগ্ধ করবেই।

 

দেবরায়ান দুর্গ থেকে বার কিমি দূরে টুমকুর শহরের আশেপাশে রয়েছে অনেক পুরনো সুন্দর মন্দির, পাহাড়, গুহামন্দির, অভয়ারণ্য ও কেল্লা।  এই পাহাড়ের উল্টো দিকেই আছে দুর্গ সংরক্ষিত বন।  এখানে অনেক হরিণ, লেপার্ড, বাঘ অন্যান্য বন্য প্রাণীর দেখা পাওয়া যাবে।

 

কীভাবে যাবেন

বাংলাদেশ থেকে হাওড়া থেকে বেঙ্গালুরু যেতে পারেন-

  • যশবন্তপুর এক্সপ্রেস
  • গুয়াহাট-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস
  • এ ছাড়া দমদম বিমানবন্দর থেকে প্লেনেও বেঙ্গলুরু যেতে পারেন।

বেঙ্গালুরু পৌছানোর পর-

  • বেঙ্গালুরু থেকে ষাট কিমি দূরে রয়েছে দেবরায়ান দূর্গ।  গাড়ি ভাড়া করে বা বেঙ্গালুরুর কেম্পেগোড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে কর্নাটক রাজ্য সরকারের বাসে চড়েও দেবরায়ান দূর্গে যেতে পারেন।  সময় লাগবে দেড় ঘন্টা।

কোথায় থাকবেন

  • কর্নাটক পর্যটন দ্বারা পরিচালিত হোটেল ময়ূরা মেঘদূত। ভাড়া দৈনিক একশত পঞ্চাশ টাকা।
  • এছাড়া রয়েছে বনবিভাগের বাংলো

 


কাজে আসছে না লেন ব্যবস্থা কমছে না যানজট

Category : যানজট

কাজে আসছে না লেন ব্যবস্থা কমছে না যানজট

মীর রাকিব উন নবী

রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্যাক্সি, সিএনজি, প্রাইভেট কার মাইক্রোবাস এবং বাস ট্রাক চলাচলের জন্য রাস্তায় আলাদা লেন চিহ্নিত করে দেওয়া হলেও তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না। অধিকাংশ চালক এসব লেন নির্দেশক চিহ্ন মানছেন না। যারা লেন মেনে যানবাহন চালাতে চাচ্ছেন তারাও অমান্যকারীদের কারণে মানতে পারছেন না। আর ট্রাফ্রিক পুলিশ লেন মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না সে ব্যাপারে নির্বিকার ভুমিকা পালন করছে। স্বভাবতই কমছে না শহরের যানজট।

১৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে এখানে যানবাহনভেদে লেন ভাগ করে দেওয়া থাকলেও তা মানছে না কেউই। ঠিক ট্রাফিক বক্সের সামনেই এ লেন বিভাজন, কিন্তু তারপরও অমান্যকারী চালকদের যেন দেখেও দেখছেন না সার্জেন্টসহ অন্য ট্রাফিক সদস্যরা।

এ ব্যাপারে কর্তব্যরত সার্জেন্টদের দৃষ্টি আর্কষন করা হলে তিনি বলেন, বিকালে যানবাহনের চাপ এত বেশি থাকে যে লেন মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না ধরতে গেলে এ রাস্তা দিয়ে গাড়িই চলতে পারবে না। রাজধানীর মিন্টো রোড ও ইস্কাটন এলাকা, নিউমার্কেট, সায়েন্স, ল্যাবরেটরি, ফার্মগেট ও মহাখালীতেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাস্তায় যে লেন দিয়ে শুধু প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস যাওয়ার কথা, সেদিক দিয়ে চলছে কার সি এনজি বাস ট্যাক্সিক্যাব সবকিছুই। পাশেই কর্তব্য পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ, কিন্তু লেন মানা না মানায় তাদের যেন কিছুই যায় আসে না।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মুলত যানজটের প্রধান কারণকে পাশ কাটিয়ে অন্য ছোট খাটো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলে লাভ তো হবেই না, বরং এ রকম উল্টো ফল আসবে। এ ব্যাপারে পরিবেশ বাচাও অন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন,  রাজধানীর যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে প্রাইভেট কার। এখানে প্রাইভেট কার চলার উপযোগী করে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে,  বছর বছর প্রাইভেট কার বাড়ছে আশঙ্কাজনকহারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সহজে যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শহরের দেড় কোটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুষ্ঠু বন্দোবস্ত আগে করতে হবে,  না হলে যানজট কমবে না। তিনি বলেন, হাটার উপযোগী সুন্দর ফুটপাথ এবং সহজে সুলভে সর্বত্র যাওয়া যায় এমন পাবলিক বাস ব্যবস্থা চালু করা হলে যানজট কমবে। লেন ব্যবস্থা চালু কিংবা সিগন্যাল বাতি মেনে চলার আদেশও তখন বুমেরাং হবে না।

দিন দিন যানজট বেড়ে যাওয়া এবং কোনও পরিকল্পনা কাজে না আসার ব্যাপারে সরকারি কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি শুধু বলেন, আমরা সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

 

দৃশ্যপট-১, শাহবাগ – যাত্রাবাড়ী

১৪ জানুয়ারী বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভয়াবহ যানজটের বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে লেন ব্যবস্থা প্রবর্তন, সিগন্যাল বাতি মেনে চলার আদেশ জারিকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। অধিকাংশ জায়গায় এসব সরকারি আদেশ নির্দেশ মানাই হচ্ছে না। ৪ টা ২০ মিনিট শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে সিগন্যাল বাতি নির্দেশ করছে যানবাহন থামতে,  অথচ সার্জেন্ট হাত নাড়িয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন চলতে। মোড় থেকে গাড়ির সারি একদিকে শেরাটন হোটেল, একদিকে কাটাবন মোড়, এবং এক দিকে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন পর্যন্ত পৌছে গেছে। এবং গাড়ি এগোচ্ছে শম্বুক গতিতে। এদিন শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দুরুত্ব পার হতে সময় লেগেছে ৫০ মিনিট। ৫ টা ১০ মিনিটে প্রেস ক্লাবে এসে দেখা গেছে রাস্তার দুই পাশেই গাড়ির লম্বা সারি। একদিকে গাড়ির সারি গিয়ে ঠেকেছে পল্টন মোড় পর্যন্ত। এখানেও রাস্তার চারদিকে চারটি বড় বড় স্থবির যানের সারি।

এরপর গুলিস্তান বঙ্গভবন হয়ে ইত্তেফাকের মোড় পর্যন্ত রাস্তায় ঘুরে দেখা গেছে,  পুরা রাজধানীই আসলে যানজটের খপ্পরে পড়ে আছে। টিকাটুরি ওভার ব্রিজের নিচে গাড়ির লম্বা বাক নেওয়া লাইন ইত্তেফাক ভবনের সামনে দিয়ে এসে রাজধানী সুপার মার্কেট পার হয়ে যেতে দেখা গেছে। রাজধানী সুপার মার্কেট ও স্বামীবাগ পার হয়ে আবার যানজট শুরু। এবারে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে জনপথ মোড় পর্যন্ত নিরেট যানবাহনের লাইন। এর মধ্যে একটি সুতোও ঢোকানোর উপায় নেই। আর যানবাহনের মধ্যে বাস রিকশা সিএনজি ট্রাক ট্যাক্সি সবই আছে।

জনপথ মোড় থেকে একটু এগিয়ে দেখা গেল সায়েদাবাদ ভাঙা ব্রিজ থেকে আবার যানজট। এবারে একেবারে যাত্রাবাড়ী ওভার বিজ্র পর্যন্ত। যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনরত সার্জেন্টকে যানজটের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,  মূলত বৃহস্পতিবার বিকালে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার উদ্দেশ্যে ছোটেন বলে এই দিন যানজটটা থাকে সবচেয়ে বেশি। যে কারণে ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে এক থেকে দুই ঘন্টা লাগে এবং এটা নগরবাসীর জন্য খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

দৃশ্যপট-২, মৌচাক- মিরপুর ১০ নং গোলচত্বর

১৭ জানুয়ারী রবিবার সকাল ৯ টায় রাজধানীর মৌচাক মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে এখান থেকে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ছোট বড় যানবাহনের লাইন।  একদিকের লাইন মালিবাগ মোড় ছাড়িয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল পার হয়ে গেছে,  রামপুরার দিকে যাওয়ার রাস্তাটি যতদুর দেখা যাচ্ছিল শুধু স্থবির যানবাহনের চাকা আর ভোগান্তিতে অস্থির মানুষের চেহারা আর কিছুই নেই। মগবাজার মোড়ের দিকে এগোতে গিয়ে প্রথমে ওয়্যারলেস গেট পর্য্নত কিছুটা রাস্তা ফাকা পাওয়া গেল। কিন্তু এরপর থেকে শুরু যানবাহনের লম্বা লাইন। এ লাইন একেবারে মগবাজার মোড় পর্যন্ত। এখানে মিন্টো রোড থেকে তেজগাওমুখী সোজা রাস্তাটি ভি আই পি সড়ক হওয়ায় অপর দিকের মৌচাক থেকে বাংলামোটর মুখী রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারি মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তির মুখে। কয়েকজন বাস যাত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, ভিআইপি রোডে একবার গাড়ি ছাড়লে সেটা পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট পর্যন্ত চলে। পুরো রাস্তা ফাকা না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক আটকায় না। অথচ অন্য রাস্তাটিতে একবারে দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি গাড়ি ছাড়া হয় না। এ মোড়ে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সেটি সবসময় মানা হয় না। একই জায়গা দিয়ে অল্প গতির এবং দ্রুতগতির যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করলে স্বাভাবিকভাবেই দ্রুতগতির যানটির গতি কমে যায়। ফলে দুই তিন মিনিটের সিগন্যাল রিকশা গাড়ি বাস সবমিলিয়ে মাত্র দশ বারোটা যানবাহন পার হওয়ার সুযোগ পায়। যে কারণে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক যাত্রীকে নুন্যতম এক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। বাস যাত্রীরা আরও বলেন, দিনের যেকোনও সময় এখান দিয়ে যেতে হলে জ্যামে পড়তে হবেই,  এটা নিয়ম হয়ে গেছে।

মগবাজার পার হয়ে বাংলামোটর মোড়ে গিয়ে আবারও যানজট। এ মোড় পার হয়ে একটু সামনে গিয়ে আবারও যানজট। কাওরানবাজার সার্ক ফোয়ারা থেকে শুরু হওয়া গাড়ির সারি শেষ হয়েছে হাতিরপুল কাচাবাজারের সামনে গিয়ে। এর মধ্যে বাংলামোটর দিয়ে এ রাস্তায় ঢোকা যানবাহনগুলোও গিয়ে মিশছে সেই সারিতে। মিশে যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো এগুচ্ছে খুবই আস্তে আস্তে। বাংলামোটর থেকে কারওয়ানবাজার মোড় পর্যন্ত যেতেই সময় লাগছে পাকা আধ ঘন্টা। অথচ দুরুত্ব এক কিলোমিটারও হবে কিনা সন্দেহ!

এরপরে কিছুদূর রাস্তা ফাকা পাওয়া গেলেও আবার যানজটের দেখা মিলেছে ফার্মগেটের প্রতম ওভার ব্রিজ থেকে। ফার্মগেট মোড়ে একদিকে বাস ও প্রাইভেট কার  সাব লেনে ঢুকছে,  আবার আরেক সাবলেন দিয়ে গাড়ি মূল রাস্তায় বের হচ্ছে,  এর মধ্যে মূল রাস্তায় গাড়ি চলছে সবমিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি অবস্থা। ফার্মগেট মোড় থেকে যানবাহনের লম্বা সার গিয়ে পৌছেছে বিজয় সারনি মোড় পর্যন্ত। এর সামনেও রয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিজয় সারনি থেকে বামদিকে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার সংলগ্ন রাস্তাটি কিছুটা ফাকা থাকলেও এখানে কিছুক্ষণ পর পর যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

 

বছর বছর প্রাইভেট কার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সহজে যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শহরের প্রায় দেড় কোটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুষ্ঠু বন্দোবস্ত আগে করতে হবে,  না হলে যানজট কমবে না।

আগারগায়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি পার হওয়ার পর স্থবির যানবাহনের সারি দেখা গেছে একবারে তালতলা পর্যন্ত। এরপরে শেওড়াপাড়া বাস স্টপেজের আগে আবার যানজট। কাজীপাড়া বাস স্টপেজ পার হতেই আবার যানজট,  সেনপাড়া থেকে একেবারে মিরপুর ১০ নং গোল চত্বর পর্যন্ত। এ রাস্তায় নিয়মিত এ রকম ভয়াবহ যানজটের ফলে মানুষের ভোগান্তিও দিনে দিনে বাড়ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এ রাস্তায় যানজট থাকবেই। এবং এ সময়ে মিরপুর  ১০ নং গোল চত্বর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যেতে নূন্যতম এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগবেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী জুয়েল রহমান বলেন, সকালে ক্লাস থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। ক্লাস শুরুর আগে দুই আড়াই ঘন্টা সময় নিয়ে বাসা থেকে  বের হই। এরপরও মাঝে মাঝে ক্লাস মিস হয়ে যায় যানজটের কারনে।

মীর রাকিব উন নবী

রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্যাক্সি, সিএনজি, প্রাইভেট কার মাইক্রোবাস এবং বাস ট্রাক চলাচলের জন্য রাস্তায় আলাদা লেন চিহ্নিত করে দেওয়া হলেও তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না। অধিকাংশ চালক এসব লেন নির্দেশক চিহ্ন মানছেন না। যারা লেন মেনে যানবাহন চালাতে চাচ্ছেন তারাও অমান্যকারীদের কারণে মানতে পারছেন না। আর ট্রাফ্রিক পুলিশ লেন মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না সে ব্যাপারে নির্বিকার ভুমিকা পালন করছে। স্বভাবতই কমছে না শহরের যানজট।

১৪ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে এখানে যানবাহনভেদে লেন ভাগ করে দেওয়া থাকলেও তা মানছে না কেউই। ঠিক ট্রাফিক বক্সের সামনেই এ লেন বিভাজন, কিন্তু তারপরও অমান্যকারী চালকদের যেন দেখেও দেখছেন না সার্জেন্টসহ অন্য ট্রাফিক সদস্যরা।

এ ব্যাপারে কর্তব্যরত সার্জেন্টদের দৃষ্টি আর্কষন করা হলে তিনি বলেন, বিকালে যানবাহনের চাপ এত বেশি থাকে যে লেন মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না ধরতে গেলে এ রাস্তা দিয়ে গাড়িই চলতে পারবে না। রাজধানীর মিন্টো রোড ও ইস্কাটন এলাকা, নিউমার্কেট, সায়েন্স, ল্যাবরেটরি, ফার্মগেট ও মহাখালীতেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাস্তায় যে লেন দিয়ে শুধু প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস যাওয়ার কথা, সেদিক দিয়ে চলছে কার সি এনজি বাস ট্যাক্সিক্যাব সবকিছুই। পাশেই কর্তব্য পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ, কিন্তু লেন মানা না মানায় তাদের যেন কিছুই যায় আসে না।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মুলত যানজটের প্রধান কারণকে পাশ কাটিয়ে অন্য ছোট খাটো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলে লাভ তো হবেই না, বরং এ রকম উল্টো ফল আসবে। এ ব্যাপারে পরিবেশ বাচাও অন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন,  রাজধানীর যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে প্রাইভেট কার। এখানে প্রাইভেট কার চলার উপযোগী করে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে,  বছর বছর প্রাইভেট কার বাড়ছে আশঙ্কাজনকহারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সহজে যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শহরের দেড় কোটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুষ্ঠু বন্দোবস্ত আগে করতে হবে,  না হলে যানজট কমবে না। তিনি বলেন, হাটার উপযোগী সুন্দর ফুটপাথ এবং সহজে সুলভে সর্বত্র যাওয়া যায় এমন পাবলিক বাস ব্যবস্থা চালু করা হলে যানজট কমবে। লেন ব্যবস্থা চালু কিংবা সিগন্যাল বাতি মেনে চলার আদেশও তখন বুমেরাং হবে না।

দিন দিনি যানজট বেড়ে যাওয়া এবং কোনও পরিকল্পনা কাজে না আসার ব্যাপারে সরকারি কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি শুধু বলেন, আমরা সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

 

দৃশ্যপট-১, শাহবাগ – যাত্রাবাড়ী

১৪ জানুয়ারী বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ভয়াবহ যানজটের বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে লেন ব্যবস্থা প্রবর্তন, সিগন্যাল বাতি মেনে চলার আদেশ জারিকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। অধিকাংশ জায়গায় এসব সরকারি আদেশ নির্দেশ মানাই হচ্ছে না। ৪ টা ২০ মিনিট শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে সিগন্যাল বাতি নির্দেশ করছে যানবাহন থামতে,  অথচ সার্জেন্ট হাত নাড়িয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন চলতে। মোড় থেকে গাড়ির সারি একদিকে শেরাটন হোটেল, একদিকে কাটাবন মোড়, এবং এক দিকে রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন পর্যন্ত পৌছে গেছে। এবং গাড়ি এগোচ্ছে শম্বুক গতিতে। এদিন শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দুরুত্ব পার হতে সময় লেগেছে ৫০ মিনিট। ৫ টা ১০ মিনিটে প্রেস ক্লাবে এসে দেখা গেছে রাস্তার দুই পাশেই গাড়ির লম্বা সারি। একদিকে গাড়ির সারি গিয়ে ঠেকেছে পল্টন মোড় পর্যন্ত। এখানেও রাস্তার চারদিকে চারটি বড় বড় স্থবির যানের সারি।

এরপর গুলিস্তান বঙ্গভবন হয়ে ইত্তেফাকের মোড় পর্যন্ত রাস্তায় ঘুরে দেখা গেছে,  পুরা রাজধানীই আসলে যানজটের খপ্পরে পড়ে আছে। টিকাটুরি ওভার ব্রিজের নিচে গাড়ির লম্বা বাক নেওয়া লাইন ইত্তেফাক ভবনের সামনে দিয়ে এসে রাজধানী সুপার মার্কেট পার হয়ে যেতে দেখা গেছে। রাজধানী সুপার মার্কেট ও স্বামীবাগ পার হয়ে আবার যানজট শুরু। এবারে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে জনপথ মোড় পর্যন্ত নিরেট যানবাহনের লাইন। এর মধ্যে একটি সুতোও ঢোকানোর উপায় নেই। আর যানবাহনের মধ্যে বাস রিকশা সিএনজি ট্রাক ট্যাক্সি সবই আছে।

জনপথ মোড় থেকে একটু এগিয়ে দেখা গেল সায়েদাবাদ ভাঙা ব্রিজ থেকে আবার যানজট। এবারে একেবারে যাত্রাবাড়ী ওভার বিজ্র পর্যন্ত। যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনরত সার্জেন্টকে যানজটের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,  মূলত বৃহস্পতিবার বিকালে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার উদ্দেশ্যে ছোটেন বলে এই দিন যানজটটা থাকে সবচেয়ে বেশি। যে কারণে ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে এক থেকে দুই ঘন্টা লাগে এবং এটা নগরবাসীর জন্য খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

দৃশ্যপট-২, মৌচাক- মিরপুর ১০ নং গোলচত্বর

১৭ জানুয়ারী রবিবার সকাল ৯ টায় রাজধানীর মৌচাক মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে এখান থেকে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ছোট বড় যানবাহনের লাইন।  একদিকের লাইন মালিবাগ মোড় ছাড়িয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল পার হয়ে গেছে,  রামপুরার দিকে যাওয়ার রাস্তাটি যতদুর দেখা যাচ্ছিল শুধু স্থবির যানবাহনের চাকা আর ভোগান্তিতে অস্থির মানুষের চেহারা আর কিছুই নেই। মগবাজার মোড়ের দিকে এগোতে গিয়ে প্রথমে ওয়্যারলেস গেট পর্য্নত কিছুটা রাস্তা ফাকা পাওয়া গেল। কিন্তু এরপর থেকে শুরু যানবাহনের লম্বা লাইন। এ লাইন একেবারে মগবাজার মোড় পর্যন্ত। এখানে মিন্টো রোড থেকে তেজগাওমুখী সোজা রাস্তাটি ভি আই পি সড়ক হওয়ায় অপর দিকের মৌচাক থেকে বাংলামোটর মুখী রাস্তাটি দিয়ে চলাচলকারি মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তির মুখে। কয়েকজন বাস যাত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, ভিআইপি রোডে একবার গাড়ি ছাড়লে সেটা পাঁচ মিনিট থেকে দশ মিনিট পর্যন্ত চলে। পুরো রাস্তা ফাকা না হওয়া পর্যন্ত ট্রাফিক আটকায় না। অথচ অন্য রাস্তাটিতে একবারে দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি গাড়ি ছাড়া হয় না। এ মোড়ে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সেটি সবসময় মানা হয় না। একই জায়গা দিয়ে অল্প গতির এবং দ্রুতগতির যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করলে স্বাভাবিকভাবেই দ্রুতগতির যানটির গতি কমে যায়। ফলে দুই তিন মিনিটের সিগন্যাল রিকশা গাড়ি বাস সবমিলিয়ে মাত্র দশ বারোটা যানবাহন পার হওয়ার সুযোগ পায়। যে কারণে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এক যাত্রীকে নুন্যতম এক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। বাস যাত্রীরা আরও বলেন, দিনের যেকোনও সময় এখান দিয়ে যেতে হলে জ্যামে পড়তে হবেই,  এটা নিয়ম হয়ে গেছে।

মগবাজার পার হয়ে বাংলামোটর মোড়ে গিয়ে আবারও যানজট। এ মোড় পার হয়ে একটু সামনে গিয়ে আবারও যানজট। কাওরানবাজার সার্ক ফোয়ারা থেকে শুরু হওয়া গাড়ির সারি শেষ হয়েছে হাতিরপুল কাচাবাজারের সামনে গিয়ে। এর মধ্যে বাংলামোটর দিয়ে এ রাস্তায় ঢোকা যানবাহনগুলোও গিয়ে মিশছে সেই সারিতে। মিশে যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো এগুচ্ছে খুবই আস্তে আস্তে। বাংলামোটর থেকে কারওয়ানবাজার মোড় পর্যন্ত যেতেই সময় লাগছে পাকা আধ ঘন্টা। অথচ দুরুত্ব এক কিলোমিটারও হবে কিনা সন্দেহ!

এরপরে কিছুদূর রাস্তা ফাকা পাওয়া গেলেও আবার যানজটের দেখা মিলেছে ফার্মগেটের প্রতম ওভার ব্রিজ থেকে। ফার্মগেট মোড়ে একদিকে বাস ও প্রাইভেট কার  সাব লেনে ঢুকছে,  আবার আরেক সাবলেন দিয়ে গাড়ি মূল রাস্তায় বের হচ্ছে,  এর মধ্যে মূল রাস্তায় গাড়ি চলছে সবমিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি অবস্থা। ফার্মগেট মোড় থেকে যানবাহনের লম্বা সার গিয়ে পৌছেছে বিজয় সারনি মোড় পর্যন্ত। এর সামনেও রয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বিজয় সারনি থেকে বামদিকে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার সংলগ্ন রাস্তাটি কিছুটা ফাকা থাকলেও এখানে কিছুক্ষণ পর পর যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

 

বছর বছর প্রাইভেট কার বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সহজে যাতায়াতের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শহরের প্রায় দেড় কোটি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুষ্ঠু বন্দোবস্ত আগে করতে হবে,  না হলে যানজট কমবে না।

আগারগায়ের বিসিএস কম্পিউটার সিটি পার হওয়ার পর স্থবির যানবাহনের সারি দেখা গেছে একবারে তালতলা পর্যন্ত। এরপরে শেওড়াপাড়া বাস স্টপেজের আগে আবার যানজট। কাজীপাড়া বাস স্টপেজ পার হতেই আবার যানজট,  সেনপাড়া থেকে একেবারে মিরপুর ১০ নং গোল চত্বর পর্যন্ত। এ রাস্তায় নিয়মিত এ রকম ভয়াবহ যানজটের ফলে মানুষের ভোগান্তিও দিনে দিনে বাড়ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এ রাস্তায় যানজট থাকবেই। এবং এ সময়ে মিরপুর  ১০ নং গোল চত্বর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যেতে নূন্যতম এক থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগবেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী জুয়েল রহমান বলেন, সকালে ক্লাস থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। ক্লাস শুরুর আগে দুই আড়াই ঘন্টা সময় নিয়ে বাসা থেকে  বের হই। এরপরও মাঝে মাঝে ক্লাস মিস হয়ে যায় যানজটের কারনে।


Sundarbans, the world’s largest mangrove forest

Sundarbans, the world’s largest mangrove forest

By Kazi Motahar Rahman

As unknown disease has struck the world’s largest mangrove forest.

More worrying is that the awesome disease is killing the spices which make up more than half the tree population of Sundarbans off Khulna coast.

The disease catches the Sundari trees, after which the forest is named, from the top. Leave and branches are the first to get dry before finally choking the roots to the bewilderment of experts.

Scientists have named the disease “top-dying” but failed to pinpoint, despite, series of studies, what really causes it.

“The cause is yet to be identified,” says Latifur Rahman, a researcher at the mangrove Culture Centre in Khulna.” There are several hypotheses, however, with the growing salinity in rivers along the forest being the major suspect. Experts are yet to detect the cause and prescribe the remedies, Sundari population is fast withering. According to forest officials, top dying has already destroyed nearly 20 percent of the Sundari Plantation, while 50 percent are clearly endangered.

Zinnatul Islam, senior Scientific Officer of Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization, recently conducted a study on the Sharankhola range of the Sundarbans. He found 17 per cent of Sundaritrees destroyed. He also detected that 50 percent of the sundari trees in the range has been afflicted by the aliment.

According to a 1956 survey by the Forest Department, Sundari trees covered 60 per cent of the total area of the Sundarbans. The percentage dwindled to 53 per cent in 1994.

The forest department points to the Farkka barrage that India has built on the river Ganges.

The dam severely limits downstream flows of the rivers to the Bay of Bengal along the sundarbans causing salinity upstream.

Salinity in the rivers are thus rising, and experts find a logical link between the top dying and rising salinity in Sundarbans rivers.

“Sundarbans is purely a mangrove forest. Salt water flushes most part of it twice a day. So the volume of salt in water must have a great impact on the forest spices,” said one forest official.

For normal growth of Sundari trees, the water, must contain 12 part per Trillion (a measurement of salt in water and soil) and soil must contain between 8 and 10 PPT. But the latest study shows that Sundarbans river now contain upto 28 PPT salt, specially during dry season, while the soil contains between 16 and 20 PPT.

Experts find the salt ratio dangerous for survival of the sensitive mangrove spices.

One foreign experts, Dr. Gibson once said repeated natural calamity, excess salinity and massive silatation in and around the forest might be causes of top dying disease. Her recommended chopping of the upper portion of the effected trees to prevent it.

As per Gibsons prescription, the Government  has cut off about two million cubic feet of the affected Sundari plantation.

Situation has not improved much.

With top dying threatening the Sundari population, forest officials see it a major blow to the forest resources.

`       “This is not only a big threat to the forest itself, also to the economy. Sundari trees account for 60 percent of the marketable timber in the Sundarbans and a major source of fuel wood in southern region,” one forest official said.

Forest officials and experts are worried about the disease spreading to ther spices gradually and cause a disaster in mangrove ecology.

Said prof M Aminul Islam of University of Rajshahi: “Many animal spices are facing extinction besides trees, because of abnormal level of salinity. All these will inevitably lead to an utter imbalance in the eco-system. An environmental disaster looms large.”

Researcher Rahman cautioned that the Sundarbans mangrove might be a “thing of the past” like Chokoria mangrove unless something is done urgently to put a break on the dying process.

“We hardly can afford to lose the sunderbans when total forest area is far less than the required level,” he said.

The government claims 16 per cent of Bangladesh is forest but unofficial estimates put the figure at below 10 percent, environmentally unsafe.


Domestic air pollution

Category : travel

Domestic air pollution

Dr. Sk Saha

Air pollution, a very sensitive question in our time. Our future generation breaths from a polluted urban air which consciously or unconsciously put them into hell. As soon as they come out from our own houses, they entrapped with polluted air. Are they not always entrapped with polluted air? Are we sure enough to qualify on domestic air? Our common strategy and belief that domestic house is always free from any air trouble. But it’s our mistake.

The air indoor under certain circumstances can be polluted to a hazardous level. This happens either when polluted air leaks into the house or evaporation from volatile organic compounds builds up inside a room. These conditions are worsened to hazardous levels if this happens in a confined space with good insulation that prevents dilution of the polluted air,

Indoor pollution from these sources increases in intensity with insulation, random is released from rock and soils that carry radium. Basically it present in unconsolidated sediments in the coastal belts. It is chemically inert but its decay products (polonium, bismuth and lead) may be inhaled, there by leading to lung damage, even though all three have a short life. Random is the suspected cause to thousands lung cancer deaths each year in United States. Asbestos due to its low cost shade material, we use it to decorate top floor of house etc. Asbestos fibers if released by insulation may be a potential source of lung cancer.

Cigarettes also contain numerous known or suspected carcinogens benzene, hydrazine, banzoa anthracene, benzo a pyrene (BAP), and nickel. A single burning cigarette releases particles to the order of 1012.

Now a day’s smoking is a public nuisance. As yet most of the place in our country is not non smoking zone. Even the institutions are the most smoke polluted zone in the country.

Small fraction of these particles may cause lung disease to the nearby person.

In our country, the wood smoke, which causes the most of the biomass burnt in the kitchen and the victims are the female race. The village kitchens are often windowless or the ventilation hole is closeted during the heavy rainfall of the wet days. The amount of particles and smoke depends the type of fuel wood. For example, Acacia created less smoke but high energy. But our village people uses mainly litter or husks of paddy or other food grains resulting interruption of heat but huge smoke. The exposure to particulate for women cooking a meal averages 7000 µgm 3 the figure refers to cooking with a one burner.

A double burner wood stove releases far more particles.

Such exposes happen several times a day and may continue for hours. The problem could be lessened if biomass is replaced by sustainable type of fuel or if better ventilation exists or the stove is better designed.

So, it’s our concern to improve our domestic air quality. To improve our life style we should not use any carcinogenic material. Even we should give up smoking in front of our spouses. The Earth is for all. We should keep in touch to improve its quality.

The author is Asstt. Professor, Environmental Science, Khulna University.


জাফলং: বুলডোজারের শব্দ

জাফলং: বুলডোজারের শব্দ

সিলেট থেকে  জাফলং বাজারের দুরুত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। শহর থেকে ২১ কি. মি. দূরে পেট্রোবাংলার বিশাল কমপ্লেক্স, অর্থ্যাৎ হরিপুরের গ্যাস ফিল্ড। রাতে ফেরার পথে কূপ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৭ কি. মি. দূরে সারীঘাট নামক এক স্থানে রয়েছে প্রাচীন এক পাণ্থশালা। প্রায় আড়াইশ বছর আগে জৈন্তা রাজা নির্মাণ করেছিলেন এই পান্থশালাটি। পাহাড়ের চূড়ায় পুরানো দালানটা অনেকটা এখনো আছে। তবে বড়ো বড়ো পাথরগুলো যা ক বছর আগেও দেখতে মানুষের ভীড় জমতো, সেগুলো আজ আর নেই।

একটু সামনে এগোলেই অর্থ্যাৎ ৪২ কি. মি. পথে জৈত্নেশ্বরী বাড়ী। এখানেই জৈন্তা রাজার রাজবাড়ী ছিল। রাজবাড়ীর প্রাচীরের গায়ে নানা বর্ণের চিত্র। রাজপ্রাসীদের সামনে স্বাধীন রাজার বিচার সভা বসতো বড়ো বড়ো পাথরের ওপর। বাড়ির আঙিনায় কুয়ার মতো বড়ো ঢাল ছিল্। কথিত আছে, এসব ঢালে রাজদ্রোহীদের নরবিল দেওয়া হতো।

তামাবিল সীমান্তের কাছে যতোই এগোনো যায় ততোই কালো পাহাড় আর সবুজের হাতছানি। মাঝে মধ্যে ঝরনার স্রোত। এতো ভাল লাগে যে, চিৎকার করে বলে উঠতে ইচ্ছে করে আমি পাহাড়টা ধরতে চাই। যদিও ঝরনা আর পাহাড় অনেক দূরে।

একটা ঝরনার সামনেই শ্রীপুর চা বাগান। পশ্চিম দিকে ব্যাক্তিমালাকানায় একটি পিকনিক স্পট। সবাইকে বারবার আসতে বলবে এর পরিবেশ আর পরিচ্ছন্নতা। পূর্ব দিকে যে পাহাড়টা আমাদের সীমান্তের ওপারে, ওটার পাদদেশে রয়েছে পাথর কোয়ারি আর চা বাগান। বাগানটা আছে খুবই অযত্নে। তবে পাথর কোয়াবিটা একটু দূর সীমান্তে। তামাবিল সীমান্তকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ক্লিয়ারিং ফরোয়াডিং ব্যবসা। বিভিন্ন ইমপোর্ট এক্সপোর্টের মালামাল ডাহুকী ভ্যালি ব্রিজ ক্রস করে বাংলাদেশ সীমান্তে আসে। সীমান্তের ওপারে আমাদের বিডিআর ওপারে বিএসএফ এর ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট। এই চেকপোষ্ট দিয়ে মেঘালয় থেকে পন্যসামগ্রী আসে। তবে কয়লাটা আসে বড়ো বড়ো ট্রাক লরিতে।

তামাবিলকে ডানে রেখে নতুন রাস্তা দিয়ে একেবেকে চলে আসা যায় জাফলং। খোয়াই নদীর তীরে জাফলং বাজার। ক বছর আগেও এতোটা বড়ো বানিজ্য কেন্দ্র মনে হয়নি একে। এতো জনবসতিও গড়ে ওঠেনি। বাঙালি শ্রমিকদের আনাগোনাও ছিল খুবই কম। নদীর ওপর জীবনধারণ করতে আসে পুঞ্জির খাসিয়া জনগোষ্টী। আর এখন ওদের কে দেখা যায় শুধু পান সুপারি, আনারস বিক্রি করতে। অনেকে পাহাড়ী জীবনধারনকে বিসর্জন দিয়ে বাঙালি কালচারের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছে। খোয়াই নদীর তীরে পাহাড়ের ব্যবসা এখন ভীষণ জমজমাট। স্থানীয় শ্রমিক বলতে তেমন কেউ নাই। কবছর আগেও খোয়াই নদীতে হাতে গোনা শখানেক নৌকা ছিল আর এখন প্রায় হাজার ছড়িয়ে গেছে। তার কারণ জাফলং এর খোয়াই নদীর বালি থেকে শুরু করে বড়ো বড়ে পাথর, এখানে ওখানে দেখা যায় বুল ডোজার। এখন সবটাই ব্যবসাভিত্তিক। বড়ো ব্যবসায়ীরা সাবকন্ট্রাক্টে শ্রমিকদের কাছ থেকে সিএফটি বা ঘনফুট হিসেবে পাথর কিনে থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোয়াই নদীতে পাথর তোলা হয় বিভিন্ন পদ্ধতিতে। এবং ১০ বছরের বাবুলাল থেকে শুরু করে রংপুর থেকে আসা কছিমউদ্দিনও এখানে কাজের শ্রমিক। কাজ মানে শ্রম। ভীষণ কষ্টের শ্রম। ঠান্ডা পানিতে গা ভাসিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য্ন্ত মাঝারি আকারের এক সি এফটি পাথর সংগ্রহ করতে পারলে মজুরি জোটে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এর মধ্যে দুবেলার খাবার। খাবার খেতে চলে যায় ২০ টাকা। হাতে থাকে ৫০। শ্রমের তুলনায় এ্ই ৫০ টাকা নেহাতই কমই। অথচ বড়ো বড়ো কন্ট্রাক্টররা পাথর বোঝাই ট্রাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে ২৭ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকার পাথর। এসব পাথর আবার চড়া দামে সিলেট থেকে বার্জে করে ঢাকার গাবতলী ঘাটে কিংবা ফতুল্লা ঘাটে চলে আসে নদীপথে। চার পাঁচটা পাথর ভাঙার ক্রাসার মেশিন্ও এখানে চলে সারাদিন। বিকট আওয়াজের কারণে জাফলং অঞ্চলে কিংবা নদীতে নৌকা নিয়ে বেশিক্ষণ কেউ থাকতে পারে না। আবার ওদিকে সন্ধ্যার পর বিজিবি হুইসেল দিলে সব শ্রমজীবী মানুষকে সরে আসতে হয় সীমান্ত এলাকার পানি থেকে। তবে বর্ষার সময় কোথায় নোমন্স ওয়াটার তা বোঝা মুশকিল্ আর তাই বর্ষার সময়টাতে শ্রমিকরা কাজও করতে পারে না। কারণ প্রতিদিন পানি বাড়ে। পানি বাড়ালে ডুব দিয়ে পাথার তোলা সম্ভব নয়। এটা সম্ভব হয় শীতকালে।

তাই শীতকাল শ্রমজীবী মানুষের আনাগোনা বেশি। পর্যটকরাও আসেন। তবে পরিবেশ এখন অতোটা কাছে টানে না। পর্যটনের আমন্ত্রনে যে একবার যাবে, দুবার সে আর যেতে চাইবে না। কারণ জাফলং অঞ্চলে থাকার তেমন কোনো সুব্যবস্থা, হোটেল বা নিরাপত্তা কোনোটাই নেই। খোয়াই নদীর আর্কষণ এখন শ্রমজীবী মানুষের জীবনের আরেক মানচিত্র। আরেক জনপদ। প্রতিদিন ছেলে বউ স্বামী সবাই মিলেমিশে পাথর তোলে, তুলে ডিঙ্গি নৌকায় এপারে এনে জড়ো করে। আর সেখান থেকে নিয়ে যায় বড়ো ব্যবসায়ীরা। এসবের দিকে চোখ না ফিরিয়ে, দেখা যায় আরেকটি জিনিস। ওপারে খাসিয়া পুঞ্জি। খাসিয়া গ্রামে ঢুকলেই প্রচুর সুপারি গাছের সমাহার দেখা যাবে। গাছের সঙ্গে লেপ্টে আছে খাসিয়া বাগানের পান। ঝাল পান বলে বেশ সুনাম আছে এর। যদিও এখানে আর নীরবতা নেই। নেই ঘোরার মতো মনোরম পরিবেশ। তবু সুন্দর জাফলং এর দৃশ্যসকল দেখার মোহে এখনো শীতকালে হাজার হাজার মানুষ আসে এখানে।


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar