Monthly Archives: February 2019

দুদন্ড ধানমন্ডিতে

Category : ভ্রমণ

দুদন্ড ধানমন্ডিতে

 

মাথার উপরে সদ্য ফোটা লাল কৃষ্ণচুড়ার বাহারি পসরা, ডালে ডালে পাখির কলকাকলি আর হালকা দক্ষিণা বাতাস, সব মিলিয়ে এক প্রাণ চুড়ানো মনোরম আবহ। ইট-কাঠের এই কৃত্রিম নগরের প্রাণ কেন্দ্রে এ রকমই এক টুকরো  মোহময়ী  পরিবেশ নিয়ে স্বগর্বে  নিজেকে জানান দিচ্ছে ধানমন্ডি লেক।  নগরীর ঐতিহ্যেরও একটি অংশ এই লেক। দীর্ঘ লেক, লেকের পাড়ে পার্কের আদলে  বিস্তৃত খোলা জায়গা, বাহারি আর দৃষ্টি নন্দন  নানা প্রজাতির বৃক্ষ, লেকের পানির ওপরে মাথার ওপরে ছাদ দেয়া  বসার স্থান সব মিলে এক কথায় অসাধারণ পরিবেশ। আর এমন চমৎকার পরিবেশ তো মানুষকে টানবে এটাই স্বাভাবিক।  বিশেষ করে ১৯৯৫ সালে সংস্কার কার্যক্রম  এর পর এর আকর্ষণ কয়েকগুণ বেড়েছে মানুষের কাছে।  আর তাই তো প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আগমনে মুখরিত হয় ধানমন্ডি লেক।  তাদের বিশিরভাগই আসে কাজের ফাকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে, কেউবা আবার অবসরে। নানান পেশার, নানান বয়সের  মানুষ প্রতিদিন  আড্ডা  দেয় ধানমন্ডি লেকের বিভিন্ন স্পটে।  তবে তাদের  মধ্যে তরুন-তরুণীদের উপস্থিতি চোখে পরে বেশি।  সকাল থেকেই চলে আড্ডা বাজি।  তবে দুপুর গড়িয়ে  বিকেল নামতেই  সেটা বেড়ে যায়  বহুগুণে।  কেউ ভার্সিটির ক্লাস শেষ করে , কেউ বিকেলের অবসরে  আবার কেউবা অফিস থেকে বের হয়ে  বাসায় যাওয়ার  আগে চুটিয়ে আড্ডা মারে এখানে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের  ব্রিজ পার হয়ে লেকে ঢোকার মুখে ডান দিকে লেকের পাড় ঘেঁসে আড্ডা দিচ্ছিল তেমনই  একদল তরুণ-তরুণী। উদ্দেশ্য খুলে বলা মাত্র তারাও সাদরে আমন্ত্রণ জানাল তাদের আড্ডায় যোগ দেয়ার জন্য।  সবাই বেশ প্রণবন্ত আর আন্তরিক আড্ডায়। ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় এর আলাদা তিনটি বিভাগের শিক্ষার্থী সবাই।  তবে কলেজ জীবনে একই সঙ্গে পড়া এবং সবার বাসা ধানমন্ডি এলাকায় হওয়ায়  এখানে  আড্ডা দেয়া তাদের রুটিন হয়ে গেছে।  স্বাভাবিক ভাবেই তাদের কাছে প্রশ্ন, আড্ডা  দিতে ধানমন্ডি লেকে কেন ? ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের  ছাত্র নবীন বলেন ‘দেখতেই পাচ্ছেন কী সুন্দর পরিবেশ। নির্ঝাঞ্জাট খোলামেলা জায়গায় আড্ডা দিতে কার না ভাল লাগে বলুন। সারাদিন তো পিসি আর ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকি।  এর ফাঁকে বন্ধুদের সেঙ্গে আড্ডাটা যদি এমন সুন্দুর জায়গায় হয় তো মন্দ কী!

 

লামিয়া বলেন, আসলে আমরা এই এলাকার বাসিন্দা সেটাও একটা কারণ।  তারপরও ধানমন্ডি লেক কিন্তু  অসাধারণ স্থান আড্ডা দেয়ার জন্য।  লামিয়ার মৃদু প্রতিবাদ করে হিমেল – এই এলাকার  সেটাই আসল কথা নয়, আপনি দেখবেন অনেক দূর থেকেও  মানুষ আড্ডা দিতে  আসে এখানে।  আসলে জায়গাটা  সুন্দর তাই সবাই আসে। আড্ডার স্থান হিসেবে এটা কেমন ? এ প্রশ্নে সবাই একযোগে বলে ওঠে ‘অসাধারণ” ।  নবীন আবার বলে, অবশ্য মাঝে মাঝে বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনীয়দের আগমন এত বেশী হয় যে, নিরিবিলি আড্ডা দেয়ার সুযোগ নেই। তবে তাতে তো করার কিছু নেই, সবার ভালো লাগে তাই আসে। সামির বলে, ছুটির দিনের ভিড়টাও আবার আরেকদিক দিয়ে উপভোগ্য হয়, অসংখ্য মানুষ আসে।  এক কথায় জমজমাট পরিবেশ।  আর কী থাকে আপনাদের আড্ডায় এমন প্রশ্নে সব তরুণের মতোই তাদেরও সচকিত জবাব- আমাদের আড্ডায় কী থাকে সেটা নয়, বলুন কী নেই ? খুররাম বলেন, জগতের সব পাবেন এখানে। কোনো নির্দিষ্ট টপিক নেই, যা মনে আসে তাই বলি।  গল্প করি, বাদাম-আইক্রিম-ফেরিওয়ালার চা ইত্যাদি যখন যেটা পাই খাই।  এভাবেই সময় কেটে যায়।

 

উদ্যানের মাঝখানে সবুজ খাসের ওপর গোল হয়ে  বসে কাগজ-কলম নিয়ে কাজ করছে একদল তরুণ-তরুণী। কাছাকাছি যেতেই উৎসুক দৃষ্টিতে চাইল দু একজন। উদ্দেশ্য বলার পর তরুণদের মধ্যমণি নিলয় বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট করছি ভাই, এই ঝামেলা শেষ হলে আড্ডা দেব।  ধানমন্ডির একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারা।  বললেন,  ’এখন যদিও ক্লাসের কাজ করছি, তবে আমরা নিয়মিত আড্ডা দেই। ক্লাসের  ফাঁকে সুযোগ পেলেই ছুটে আসি বন্ধুরা মিলে। কোনো রুটিন নেই, কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। সময় পেলেই ছুটে আসি আড্ডা মারতে। এসবের  মতো আরও শত শত মানুষ প্রতিদিন আড্ডা  দিতে আসে ধানমন্ডি লেকে। স্কুল থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত সব  বয়সের ছাত্ররা আড্ডা দেন কিছু পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষ, আশপাশের কোচিং সেন্টারগুলোর ছাত্র / ছাত্রীর অভিভাবকরা তাদের অপেক্ষার সময়টুকু কাটায় নিজেদের মধ্যে আড্ডা দিয়ে।  মনের মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে ও কেউ কেউ বেছে নেয় এই সুন্দুর জায়টিকে।

 

পাঁচ নম্বর ব্রিজের কাছে এক চা বিক্রেতাকে ঘিরে জটলা করে আছে কয়েকজন।  সবাব হাতে অফিস ব্যাগ।  আলাপ  করে জানা গের তারা একটি বাজারতাজকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী।  কজ শেষে  বাসায় ফেরার ফথে তাদের ভাষায় একটু হাওয়া খেতে এসেছেন লেকে। কাছাকাছি অফিস, তাই প্রতিদিন  অফিস শেষ করার পর কিছু সময় লেকে আড্ডা দিয়ে তারপর ঘরমুখো হন তারা।  তাদেরই একজন হালিম শেখ বলেন, সারাদিন  কাজের চাপে দম ফেলার সময় পাই না। তাই কাজ শেষে  একটু রিলাক্সড হয়ে বাসায় যাই।  আবার তো কাল সকালে উঠেই দৌড় শুরু হবে। বলতে বলতে হেসে ওঠেন তিনি।  হালিম শেখ  আর তার সহকর্মীরা যখন ফেরিওয়ালার  কেটলির চা শেষ করছিলেন, সেময় কলা বাগান ক্লাবের কাছের ব্রিজের ঢাল থেকে ভেসে আসেতে থাকে গিটারের টুংটাং শব্দ।  ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির একদল ছাত্র সেখানে জমিয়ে তুলেছে চারদিকের পরিবেশ। কাছে গিয়ে দেখা গেল একজনের হাতে গিটার, সবাই মিলে গাইছে গলা ছেড়ে।  শৌখিন  শখের  গিটার বাদক, আড্ডার সময় নিজের অল্পবিস্তর সংগীত প্রতিভা শেয়ার করেন বন্ধুদের সঙ্গে।  বন্ধুরা কেউ গানের শিল্পী না হলেও শৌখিন যখন গিটারের ঝঙ্কার তোলেন তখন কেউ আর চুপ থাকতে পারেন না।সরাসরি প্রশ্ন তাদের কাছে – আড্ডা দিতে লেকে কেন ?  পাল্টা প্রশ্ন করে তন্ময়- কোথায় যাব তাহেলে বলেন?  ভার্সিটি শেষে একটু আড্ডা মারি এখানে। সুন্দর  নিরিবিলি জায়গা। এর মতো আর কোথাও আছে নাকি ? তন্ময়ের মতো দলের আর সবারও একই মত।  সবাই একবাক্যে স্বীকার করে আড্ডার স্থান হিসেবে ধানমন্ডি লেক অনন্য।  তাই আর সবার মতো তারাও নিয়মিতই আড্ডা দেন এখানে।

 

এমনিভাবে যারাই আসেন লেকে আড্ডা দিতে, সবাই একটা জায়গায় একমত, এমন মনোরম পরিবেশ আর হয় না আড্ডার জন্য।  প্রাণ খুলে বন্ধুদের সঙ্গে মনের মতো সময় কাটানোর যে মানুষের সহজাত প্রবণতা তাকে পরিপূর্ণতা দিতেই যেন আড্ডার সব সহায়ক উপকরণ নিয়ে উপস্থিত ধানমন্ডি লেক।  আর তরুণরাও যে তা লুফে নিতে এক মুহুর্তও দেরি করতে রাজি নয়।  তাই তো প্রতিনিয়তই চলে আড্ডাবাজি, বাজে তারুণ্যের জয়ধ্বনি।

 


ইউরোপের ককপিটে

Category : ভ্রমণ

ইউরোপের ককপিটে

 

এ অঞ্চলে হ্রদ, বাগান ও বনের অপূর্ব সম্মিলন, পাখির ডাক ও পাতার মর্মর-ধ্বনি আবিষ্ট করে রাখে রাত দশ টা পর্যন্ত, আর তখনই বেলাটি ডোবে, এর আগে নয়।

 

২০০৯ সালের ২৬ মে সারাদিন আবুধাবি বিমানবন্দরে ঘুরেফিরে খেয়েদেয়ে নাদুসনুদুস হয়ে পরদিন ব্রাসেলস বিমানবন্দরের  নেমেই একটা ধাক্কা খাই। ইমিগ্রেশন  কর্মকর্তা আমাকে জিজ্ঞেস করে, কোন উপলেক্ষে এসেছো? বলি বৈজ্ঞানিক সফরে, ল্যাবরেটরি ভিজিট।  তরুণ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক জিজ্ঞেস করে, বলো তো ‘HACCP’ বলতে কি বোঝোয় ? উত্তর দেই, জানি না। তাহলে ল্যাব ভিজিটে কী করে এলে ?  আবার বলি, আমি বিজ্ঞানী নই, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে দলে অর্ন্তুভুক্ত হয়েছে, এমন আরো আছে।  সো আমার দিকে তাকিয়ে হাসি-কান্নার মাঝামাঝি অভিব্যাক্তি নিয়ে পাসপোর্ট এ ইমিগ্রেশনের সিলটা সেঁটে দেয়।  আমি ভেতরে ঢুকে কিছুটা অস্বস্তির অনুভুতি নিয়ে ড. মমতাজ দৌলাতানাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এর অর্থ Hzard, Analysis Critcal Control Point. বলি, আগে যে কেন  আমাকে পড়িয়ে আনলেন না।

 

বেলজিয়ামকে বলা হয় ইউরোপের ককপিট। কারণ বেলজিয়ামে যুদ্ধক্ষেত্রের  সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।  যেমন- Oudenarde, Ramilies, Fortenoy, Fleurus, Jemmapes, Ligny, Quarter Bar, Waterloo ইত্যাদি।  এক সময় বেলজিয়াম থেকে ইউরোপ এর যে কোন দেশে সহজে গমনাগমন সম্ভব ছিল।  তখন ফ্রান্স থেকে জার্মানি আক্রমণ এবং জার্মানি থেকে ফ্রান্স কিংবা স্পেন থেকে নেদারল্যান্ডস আক্রমণে বেলজিয়াম এর মাটি ব্যবহৃত হতো।  ১৮৩০ – ৩৯ খ্রিষ্টাব্দের বেলজিয়াম বিল্পব আরো দুটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। নেদারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ।  তিন প্রতিবেশি একত্রে মিলে হয় Benelux. তাই আগে ভাগেই ভেবে নেই ককপিটে বসে বেনেলাক্সের পুরোটাই ভ্রমণ করব কিংবা যাব ফ্রান্স  অথবা অন্য কোথাও।

 

বেলজিয়ামের Federal Agency for the Safety of the Food Chain- এর প্রতিনিধি মিস ওরিয়ে ক্রিস্টিন বিমানবন্দরে আমাদের অভ্যার্থনা জানান।  এদিন বিকালে  ‘Grand Place’ দর্শনপূর্বক ব্রাসেলস শহরে একটা চক্কর দিয়ে চলে আসি হোটেল La Vignett এর  এটি উপশহর টারভুরেনে অবস্থিত।  এখনকার একটি জঙ্গলের ভেতর Food Chain এজেন্সির  ল্যাবটি স্থাপিত।  স্থানটি অতি চমৎকার। রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা আমাকে অচ্ছন্ন করে রাখে: কাজল গভীর এ বন মধুর লাগে, কিন্তু আমার ঢের কাজ বাকী আছে, যেতে হবে দূরে ঘমিয়ে পড়ার আগে।  কত দূর যাব জানি না, তবে ফ্রান্স আর নেদারল্যান্ডস তো অবশ্যই।  এই বন-জঙ্গলের মধ্যে হয়েছে আবার বৃষ্টি।  তাই সন্ধ্যায় সব ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি। ভাগ্যিস একটা পাতলা সোয়েটারে এনেছিলাম। মে মাস বিধায় অন্যেরা কেউ কিছু নেয়নি। সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, আত্মীয় রফিকুল ইসলাম সস্ত্রীক চলে আসেন সাক্ষাৎ করতে।  জনালেন, গতকালই তাপমাত্রা উনত্রিশ ডিগ্রি ছিল, আজ হয়তো ছয়-সাত। বেলজিকরাই তাই বলে থাকে, আবহাওয়া আর আমাদের নারীর মন বোঝা ভার।  এবার রফিকের স্ত্রীকে একটু হাসতে দেখি।

 

পরদিন প্রতুষ্যে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে।  পাখ-পাখির  এতটা ডাকবে আগে ভাবিনি। এ অঞ্চলে হ্রদ, বাগান ও বনের অপূর্ব সম্মিলন, পাখির ডাক ও পাতার মর্মর ধ্বনি অবিষ্ট করে রাখে  রাত দশটা পর্যন্ত, আর তখনই বেলাটি ডোবে, এর আগে নয়। মেঘ কেটে দিয়ে রোদ উঠলে বেলজিকরা এখানে –সেখানে বসে আড্ডা দেয়, কিছুটা হৈ-হুল্লোর করে।  আজ উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হিসেবে পরিবদর্শন করি আফ্রিকান জাদুঘর। ভেতর ছাড়াও বাইরের পরিবেশ অতি চমৎকার।  এর চত্বরে রয়েছে কাষ্ঠনির্মিত অনেক হস্তমূর্তি। আর তাদের ইতিহাসের সাক্ষী বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর নির্দশন। ভেতরে প্রচুর অ্যানটিকের উপস্থিতি, যেন এক টুকরো আফ্রিকা।

 

বেলজিয়াম পুরো দেশটাই ইতিহাসের নানা ঘটনার  সাক্ষী। ইতিহাস এর বিভিন্ন পর্যায়ে  প্রচুর জাতিগত ও ভাষিক মিশ্রণ ঘটেছে। এখানকার ওলন্দাজ ভাষিকদের বলা হয় Flemish (Flanders), আবার ফরাসি ভাষীদের Walloons (Wallonia) ছেলেবেলায় প্রায়ই একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতাম: পথিবীর সবচেয়ে  মজবুত ও মানসম্পন্ন কাচ কোন দেশে উৎপন্ন হয় ?  বলাবাহুল্য সেটি বেলজিয়াম।  এখন কাচের স্থান দখল করেছে চকোলেট।  তবে পুজিবাদী বিশ্বে বেলজিয়াম এর খ্যাতির অন্ত নেই। ইউরোপীয়  দেশগুলোর ঐক্যের অন্যতম নেতা এ দেশটি, যেখানে অবস্থিত ন্যাটোর সদর দপ্তর।  ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানী এ বেলজিয়ামে ইউরোপীয় পার্লামেন্টেও অবস্থিত। উল্লেখ্য, ইউরোপ ক’বছর  আগেই চালু করেছে তার নিজস্ব মুদ্রা  ইউরো, যা এখন বিশ্বের মুদ্রাবাজারের অন্যতম নিয়ামক শক্তি। ইউরোপের এ সাফল্য বেলজিয়ামেরই জয়জয়কার ঘোষণা করছে।

 

তবে আমরা এখন সাফল্যের দিকে না তাকিয়ে আপাতত তাকাই ইতিহাসের দিকে।  স্থির হয় আগামী ত্রিশ মে যাব ওয়াটারলু। সকালে রফিকুল ইসলাম আসেন দূতাবাসের চালক দেলোয়ারকে  নিয়ে।  সঙ্গে তার নিজের  যানটিও। গিয়ে দেখি নেপোলিয়ানের যুদ্ধক্ষেত্র এখন ফসলের জমি,  তথায় নানা ফসলের চাষ হয়েছে। ট্যুরিস্ট বাসে মাঝেমধ্যেই ঘটনাকেন্দ্রিক বর্ণনা ও শব্দ বেজে উঠছে, যেমন:  অশ্বখুরধ্বনি, তলোয়ারের ঝনঝনানি ইত্যাদি। প্রথম ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্ট ও সাত মিত্রশক্তির ( যুক্তরাজ্য, প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়া, এবং অন্যান্য) মধ্যে ওয়াটারলুর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১৮১৫ খ্র্রিষ্টাব্দ এর ১৮ জুন।  সপ্ত-মিত্রের দুই অধিনায়ক ছিলেন Duke of Wellington   এবং General Von. ওয়াটারলু ছিল  একটি কৌশলগত স্থান, যেখান থেকে মিত্রশক্তির দ্বারা নেপোলিয়নের বেলজিয়ামে অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব ছিল। ওয়াটারলুতে  পাহাড়ের ওপর ফ্রান্সের  দিকে মুখ করে একটি সিংহমূর্তি স্থাপিত হয়েছে, নাম La Butte du Lion. ২২৬ টি সিঁড়ি অতিক্রম করে ওখানে উঠতে হয়।  অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে ওয়েলিংটন জাদুঘর এবং সেন্ট যোসেফের রোমান ক্যাথলিক চার্চ, যেখানে ওয়েলিংটন যুদ্ধযাত্রার আগে প্রার্থনা করছিলেন।  এ স্থাপনায় ব্রিটিশ এবং ওলন্দাজদের স্মৃতিচিহ্নও দৃশ্যমান।

 

এবার আমাদের আস্তানা ব্রাসেলসের  হোটেল ব্লু ম দুপুরের পর বাঙ্গালি ভাইদের সহায়তায়ই রওনা দিই Atomium অভিমুখে।  এটোমিয়ামের স্থাপত্যশৈলী অপূর্ব।  Atomium ১০৩ মিটার  উচ্চাতার এক প্রতিকী কাঠামো, যা ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ব্রাসেলস বিশ্বমেলা উপলক্ষে স্থাপিত হয়।  স্থানটির নাম হিজেল।  স্থাপনাটির ডিজাইনার প্রকৌশলী মোজার্ট, আর স্থাপতিদ্বয় আঁন্দে ও জাঁ পোলাক। ভবনটির উচ্চতা ১০২ দুই মিটার।  এর ৯টি ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) ব্যাসযুক্ত স্টেইনলেস স্টিলের গোলক এমনভাবে টিউব দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে যাতে প্রতিটি স্বচ্ছ গোলক এক বিলিয়ন গুণ বড় হয়ে প্রদর্শিত হতে পারে।  এতে এস্কেলেটর ও লিফট এর সংযোগ রয়েছে, যেন নয় গোলক এর পাঁচটি বিচরণযোগ্য গোলকে দর্শনার্থীরা আরোহণ করতে পারে।  এসবে আছে Expo hall,  প্রদর্শনী হল ইত্যাদি।  শীর্ষ গোলকটি থেকে পর্যটকরা পেতে পারেন ব্রাসেলস শহরের প্যানারোমিক ভিউ।  সিএনএন এটিকে ইউরোপ এর সবচেয়ে উদ্ভট ভবন বলে আখ্যায়িত করেছে।

 

এটোমিয়ামের পর চলে আসা হয় পাশের পুরনো রাজবাড়িতে। চালক দেলোয়ারের বদান্যতায় কেবল পুরনো নয়, নতুন রাজবাড়িও গমন সম্ভব হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর পরিদর্শন এর  জন্য বিজ্ঞান সচিব নাজমুল হুদা খান আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।  তাই প্রথম ইউরোপলই দেখতে হলো। দুটো ভবনই আলিশান এবং অতি চমৎকার।  ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদর দপ্তরের সামনে গিয়ে স্তম্ভিত হই। এত বড় কাচ-ভবন ? ব্রাসেলসকে বল হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানী, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে কোন রাজধানী ঘোষণা করেনি।  আমস্টারডাম চুক্তির মাধ্যমে আসলে ব্রাসেলসকে পার্লামেন্টের কাজ চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল মাত্র। মে মাস বিদায়, জুনে  দ্বিতীয় দিবসে উঠি লেপেলবেড হোটেলে। সেটি মিলে শহর।  সরাদিন ল্যাব সাদা অ্যাপ্রোন পরে কাটিয়ে  Gent শহরে যাওয়া হয়।  পুরনো এ শহরে একটা খাল বা নদী পেয়ে পুলকিত হই। কাছে কোথাও  বিমানবন্দর থাকায় শহরের আকাশজুরে পাই বিমানের ধোয়ার আঁকিঝুঁকি, নকশা, ও ধুম্র-ডিজাইন।  শুনেছি গেন্ট এর বিশ্ববিদ্যালয়টি বিখ্যাত। এখানে খাল নদীর পাশাপাশি দেখি ফুলগাছ, আর চারদিকেই রেস্টুরেন্ট এর ছড়াছড়ি।  Melle Leeuw স্টেশনে হয়ে আবার লেপেলবেডে ফিরে আসি। আমাদের কাঠের কক্ষে অনেক স্পেস, চারটি বেড, মানুষ মাত্র দুইজন, আমি আর মোখলেছ।

 

রাতে ল্যাব কর্তৃপক্ষ আমাদের  নৈশভোজে  আমন্ত্রণ জানায়।  হোটেলে গিয়ে পাশের হলরুমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে পাই। তবে বিয়েটা হচ্ছে  দুই নারীতে। সমলিঙ্গের বিবাহ ওই সমাজে স্বীকৃত। প্রচুর লোক  সমাগম হয়েছে এবং ওরা নাচ-গানে একেবারেই মেতে উঠেছে। একটি নিগ্রো ও একটি শ্বেতাঙ্গ নারী। দুজনেই লম্বা, কালোজন মেয়ে পোষাক পরিহিতা, সাদাটি ছেলের মতো, কেবল বুক ঢাকা, তবে পিঠ উদাম। খেতে যুবক শাশার সঙ্গে আলাপ জমে উঠে।  সেও  একমত হয় এটা Lesbianism.  শাশা জানায়, নেদারল্যান্ডস এর আঞ্চলিক এবং  কিঞ্চিৎ অশ্লীল ভাষাটির নামই Flemish। তবে এটি নান্দনিক অশ্লিলতা।  উত্তম স্বাস্থের অধিকারী এ শাশাকে আমি নাম দিয়েছি ‘ বাঘের বাচ্চা’।   সে গতকাল বদলি হয়ে এ ল্যাবে যোগদান করেছে।  পরদিন বাড়ি ফেরার তাড়ায় প্রায় প্রত্যেকরেই ঘুম ভাংগে প্রত্যুষে।  খালি রাস্তায় বিশ মিনিটের পথ অতিক্রম করে খবর পাই, আমরা মাছুমাকে ফেলে এসেছি। সে ঘাবড়ে যায় এবং কান্নাকাটি করে হোটেল-অফিসের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগে সক্ষম হয়।  একটা গাড়ি ফিরে যায় এবং  অতিরিক্ত অধাঘন্টা পর ওক বিমানবন্দরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এটি আসলে দলগত ব্যর্থতা, দলের মধ্যে এমনটি হওয়া কাঙ্খিত নয়।  তবে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত দায়িত্বও রয়েছে।

 

ইতিহাদ বিমানটি নড়েচড়ে দৌড় দিয়ে আকাশে উড়ল কত কথাই না মনে পড়ে!  মনে পড়ে আমস্টারডাম সিটি ট্যুর কীভাবে পরিদর্শন করেছিলাম ডায়মন্ড ফ্যাক্টরি, কোনো এক অজ্ঞাত রেলষ্টেশনে কীভাবে স্তম্ভিত হয়েছিলাম দেবশিশুর মতো সুন্দর শিশু দেখে। ওই খান থেকে ফিরতে কভিাবে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ট্রেনটি মিস করে আধাঘন্টা পর অন্য ট্রেনে ব্রাসেলস ফিরেছিলাম।  স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল পরেরদিন কীভাবে প্যরিস মেতেছিল উন্মাদের মতো, পৃথিবীর কত শত ভাষার মানুষের  কথা শুনে ছিলাম আইফেল টাওয়ারের গোড়ায়।  তারপর লুভ মিউজিয়াম, মোনালিসার অদ্ভুত হাসি.. Thaly’s ট্রেনের ছাদে শিলাবৃষ্টি পতনের শব্দ..।  এবার ইউরোপে এসে এ স্বল্পকালীন প্রবাসেই অনেক আবেগের  জায়গা তৈরি হয়।  আমাদের এগিয়ে দিতে আসা মিস ক্রিস্টিন যতক্ষণ বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে আমাদের কাচের  ভেতর দিয়ে দেখা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত দাড়িয়ে ছিল।  বিমানবন্দরে শেষ মূহুর্তের স্যুভেনির  কেনাকাটায় আকাতরে বিলেয়েছে ধাতব ইউরো-মুদ্রা। আমরা তাকে হাত নেড়ে বিদায় জানাই। ইউরোপ এমনও হয়।

 

বিচিত্র অভিজ্ঞতা

 

  • Wetteren স্টেশনে যেতে বাসে অপর এক বৃদ্ধের সঙ্গে আলাপ হয়। তাকে এক পর্যায় জিজ্ঞেস করি:  Vous puvez parler Francais ?  তিনি ধরে নেন আমি খুব ভাল ফরাসি জানি। (এক সময় জানতাম বটে)  এ ধারণা থেকে তিনি আমার সঙ্গে অনর্গল নিজস্ব স্টাইলে ফরাসি ভাষায় কথা বলে যান, যার মাথামুন্ড কিছুই বুঝিনি।  কেবল তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলে গিয়েছি হ্যাঁ, না, অনেক ধন্যবাদ ইত্যাদি।  একথা  ল্যাবের  মিস মিক-কে জানালে তিনি খুব হাসাহাসি করেন। ( মিস মিকে পাতলা ও লম্বা যার বীপরীত মিস ক্রিস্টিন যে কি না আমাদের প্রটোকল দেন।)
  • বেলজিয়াম সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল উচ্চ। সেটি যথাযথ পেয়েছি, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করলাম। যেমন- ব্রাসেলস শহরটি কিছুটা নোংরা। স্টেশনে অনেক ময়লা-আবর্জনা দেখেছি, এমনকি বিষ্ঠাও  দেখতে পাই। যেভাবে হাইরাইজ ভবনের  সামনে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে অনেক পলিথিন ভাসতে দেখি, তাতে আশ্চর্য না হয়ে পারি না।
  • ইউরোপ বর্তমানে কৃপণ হয়ে গেছে। এখন আর শপিং করলে বিনা পয়সায় উন্নমানের পলিব্যাগ দেয় না।  একদিন Carrefour শপে কেনাকাটা শেষে শপিং ব্যাগ চাইলে  দোকানি বলে তোমাকে দশ সেন্ট দিয়ে নিতে হবে।  পাশে দাড়ানো একটি বেলজিক তরুণী ফোড়ন কাটে, এখানে তুমি কোনো কিছুই বিনা পয়সায় পাবে না। কারণ এটা বেলজিয়াম।  তারপর উভয়েই সশব্দে হেসে উঠি।
  • বেলজিয়াম এর সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশের অনেক মিল আছে।  এখানে অনেক খানাখন্দ, জলধারা দেখেছি। এসেবে বাংলাদেশের মতো অনেক বর্ষাকালীন জলজ উদ্ভিদ রয়েছে , যেমন – শাপলা, ও অন্যান্য।  বাতাসে সব সময় তুলোর মতো  কী যেন  ওরে। ‍  এগুলো হয়তো বায়ুদুষণ। শৌচাগারে প্রায়ই ময়লার স্তুপ দেখেছি।
  • এখানে বাস করে অনেক স্বল্পোন্নত দেশের মানুষ। মরোক্কানদের  বাঙালী নাম দিয়েছে খেজুর।  অনুন্নত দেশের মানুষ ওই খানে গিয়ে চুরি –চামারি করে দেশটাকে বিনষ্ট করেছে।  তাই বেলজিকরা সব সময় আমাদের ব্যাগ  ও মূল্যবান  দ্রব্য সাবধানে রাখতে বলে। একদিন গাড়ির সিটে ক্যামেরার  কভার রেখে কেবল ক্যামেরাটি নিতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন: এটিও নিয়ে নিন, কারণ  ওরা তো  আর জানবেনা যে কাভারটি খালি। কাজেই ওটা নিতে চোররা গাড়ির কাচ ভেঙ্গে ফেলবে।
  • ল্যাব ভিজিট এবং যে কোনো আলোচনায়  বসার আগে ওরা প্রায়ই  আমাদের academic discipline জানতে চেয়েছে।  বিসিএসআইআর এর বিজ্ঞানীরা বলেছেন কারো Chimistry কারো Molecular biology বা অন্য কিছু। বাকি তিন জন বলেছি Town Planning , Public Administration কিংবা আমাদের বিষয় শুনে ওরাহেসেছে, বিস্মিত হয়েছে।  এক পর্যায় ড. মমতাজ দৌলতানাকে বললাম, আপা পুনরায় কেউ জিজ্ঞেস করলে বলব,  Molecular Public Administration শুনে সবাই হাসলেন। তারপর মাছুমা  বলল, খুব বেশি  বলবেন স্যার এবং সাকুল্যে একবারই বলবেন।  কারণ বিষয়টি কী, কারো কারো জনার আগ্রহ জন্মাতে পারে।  বেলজিয়ামে আমাদের বিস্ময়ের  অন্ত ছিল না তাদের  খাদ্য দ্রব্যের  মান নিয়ন্ত্রণ এর দক্ষতা ও সামর্থ্য দেখে।  ভেজাল দূরীকরণেও তারা সিদ্ধহস্ত, যা থেকে আমরা অনেক অনেক দূরে।

 


পারিবারিক রোড ট্রিপস

পারিবারিক রোড ট্রিপস এর জন্য কেন গাড়ি ভাড়া করবেন তার ৬ টি কারণ

আপনার পরিবারকে সম্ভবত এখন একটি ট্রিপের জন্য জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। একটি অবিস্মরণীয় ট্রিপ যা তাদের শহর জীবন থেকে অব্যাহতিতে সাহায্য করবে, এবং আপনি অবশেষে এটি বিবেচনা করবেন। আপনি ইতিমধ্যে গন্তব্য ঠিক করে নিয়েছেন, এবং এখন আপনার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি গাড়ী খুঁজে বের করতে হবে। আপনি এই সড়ক পথে ভ্রমণের জন্য একটি গাড়ী ভাড়া করতে পারেন। অবশ্যই হ্যাঁ! পারিবারিক সড়ক পাথে ভ্রমণের জন্য সম্ভবত গাড়ি কেন ভাড়া নেওয়া উচিত তা আপনার জানা উচিত।

১। ব্যবহারাদির ফলে ক্ষয়

এটির সাধারণ ধারণা যে আপনি যত বেশি ড্রাইভ করবেন, তত বেশি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ ভ্রমণ আপনার গাড়ীতে আঘাত এবং মেরামতের প্রয়োজনীয়াতার সৃষ্টি করে। ১,০০০ মাইল এর জন্য আপনার গাড়ীর ড্রাইভিং কল্পনা করুন। কিন্তু আপনাকে শুধু গ্যাস ট্যাংক ভর্তি করার চেয়ে আরো বেশি কিছু করতে হবে।

সস্থায় পুরনো গাড়ি ভাড়া করবেন না। এতে আপনার গ্যাস বেশি খরচ হবে। গাড়ি রাস্তায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রতিদিন ৫০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে আপনার ১০০০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাবে। আর আপনি পুরনো গাড়ীতে চরে আরামও পাবেন না।

  1. আপনি আরো স্থান অর্জন করতে পারেন

সমস্ত ভ্রমণ একই নয়। আপনার পরিবারকে সমুদ্র সৈকত থেকে ঘুড়িয়ে নিয়ে আসা আর আপনার বাড়ির কাছ থেকে একটি ছোট দূরত্বের এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণের মতো নয়। পুরো ট্রিপের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যাগ আর লাগেজ সংরক্ষণ করার জন্য একটি বড় গাড়ি ভাড়া করতে হবে।

আপনার গাড়ী সম্ভবত একটি পরিবার ট্রিপ জন্য খুব ছোট। তাই আপনার উচিৎ অতিরিক্ত স্থান আছে এমন গাড়ী যেমন SUV, বা একটি Minivan যেমন Noah X বা Hiace ভাড়া করে যেতে পারেন।

  1. ‘কি হবে’ আপনার এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই।

যদি আমার গাড়ীর রাস্তায় কিছু হয়? যদি এই গাড়ি টি এই ভ্রমণের জন্য উপজুক্ত না হয়? এটা হলে কি হবে, ওটা হলে কি হত? আপনি নিজেকে এই সমস্ত যদি জিজ্ঞেস করতে হপারেন। কার রেন্টাল এজেন্সি গুলো তাদের গাড়ী ভাড়া দেওয়ার পূর্বে ভাল করে পরীক্ষা করে।

গাড়ী নিয়ে আপনার সমস্যায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কোন এজেন্সি চায় না তাদের রেপুটেশন খতিগ্রস্থ হোক। তাই যা কিছু ঘটুক তারা তা দ্রুত সমধান করার চেষ্টা করবে। অনেক এজেন্সি ইনস্যুরেন্স করা থাকবে।

৪। ভিন্ন ভিন্ন গাড়ী চালানো আপনাকে আনন্দ দিবে।

আপনার হয়ত নিজের একটা গাড়ী আছে, এটা আপনাকে ভ্রমনে তেমন একটা বেশি আনন্দ দিবে না, কেননা এটা একই গাড়ী চালাতে আপনার ভাল নাও লাগতে পারে। ছুটি এবং ভ্রমণ আনন্দপূর্ণ হওয়া উচিৎ। হয়তবা আপনি এমন একটা গাড়ী ভাড়া করতে পারেন যেটা আপনি সব সময় চাইতেন, অথবা এমন একটি সুপার কার।

আপনি যখন একটি নতুন গাড়ী কিনতে যাবেন তখন রিভিউজ এর উপর নির্ভর না করে, এমন একটি গাড়ী কিনুন যেটা লং ড্রাইভ এর জন্য উপযুক্ত।

৫। আপনার কিচু অর্থ বাঁচান উচিৎ

সম্ভবত আপনাকে ভ্রমণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্চে, কিন্তু আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর অবস্থা যাচ্ছে তাই। কিন্তু আপনি আপনার ভ্রমন বাতিল করতেও পারছেন না। তেল খরচ কম হয় এমন গাড়ী ভাড়া করুন।

কিন্তু তেল কম খরচ হয় এমন গাড়ী পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই দেখে শুনে নিতে হবে, যেহেতু এগুলোর চাহিদা বেশি তাই আগে থেকেই বুকিং দিন।

আপনি প্রচুর টাকা বাঁচাতে পারেন যদি আপনি বোথ ওয়ে (যাওয়া আশা) গাড়ী ভাড়া করেন একজনের কাছে।

৬। একটি নতুন গাড়ী ভাড়া করুন যাতে আপনাকে কোন দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয়

একটা নতুন গাড়ীতে পুরাতন গাড়ির মত অত সমস্যা নেই। বেশীর ভাগ কার রেন্টাল কোম্পানিতেই নতুন গাড়ী পাওয়া যায়, যেগুল অল্প কিছু দূর চলেছে।

যে গাড়ী গুলো ভালো ভাবে মেইনটেইন করা হয়, তাদের গ্যাস মাইলেজ বেশী পাওয়া যায়। হয়তবা এগুলো আপনার ব্যক্তিগত গাড়ীর চেয়েও ভালো এবং ওয়েল ইকিউইপ্ট এবং অতিরিক্ত অনেক ফিচার পাওয়া যাবে।

ভ্রমণ হচ্ছে মধুর বিষয় – এবং এটা আপনার পরিবারকে যথেষ্ট আনন্দ দিতে সাহায্য করবে। একটি নতুন গাড়ী আপনার অভিজ্ঞতার ঝুড়িকে ভারী করবে এবং আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তুলবে। আপনার পরের ভ্রমণের জন্য একটি গাড়ী ভাড়া করুন।

 


Ask For Rent/ Fare

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

We will let you know the "Rent/Fare" within 10 minutes through SMS or Email.
Call Now ButtonCall Now!
Skip to toolbar