নবাবরা নেই, স্মৃতি হয়ে আছে আহসান মঞ্জিল

  • 0

নবাবরা নেই, স্মৃতি হয়ে আছে আহসান মঞ্জিল

Category : Uncategorized

ahsan manzil

ahsan manzil

ঢাকার কয়েক শ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে এখনো যে কয়টি স্থাপনা টিকে আছে আহসান মঞ্জিল তার অন্যতম। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে যেসব প্রকাশনা আছে তার প্রায় সবখানেই এর বর্ণনা রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর থেকে প্রকাশিত ‘আলোকচিত্রে সেকালের ঢাকা’ অ্যালবামে ১৮৮৮ সালের ৭ এপ্রিল টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত এই নওয়াববাড়ি এলাকার অন্য রকম একটি ছবি পাওয়া গেল। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, মোগল আমলে এখানে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহর রংমহল ছিল। তাঁর ছেলে মতিউল্লাহর কাছ থেকে কিনে ফরাসিরা এখানে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ঢাকার নওয়াব পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলীমুল্লাহ ১৮৩০ সালে ফরাসিদের কাছ থেকে কুঠিবাড়িটি কিনে সংস্কার করে বাসভবনে পরিণত করেন। তাঁর ছেলে আবদুল গনি আধুনিক নকশায় সেখানে নতুন একটি ভবন করে নিজের ছেলে খাজা আহসানউল্লাহর নামে নাম রাখেন ‘আহসান মঞ্জিল’। ১৮৫৯ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৮৭২ সালে শেষ হয়। নবনির্মিত প্রাসাদ ভবনটি তখন রংমহল এবং আগের ভবনটি অন্দরমহল নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ১৮৮৮ সালে ৭ এপ্রিল প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে অন্দরমহলটি একেবারে ভেঙে পড়ে। পরে সংস্কারের সময় বর্তমানে যে সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে সেটি সংযোজন করা হয়। ব্রিটিশ ভারতের যেসব ভাইসরয়, গভর্নর ও লে. গভর্নর ঢাকায় আসতেন সবাই এখানে এসেছেন। তবে ঢাকার নওয়াবদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে আহসান মঞ্জিলের জৌলুশও স্তিমিত হতে থাকে। জমিদারি উচ্ছেদ আইনের আওতায় ১৯৫২ সালে ঢাকা নওয়াব এস্টেট অধিগ্রহণ করা হলে নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ প্রাসাদটি ছেড়ে পরীবাগে চলে যান। অংশীদাররা বাছবিচার না করে প্রাসাদের কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়ায় ভবনটি ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বুঝে ১৯৮৫ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে সংস্কার করে। ১৯৯২ সাল থেকে এটি জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নবাব আমল নেই, তবে এখনো ঢাকার গর্ব হয়ে টিকে আছে এই আহসান মঞ্জিল।


About Author

Profile photo of Khaled

Khaled

I am Khaled, the owner from Khaled rent a car.

Leave a Reply