Category Archives: ভারত ভ্রমণ

ফ্যামিলি

ফ্যামিলি

 

সাফারির রোমাঞ্চকর অভিযানে একা কেন বেরোবেন, সঙ্গে নিন পরিবারের সকলকে। ভারতের বিভিন্ন জঙ্গল ও রাজস্থানের মরুভূমিতে চিপ, এলিফ্যান্ট আর ক্যামের সাফারিতে আপনার সঙ্গী আশোক মান্না ও তানাজী সেনগুপ্ত।

 

জিপ সাফারি।

 

’দি ল্যান্ড অফ টাইগার’ হিসেবে খ্যাত বান্ধবগড়।  ন্যাশনাল পার্ক কার সাফারির জন্যে বেশ পরিচিত।  মধ্যপ্রদেশের এই জাতীয় উদ্যান ৪৪৯ স্কোয়ার  মিটার জুড়ে এক সুবিস্তৃত সংরক্ষিত বনাঞ্চল। একে ঘিরে আছে বিন্ধ্য পর্বতের বত্রিশটি ছোট –বড় পাহাড়।  বাঘ ছাড়াও এখানে আছে নানা বন্যপ্রাণী। শম্বর, চিতল, বন্য শুয়োর, নীলগাই, চিঙ্কারা, চিতাবাঘ, প্যান্থার, হরিণ ও হায়না।  আছে  নানারকম পাখি এবং অসংখ্য প্রজাতির প্রজাতি। । চারদিকে রয়েছে শাল, আমলকী, মহুয়া, কেন্দু, বহেড়া গাছের  সারি।  গহিন জঙ্গল, ঘন ঘাস- মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে চরণগঙ্গা নদী । ওয়াটার হোল বা জলাশায় রয়েছে অনেক।

বান্ধবগড় ন্যাশনাল পার্কের ১০৫ বর্গকিমিতে ঘোরা যায় স্বচ্ছন্দে।  জিপ সাফারিতে একদিকে মেলে জঙ্গল ঘোরার আনন্দ, অন্যদিকে রোমাঞ্চও মেলে কম নয়।  ১৫ অক্টোবর থেকে ত্রিশ জুন পর্যন্ত এই সাফারিতে চলে দু’বার- সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছ’টার মধ্যে এবং দুপুর আড়াইটে থেকে চারটে মধ্যে। প্রথমবার সাড়ে চার ঘন্টার জন্য, বিকেলে তিন ঘন্টার জন্যে।  স্থানীয় রিসর্ট মালিক এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই সাফারিতে একটি জিপে পাঁচজন যাত্রী নেওয়া হয়, সঙ্গে থাকেন কর্তৃপক্ষ ‍নিযুক্ত একজন গাইড । তিনটি পার্ক সাফারি জোন আছে – তাল জোন (গেট ১) মাগদি জোন (গেট -২) ও পার্কে ঢুকে  এই জিপ সাফারিতে অংশ নিন।

কী ভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে মুম্বই মেলে কাটনি আসুন, সেখান থেকে জিপে বান্ধবগড়।

কোথায় থাকবেন: বান্ধবগড়ে প্রচুর বাজেট হোটেল আছে। আছে থ্রি স্টার, ফোর স্টার ও লাক্সারি রিসর্ট।

কখন যাবেন: অক্টোবর থেকে মে মাস।

 

এলিফ্যান্ট সাফারি

 

গুয়াহাটির উত্তর-পূর্বে ব্রক্ষপুত্রের ধারে গড়ে উঠেছে। কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান। ভারতীয় একশৃঙ্গী গন্ডারের জন্যে কাজিরাঙা আজ বিশ্বখ্যাত। শুধু মাত্র বিভিন্ন ধরনের বন্য জন্তজানোয়ার  দেখার লোভেই নয় প্রকৃতির অনন্য রূপ সৌন্দর্য দেখার লোভেইও বহু প্রকৃতিপ্রেমিক কাজিরাঙ্গায় ছুটে আসেন।  এত গন্ডায় একসঙ্গে বিশ্বের আরও  কোনও ন্যাশনাল পার্কে দেখতে পাওয়া যায় না।  শুধু গন্ডারই নয় এখানে দেখতে পাবেন বাঘ, হাতি, বাইসন ইত্যাদি জন্তু এবং নান প্রজাতির অসংখ্য হরিণ। এসব দেখার জন্যে সরকারি তরফে রয়েছে জিপ এবং হাতি সাফারির ব্যবস্থা। বনবিভাগের জিপ বা হাতির পিঠে  সওয়ার হয়ে বার্ড ওয়াচিং ট্যুরে অংশ নিতে পারেন। পার্কের নান রেঞ্জ থেকে এই সাফারি শুরু হয়।  সকাল পাঁচটায় বনবিভাগের জিপ বা মিনিবাসে তিন কিমি গিয়ে মিহিমুখ হাতি পয়েন্ট থেকে হাতির পিঠে চড়ে বন্যজীবজন্ত দেখার ব্যবস্থা আছে।  ট্যুরিস্ট লজের কাছেই বনবিভাগের  অফিসে বুকিং করে নিন। হাতি সাফারির চাহিদা খুব বেশি।  তাই আগেভাগে বুক করে নিন।  সকাল পাঁচটা এবং ছটায় ঘন্টাখানেকর এই সফরে গোটা পঁচিশেক হাতি যাচ্ছে জঙ্গলের খাল বিল জলায়। ছ মিটার উচু শরবনের  ভিতর দিয়ে দুলকি চালে হাতি চলেছে গান্ডারের সাম্রাজ্যে।  এভাবে যেতে যেতে চোখে পরবে নানা ধরনের পাখি এবং পরিযায়ী হাঁস।  হরিণের পালও চোখে  পড়া বিচিত্র কিছু নয়। এখানে বিলের ধারে প্রায় মানুষ সমান ঘাস জন্মায়।  এই ঘাস বনেই বিশাল দেহ নিয় একশৃঙ্গী গন্ডার।  নির্ভয়ে মনের আনন্দে ঘাস খেয়ে বেড়ায়।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে অসমগামী যে কোন ট্রেনে গুয়াহাটিতে নামুন। সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে চজলে আসুন কাজিরাঙায়। নিকটতম বিমানবন্দর  জোড়হাট।  কলকাত থেকে বিভিন্ন সংস্থার বিমান এখানে আসে।

কোথায় থাকবেন: অসম পর্যন্টন বিভাগের অনেকগুলি ট্যুরিস্ট লজ আছে কাজিরাঙ্গায়।  উল্লেখযোগ্য কয়েকটি: প্রশান্তি ট্যুরিস্ট লজ, অরণ্য লজ, বনশ্রী লজ, প্রভৃতি।

 

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কাজিরাঙায় যেতে পারেন।  আগে বুকিং  করে নেবন।

 


পাহাড়েরর পথে পথে

পাহাড়েরর পথে পথে

 

পাহাড়ের টানে চলুন ভারতের নানা জায়গায় । জেনে নিন পাহাড়ের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত।

 

তুঙ্গনাথ

 

চোপতাকে বলা হয় তুঙ্গনাথের গেটওয়ে। উচ্চতা ৩৮৮৬ মিটারের কাছাকাছি। দুরূহ চড়াই পথ তবে গুর্গম নয়। কংক্রিটের বাধানো, মসৃণ।  এ পথে চলার জন্যে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলবে। স্বচ্ছন্দে সপরিবারে যাওয়া যায়। হাঁটতে না পারলে ঘোড়া, ডান্ডি কিংবা কান্ডিতেও যেতে পারেন। পঞ্চকেদারের অন্যতম এবং হিন্দুদের পবিত্র শৈবতীর্থ এই তুঙ্গনাথ। উচ্চতায় কেদারনাথের থেকেও বেশি। শুধু তাই নয়, ভারতের সর্বোচ্চ মন্দির তুঙ্গানাথ। তুঙ্গনাথের পথে কেদারের মতো ভিড় নেই, নেই দূষণ।  হাতে গোনা অল্প পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।  এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ চেয়ে দেখার মতো। মাথার উপর গাছের ছায়া, পাখির কাকলি আর বিচিত্রধর্মী ফুল- সব মিলেয়ে এক সুন্দর যাত্রা। কিছুটা এগোতেই সামনে পড়ে সবুজ ভেলভেটে মোড়া এক বিস্তৃত বুগিয়াল। দলে দলে ভেড়া চড়ছে সেখানে। উপত্যাকার একপাশে বেশ কিছু অস্থায়ী ঘরবাড়ি এবং দুটি চায়ের দোকানও আছে এখানে। বিশ্রামের জন্যে এর থেকে ভাল জায়গা আর কী হতে পারে! শীতকালটা এ সব জায়গা ঢেকে থাকে পুরু বরফের চাদরে।  ঘুরে দেখা যায় ভ্যালিটা।  কিছুক্ষণ এখানে কাটিয়ে আবার হাটতে শুরু করুন। যত সামনের দিকে যাবেন, পথ তত খাড়া। পথের বাঁদিকে রয়েছে বিপদজনক গভীর খাদ। এরকম এক বাঁকের মুখে একটা একটা দোকান পেয়ে আবার বসা। তৃষ্ণা নিবারণ করুন রডোডেনড্রনের নির্যাস থেকে তৈরি বিশেষ এক ধরনের পানীয় খেয়ে।  এটা নাকি বলবর্ধক এবং বেদনা নাশক। ‍তুঙ্গনাথ পৌছেতে মোট ঘন্টা দুয়েক লাগল। তুঙ্গনাথ ভ্যালিটা বেশ বড়।  মন্দিরের কিছুটা আগে থেকেই রাস্তার পাশে বেশ কিছু দোকান। মন্দিদেরর গঠনশৈলি কেদারনাথের মতো, তবে আয়তনে অনেক ছোট। পাশের পাহাড় বেয়ে তিনটি ঝরনা নামছে আকাশকুন্ডে।  আকাশগঙ্গা নদীর উৎস এই আকাশকুন্ড।  রাতে অসম্ভব ঠান্ডা পড়ে তুঙ্গনাথ। সে কারণে দিনের দিন তুঙ্গনাথ দর্শন করে চোপাতায় ফিরে আসাই ভাল।  আর যারা তুঙ্গনাথ থেকে চন্দশিলা যেতে চান, তাদের এখানে রাত্রিবাস আবশ্যক। কারণ চন্দ্রশিলালার প্রশস্তি সর্যোদয়ে।  তা ছাড়া গাড়োয়াল ও কুমায়ুন হিমালয়ের অসংখ্য নামীদামী পর্বতরাজি এখান থেকে সুন্দর দৃশ্যমান।

 

কীভাবে যাবেন: বাংলাদেশ থেকে হাওড়া। হাওড়া থেকে ট্রেনে হরিদ্বার।  হরিদ্বার কিংবা হৃষীকেশ থকে বাসে উখিমঠ।  উখিমঠ থেকে বসে বা শেয়ার জিপে চোপতা।  চোপতা থেকে হাঁটা পথে কিংবা ঘোড়ায় তুঙ্গনাথ।

 

কোথায় থাকবেন: চোপতায় থাকার জন্যে আছে হোটেল হিমালয়, রাজকমল, বুগিয়াল ছাড়াও  চটির হোটেল।  তুঙ্গনাথের থাকার জন্যে আছ হোটেল মোটেল তুঙ্গেশ্বর, চন্দ্রশিলা, নীলকন্ঠ, হিমালয় গণেশ এবং কালীকমলীর ধরমশালা ও মন্দির কমিটির রেস্ট হাউস।

কখন যাবেন:  মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তুঙ্গনাথ ভ্রমণের আদর্শ সময়।

 

রংপো

 

পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিমের সীমান্ত শহর রংপো।  শহর লাগোয়া শান্ত, শুনশান পাহাড়ের কোলে সবুজ বনাঞ্চল।  এন জে পি স্টেশন থেকে  মিলবে গাড়ি। শিলিগুড়ি শহরঞ্চল পার হলেই সেবক। চারচাকা অনেক নীচে তিস্তার খরস্রোতা জলরাশিতে রবাবের ভেলায় দেখা যাবে র‌্যাফটিংয়ের জলছবি।  ৩১ নং জাতীয় সড়ক ধরে যেতে যেতে পেরিয়ে যাবে কালীঝোরা, তিস্তাবাজার।  এরপর মেল্লি। পাহাড়ি পথের ধারে দোকানপাট, বাড়িঘর নিয়ে জমজমাট এই ছোট জনপদ।  মেল্লি ছেড়ে খানিক এগুতেই রাস্তার বুকে তোরণদ্বার ।   পার হলেই রংপো শহর শহরে ঢোকার আগেই পাহাড়ি পথের দুপাশে শাল-সেগুনের সংরক্ষিত সবুজ বন।  রাস্তা জুড়ে রৌদ্রছায়ার খেলা।  প্রথম দর্শনেই মন জয় করে নেয় কংক্রিটের ছোট দোতলা অরণ্যনিবাসটি।  চত্বরে একফালি বাহারী বাগান।  দূর থেকে দেখা যায় পাহাড়ের গয়ে সিকিমির ঘরবাড়ি। সবুজের আঙ্গিনায় বসে রৌদ্রস্নান করতে করতে উপভোগ করুন পাহাড়ে মেঘ – রৌদ্রের কত রঙ্গ।  বেরিয়ে পায়ে হেঁটে পাড়ি জমানো যায় পাহাড়িয়াদের বসতিতে।  যেতে যেতে সেই পথে সিঙ্কোনা, সেগুন, বাঁশঝাড় আর ঝাউয়ের শব্দ। দেখা হয়ে যায় আদা, এলাচে খেত।  গাড়ি নিয়ে এক দিনে যাওয়া যাওয়া যেতে পেরে মানসং, আলগাড়া –র-পথে। বিকেলে ঘোরাঘুরি করেত পারেন রংপো শহরে। খেতে পারেন অতি উপাদেয় গরমাগরম মোমো আর রসমালাই।

ঘুরে আসুন লেয়ার মার্তাম ওয়াটার গার্ডেন গ্যাংটকগামী পথের ধারে পাহাড়ি নদীর পাশে চমৎকার জায়গা। ভীতরে সিমেন্ট বাঁধানো  ছোট ছোট পদ্মপুকুর, মরশুমি ফুল, ফেয়ারি করা বাগান আর গাছপালায়  সাজানো। পাহাড়ি প্রকৃতিকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগের জন্যে পাতা রয়েছে কাঠের বেঞ্চ।  ক্যাফেটেরিয়াতে মিলবে চা, কফি, স্ন্যাকস। রাত্রিবাস করতে চাইলে সে ব্যবস্থাও আছে।

কী ভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেনে এন জে  পি। স্টেশন চত্বর থেকেই পাওয়া যায় রংপো যাওয়ার প্রাইভেট গাড়ি।  পৌঁছে দেবে রংপো ফরেস্ট রেস্ট হাউসে।  বাসে ধর্মতলা থেকে মিলবে শিলিগুড়ির বাস। নামুন তেনিজিং নোরগে বাস টার্মিনালে।  গ্যাংটকগামী বাস বা জিপে আসুন।

 

কোথায় থাকবেন: বনবাংলোতে থাকতে চাইলে যোগাযোগ করুন- পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম, ৬এ, রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, কলকাতা -১৩। অথবা ডিভিশনাল ম্যানেজার কালিম্পং ডিভিশন, ডব্লু বিএফডিসি, কালিম্পং

কখন যাবেন: মার্চ  থেকে জুন ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর।

 

বিন্দু

 

ডুয়ার্সের পর্যন্টন পকেন্দ্রগুলোর মধ্যে বিন্দুর জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ভারত-ভুটান সীমান্তে, জলঢাকা নদীর তীরে ভারতের শেষ গ্রাম বিন্দু। এর প্রাথমিক এবং ভৌলিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

 

দুর থেকে দেখা যায় পাহাড়ের গায়ে সিকিমের ঘরবাড়ি।

সবুজের আঙিনায় বসে রৌদ্রস্নান করতে করতে উপভোগ করুন পাহড়ে মেঘ-রৌদ্রের কত রঙ্গ।

বেরিয়ে পায়ে হাটে পাড়ি জমানো যায়।  পাহাড়িয়াদের বসতিতে।

যেতে সেই পথে সিমঙ্কোনা, সেগুন, বাঁশঝাড় আর ঝাউয়ের শব্দ।

দেখা হয়ে যায় আদা, এলাচের খেত বিকেলে ঘোরাঘুরি করতে পারেন রংপো শহরে।

ভারতের প্রথম জলবিদ্যুত কেন্দ্রে জলঢাকা হাইডেল প্রজেক্ট গড়ে ওঠে এখানেই।  চারপাশ পাহাড় ঘেরা, ছবির মতো সাজানো ঘরবাড়ি, গ্র্রামীণ হার্ট, অর্কিড আর ফুলের সমারোহ নিয়ে সারা বছরই সেজে থাকে বিন্দু।  এলাচ চাষের জন্যে বিন্দু বিখ্যাত ।  চা বাগানের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালই লাগবে।

 

শিলিগুরি থেকে মাত্র একশত চার কিমি দূরে বিন্দু।  যেহেতু সারাদিনে দুটি মাত্র বাস চলে এ পথে, তাই শিলিগুড়ি থেকে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সব যেমন ঘুরে দেখা যায়, বেড়ানোর মজাটাও তেমন উপভোগ করা যায় ষোলো আনা। এই পথে হাটতেও ভাল লাগবে।  গ্রামের রাস্তা ধরে ট্রেকিংও করতে পারেন।  ট্রেকিং এবং হাইকিং করার জন্যে বিন্দু আদর্শ। মাহানন্দ রিজার্ভ ফসেস্টের বুক চিরে ৬৪ কিমি দূরের চালসা হয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে কুনিয়া মোড় থেকে পথ ঘুরে যাবে উত্তরে চাপামারির অরণ্যের ভিতরে।  দুপাশে দু’পাশে পর্ণমোচী বৃক্ষের ঘন অরণ্, মাঝখানে পিচঢালা মৃসণ পথ – এপথেই আরও চার কিমি এগোলে চাপরামারির তোরণদ্বার।  মাঝে ছোট ছোট জনবসতি।  চোখে পড়তে পারে হাতির দলের রাস্তা পেরনোর দৃশ্য।  পুরো জঙ্গলই নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে।  তাই বার্ড ও ওয়াচিং করতে চাইলে বিন্দু আসতে পারেন।  বিন্দু ড্যাম গৌরীবাস। গৌরীবাসের প্রসিদ্ধি ভেষজ উদ্ভিদ চাষ ও ওষুধ তৈরির  জন্যে। এখানে গাড়ি থামিয়ে ঘুরে দেখে নেওয়া যায় বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সিঙ্কোনার চাষ। গৌরিবাস রেখে কিছুদূর এগোতেই আর এক গ্রাম ঝালং।  গ্রামের বুক দিয়ে বয়ে চলেছে জলঢাকা নদী। নদীর  তীরেই গড়ে উঠছে জলঢাকা হাইডেল প্রজেক্টের উপনগরী। বিন্দু আর ঝালং এর মাঝে পড়বে আর পাহাড়ি গ্রাম প্যারেন। ঘুরে দেখা যেতে পারে গ্রামটি। মূলত জলঢাকা নদী আর প্রকৃতি নিয়েই বিন্দু। চারিদিকে যেন সবুজ গালিচা বিছানো।  ভুটান থেকে বিন্দু নদী এসে মিশেছে জলঢাকায়, সঙ্গমে বাঁধ দিয়ে গড়ে উঠেছে জলঢাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কর্তপক্ষের  বিশেষ অনুমতি নিয়ে ঘুরে দেখা যায়  প্রকল্পটি। লকগেটের সেতু পেরোলেই ওপারে ওপাশে র‌য়্যাল  ভুটান রাষ্ট্র। পারপারের কোন বিধিনিষেধ নেই। চমৎকার পাহাড়, অরণ্য, নদী কমলালেবুর বাগান সব মিলিয়ে বেড়ানোর অপরূপ জায়গা উত্তরবঙ্গের বিন্দু।

 

কী ভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ির বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে চালসা হয়ে জিপে বা রিজার্ভড গাড়িতে বিন্দু পৌছনো যায়।

থাকবেন: বিন্দুতে বাজারের কাছে থাকার জন্যে আছে  শিবাজ ট্যুরিস্ট ইন, গাহুনবাড়ি দ্রুকিউল রিট্রিট প্রভৃতি বেশ কিছু হোটেল ও লজ।

কখন যাবেন: নভেম্বর থেকে মার্চ ।

 

 


পাহাড়চুড়োয় দুর্গ

পাহাড়চুড়োয় দুর্গ

 

পাহাড়েরর চুড়োয় একফালি ইতিহাস। পরিত্যাক্ত দুর্গের ফাটল, মন্দিরের কারুকাজে গেছে রাজারাজড়ার  কাহিনি, দেবদেবতার অখ্যান। বেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস ছোঁয়ার রোমাঞ্চ এখানে ভ্রমণপ্রেমীর বাড়তি পাওনা।

 

দক্ষিণ ভারতের কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর কাছাকাছি ‘দেবরায়ন দুর্গ’  টুমকুর জেলায় অবস্থিত  এই পাহাড়চুড়োর   টুরিস্ট স্পটটি সেই সব  পর্যটকের ভাল লাগবে, যারা পাহাড়  ও প্রাচীন  মন্দির ভালবাসেন।  আজ থেকে দশ বছর আগেও এই শহরটিকে বলা হত  ভারতের  ‘শীততাপ নিয়ন্ত্রিত শহর’ কারণ গ্রীষ্মকালেও এখানে মনোরম থাকতো।  সমুদ্রতল থেকে ৩০৫০ ফুট উচুতে অবস্থিত হওয়ায় শহরটির তাপমাত্রা  গরমের দিনেও অত বেশি হয় না।  যদিও এখন দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের জন্য  আবহাওয়ার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।  তবে  ৪২০০ ফুট উচুতে অবস্থিত দেবরায়ান দুর্গ গ্রীষ্মকালে বেড়াবার পক্ষে আজও উপযুক্ত।

 

বেঙ্গালুরু-পুণে হাইওয়ে দিয়ে পঞ্চাশ কিমি গিয়ে ডোব্বাসপেট পৌছে ডান দিকে দেবরায়ন দুর্গের রাস্তা। এখান থেকেই পাহড়ে ওঠার রাস্তাটা দোক যায়। ছোট ছোট গ্রাম পেরিয়ে পাহাড়ের মাঝামাঝি এসে পৌছালে দেখা যায় চারদিক ঘন জঙ্গল ও পাথরে ঢাকা। দেবরায়ন দুর্গ পাহাড়ের  শুরু ওখান থেকেই।  সামনে দুটো রাস্তা চলে গিয়েছে।  বা দিকের রাস্তা গিয়েছে ভোগ নৃসিংহ মন্দিরের দিকে।  এই মন্দিরের ইতিহাস বলে যে ত্রেতা যুগে ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা অম্বরিষ যখন এই পাহাড়ে তপস্যা শেষে উপবাস ভঙ্গ করার উদ্রেগ করে ছিলেন তখন সেখানে ঋষি দুর্বাসা এসে উপস্থিত হন ও রাজাকে বলেন যে, তিনি স্নান করে না আসা পর্যন্ত রাজা যেন অভুক্ত থাকেন। ‍ ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর রাজা ঋষিকে ফিরতে না দেখে  এক গন্ডূষ জলে খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন ও ঠিক সেই সময়েই সেখানে এসে উপস্থিত হন দুর্বাসা। ঋষি রাজাকে জল খেতে দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দেন যে, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে  তার  প্রাণ যাবে।  বলার সঙ্গে সঙ্গে সুদর্শন চক্র রাজাকে তাড়া করে।  নিজের প্রাণ বাচানোর জন্যে রাজা অম্বরিষ ভগবান বিষ্ণুকে স্তব করেন ও  বিষ্ণুর আদেশে সুদর্শন চক্রটি রাজাকে ছেড়ে  ঋকে তাড়া করতে শুরু করে।

 

ঋষি তখন বিষ্ণুর কাছ ক্ষমা চেয়ে নিলে সুদর্শন অদৃশ্য হয়।  ভগবান বিষ্ণু তখন ঋষিকে নৃসিংহরুপে দেখা দেন।  এই কারণেই এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

ঐতিহাসিকদের মতে মন্দিরটি হাজার হাজার বছর আগেও ছিল।  চুতর্দশ শতেকে বিজয় নগরে সম্রাটরা এই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন।  গর্ভগৃহের মধ্যে শ্রীনৃসিংহ বসে আছেন ও তার ডান কোলে দেবী লক্ষ্মী।  মন্দিরের  সামনের গোপুরমটি নির্মাণ করেন সপ্তদশ শতকে মহীশুরের রাজা চিক্কাদেব ওডোয়ার।  নৃসিংহদেবের মন্দিরের কাছেই রয়েছে লক্ষ্মীর মন্দির।  এই ঐতিহাসিক মন্দিরের পিছনে আছে মন্দিরের  পুষ্করিণী।  এখান থেকে অন্য চুড়োটি খুব সুন্দর দেখায়। ঠিক বাঁ দিকে একটু এগিয়ে হনুমান মন্দির। চতুর্দশ শতকে বিখ্যাত বৈষ্ণুব সাধক বদিরাজ মন্দিরটি নির্মাণ করেন।   পাহাড়ের সর্বোচ্চ চুড়ো, উচ্চতা হল ৩৭৫০ ফুট।  অনেক পাখি দেখা যায় এখানে। উল্লেখ্য বিরল হলুদ রঙের বুলবুল পাখি।  চারদিকের সৌন্দর্য বেশ মনোরম। কিছুটা পথ এগিয়েই পাথরের তৈরি এবড়োখেবড়ো একশ মিটার সিড়ি।  সিড়ি দিয়ে উঠে গেলে সামনেই দুর্গের দরজা।  ছোট্ট অথচ সুন্দর এই কেল্লাটি ইতিহাসে নিজের জায়গা করে নিয়েছে।   ত্রয়োদশ শতকে এই দুর্গটি তৈরি করেন স্থানীয় সামন্ত রাজা জাডাকা।  পরে ষোড়শ শতকে বিখ্যাত বিজয়নগর সম্রাট কৃষ্ণদেবরায় এই কেল্লা ও পাহাড়টি দখল করেন।  কেল্লাটিতে ছয়টি প্রবেশপথ আছে।  তবে এখন আর কেউ এর ভিতরে যায় না।  এর সামনে থেকে দেখা যায় পাহাড়ের শীর্ষে অবস্থিত যোগনৃসিংহ মন্দির।  কেল্লার ঠিক উল্টো দিকে পাথরের খোদিত হনুমান ও গরুড়ের সুন্দর মূর্তিটি।  কেল্লার ঠিক উল্টো পিছনেই মন্দিরটি।  পরিবেশ বেশ শান্ত ও সৌম্য।  মন্দিরের ঢোকার আগে ৪২০০ ফুট উচু পাহাড়চুড়োয় দাড়ালে দেখা যায় নীচের অভাবনীয়  সুন্দর উপত্যাকা। মন্দিরের  সামনে পুকুর। গুহরি মতো গর্ভগৃহে যোগাসনে বসে আছেন ভগবান নৃসিংহ। । এ ছাড়া  রয়েছে বৈষ্ণবসাধক রামানুজাচার্যর মুর্তি ও অন্যঅন্য সাধকেদের মূর্তি। ফেরার সময় পাহাড়ের নীচে দেখ যায় জয়ামঙ্গলী নদী । জয়া ও মঙ্গলী  নামক দুট দলধারা মিলে জয়ামঙ্গলী। ছোট্ট একটি গুহাতে রয়েছে রামের মূর্তি।  প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে বনবাসের  সময় শ্রীরাম, সীতা ও লক্ষণের সঙ্গে এসেছিলেন।   কপলে তিলক পরার পর জন্যে  রাম তির দিয়ে পাথর কেটে জলধারা বের করেছিলেন সেই জলধারা এখনও বইছে।  এর নাম ’নমচিলুমে’ স্থানীয় ভাষায় ’নম’ মানে তিলক।  এখানকার সৌন্দর্য মনকে মুগ্ধ করবেই।

 

দেবরায়ান দুর্গ থেকে বার কিমি দূরে টুমকুর শহরের আশেপাশে রয়েছে অনেক পুরনো সুন্দর মন্দির, পাহাড়, গুহামন্দির, অভয়ারণ্য ও কেল্লা।  এই পাহাড়ের উল্টো দিকেই আছে দুর্গ সংরক্ষিত বন।  এখানে অনেক হরিণ, লেপার্ড, বাঘ অন্যান্য বন্য প্রাণীর দেখা পাওয়া যাবে।

 

কীভাবে যাবেন

বাংলাদেশ থেকে হাওড়া থেকে বেঙ্গালুরু যেতে পারেন-

  • যশবন্তপুর এক্সপ্রেস
  • গুয়াহাট-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস
  • এ ছাড়া দমদম বিমানবন্দর থেকে প্লেনেও বেঙ্গলুরু যেতে পারেন।

বেঙ্গালুরু পৌছানোর পর-

  • বেঙ্গালুরু থেকে ষাট কিমি দূরে রয়েছে দেবরায়ান দূর্গ।  গাড়ি ভাড়া করে বা বেঙ্গালুরুর কেম্পেগোড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে কর্নাটক রাজ্য সরকারের বাসে চড়েও দেবরায়ান দূর্গে যেতে পারেন।  সময় লাগবে দেড় ঘন্টা।

কোথায় থাকবেন

  • কর্নাটক পর্যটন দ্বারা পরিচালিত হোটেল ময়ূরা মেঘদূত। ভাড়া দৈনিক একশত পঞ্চাশ টাকা।
  • এছাড়া রয়েছে বনবিভাগের বাংলো

 


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar