Category Archives: Car hire

ঢাকা শহরের যানজট

প্রসঙ্গঃ ঢাকা শহরের যানজট

মোঃ আমিনুল হক

ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও এখন মনে হচ্ছে দেশে সুন্দরভাবে বাঁচার অন্য কোথাও সুযোগ থাকলে আজই আমি ঢাকা ত্যাগ করি। এই অভিপ্রায় বোধকরি ৮০ লাখ নগরবাসীর অনেকেরেই। এখানে অনেক দৈনন্দিন সমস্যা। বছর বছর তা পুঞ্জিভূত হয়ে জটিল থেকে জটিলতরই হচ্ছে। আর যে সমস্যাটি নিয়ে সাম্প্রতিককালে বহুল আলোচিত হয়েছে তা দূর্বিষহ যানজট সমস্যা। আজ রাজধানীর অতীব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মুখোমুখি বাস, ট্রাক, রিকশা, বেবীট্রাক্সি, প্যাচে প্যাচে ঠেলাগাড়ী ইত্যাদি যানবাহন ও পথ পথচারীদের সবকিছুর দুর্ভেদ্য জটাজালে রাজপথ আড়ষ্ট হয়ে থাকার দৃশ্য নিত্যদিনের ঘটনা। রাঙার নিয়ম শৃংঙখলার কোন বালাই নেই। কেউ কাউকে রাস্তা ছাড়তে নারাজ। পিছু হাটারও উপায়ও নেই। সেই সাথে উপকৃত আর্বজনা গাড়ী টেম্পুর চোখ ঝাঝানো কাল ধোঁয়ার দূভোর্গ আর শব্দের দুষণ আজ নগরবাসীর প্রাত্যাহিক জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে পরিণাম জেনেও নিজ সন্তানকেও সেই বিষাক্ত ধোয়া সেবন করিয়ে নিচ্ছি নিয়মিত। রাজপথের এই সমস্যার সংবাদ ও চিত্র এদেশের পত্র পত্রিকায় এত বেশি আর এত ঘন ঘন প্রকাশিত হয় যে সেগুলো এখন আর কারো মনে কোন দাগ কাটে বলে মনে হয় না যদি তা হতো তাহলে সড়কগুলোতে যানবাহন ও পথচারী চলাচল ও তা নিয়ন্ত্রণের যে সৃষ্টিছাড়া কুতি পদ্ধতি এদেশে দাড়িয়ে গিয়েছে তাতে পরিবর্তন আনার প্রয়াস অন্ততঃ চোখে পড়ত। বড়েই দুঃখের বিষয় স্বাধীনতা পরবর্তী আড়াই দশকে দেশে সরকারের পর সরকার এসেছে। কিন্তু এই অতী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোন সুরাহা না হয়ে কেবল উপেক্ষিতই রয়ে গেল। ফলে দীর্ঘদিন সমস্যায় জর্জরিত নগরবাসী সেই সমস্যায় জড়িয়ে রইল। এখন আশংকা করা হচ্ছে এই সমস্যায় ভয়াবহতা অচিরেই নগরজীবনকে গ্রাস করে ফেলবে আর সদ্য ব্যস্ত নগরীর কর্মচঞ্চলতা পরিণত হবে স্থবিরতায়। বিষয়টি নিয়ে বছর বছর এবং বিশেষ করে অতি সম্প্রতি এত লেখালেখির পর আবারো কেউ লিখলে কোন ফলোদয় হবে বলে মনে করার কোন কারণ নেই। তবু কিছু কথার অবতারণা না করে পারলাম না।

আজ আমরা ক্রমবর্ধমান যানজটের এই সমস্যার মুখে যেন অসহায় হয়ে এই মহা দুর্যগের অপেক্ষায় আছি ও প্রতিদিন যানজটের বিস্তার ঘটেছে। এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায়, মোড় থেকে মোড়ে, এক গলি থেকে আরেক গলিতে। ফলে নিত্যদিন এক অবর্ণনীয় দূর্ভোগ নগরবাসীর। বস্তুতঃ যানজটের কারণে এখন যন্ত্রচালিত ও মানুষচালিত যানবাহনের গতির মধ্যে পার্থক্য প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে।

যানজট

যানজট

কেন এই যানজট

এই যে সমস্যা আজ এতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তার প্রত্যক্ষ কারণ বহুবার লেখালেখি হয়েছে এবং সকলেই তা জানি। না লিখলে প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ থাকবে বলেই আবারো শুধু উল্লেখ করাঃ

কঃ সড়ক ব্যবহারকারীদের মাঝে আইন শৃংঙ্খলা সর্ম্পকে অজ্ঞতা এবং তা না মানার প্রবণতা।

খঃ সড়ক ফুটপাত অবৈধ দখল / ব্যবহার

গঃ অনভিজ্ঞ যানচালকের এবং ব্যবহার অনুপোযোগী / ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ যানবাহনের সংখ্যাধিক্য।

ঘঃ সড়কের পরিমাণের তুলনায় রিকশা বেবিট্যাক্সির সংখ্যাধিক্য

ঙঃ শ্লথ ও দ্রুতগতির যানবাহনের মিশ্রণ।

চঃ যত্র তত্র বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং করার প্রবণতা।

ছঃ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোন কোনটির অক্ষমতা এবং সবগুলোর মধ্যে সম্বন্বয় অভাব।

জঃ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার আইন প্রয়োগ ও রক্ষায় শৈথিল্য, যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অপারগতা ও ক্ষেত্র বিশেষে অক্ষমতা ও দুর্নিতি।

মোট কথা এহেন দুর্ভোগের পেছনে সরকারী সংস্থা, যানবাহনের মালিক, চালক, সড়ক ফুটপাত ব্যবহারকারী সকলেই কোন না কোনভাবেই কমবেশি দায়ী। কেননা অমাদের দেশে যানবাহন চলাচলের কেবল স্বাধীনতা আছে, নিষেধাজ্ঞা পালন করার নজির নেই। খেয়াল খুশিমতো ট্রাক বাস মিনিবাসের চালকরা ও গাড়ী হাকায়, রিকশা, বেবী ট্যাক্সি, ঠেলাগাড়ীর চালকেরাও গাড়ী চালাচ্ছে। কারো ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণকারীদের ওপরও যে কারো নিয়ন্ত্রণ আছে তাও বোঝা যায় না। ভয়টা কিন্তু অন্যখানে। বংশ পরাম্পরায়  যে পরিবেশের মধ্যে মানুষ থাকে তাই শেষ পর্যণ্ত মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি হয়ে যা যেমন দরিদ্র ভারতীয়রা দারিদ্রোর মাঝে থাকতে থাকতে তাকে অনেকটা সংস্কৃতি হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছ্ । সে জন্যেই বলেছিলাম ঢাকাসহ সার দেশের সড়কে সড়কে এখন যে অরাজক অবস্থা শুরু হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতির রূপ না নেয়। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ঢাকা শহরের লোকেরা যেন ক্রনান্বয়ে এই ব্যাপারগুলোর বিরক্ত হয়ে উঠেছে এবং মেনেও নিয়েছে।  মনে হয় এই দুর্গতি যেন জনগনের লিখন বলেই মেনে নিয়েছে। এটা হবার কথা ছিল না। দখলকৃত তবু সমস্যাটা এতটা প্রকট হতো না যদি আমাদের মাঝে কিছুটা দায়িত্ববোধ থাকতে।

আধনিকি নগরজীবন মানুষকে যেমন সুযোগ সুবিধা দিয়েছে, জীবনকে করেছে দ্রুততর, আরাম আয়েশপূর্ণ, নানাদিক থেকে সমৃদ্ধ তেমনি সঙ্গে সঙ্গে যান্ত্রিক সভ্যতার অনিবার্য সমস্যা হিসেবেই কতকগুলো অসুবিধাও সৃষ্টি হয়েছে নাগরিক মানুষের জীবনে। এটাই স্বাভাবিক। ভালমন্দ মিলিয়েই জীবন এবং তাই এগুলোকে সে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে হবে। কিন্তু আমাদের মাঝে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসহিষ্ণু, অবৈধ মনোভাব কাজ করে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ব্যাপারে এরূপ অনীহা ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রকট। সকলেই বিশেষ করে গণ পরিবহণসমূহের চালকগণ ট্রাফিক আইন মানতে  নারাজ। এই অভ্যাসের পরিবর্তন অবশ্য বাঞ্চনীয়। কার আগে কে যেতে পারি এই পাল্লায় না নেমে এবং নিয়মকানুন এভাবে অবজ্ঞা না করে কিছুটা ধের্য্য ও নিয়ম শৃংখলার পরিচয় দিলেও এই প্রাত্যহিক যানজটের দুর্বিষহ জ্বালা যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতাম। কিন্তু না। সকলেই নিজের স্বার্থে উর্ধ শ্বাসে ‍ছুটে চলেছি। ডানে বায়ে  বা কারো দিকে তাকানোর ফুসরত নেই। ‍কি ন্যায় কি অন্যায় বাধ্য হয়ে বিবেকের বাইরে যেন অন্যায়কে গ্রহণ করেও চলতে হবে।

সড়ক ও ফুটপাতের

মহানগরীরেোট ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের ৯০ শতাংশের বেশি সিটি কর্পোরেশনের দখলে নেই। হকার ও অন্যন্যা ব্যবসায়ীরা এই ফুটপাত দখর করে আছে। ফুটপাত দখলের পর ইতিমধ্যেই হকাররা রাজপথের দিকেও হাত বাড়িয়েছে ফলে যানচলাচলের রাস্তা ক্রমশঃ সংকুচিত হয়ে পড়েছে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারীর দিকে মেয়র হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গে বলেছিলেন তার আন্তরিকতার স্বত্তেও স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসহযোগীতার কারণে তা করা যাচেছ না। অন্যদিকে হকাররা বলেছে, মেয়র বিকল্প জায়গা না দিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তারা ফুটপাত দখল করে রেখেছে। তাদের কয়েকজনের ভাষা এজন্যে প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০ টাকা টাকা দিতে হয় পুলিশকে।  আর পুলিশরা বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে হকার উচ্ছেদে দরকার সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়ন কিন্তু সে জনবল পুলিশের নেই বিভিন্ন মহলের মতে হকাররা রাস্তা ফুটপাত দখল করে রাখবে এটাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

সেই পাকিস্তানী আমল থেকেই হকার উচেছদের অভিযান নগরবাসী বারে বারে প্রত্যক্ষ করেছে। হকারদের জন্য একাধিক মার্কেট বসিয়ে পরোক্ষভাবে ফুটপাত দখলকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। হকাররা কিন্তু আজও রাজপথে ছাড়েনি দিনে দিনে তারা আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ার নতুন নতুন সরকারী ভূমিতে মার্কেট গড়ার চাপ প্রয়োগ করে চলেছে। রাজপথ হাইজ্যাকের কাসুন্দিতে হকাররার যে একক নায় তারও নীরব সাক্ষী নগরবাসী।

অভিযোগ আছে যে, হকারদের সাথে এক শ্রেণীর রাজণৈতিক দল/ কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিশেষ মহলের গোপন লেনদেনের জমজমাট কারবারই হকার উচেছদের বিপত্তির মূল উৎসা। সে জন্যেই হয়ত হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে সংশি্‌লষ্ট ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মাঝে মাঝে দু একবার হম্বি তম্বি হুংকার উচ্চারিত হলেও পরবর্তীতে সবপূর্ববৎ। মনে হচ্ছে এই ‘ট্রাডিশন’ অব্যাহতই থাকবে।

আমরা যারা রাস্তাই বের হই তাদের মানসিকাও ভেবে দেখার মত। অনেকেই চাই ঘরের দরজায় রিকশা, রিকশা বসেই রাস্তায়, অফিসের প্রবেশ মুখে কেনাকাটা এবং ইচ্ছামত যেখানে খুশি সেখান থেকেই বাস টেম্পতে উঠানামা। এই অদ্ভুত অভ্যাসের কারণেই আজ দেশের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এলাকার প্রধান সড়কে অবৈধ কাচাবাজার শুধু গড়ে উঠেইনি উত্তোরোত্তর তার বিস্তৃতি ঘটেছে। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকসহ মতিঝিলের অন্যত্র বাজার বসা। যেখানে খাসীর মাংস, গরুর মাংস, বরবটি, মানকচু, কাচকিনি মাছ থেকে কিনা বিকিকিনি হয় জমজমাটের সাথে। েএই চিত্র গোটা মহানগরীর সর্বত্র। যেসব এরাকা একটা শহরের জন্য নান্দনিক দিক থেকে বর্হিবিশ্বে পরিচয় বহন করার কথা। এর ফলে শুধু চলাচলেই বিঘ্ন ঘটছে না বজ্য আর্বজনার পরিমাণ ও বিস্তৃতি উভয়ই ঘটছে। হরতালের দিন কিংবা রাতের বেলা রাস্তা যখন ফাকা হয়ে তখন তা বোঝা যায়। কিছুকাল আগেও কলকাতাকে ময়লা আবর্জনা ও হকারের শহর বলে ব্যঙ্গ করা হতো। বলা হতো পশ্চিম বঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার ভোট ঠিক রাখার জন্য শহরে আর্বজনা পুষছেন। সেই কোলকাতা শহরই আজ হকারমুক্ত হয়ে ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশে বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় তারপরও রাস্তাঘাট হকার ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। পূর্ন হচ্ছে আবর্জণার স্তুপে। একে সময়ের পরিচ্ছন্নতায় রেকর্ডধারী ঢাকার সেই সুনাম আজ ক্ষুন্ন হয়ে গেছে।

       নগরবাসীর প্রত্যাশা এবং রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি ও ফাঁকা বুলি

       ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা ছিল অনেক। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠায় পূর্বে ধারণা দেয়া হয়েছে পূর্বের সরকারের কাছ থেকে সহযোগীতার আশা ছিল । বর্তমানেও বিভিন্ন সংস্থার অসহযোগীতাসহ নানা প্রতিকূলতার কথা বলা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘ তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। নগরবাসী কি পেল? দুই বৎসর পূর্বে মেয়র সড়ক বেদখলদারদের সড়ক ছেড়ে ফুটপাতে উঠার অনুরোধ জানিয়ে যেন ফুটপাত উঠার অনুরোধ জানিয়ে যেন ফুটপাত দখলকে বৈধ করে তুললেন। ফুটপাত সড়ক কোনটাই মুক্ত হলো না। মাস কয়েক আগে এবং অতি সম্প্রতি অবৈধ রিকশা সমলে উচ্ছেদ করার জোর কার্যক্রম নেয়া হলে। অজানা কারণে তা চাপা পড়ে গেল। নুতন করে আশ্বাস দেয়া হলো আগামী মার্চের মধ্যে নতুন ঢাকা উপহার দিবেন। স্থানীয় সরকার পল্লী ‍উন্নয়ন মন্ত্রী ঘোষণা দিলেন ঢাকাকে আর্ন্তজাতিক মানে উন্নীত করা হবে। আর্ন্তজাতিক মান সম্পর্কে তাদের কী ধারণা তা আমরা জানি না। তবে বিষয়গুলো মহানগরবাসীর কাছে যেন শুধু প্রহসনই মনে হচেছ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের নিয়মিত সভা সমাবেশ হওয়ায় ইদানিং শেয়ার বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের দ্বারা মতিঝিল বাণিজ্য এলাকা আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র নিত্য যানজট লেগেই আছে। আগের দিনে ধর্মীয় সমাবেশ মজলিশ মহানগরীর পরিচিত দৃশ্য ছিল। কিন্তু তা হতো প্রধান প্রধান সড়ক পরিহার করে এবং সাধারণত রাত ১০ টার পর। এখন সে বালাই নেই। ব্যস্ত নগরীর চলমান স্রোত থামিয়ে দিতে এখন নে সবার মধ্যেই চলছে এক প্রতিযোগীতা।

       ধীরগতির যানবাহনঃ

       আজকের ঢাকা মহানগীরতে যানবাহনের সর্বসাকুল্যে সংখ্যা এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৫৫ লাখ। এর মধ্যে ৩০ লাখ হল ধীরগতির যান রিকশা (লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিকশার সংখ্যা মাত্র ৮০ হাজার)। ধীর গতির এই যান অথচ মোট সড়কের প্রায় ৭৫ ভাগ দখল করেছে। রিকশায় এখন নিয়ম শৃঙ্খলার কোন বালাই নেই, বৈধ অবৈধ বলে কিছু নেই। বছর তিনেক আগেও কোলকাতা ছিল ট্রাফিক ও জনস্বাস্থ্যের বিচারে দুঃ স্বপ্নের নগরী। আর্বজনা স্তুপের ভিতর চলে গিয়েছিল কলকাতা। কিন্তু আজ আর্বজনামুক্ত হতে না পারলেও যানজটের দুর্ভোগ দুর্দশা থেকে কোলকাতাবাসী অনেকাংশে মুক্ত হতে পেরেছে ঠিকই। প্রধান কারণ পাতাল রেল হলেও প্রধান প্রধান সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেয়া হয়েছে। তৃতীয় কারণ, ট্রাফিক আইনের ও ব্যবস্থার সুষ্ঠু প্রয়োগ। সুতারাং ঢাকা শহরের ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে রিকশার সংখ্যা হ্রাস এবং পর্যায়ক্রমে তা একেবারে তুলে দেবার কা অব্যশই ভাবতে হবে। সাথে সাথে মেক্সি যানবাহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।ু

কোলকাতা পশ্চিমবঙ্গের মাকসবাদি সরকারের প্রধান কর্মস্থল হয়েও সেখানে রিকশা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ আামাদের দেশে লাখ লাখ নগরবাসীর সাথে রিকশা উঠিয়ে দেবার কথা উঠলেই এক শ্রেণীর তথাকথিত বামপন্থীগণ সোচ্চার প্রতিবাদ করে বসেন। কারো কারো মতে ইউনিয়নবাজীর মাধ্যমে গরীব রিকশা কর্মীকে শোষণ করে প্রচুর কামাই বন্ধ হয়ে যাবার ভয়েই এই প্রতিবাদ। এছাড়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত এক শ্রেণীর লোকেরা ভাবেন তাদের চলাফেরার কি হবে। কেউ কেউ রিকশাকে আরামদায়ক ও সস্তা ভাবতে পারেন মহানগরীর রাস্তায় ভিড়ে তা কিভাবে আমার বোধগম্য নয়। উপমহাদেশের অন্যান্য নগরীতে রিকশা নেই। সেখানে নানান যানবাহনে চলাফেরা এদেশের মতো ব্যয়সাধ্য নয়। আসলে রিকশা গরীবের বাহন নয় বরং গরীব রিকশাকর্মীর অকাল শরীরপাত ও মানবেতর জীবন যাপনের কারণ হচ্ছে এই রিকশা।

অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে প্রভাব

       ঢাকাকে কেন্দ্র করে দেশের সকল উন্নয়ন ও অর্থনৈতকি কর্মকান্ড আবর্তিত ঢাকার সুস্বাস্থ্যের ওপর দেশের সুষ্ঠুতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু এখানে নিত্যকার দীর্ঘকালীন যানজটের কারণে লাখ লাখ নগরবাসীদের যে মূল্যবান কর্মঘন্টা অপচয় হয় আর্থিক মানদন্ডে বছরে সেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬০ কোটি টাকা। পাশাপাশি কর্মস্থলের সঠিক সময়, ট্রেন, বিমান, লঞ্জ, দূরপাল্লার কোচ ইত্যাদি মিস করা পণ্যসামগ্রীকে পরিবহণ প্রতিবন্ধকতাজনিত কারণে মূল্য স্ফীতি, রুগ্ন ব্যাক্তিকে ডাক্তার হাসপাতালে পরিবহনজনিত বাধা ইত্যাদি যে মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের কারণ হয়ে ‍উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করেছে ( ক্ষেত্র বিশেষে প্রাণ হরণও) তা হিসাব আকাশচুম্বী অংকে দাড়াবে বললে অত্যুক্তি হবে না। দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতিকারক নিত্যদিনের এই বিপত্তি ক্ষতিকারক নিত্যদিনের এই বিপত্তি দূর করার জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার দেশের শিল্প বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জোর আবেদন জানিয়ে দাবিনামা উচ্চারিত হয়। রাজধানীতে অবাঞ্চিত যানজটের জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করে উল্লেখ করা হয়ে যে, সড়ক ফুটপাতের ওপর সৃষ্ট অরাজকতা ও অনাচার শুধু নাগরিক জীবনে অশেষ দুগর্তির কারণই নয় এর পরিণতিতে শিল্প বাণিজ্যের স্বাভাবিক কর্মকান্ড বিপর্যস্ত হচ্ছে। কেননা আইন শৃংঙ্খলার ব্যতায় ও আইনানুগ কর্মপ্রবাহে বাধা সৃষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমেই রুদ্ধ করে দেয়। তাই আইন শৃংঙ্খলাকে রক্ষা করতে পারলে উচ্ছৃংখলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাজধানী কেন্দ্রিক দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নই ত্বরান্বিত হবে তথা উন্নয়ন কর্মকান্ড গতিশীলতা লাভ করবে।

হকারদের দ্বারা সড়ক ফুটপাতের মত রাজধানীর বাসটার্মিনালের প্রসঙ্গে একই কথা চলে। শহরের কেন্দ্রস্থলের ফুলবাড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে প্রায় সব স্ট্যান্ডই অবৈধ। পরিবহন ব্যবসার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেছেন, রাস্তার পাশের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডের জন্য আলা জায়গা সরকার দিচ্ছ না বলে এভাবে রাস্তার একাংশ নিয়ে  বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। হকারদের দোকান পসরা ও বাসট্রাকের স্ট্যান্ডের পর ব্যস্ত সড়কগুলোর ২০ শতাংশের বেশি যান চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে না। এদিকে সিটি কর্পোরেশেনের আওতাভুক্ত ২২ টি সুপার মার্কেটসহ ৯০ টি মার্কেটের মধ্যে অধিকাংশ মার্কেটের নিজস্ব পার্কিং এলাকা নেই। ফলে এসব রাস্তার অর্ধেক গাড়ী আমাদের দখলে চলে যাওয়ায় অবশিষ্ট রাস্তায় বহমান গাড়ী রিকশার মধ্যে যট সৃষ্টি প্রায় প্রতিদিনের অনিবার্য ঘটনা। একই কথা চলে সিটি কর্পোরেশনের ২৬ টি সহ মহানগরীর শতাধিক কমিউনিটি সেন্টারের বেলায়। বস্তুতঃ এসব কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন রাস্তাসমূহের অর্ধেকই অব্যবহৃত হয়ে পড়ে। এমনিতেই বাস টেম্পু চালকদের মাঝে যেখানে ইচ্ছা সেখানে বাস টেম্পু দাড় করিয়ে যাত্রী উঠা নামার প্রবণতা প্রকট। আসলে ট্রাফিক আইন অমান্য করার এবং কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা ট্রাক ও গণপরিবহন যানের চালকদের মধ্যেই বেশি পরিলক্ষিত হয়। অবশ্য এর বিপরীতে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চক্ষু মুদে থাকার ট্রাডিশন।

       ওভার ব্রীজ

ওভার ব্রীজের সঙ্গে পথচারীদের পরিচয় দীর্ঘদিনের হলেও তা মধুর নয়। এমনিতেই ভিখারী ও ফেরিওয়ালাদের দ্বারা এগুলো থাকে জবর দখলে। এর ওপর তা যদি হয় অপরিকল্পিত। অতি সম্প্রতি নির্মিত ওভার ব্রীজগুলো যানচালকদের জন্যে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও পথচারীদের জন্যে তা শাস্তিস্বরূপ নিছক বাধ্য হয়েই এগুলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ক্লান্তিভরে নগরবাসী কপাল কুচকিয়ে ব্যবহার করে চলেছে।

অচল নিষেধাজ্ঞা

ইতিপূর্বে মতিঝিল এলাকায় অফিস চলাকালীন সময়ে কোন রিকশা বা ঠেলাগাড়ী চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। এরশাদ আমলেও নগরীর অভ্যন্তরে দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব নিয়ম কানুন ঢাকা নগরীর বুক থেকৈ মনে হয় উঠে গেছে অথবা এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে আছে। ফলে যত্রতত্র রিকশা ট্রাক ঠেলাগাড়ী যখন তখন সরু গলিতেও যেমন তেমনি ঢুকছে বড় রাস্তাতেও।

নিয়ম শৃংঙ্খলার প্রতি উদাসীন্য

নিত্যদিনের এই নৈরাজ্য ও দূর্বিপাকে অতিষ্ঠ নগরাবাসীকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কিন্তু উদ্ভুত এই সমস্যার নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া ঢাকাবাসীর নিষ্কৃতি সম্ভব নয়। এর জণ্যে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর আন্তরিক ও সক্রিয় পদক্ষেপ যেমন দরকার তেমনি জনসাধারনের সহযোগীতা ও সমানভাবে প্রয়োজন কেননা, সবচাইতে যে বিষয়টি গুরুত্বর্পূণ তা হলো নিয়ম শৃংঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করা। নগরীতে ট্রাফিক সংক্রান্ত যেসব নিয়ম কানুন, বিধি নিষেধ ‍চালু আছে তা ‍প্রায় সর্বত্রই প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে িএর সামান্যতমও মানার কোন বালাই নেই বা কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। নিয়ম মানার যে প্রয়াজন আছে বা নিয়ম আসলে অন্য সকলের সাথে নিজের চলাও যে সহজ হয়ে যেতে পারে এই বোধটিই যেন কারো নেই। যে কারণে অহরহই দেখা যায় বেপরোয়া গাড়ী চালনা, অনাবশ্যক হর্ন বাজানো, বিপজ্জনক ওভার টেকিং, হলুদ লাইন  অতিক্রম এবং জেব্রা ক্রসিং এর ওদর (যদিও তা তেমন নাই বললেই চলে) গাড়ী দাড় করানোর প্রতিযোগীতা।

শৃংঙ্খলা প্রসঙ্গে একটি কথা না লিখে পারলাম না। যে দেশে ক্ষমতায় যাবার এবং ক্ষমতায় থাকার লোভে দেশের মঙ্গল চিন্তায় নিয়োজিত ! বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় শৃংঙ্খলা জ্ঞানের যে পরিচয় দিয়েছে এবং বর্তমানে খোদ জাতীয় সংসদের জনপ্রতিনিধিরা যে দৃশ্য প্রদর্শন করেছেন তাতে রাস্তাঘাটে জনসাধারণের দ্বারা সুশৃংঙ্খল আশা করি কোন আক্কেলে। নিয়ম বিধিকে তোয়াক্কা না করার এই প্রবণতা আজ আমাদের জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে শিকড় ছাড়িয়েছে। বস্তুতঃ সমগ্র দেশে সমগ্র সমাজে আইনকে অবজ্ঞা করার যে প্রবণতা দানা বেধেছে তাই নিত্য প্রতিফলিত হচেছ সড়ক মহাসড়কগুলোর বিশৃংঙ্খলা অবস্থার মধ্যে। যে দেশে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক কর্মকান্ডের সকল ক্ষেত্রে আইনের প্রতি অবজ্ঞার ভাব বিরাজ করছে সে দেশের মানুষ কেবল পথ চলার সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এমন মনে করার কোন কারন নেই। আইন সর্ম্পকে যেমন সচেতনাতা প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন আইনকে শ্রদ্ধা করার, আইনকে সবকিছুর উর্ধে স্থান দেওয়ার চেতনার উন্মেষ।

       ভয়াবহ ভবিষ্যৎ রোধে করণীয়

লোক সংখ্যার দিকে থেকে  ঢাকা শহর পৃথিবীর মেগানগরীর সঙ্গে তুলনীয় এবং যে হারে এর লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে পরবর্তী শতাব্দীর প্রারম্ভেই ঢাকা পৃথিবীর ৬/৭ টি মেগানগরীর একটাতে রূপান্তরিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আর বর্তমান এই  সমস্যার বিস্তৃতি ত্বরিতগতিতে রুখতে না পারলে শুধু নগরীর যান ও জন চলাচল তথা সমগ্র পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে এবং কর্মচঞ্চলতা স্থবির হয়ে রাজধানীর প্রাণ প্রবাহ সম্পূর্ণ অচল হয়েই পড়বে না গোটা দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়ে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে। কাজেই ঢাকার স্বাভাবিকজ জীবনযাত্রা ও কর্মতৎপরতা অব্যাহত ও সচল রাখার জন্য এই দুঃষহ অবস্থা থেকে নগরবাসীকে উদ্ধারে বিলম্বের কোন অবকাশ নেই। কেননা যে আশংকা আজ স্পষ্টভাবেই দেখা দিয়েছে তার পূর্বেই আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই অসহনীয় ও নরকীয় যন্ত্রনার নিরসন ও সুরাহাকল্পে দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের সাথে সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাস্তায় চলাচলে শৃংঙ্খলা প্রতিস্ঠা করা। যানের ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাদান ও নবায়নে যুগোপোযোগী  নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়াও বাস্তব আইনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জিত সম্ভব নায়। স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থাগুলার মাঝে  ‘ওয়ানওয়ে’ পদ্ধতি ঢাকার জন্য একটা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে না। একটি রাস্তা থেকে যানবাহনের চাপ সাময়িকভাবে কমে আসলেও িএর ফলে অন্য বিকল্প রাস্তাগুলোর ওপর চাপ যে অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়বে তা অনুধাবন করা দরকার। তার পরিবর্তে কিছু কিছু প্রধান রাস্তায় ঠেলাগাড়ী ও রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। সেই সাথে যত্রতত্র বাস টেম্পুর স্টপেজের ব্যবস্থা না রাখার প্রতি নজর দিতে হবে। ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। বড় রাস্তাগুলোর পাশের প্রস্তাবিত সকল ইমারতসমূহের নিচতলা পার্কিং এর জন্য অবশ্যই খালি রাখতে হবে এবং পুরাতন ভবনগুলোর নিচতলাতে বাধ্যতা মুলকভাব সংস্কারের মাধ্যমে খালি করে পার্কিং এর ব্যবস্থা করার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে। ময়লা আর্বজনা সঠিকস্থানে নিয়মিতভাবে ফেলা ও অপসারণ করা, ড্রেন ও গ্যাটারকে চলমান রেখে বৃষ্টিজনিত জলবদ্ধতা সৃষ্টি বন্ধকরণ ইত্যাদি কর্মকান্ড মহানগরীরর যানবাহন সংক্রান্ত জটলাকে অনেকাংশে লাঘবে সাহায্য করবে।

প্রতিরাতে যখন রাস্তা ফুটপাত ফাকা থাকে তখন পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় পর্যায়ক্রমে শহরের বাহিনীর সহায়তার পযায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ মাচান, ছাউনিসহ জমে থাকা আর্বজনা পরিষ্কার করা হলে অতি স্বল্প সময়ে তার সুফল পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সামান্য কাজটি কেন করতে পারছে না তা বোধগম্য নয়। পক্ষান্তরে আইল্যান্ডের মাঝে দীর্ঘ গ্রীল দেয়ার মত ব্যয়সাধ্য কাজটি ‘প্রায়রিটি’ ভিত্তিতে পড়ে কিনা ভেবে দেখার মত।  একই বিবেচনায় প্রায় বছর খানেক ধরে কারওয়ান বাজার আন্ডার গ্রাউন্ড বাইপাস নির্মাণের জন্য লাখ লাখ নগরবাসীরকে এমন ভোগান্তি দেয়ার অবশ্যকতাও যুক্তিযুক্ত নয়।

দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে মিনিবাসের উপর নির্ভর না করে অধিক যাত্রী বহনযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা প্রয়োজন। নগরীর চারপাশে প্রায় নির্মিত বন্যনিরোধ বাধ প্রকল্প অচিরেই শেষ করে তার ওপর দেয় দূর পাল্লার ভারী যানবাহন।

 


Can Asia junk cars for bicycles and buses

Can Asia junk cars for bicycles and buses?

Sprawling mega cities from Bangkok and Manila to Jakarta and New Delhi Must curb over reliance on the privately-owned car to decongestant increasingly clogged streets and create more livable cities.

But urbanizes, incessantly plaued by traffic jams, should be offered fast and efficient transport alternatives, bus, light rail, subway, bicycles to wean them away from their cars.

“Developing a mass transit system, with its effective use of space and lower per passenger pollution levels,” is a top priority option for the 21st century, says an Oxford University publication: World Resources 1996-97.

The caress urban poor rely on buses as their transport Choice because of affordable fares. Buses can carry as many as 80 passengers during peak hours. Yet, they take up space of no more than two cars.

In 1980, an estimated 600 million trips daily were made buses in developing world. This figure will double by year 2000, World Resources cautions.

“As long as buses run on the same congested streets as other vehicles, they will never be an attractive alternative for those who can afford a car, “the study says. It proposes the option of creating a dedicated bus lane” to increase bus ridership. Such a lane “can move twice as many people per hour as buses operating in mixed traffic and 40 times as many people per hour as cars.”

This system of combining exclusive bus lanes and high-speed network already has a track record of considerable success in: Curitiba, Brazil; Abidjan in cote d’Ivoire; plus, Ottawa and Ontario in Canada. These have proved flexible in serving low to medium density urban areas.

But bus services in Asia’s metropolises fall far from this standard. Unconformable and unreliable in Asia. They also tend to be noisy and polluting.

World Resources insists on regular maintenance to help improve their safety and reduce emissions.

In dense Asian cities like Manila, the light rail transit has become another increasingly attractive and viable transport alternative to city residents. Bangkok’s LRT is nearing completion.

Terms and trolleys can move more people 6,000 per hour in mixed traffic and up to 36,000 people per hour with five or six car trains. They consume fearless energy and emit fewer pollution.

Subways can also decongestant crammed city streets. They promise high mobility and can be built under valuable urban land and are less polluting.

“Subways are not for sleeping” Construction operating and maintenance costs are heavy about $40 million per kilometer in Santiago, Chile, $64 million in Osaka, Japan and $ 117 million in Caracas, Venezuela. In comparison, a surface light rail system in Tunis, Tunisia cost only $29 million per kilometer.

“Cities should resist temptations to per sure flashy advanced technology solutions when lower cost approaches such as buses might be adequate” the study says.

Existing public transit service can be upgraded. Bus service could be privatized and deregulated. In SriLanka, deregulation allowed bus owners to compete with the public bus company substantially improving service coverage and quality.

Informal transit services such as the jeepney in Manila, the kabus-kabus in Lagos, Nigeria and dolmus minibuses in Ankara, Turkey should be integrated into existing transport system since they cater to the urban poor, World Resources adds. Their trips are more frequent. And their small size allows them to maneuver through narrow, winding streets.

“Bicycling and walking” the study notes, “are often the only means of transportation available to the poor in many urban areas particularly in Asia.” More than half of the world’s 800 million bicycles are estimated to be in Asia. China, where 50 to 80% of urban trips are by bicycles, has more than 300 million.

Bicycles can boost public transport services by linking outlying settlements with public transit routes.

Thousands of bicycles parked outside train stops are common sight in Beijing and New Delhi.

Governments need actively promote bicycle commuting by offering subsidies to those cycling to work and allocating extensive and separate urban street space to bicycle traffic. In Havana, Cuba bicycles helped reduce car traffic by 35% and bus traffic by 50%, world Resources notes.

Where urban populations grow rapidly, demand for transportation skyrockets. And cities need to reexamine urban transportation demand and devise new strategies that provide maximum access at a minimum total, cost study concludes.


A TREAT FOR AUTO CONNOISSEURS

Every year London holds shows and exhibitions of different things appealing to the diverse interest of her cosmopolitan inhabitants.
From Chelsea flower show to the annual lager exhibition, each is unique in proportion and variety. “This is like being in Utopia” remarked one enchanted and enraptured viewer of the Chelsea flower show.
Every year London hosts about three to four hundred exhibitions, but, the display that transcends others in flamboyance, proportion and visible ostentation, is the annual London Motor shows. “It is unsurpassed, unrivaled and one of its kind” observed a local tabloid. This confident tone however, is not based on shallow pride but on hard tangible facts. From Fiat to Ferrari, From Saab to Suzuki you name it the show has it.
Being a car lover myself I made it my priority to go to the much-publicized exhibition at Earl’s Court. Not anticipating its monumental size, I had earlier visualized a car show with two to three hundred cars at the most. But, boy, was I in for a shock! Covering an area approximately of four football pitches the show was a spectacle to behold. Latest cars with their metallic polish radiating in the yellow lights. It seemed like a fantasy world.
Entering, my attention was caught by the latest TVR sleek and undoubtedly sexy the fabulous piece of wheels was rotating on a glass platform. A large line of mesmerized viewers marveling at her beauty with cries of wonder. A futuristic dashboard with all options (including a laser TV) reminded me of the Star Treck space deck. Crossing the TVR stand we came across Vauxhall, Seat, Peugeot and the car the Bangladeshis like most Toyota. I did not waste any time on these as all the models were of the same look with that often annoying aero-dynamic look.
With a red flag flattering and a lot of “wow’s” and dazzled eyes we came to the “Ferrari” stand. In all her allure the GTI was there standing with an arrogant countenance. The sophisticated curves, the distinguished poise sent a shiver of delight through my system. With admiration literally flowing out in one of the greatest cars stood there stuck by beside Ferrari was the stand of the car that is Vodka Martini “shaken prefers men who drink not stirred”.
Yes, we are talking about James Bond’s car Aston Martin, The V-8, the Vantage were rotating with an air of chastity. The heraldic sign of the Prince of Wales proudly hanging on the walls saying, that, like bond, the Prince is also a user. The stands of Lamborghini, better known as the Cleopatra of sports cars was occupied by people flashing away in frenzy. Stunned viewers went inside, came out with a look, as if to suggest that they had a short visit to heaven. The interior of the Lamborghini is absolutely “groovy”. Once inside the car I put my foot on the accelerator, shifted the gear forward and thought “If only this beauty had some petrol in her.” My reverie was broken by the restless persistence of the next viewer in the queue.
Our next target was BMW, and believe me guys I got a real treat, after taking a brief look at the Ford stand which featured the latest “KA” and “Puma” we went towards “LOTUS”. The “Elan” was there. Crossing Maserati, we went to the Mercedes show. The 300 SLK, the 220 and E class were being displayed. Having enough of new cars we headed for the upper floor. Here the crème de la crème of automobile was exhibited. The classics from the late thirties to early seventies shining with an unbelievable aura a price a price tag. The past world of automobile opened before me as went up. In line Ferrari 355’s 250’s was kept, Lamborghini Countach, Aston Martin D85 the one James Bond drove in “Goldfinger”, Dodge Viper, Lotus Espirit, Jaguar XJ7, E-type, XJS were all kept for the spectators to behold, praise and for some to be bold enough to buy. From staggering 250,000 and onwards the prices looked unreal. But, a 1953 Ferrari with a price of £500,000 “SOLD” sign written on it gave me an idea of the immense wealth of some people. Standing near a £35000 Ferrari Daytona was the buyer, rather unassuming, this guy owns five other Ferraris.
There were the Rolls Royce’s all glittering in the light. Phantom, Silver Ghost, Camargue sitting on a stand competing with one another. The dazed viewers going around and some of them drinking Champagne at the counter an indication that they had just parted with a few million for another car. Ferrari merchandise were being sold, and people were just buying like crazy. Ferrari shops were all red, and Temptation was put to test when anyone came near them. From stickers to writing pads from T-shirts to wallets all were there embroidered with the famous Ferrari logo.
“The best way to get rid of temptation is to yield to it” remembering Oscar Wild’s words I wasted no time and went on a shopping spree. By this time the exhibition was coming to its closing time. With one last look at the marvelous array of auto beauties, in a trance, I finally started for home. Being at the Motor show was dream fulfilled. But, I have one more dream, that is to drive a Ferrari or an Aston Martin or a Lamborghini Miura or a Viper. But for the time being think I shall have to be satisfied with my Toyota, definitely with a Ferrari sticker on it.

By – TOWHEED FEROZE


Car rental in Dhaka

Car rental in Dhaka

A car rental agency, rent-a-car or car hire is a company that provides rental cars for short or long periods. Its facilities are located mainly in the vicinity of airports, train stations and buses. They are often supplemented with a Web site allowing reservations through Internet. There are also Web sites, such as travel agencies online, comparing prices of major car rental agencies.

 

The car rental agencies meet the needs of two main sectors: tourism and business. They can also be useful as a replacement of the automobile itself, if this is out of service. Because of the variety of sizes of their vehicles, car rental companies can also meet the needs “self-moving” in the industry, renting vans, minibuses or trucks.

Rental rates

There are three groups of car rental companies in Dhaka, Bangladesh, each group offers different services: The first group of companies has its own cars (known as vehicle) and may have agreements with car manufacturers that these will provide cars to its vehicle. They possess own physical property.

 

The second group of car rental companies, generally called “brokers” works establishing commercial agreements with car rental companies in the first group in order to obtain access to their cars. They are quite useful to users and that these companies, in negotiating with various companies in the first group can get the best price for a given date and a particular place. These companies often operate primarily through the Internet, and are currently increasingly widespread use of social networks to create and maintain a direct communication channel to client-company.

 

The third group is companies that offer “renting” or car rental for long periods of time (minimum of 6 months to 1 year) for a substantially lower monthly payment. They are aimed primarily at companies that need to have vehicles for their workers. They own vehicle and own physical property.

 

To achieve universal classification and easy comparison of car rental prices, the association of the systems industry and car rental “ACRISS” standards developed coding system “ACRISS Car Classification Code”. This describes the size, number of doors, and type of gearbox (manual / automatic) and if the car has air conditioning, a simple code.

Rental Conditions

The car rental has different conditions depending on the geographic location where the company filed. Usually this should be returned to the rental agency in the same condition in which this was delivered to the user and depending on the share chosen, should not exceed the limits set on them depending on the choice either mileage, hours or days unlimited, because if this happens extra charges are applied to the final price of the service.

 

In most countries these agencies establish a criterion of age to have greater security; usually the average is within 25 years.

 

In some countries it is necessary to have a valid license from their own country and an international driving license. The international license is an official document that is currently valid in all countries and is necessary to drive a car in certain countries.

 

Most car rental agencies ordered as a prerequisite to use credit card to charge for any additional charges incurred for the return of the vehicle. Should not have a credit card you must make a cash deposit that will be returned at the end of the service.

 

Car hire comparators

Comparators, like airline tickets and hotels, there are comparators car rental companies that operate competitive rates of all companies renting in one location. Having a search engine just all rates lower than official rates prices are obtained by offering reduced rates to these comparators in order to not to lose customers. Prices usually higher than the rate included in their own websites to book.

 

SIPP codes or ACRISS

ACRISS stands for Association of Car Rental Industry Systems Standards (Standards Systems Sector Industry Association of Car Rental). The ACRISS codes are the codes assigned to the categories of vehicles to provide common standards when you rent a car through the different reservation systems. SIPP is also known as “Standard Interline Passenger Procedure” codes, as defined by ACRISS.


The popularity of hybrid is increasing

Moderization are taken effect day by day in Bangladeshi car using. High powerful Hybrids car are added in the car using sector from the last few years. Not only has this car run with oil but also with battery. Besides these cars are very speedy and fuel savers. When a general car runs 7/8 KM per liter, a hybrid car run 20 to 28 KM.

Hybrid car

Hybrid car

Hybrid car is new addition in Bangladeshi car Market. When a car is running with oil, its battery becomes charging at a time. When the battery is finished recharge, the fuel line disconnects itself. The car runs with the battery. For this reason fuel cost remains low. And it is also helpful for the rent a car sector. Though the Hybrid car’s power is 1500 cc, it will gives you 1800 cc power.

But the price is high, so the sales are not increasing according to its demand of this environment friendly car. When Bangladesh imported the this car at first, Bangladesh government was helpful. At that time the taxation was 61% for this car. But the last year it has been increased to 155% according to CC. For this reason the sales of Hybrid car are fallen. So it should be remain same the tax as before.


Which car you should buy-old or new?

Are you willing to buy a car? But you can’t decide which car will be bought? New or old (recondition)? Then know some important information before your buying old or new car.

Old cars

The businessmen are saying, the old car may not be beneficial though it will cost lower at the beginning. Because, there is no after sale service. There is no guarantee for certain period.  So evaluating different matters it will be better to buy new car than old and it will be better for long term. Besides new one is better than old one if we think about environment.

The distributor company of Toyota Bangladesh Navana’s head of the sales Hamidur Rahman let us know, “The car which we imported, those cars are imported after thinking the situation of our country’s roads condition, environment condition, oil condition above all several situation keep in mind. For this reason you will get better service from a new one.”

According to Hamidur Rahman, various kinds of switch, device, boards etc are used in the car like electronics products. So these kinds of parts’ longevity doesn’t remain same after few days. Besides, the old vehicle is harmful for the environment. Because, led or sisha comes out from these cars. And comparatively led or sisha will be fewer in the new cars. For this reason at the developed country, they have to pay high taxation for renewal of these cars. For this reason the Japanese don’t use these kinds of cars and we imported those from them.

In this matter, the head of the Honda sales department says, it is better to buy a new one than old one.


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar