মরণব্যাধি এইডস

মরণব্যাধি এইডস

Tags :

Category : Ambulance Service

মরণব্যাধি এইডস

এ কে সালাহ আহমদ

এক সময় প্লেগ, কলেরা, বসন্ত, যক্ষা ইত্যাদিকে বলা হতো মারাত্মক ব্যাধি। পৃথিবীর বহুদেশে বহু জনপদে এসব রোগামাহারী আকারে দেখা দিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি বিশেষ করে চিকিৎিসা বিজ্ঞান উন্নতির ফলে আজ এগুলো মারাত্মক কোন রোগ বলে বিবেচিত হচ্ছে না। তাছাড়া চিকিৎসার মাধ্যমে এগুলো এখন নিরাময় সহজসাধ্য হয়েছে। কলেরা ও বসন্ত রোগ সম্পূর্ণ রূপে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। রাজরোগ হিসেবে পরিচিত এবং বকে সময় যেমন বলা হতো যার হয় যক্ষা তার নেই রক্ষা’ আজ তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সেই রাজরোগকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তুলছে। তারপর এল ক্যান্সার নামক ব্যাধি। যাকে বলা হয় দুরারোগ্য ব্যাধি। চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি একদিন এটাও চিকিৎসার সম্পূর্ন আওতায় এসে যাবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চিকিৎসাবিদগণ এর জন্য গবেষনা চালিয়ে যাচেছ এবং এর সফলতা সম্পর্কে তারা অনেকটা আশাবাদী।

কিন্তু বিশ্বে যখন বিংশ শতাব্দীকে বিদায় জানিয়ে একবিংশ শতাব্দীকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি নিচেছ ঠিক তখনই বিশ্ব সভ্যতাকে প্রকম্পিত করে আশির দশকের প্রথম দিকে দুনিয়ায় আগমণ ঘটেছে ‘এইডস’  নামক এক মরণব্যাধি। প্রথমে আফ্রিকায় বিভিন্ন অঞ্চলে এ রোগের প্রার্দুভাব ঘটলেও ক্রমে ক্রমে তা বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও মহাদেশে বিস্তার লাভ শুরু করে। এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু করল এর উপর গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা। আবিষ্কৃত হলো এর কারণ। এই ভাইরাস দেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে মানুষের সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও জীবনী শক্তি ধ্বংস করে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। আশির দশকের প্রথমদিকে এইডস নাম এই মরণব্যাধির কথা জানা গেছে। প্রথমে আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে েএই রোগ এশিয়া ও ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে এর প্রকোপ এশিয়া মহাদেশের উন্নয়নশীল ও উন্নয়নকামী দেশসমুহে বেশি বিস্তার লাভ করছে। এ পর্যণ্ত পৃথিবীর প্রায় পৌনে দু শত বদেশে এইডস বিস্তার লাভ করেছে। এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে দেড় কোটি লোক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে বর্তমান শতাব্দীর শেষ নাগাদ এ সংখ্যা ৩ থেকে  ৪ কোটিতে গিয়ে দাড়াভে। ফলে তখন পুর্ণাঙ্গভাবে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হবে এক থেকে দেড় কোটি এবং তার নিশ্চিত মৃত্যুবরণ করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিশ্বে বর্তমানে ত্রিশ লাখ এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত মহিলা রয়েছে এবং এদের সবাই সন্তানের ধারণের বয়সের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব থেকে আরও জানা গেছে,  এ ত্রিশ লাখ আক্রান্ত মহিলার মধ্যে ২৫ লাখ মহিলা আফ্রিকায় বসবাস করে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ সংখ্যক এইডস আক্রান্ত মহিলা বসবাস করে ল্যাটিন অ্যামেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। ১৯৮৯ সাল থেকে এশিয়া মহাদেমে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।

পৃথিবীতে এখন এইডস বিষয়ক আলোচনা সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগণ এই রোগের কারণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা নিয়ে নিরলসভাবে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া জাতিসংঘের সহযোগীতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য, ইউনিসেফ, ইউনোস্কো, ইউএনডিপি, ইউএনএফপি ইত্যাদি আর্ন্তজাতিক সংস্থা এইডস রোগের বিস্তার রোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচেছ।

এইডস রোগের জীবাণূ এইচআইভ ভাইরাস একটি অতি ক্ষুদ্র এবং বিশেষ ধরনের জীবানু যা মানুষের দেহের সকল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। এইডস রোগের উপর পরিচালিত গবেষনার ফলাফলে জানা গেছে, এই মারাত্মক ভাইরাস সাধারণত যৌনাঙ্গ এবং পায়ুপথেই মানব দেহে প্রবেশ করে। যৌন ব্যভিচার, বহুকামিতা, সমকামিতা ইত্যাদি বিকৃত যৌনাচারের মাধ্যমেই এর বিস্তার ঘটে। আবার আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্ত সঞ্চালন, ইনজেকশনের সুই এবং আক্রান্ত মায়ের গর্ভজাত সন্তান উত্তরাধিকার হিসেবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এক কথায় পবিত্র যৌনজীবনকে কুলষিত করার ফল হিসেবেই এই রোগ আক্রমণ করে। লক্ষণীয় যে, আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে শতকরা ৭০% রোগী হল ১৫ -২৪ বছর বয়সী যুবক যুবতী। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, এ বয়সের যুবক যুবতীরে বিকৃত রুচি ও নোংড়া যৌন ব্যভিচারের ফলেই এটা হয়ে থেকে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বলা যায়, এইডস নামক এই মরণব্যাধির স্রষ্টার গজব। আজ পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন চিকিৎসা আবিষ্কার করতে পারেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অদূর ভবিষ্যতেও এর কোন চিকিৎসা আবিষ্কৃত হবে এমন আশা করা যায় না।

১, ৪৪, ০০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের আমাদে এই ছোট দেশটির চারদিকের দেশসমুহে এইডস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে হাজার হাজার ঘাতক ব্যাধি এইডস এ আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী গত িএক বছরে এশিয়ায় এইডস রোগাক্রান্ত লোকের সংখ্যা আটগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।  এ অবস্থা আমাদের দেশকেও যথেষ্ট ভাবনায় ফেলছে। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম েএকজন এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে সরকারী হিসেবে জানা গেছে এবং এদের কয়েকজন মারাও গেছে। এ হিসাবটা সঠিক কিনা তাতে সন্দেহ আছে। কারণ, ব্যবসা বাণিজ্য ও চাকরির ইত্যাদির কারণে আমাদের জনসংখ্যা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিনিয়ত এইডস আক্রান্ত দেশসমূহের ভ্রমণ করে থাকে এবং ঘটনা/দুর্ঘটনায় সেসব দেশের আক্রান্তদের সাথে অসাবধান যৌন জীবনযাপনের মাধ্যমে এই মারাত্মক ভাইরাস নিজ দেহে বহন করে দেশে ফিরে আসতে পারে। ঘটনা দুর্ঘটনার কেউ এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হলে লজ্জায় এবং ভয়ে অনেকে তা প্রকাশ নাও করতে পারে। ফলে গোপনে গোপনে রোগটি এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তাছাড়া যেহেতু এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বিশেষ বিশেষ পরীক্ষাগার ছাড়া অন্য খানে এটা করা সম্ভব হয় না ফলে গোপন রোগটি গোপনই থেকে যেতে পারে।

দেশে এইডস প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউএনডিপি, ইউনিসেপ,  ইউএসআইডিসহ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সংস্থা সহযোগীতায় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে  এইডসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে খসড়া জাতীয় এইডস নীতি প্রণীতি হয়ে চূড়ান্ত করণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পেশ করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেশকিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছে। আমরা আশা করি, আমাদের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে দেশকে এইডসের থাবা থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হবো।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


এইচ, আই, ভি/ এইডস

এইচ, আই, ভি/ এইডস

যোগাযোগকারীর জানার বিষয়

এক্যুয়াড ইম্যুনো ডিফিসিয়েন্সি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে এইডস একটি নতুন বিশ্বজোড়া সমস্যা। যে ভাইরাস এইডস ঘটায় তার নাম হিউম্যান ইম্যুনো ডিফিসিনেন্সি ভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচ আই ভি।

পৃথিবীর প্রতিটি জাতি এইডস এর হুমকির সম্মুখীন এইচ, আই, ভি। আক্রান্ত হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। দুই হাজার সাল নাগাদ সার বিশ্বে ৩-৪ কোটি লোক হয়তো এইচ, আই, ভি জীবাণুতে আক্রান্ত হবে।  এইচ, আই ভি দ্বারা আক্রান্ত হলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হযে মানুষ মারা যায়। জানা মতে এইডস এর এখন পর্যণ্ত কোন চিকিৎসা নেই।

এই অধ্যায়ে বর্ণিত ছয়টি স্বাস্থ্য বার্তার মাধ্যমে সবাই এইচ, আই ভি / এইডস সম্পর্কে জানলেও বসেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে, ভবিষ্যতে এই দুঃখজনক ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

এই মুহূর্তে স্বভাবের আচরণের পরিবর্তন ই হলো এইডস এর বিস্তার রোধে একমাত্র কার্যকর অস্ত্র। এই কারণে বিশ্বের সব দেশে সব মানুষের এইডস রোগ এড়ানো ও এইচ, আই ভির জীবাণুর বিস্তার রোধের উপায় জানতে হবে।

মূল বক্তব্য

১। জানা মতে, এইডস এর এখন পর্যন্ত কোন চিকিৎসা নেই। এক ধরনের ভাইরাস (এইচ, আই ভি) র কারণে এইডস হয়, যা সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে অসাবধান যৌনসঙ্গম, সংক্রামিত রক্তের মাধ্যমে এবং এইডস আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে শিশুর দেহে বিস্তার লাভ করে।

২। সংযম অথবা নিরাপদ যৌন সঙ্গমের ব্যবস্থা নিলে যৌন সম্পর্কের দ্বারা এইচ, আই, ভি র বিস্তার রোধ করা যেতে পারে। নিরাপদ যৌনচর্চা হলো বিশ্বস্ত একগামী সম্পর্ক অর্থ্যাৎ শুধু স্বামী স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক অথবা উৎকৃষ্ট মানের কনডম ব্যবহার করা।

৩। এইচ, আই, ভি র জন্য পরীক্ষা না করে রক্ত পরিসঞ্চালন করা বিপজ্জনক।

৪। জীবাণুমুক্ত না করে সুঁচ অথবা সিরিঞ্জ, ত্বক ছেদনকারী যন্ত্র অথবা চিকিৎসার যেকোন সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা বিপজ্জনক।

৫। এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত মায়ের দ্বারা তার শিশুর  সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। এই রোগ সংক্রমণ থেকে সকল বাবা মাকে অথবা ভবিষ্যতের বাবা মা কে প্রতিরোধ করতে পারলে, শিশুদের মধ্যে এই রোগের বিস্তার বন্ধ করা যাবে।

৬। এইচ, আই, ভি কিভাবে বিস্তার লাভ করে সে সম্পর্কে সব বাবা মায়ের জন্য উচিত এবং কি করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায় সেই উপায়ে তাদের সন্তানকে জানানোর দায়িত্ব নেয়া উচিত।

সহায়ক তথ্য

১        জানা মতে, এইডস এর কোন চিকিৎসা নেই। এক ধরনের ভাইরাস (এইচ, আই, ভি) র কারণে এইডস হয় যা সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে অসাবধান যৌনসঙ্গম, সংক্রামিত রক্তের মাধ্যমে এবং এইডস আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে শিশুর দেহে বিস্তার লাভ করে।

  • হিউম্যান ইম্যুনো ডিফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচ, আই, ভি নামে পরিচিত ভাইরাস এইডস এর কারণ। এইচ, আই, ভি দেহের রোগ প্রতিরোধ (ইম্যুন সিস্টেম) ব্যবস্থা নষ্ট করে দেয়। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ অন্যান্য কোন মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না বলে রোগী মারা যায়।
  • এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হলেও সাধারণতঃ অনেক বছর ধরে ঐ ব্যক্তির শরীরে রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। এই সময় রোগীকে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যবান মনে হতে পারে। কিন্তু এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের দেহে এই রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে।
  • এইচ, আই, ভি সংক্রমেণের চূড়ান্ত পরিণতি হলো এইডস। এইচ, আই, ভি তে প্রথম আক্রান্ত হবার পর থেকে এইডস হতে ৭ থেকে ১০ বছর লাগতে পারে। বর্তমানে এইডসের কোন চিকিৎসা নেই। তবে কিছু ওষুধ আবিষ্কৃত হয়েছে যা দিয়ে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর বেশ কিছুদিন সুস্থ রাখা যায়।
  • কারো এইচ, আই, ভি সংক্রমণ ঘটেছে সন্দেহ হরে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। কি করে অন্যের দেহে এই রোগের বিস্তার রোধ করা যায় এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হয়, সে সম্পর্ক এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জানা খুবই জরুরী।
  • শুধুমাত্র কিছু সীমিত উপায় একজনের থেকে অপরজনের দেহে এইচ, আই, ভি বিস্তার লাভ করতে পারেঃ
  • অসাবধান যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে যখন আক্রান্ত ব্যক্তির দেহরস অপরের দেহে প্রবেশ করে। এভাবে পুরুষ থেকে পুরুষে, পুরুষ থেকে মহিলায় এবং মহিলা থেকে পুরুষের শরীরের এইচ, আই, ভি চলে যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী প্রতি দশজন এইডস রোগীর মধ্যে নয়জনের দেহেই যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে এইচ, আই, ভি বিস্তার লাভ করেছে।
  • জীবাণুমুক্ত না করে সুঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে ইনজেকশন নিলে।
  • রক্ত এইচ, আই, ভির জন্য পরীক্ষা করা না হয়ে থাকলে, সেই রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে।
  • এইচ, আই, ভি আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে তার শিশু এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হয়।
  • এইচ, আই, ভি আক্রান্ত ব্যাক্তির কাছে এলে কিংবা তাকে স্পর্শ করলেই এইচ, আই, ভি ছড়ায় না। আলিঙ্গন, করমর্দন, কাশি এবং হাঁচির মাধ্যমেও এইচ, আই, ভি ছড়ায় না। এইচ, আই, ভি টয়লেট / ল্যাট্রিন, টেলিফোন, থালা, গ্লাস, চামচ, তোয়ালে, মশা, কাপড়, বিছানার চাদর, অথবা পুকুরের পানির মাধ্যমেও ছড়ায় না।
  • এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়।

সংযম অথবা নিরাপদে যৌনসঙ্গমের ব্যবস্থা নিলে যৌন সর্ম্পকের দ্বারা এইচ, আই, ভি তে বিস্তার রোধ করা যেতে পারে। নিরাপদ যৌনচর্চা হলো বিশ্বস্ত একগামী সম্পর্ক অর্থ্যাৎ শুধু স্বামী স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক অথবা উৎকৃষ্ট মানের কনডম ব্যবহার করা।

  • এইডস আক্রান্ত জুটির / দম্পতির বিশ্বস্ত সম্পর্ক উভয়কে এইচ, আই, ভি থেকে রক্ষা করতে পারে।
  • আপনার যত বেশি যৌনসঙ্গী থাকে তাদের যেকোন একজনের এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি এবং আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন। আপনার সঙ্গীর যদি আরো অনেক যৌনসঙ্গী থাকে, তবে সেও এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হতে পারে এবং আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন।
  • যাদের যৌন রোগ আছে অথবা ঘা বা প্রদাহ আছে, তাদের এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং তা অপরের দেহে বিস্তার লাভ করতে পারে। সে জন্য সাথে সাথে জনন অঙ্গের প্রদাহের চিকিৎসা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • যদি আপনি ও আপনার সাথী শুধু নিজেদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রাখেন এবং নিশ্চিত হন যে আপনার কেউ আক্রান্ত ননা, তবে নিরাপদ যৌন চর্চার মাধ্যমে এইচ, আই, ভি র ঝুঁকি কমাতে পারেন। নিরাপদ যৌনচর্চার অর্থ হলো চুমু এবং আলিঙ্গন অথবা প্রতিবার যৌনসঙ্গমের সময় নিয়ম অনুযায়ী উৎকৃষ্টমানের কনডম ব্যবহার করা।
  • এ ধরনের ঝুঁকি এড়ানোর আরেকটি উপায় হলো যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকা।

৩       এইচ, আই, ভি র জন্য পরীক্ষা না করে রক্ত পরিসঞ্চালন করা বিপজ্জনক।

  • রক্তের মাধ্যমে এইচ, আই, ভি বিস্তার লাভ করতে পারে। সংক্রামিত ব্যক্তির রক্ত সংগ্রহ করে যদি সেই রক্ত অন্য কেন ব্যক্তিকে দেয়া হয়, তাহলে এই ভাইরাস বিস্তৃত হবে। যখনই সম্ভব একজন স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা উচিত এবং এইচ, আই, ভি র জন্য পরীক্ষা করা উচিত।
  • রক্তদানের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি এইচ, আই, ভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় না।

৪        জীবানুমুক্ত না করে সুঁচ অথবা সিরিঞ্জ, ত্বক ছেদনকারী যন্ত্র অথবা চিকিৎসার যেকোন সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা বিপজ্জনক।

  • কোন ব্যক্তিকে ইনজেকশন দিলে তার দেহ থেকে খুব সামান্য পরিমিাণে রক্ত সূঁচ বা সিরিঞ্জ চলে আসে। যদি ঐ ব্যক্তির রক্তে এইচ, আই, ভি থাকে এবং যদি তার দেহে ব্যবহৃত সুঁচ বা সিরিঞ্জ জীবাণুমুক্তনা করে অন্যের দেহে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই সাথে এইচ, আই, ভি প্রবেশ করতে পারে।
  • ইনজেকশনের মাধ্যমে অন্যান্য ওষুধ দেয়া প্রায়শঃই অপ্রয়োজনীয়, কারণ অনেক কার্যকর ওষুধই খাওয়া যায়। নিতান্ত প্রয়োজন হলে, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত সুঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে ইনজেকশন দেয়া উচিত।
  • যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা না হলে কানের ছিদ্র করা, দাঁতের চিকিৎসা এবং আকুপাংচার নিরাপদ নয়। নাপিতের কাছে গিয়ে জীবাণুমুক্ত ব্লেড ব্যবহার না করে দাড়ি কামানোও নিরাপদ নয়।
  • যে সব লোক নিজের দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে তাদের বিশেষ করে এইডস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণকারী ব্যক্তির সাথে যৌনসঙ্গম করলেও এইডস বিস্তার লাভ করতে পারে।
  • জাতীয় টিকাদান কার্যক্রমে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ প্রতিবার ব্যবহারের আগে জীবাণুমুক্ত করা হয় বলে তা নিরাপদ।

৫       এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত মায়ের দ্বারা তার শিশুর সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। এই রোগ সংক্রমণ থেকে সকল বাবা মাকে অথবা ভবিষ্যতের বাবা মাকে প্রতিরোধ করতে পারলে, শিশুদের মধ্যে এই রোগ বিস্তার বন্ধ করা যাবে।

  • এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত মহিলা গর্ভবর্তী হলে এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত শিশু জন্ম দেয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। অধিকাংশ এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত শিশু তিন বছর বয়সের আগেই মারা যাবে। যদি শুধু পুরুষ আক্রান্ত হয় তাহলে গর্ভবর্তী হওয়ার সময়ও ঐ মহিলা যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে মা ও শিশু উভয়ের ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।
  • যদি শুধুমাত্র পুরুষ এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন সঙ্গমের ফলে কোন মহিলা গর্ভবর্তী হতে চাইলে মা ও শিশুর এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত স্বামীর কাছ থেকে এইচ, আই, ভি সংক্রমণ প্রতিরোধের অধিকার স্ত্রীর রয়েছে। শিশুর এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকলে গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকার অধিকার সকল স্ত্রীর রয়েছে।
  • এইচ, আই, ভি আক্রান্ত সন্দেহ করে যে তার এইচ, আই, ভি থাকতে পারে তার সন্তান গর্ভধারণ তেকে বিরত থাকা উচিত।

৬        এইচ, আই, ভি কিভাবে বিস্তার লাভ করে সম্পর্কে সব বাবা মায়ের জানা উচিত এবং কি করে এইরোগ প্রতিরোধ করা যায় সেই উপায় তাদের সন্তানকে জানানোর দায়িত্ব নেয়া ‍উচিত।

  • কিভাবে এইচ, আই, ভি তে আক্রান্ত হওয়া এড়ানো ও বিস্তার রোধ করা যায় সে সম্পর্কে জেনে আপনি নিজেকে, আপনার যৌন সঙ্গীকে এমনকি আপনার শিশুকেও রক্ষায় সাহায্য করতে পারেন।
  • বাংলাদেশের সবাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে এইচ, আই, ভি বিস্তার রোধে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar