টনসিল, টনসিলাইটিস এবং টনসিলের ঔষধ

টনসিল, টনসিলাইটিস এবং টনসিলের ঔষধ

টনসিল, টনসিলাইটিস এবং টনসিলের ঔষধ

মুখ গহ্বরে অভ্যন্তরে এলিমেন্টারী ট্রাকের শুরুতেই গলানালীর দু পাশে দুটো মাংসল গ্রন্থি থাকে, যা জিহ্বার মূলে দু টো ভাজের মধ্যে অবস্থিত এরই নাম টনসিল। সুস্থ দেহের জন্য একটি উপকারী অঙ্গ এই টনসিল। এটা দেহরক্ষার কাজে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ প্রত্যঙ্গসমূহের মধ্যে অন্যতম উপকারী অংশ। টনসিল ওয়ালডেয়ার্স লিষ্ফেটিক রিং নামেও বিশেষ পরিচিত। টনসিলের গঠন প্রকৃতি দেহস্থ অন্যান্য রিং এর তুলনায় আলাদা। রোগ জীবাণুসমূহ সাধারণতঃ সুস্থ শরীরে ঢোকার চেষ্টা করে। ওসব জীবানু ধ্বংসের জন্য টেস্টটিউবের মতো এক ধরনের গুপ্তকক্ষ থাকে টনসিলে। টনসিলের ঐ নলাকৃতির কক্ষদ্বারের কাজ হলোঃ শরীরে যেসব জীবাণু ঢুকছে তা ধ্বংস করার জন্য রোগ প্রতিষেধক বীজ তৈরি করা। টনসিলের অব্যন্তরে প্রস্তুতকৃত এই রোগ প্রতিষেধজক বীজ অল্পমাত্রায়। অতঃপর রসবাহী নলদ্বার নিদ্ধারিত দেহকোষসমূহে স্থানান্তরিত করে টনসিল মূলতঃ দেহের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। টনসিল দু টা কতিপয় সাব এপিথিলিয়াল গ্ল্যান্ড বা অধীনস্থ দেহকোষ পরিচর্যাই কেবল করো না বরং রক্তে কতিপয় নির্দিষ্ট দেহকোষ, লিস্ফোসাইটিস তৈরির ক্ষেত্রও প্রস্তুত করে থাকে। রোগ প্র্রতিষেধক তৈরির মাধ্যমে টনসিলদ্বয় রোগ প্রতিরোধই শুধু করে না, আপন দেহকেই রোগ প্রতিরোধ্য করে তোলে। কিন্তু ছোটকাল থেকেই টনসিলদ্বয় যখন ক্রমাগত  রোগাক্রান্ত হতেই থাকে এবং তা যদি এমন ক্ষতিকর অবস্থায় পৌছায় যে লিষ্ফোসাইটকে রক্ষা করা তার পক্ষে আর সম্ভবপর হয়ে ওঠে না, তখন আক্রমণাত্বক  রোগ জীবানু ও বিষাক্ত পর্দাথ চুইয়ে চুইয়ে রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে অসুস্থতা বৃদ্ধি করে। এ অবস্থা খুবই কষ্টকর এবং বিপদজনক যেমন শিশুদের ক্ষেত্রে তেমনি  প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যেও। তখন বিশেষ অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে দরকার হতে পারে টনসিলকে কেটে বাদ দেয়ার।

টনসিলদ্বায় রোগাক্রান্ত হওয়া মানে টনসিলাইটিস হওয়া। টনসিলাইটসের ধরণ বিভিন্ন। তীব্র প্রকৃতিরও হতে পারে অবার দীর্ঘকাল ধরে অসুস্থতা স্বত্তেও তেমন প্রতিক্রিয়া নাও হতে পারে। তীব্র ধরনের টনসিলাইটিস  যে কোন বয়সেই হতে পারে , তবে শিশু এবং যুবকদেরই সাধারণত টনসিলাইটিস হয়ে থাকে। শিশুরা খুব কমই তাদের গলার ব্যথার কথা নালিশ করে থাকে। শিশুরা খুব কমই তাদের গলার ব্যথার কথা নালিশ করে থাকে। যেমন খুব জোরে জ্বর আসা,  ক্ষিধে নষ্ট হওয়া, ওজন কমে যাওয়া এবং গলা ব্যথার সাথে সাথে কানেও ব্যথা অনুভূত হওয়া। এ সব উপসর্গ ছাড়াও টনসিলাইটিসে আক্রান্তদের জিহবার ওপর অনেক সময়  একটা পর্দার মতো পড়ে যেতে দেখা যায়। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অতিসত্তর চক্ষু, নাক ও কর্ণ বিশেষজ্ঞকে দেখান উচিত। টনসিলের অসুখে নিজে নিজে ডাক্তারী করবেন না। শিশুকে এ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না। জানা থাকলে শিশুকে রোগ প্রতিরোধক ওষুধ দেবেন।

অনেকদিন যাবত যদি টনসিলদ্বয় ফুলে টনসিলের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সাধারণত টনসিল স্ফীত কিংবা ক্রনিক ল্যাকুনার টনসিলাইটিস থেকেত্ব হতে পারে।

সক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সত্বে ও শরীরগ কারণে টনসিল অনেক দিন পর্যণ্ত প্রায় ২ থেকে ৫/৬ বছর পর্যণ্ত স্ফীত অবস্থায় থাকতে পারে। এ সময়ের মধ্যে টনসিলে রোগ দমন ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এই ধরনের ফুলে থাকা টনসিলের বিশেষ কোন সমস্যা থাকে না। তবে মাঝে মাঝে খুব তীব্র প্রদাহ হয়।

এমন অবস্থায় টনসিলাইটিস ছাড়াও অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি যেমন হাম, স্কারলেট ফিভার, ডিপথেরিয়া ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।

চার থেকে পনেরো বছর বয়স্কদেরই সাধারণতঃ টনসিলাইটিস হয়ে থাকে। টনসিলজনিত কারণে ক্রমাগত গলা ব্যথা, খুশখুশে কাশি, মুখ দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস আদান প্রদান নাক, দিয়ে পানি পড়া এবং এডিনয়েড বা গলায় রস গ্রন্থি যদি আক্রান্ত হয় তাহলে কানও    বধির হয়ে যেতে পারে। যেসব টনসিল শরীরগত কারণে ফুলে থাকে সেগুলো সুর্যরশ্মি এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য খেলে ভালো হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যদি টনসিল ফুলে থাকে তাহলে কান, নাক এবং গলা বিশেষজ্ঞ এর শরনাপন্ন হওয়া উচিত। তিনিই কেবল বলতে পারবেন যে,  টনসিল অস্ত্রোপাচারের প্রয়োজন আছে কি না। বড়দের সাধারণতঃ ক্রনিক ল্যাকুনার টনসিলাইটিস হয়ে থাকে। স্মরণ রাখবেনঃ টনসিল অভ্যান্তরে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুপ্তঘরের মতো কক্ষ আছে। কক্ষগুলো টনসিলের বহিঃদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এ সব ছিদ্র পনিরের ন্যায় একধরনের পদার্থে ভরাট হয়ে যায়, যাতে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ঐ তরল পর্দাথ মুখের রুচি কমিয়ে দেয়, খাদ্যসামগ্রী বিশ্বাদ ঠেকে। টনসিলাইটিস আক্রান্তদের প্রায়ই গলায় ব্যথা হয়। মুখে থাকে দুর্গন্ধ। পনিরের মতো সাদা জিনিসটা মুখের স্বাদ নষ্ট করে দেয় এবং সব সময় পঁচা জিনিস পেটে যাওয়ার কারণে হজমের গন্ডগোল বা অন্যান্য শারিরীক অসুবিধাও দেখা দিতে পারে। যেমন বাত বাত ভাব। টনসিলাইটিস এমন পর্যায়ে গেলে টনসিলকে অস্ত্রোপাচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেয়াই ভাল। টনসিল বাদ দেয়া আজকাল বেশ সহজসাধ্য কাজ। এ জন্য দুশ্চিন্তায় কোন কারণ নেই। শিশু কিংবা বয়স্ক যে কারোরই টনসিল কেটে বাদ দেয়া আজকাল মামুলি ব্যাপার। আজকাল এই ধরনের অস্ত্রপাচার শহরের অনেক ক্লিনিকে আউটডোর পেসেন্ট হিসাবে করা হয়। অর্থ্যাৎ রোগীকে ক্লিনিকে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। আরও মজার ব্যাপার যে, রোগীর বয়স যত কম অস্ত্রোপাচার ঝামেলও তত কম। তাই হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন আরও কমে যায়।

একটা ব্যাপার লক্ষ্য রাখতে হবে টনসিলদ্বয়ের যেটা সব সময় অসুস্থ থাকে সেখানে কোন প্রকার অসুবিধা দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং অপসারণ ছাড়া আরোগ্যের আর কোন পথ যদি খোলা না থাকে তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা দূর করে ফেলাই লাভজনক।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar