স্তন ক্যান্সারঃ ঝুঁকি বাড়ছে দিন দিন

স্তন ক্যান্সারঃ ঝুঁকি বাড়ছে দিন দিন

স্তন ক্যান্সারঃ ঝুঁকি বাড়ছে দিন দিন

প্রতি মাসিকের প্রথম দিন নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করাতে পারেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এবং বিছানায় শায়িত অবস্থায় স্তন পরীক্ষা করা যায়।

বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে বাম স্তন পরীক্ষার জণ্য মাথার নীচে একটা পাতলা বালিশ রেখে বাম হাত মাথার নীচে রাখুন, এবার ডান হাতের চার আঙ্গুল দিয়ে বাম স্তনের ওপরের দকে মৃদুভাবে চাপ দিন। এবার কয়েলের মত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন। কোন স্থানে চাকা বা পিন্ডের অস্তিত্ব আছে কিনা। বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে স্তনের বোটায় চাপ দিয়ে দেখতে হবে, কোন রস নির্গত হয় কিনা। একইভাবে ডান স্তনটিও পরীক্ষা করে দেখুন।

এর যে, কোন একটা উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  এশিয়ায় স্তন ক্যান্সার দিন দিন ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে। জাপানে ১৯৭৫ সালের চেয়ে ১৯৮৫ সালে স্তন ক্যান্সারের রুগীর সংখ্যা শতকরা ৭৫ ভাগ বেড়েছে। সিঙ্গাপুরে ১৯৯১ সালে ৩৫ ও তার চেয়ে বেশি বছর বয়স্কা প্রতি ১ লাখ মহিলার মধ্যে স্তন ক্যান্সারে ৩৫ জন মহিলা মারা যায়।  ইংল্যান্ডের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়স্ক ৫৯৭ জন মহিলাকে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পেয়েছেন যে, এদের মধ্যে অনেকেই অসুবিধে বোধ করেছেন। তবে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, এদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ, মহিলা স্বল্প ব্যাথা অনুভব করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা এসব মহিলার স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকায় ক্যান্সার সোসাইটি পরামর্শ দিয়েছে যে, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়স্ক মহিলাদের প্রতি ২ বছল কমপক্ষে ১ বার এবং ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক মহিলাদের প্রতি বছর একবার স্তন পরীক্ষা করানো দরকার। চিকিৎসরা মনে করেনঃ পরীক্ষার ক্ষুদ্র লিস্ফস সনাক্ত করা হলে তা অপসারনের জন্য তাপ বিকিরণ অস্ত্রোপাচারের মত কাজ করে। অস্ট্রেলিয়ায় টিউমার সর্ম্পকিত মৃত্যুর সাধারণ কারণ হচ্ছে স্তন ক্যান্সার। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার মহিলাদের জন্য বিনামুল্যে স্ক্রিনিং কর্মসুচি চালু করেছে। এই কর্মসুচির সমন্বয়কারী জানানঃ ৪০ বছর বয়সের শতকরা ৭০ ভাগ মহিলার মধ্যে শতকরা ১৬ ভাগ মহিলাই স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুকি এড়াতে পারেন।

মধ্যবয়স্ক অথবা বয়স্ক প্রতি ১০ জন মার্কিন মহিলার মধ্যে ১ জন স্তন ক্যান্সারের যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন।  এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ায় স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা বাড়ছে। তারা এজন্য এশিয়ার খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় পর্দাথ থাকাকে দায়ী করেছেন। মরণব্যাধী রোগ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে অর্ধেকই মারা যায়।

কিছু পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে। ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করা সম্ভব হলে চিকিৎসায় সুফল পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকরা ২৫ বছর বয়সের বেশি বয়স্কদের লিষ্ফ ও চামড়ার পরিবর্তনের পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতি মাসিকের পর এই পরীক্ষা করতে হবে। নিজে নিজে পরীক্ষার মাধ্যমে শতকরা ৯০ ভাগ স্তন টিউমার সনাক্ত করা যায়। বয়ঃসন্ধিকালে হরমোন নিঃসরণেল পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে স্তনের আকার বৃদ্ধি পায় এবং দুধ উৎপাদনের সহায়ক হয়। এতে কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ক্যান্সারের ঝুকি বেড়ে যায়। যাদের আগে আগে বয়ঃসন্ধি শুর হয় এবং বেশি বয়সে মাসিক বন্ধ হয় তাদের স্তন ক্যান্সার হতে পারে। ৩৫ বছরে পাওয়া যে ক্ষমতা প্রয়োজন তার অর্ধেক শক্তিও থাকে না। তখন অন্যান্য আরও সব অসুবিধার সাথে রোগ সংক্রমণ রোধ করার ক্ষমতাও বিঘ্নিত হয়।

অনেকে যুক্তি দিয়েছেন যে অনেক ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

হিউস্টনের এ্যান্ডারসন হসপিটাল এবং টিউমার ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ডাঃ আর সি ক্লার্ক  এম ডি বলেছেন, “ কোন কোন ভিটামিন অবশ্যই ক্যান্সার দমন করে ।” ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকেট ডাঃ রেমন্ড জে, শকমরাগার বলেছেন, “ কোন কোন ভিটামিন যে ক্যান্সার রোধ করতে পারে তাতে কোন সন্দেহ নেই।” ইউনির্ভাসিটি অফ ভিয়েনার ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান ডাক্তার হেনরিক ওর্বার মতে, “সঠিক পুষ্টিযুক্ত খাদ্যের সাথে যদি আলাদাভাবে অতিরিক্ত ভিটামিন খাওয়া যায় তাহলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি কমে যায়।”

সাধারণ বৃদ্ধি ব্যবহার করার আমি পরামর্শ দেবো। আমার বিশ্বাস প্রতিদিন যদি কোন ব্যাক্তি পরিকল্পনা মোতাবেক নিয়মিতভাবে নিম্নলিখিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করেন তাহলে অনেক উপকার পাবেন। যেমন বেটাক্যারোটিন (১০ মিলিগ্রাম)। ভিটামিন ই,  ৫ শত আর্ন্তজাতিক ইউনিট। ভিটামিন সি (৬৫০ মিঃ গ্রাম), কপার (৩ মি. গ্রাঃ), জিঙ্ক (২৪ মিঃ গ্রাম), ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-১, বি২, বি৩,  ও বি ১২ (আরডি এর চেয়ে ১২ গুণ বেশি) এর সাথে ভিটামিন্ এ ডি, নিয়াসিন, ফোলেট, প্যানটোথেনিক এ্যাসিড, রাইওটিন এবং আয়োডিন অন্ততঃ আর ডি এ মাত্রায়।

মনে রাখবেন যে সাধারণ খাদ্য তালিকার সাথে এ ধরনের অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করলে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। যেমন এক ধরনের পেপ স্টেট আছে যা করালে ক্যান্সারের পূর্ব লক্ষণ ধরা পড়বে।

মহিলাদের যৌন নালী থেকে এক ধরনের রস নিয়ে পরীক্ষ করে দেখা হয় যে, এতে কোন ক্যান্সারের জীবাণূর সন্ধান পাওয়া যায় কিনা।

এই পরীক্ষায় পাঁচ ধরনের দেয়া হয়। ফলাফল যদি পঞ্চম নম্বরের হয় তাতে বুঝা যাবে যে, পুরোমাত্রায় ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আর তৃতীয় নম্বরর জন্য যে ফলাফল থাকবে তা ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ বোঝাবে। যে সমস্ত মহিলার পরীক্ষার ফলাফল ৩ নম্বর পর্যায়ের অর্থ্যাৎ ক্যান্সারের পূর্ববস্থায় আছেন তারা যদি ৪ থেকে ৬ মাস ধরে উল্লেখিত অতিরিক্ত পুষ্টিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন এবং তারপর আবার পেপ টেষ্ট করেন তাহলে তাতে দেখা যাবে যে, তাদের অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। অবশ্য এক বছর পরেও তাদের অবস্থা স্বাভাবিক থাকবে। এটা সকলের জন্যই খুবই আশাব্যাঞ্জক।

নিম্নে উল্লেখিত পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে ক্যান্সার ও হৃদরোগ হওয়ার আশংকা অনেক পরিমাণে কমে যাবে। উপদেশগুলোর প্রধান প্রধান বিষয় হচেছ কম চর্বি, কম কোলেস্টেরল এবং ভিটামিন খনিজপুষ্ট অধিক অল্মযুক্ত খাদ্যগ্রহণ,  সব ধরনের ধুমপান থেকে বিরত থাকা, মদ্য খাওয়া কমানো, রেডিয়েশেনের নিকর্টবতী না হওয়া ( এমনকি অধিক মাত্রায় সুর্যরশ্মিতেও) এবং স্বাস্থ্যকর কাজকর্মে নিয়োজিত থাকা বিশেষ করে আপনার বয়স যখন ৩৫ থেকে ৪০ এ অতিক্রম করেছে।

নাজমা রহমান অনুমিত

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar