ব্লাড প্রেসার উচ্চ রক্তচাপঃ সার্বক্ষণিক পরামর্শ

ব্লাড প্রেসার উচ্চ রক্তচাপঃ সার্বক্ষণিক পরামর্শ

ব্লাড প্রেসার উচ্চ রক্তচাপঃ সার্বক্ষণিক পরামর্শ

ডাঃ অভয় পান্ডে

যতই রক্তচাপ বৃদ্ধি পাবে ততই জীবনের আয়ু হ্রাস পেতে থাকবে।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে আপনি যদি তার প্রতিকারের কোন পদক্ষেপ না নেন তাহলে আপনার আয়ু অন্ততঃ বিশ বছর কমে যাবে। এটা অত্যান্ত দুঃখের বিষয় যে রক্তচাপজনিত রোগে অসুস্থ প্রায় ৮০% ভাগ রোগীই আগে থেকে জানতে পারেন না যে তারা বেশ উচ্চ রক্ত চাপে ভূগছেন।

উচ্চ রক্তচাপে কি করা উচিত ?

১। নিয়মিত এবং নিষ্ঠার সাথে প্রায়ই আপনি আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

২। যারা বিশেষ করে লেপিড এর আধিক্য ভুগছেন তারা ঐ ধরনের খাদ্য বেছে নিন যার মধ্যে লেপিড কম আছে। ঘি মিষ্টি ও ভাজা জাতীয় খাদ্য পরিহার করুন।

৩। ওজন কমানো প্রয়োজন।

৪। মাঝামাঝি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করুন। তাতে শুধু ওজনই কমবে না বরং শরীরও সুস্থ অনুভব করবেন। কেননা নিয়মিত মাঝারি ধরনের শারিরিক পরিশ্রম করলে রক্তনালীতে যে রক্তচলাচলে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা দূরীভূত করলে সহায়ক হয়। তবে প্রবল জোরে এবং প্রতিযোগীতামুলক খেলাধুলা বর্জন করা উচিত।

৫। মানসিক প্রশান্তি সব সময় মঙ্গলজনক। মানসিক রোগীদের মনের শাস্তির জন্য যে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয় এক্ষেত্রেও তা অনুশীলন করলে উচ্চ রক্তচাপ প্রশমনে অনেক আরাম পাওয়া যাবে।

৬। যেসব ব্যাক্তি উচ্চ রক্তচাপ বা ঝুকিপূর্ন রক্তচাপে ভূগছেন তাদের হঠ্যাৎ করে হৃদরোগ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে  বলে স্বভাবতই তাদের উড়োজাহাজ চালান উচিত হবে না।

৭। বেটা ব্লকার নিয়ে যাদের কাজ করতে হয় তাদের কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করতে কষ্ট হয়। যাই হোক অধিকাংশ ব্যাক্তিই যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তারা যদি নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন তাহলে তাদের কাজে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

৮। আপনি বিদেশেও যেতে পারবেন। তবে আপনি সাধারণতঃ যেসব ওষুধ সেবন করে থাকেন যাওয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে সেগুলো আপনার সাথে নিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনি  যে ব্যাগটি হাতে করে বইবেন সেই ব্যাগেই আপনি ওষুধ বহন করবেন। কেননা প্রায়ই দেখা গেছে উড়োজাহাজে সুটকেস হারিয়ে যায়। নিজের নিরাপত্তার জন্য যেসব ওষুধ আপনি খেয়ে থাকেন সেগুলো সাথে সাথে রাখবেন।

৯। গরম আবহাওয়া দেশে রক্তচাপ সাধারণতঃ ঠান্ডা দেশের চেয়ে নিম্নমুখী হয়। তাই সেখানে যদি আপনার মাথা ঘোরার ভাব দেখা দেয় তাহলে আপনার ওষুধের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারেন। আপনি যদি স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যান কিংবা বেশ কিছুদিনের জন্য যান তাহলে সে দেশের চিকিৎসা খরচার কথা একবার ভেবে দেখবেন।

১০। উচ্চ রক্তচাপে যৌন কাজে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। গুনেথিডাইন, বেথানিডাইন ও ডেবরস কুইন নামে আগেকার ওষুধগুলোতে কখনই কখনই যৌন কাজে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। কিন্তু বর্তমানে ডাইয়োরেটিকম, বেটাব্লকারস যে ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে তাতে যৌন কাজে উল্লেখযোগ্য কোন প্রভাব ফেলে না। যৌন সঙ্গমকালে রক্তচাপ সাধারণত ঃ খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। যা বৃদ্ধি পায় তা দুটো সিড়ি দ্রুত আরোহণ করলে যতটুকু চাপ সৃষ্টি হয় তার বেশি নয়। ফলে কোন ব্যাক্তির তাতে ক্ষতি হবে না।

১১। আপনি যদি অন্য কোন অসুখের জন্যে ডাক্তারের শরনাপন্ন হন তাহলে আপনি যে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন সেটাও জানিয়ে রাখবেন। তাহলে যেমন, দন্তচিকিৎসক হয়তো বা সীমাবন্ধ স্থানে বহুস করার চিন্তা ত্যাগ করবেন। কেননা যখনা অ্যাড্রিন্যালিন ব্যবহার করা হয় তখন ধমনীগুলো সঙ্কুচিত করে দিতে পারে।

১২। মহিলা রোগী যারা গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন করে থাকেন ব্যবহার করার পূর্বে এবং পরে তাদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করান উচিত।

১৩। রক্তচাপ কমানোর জন্য বর্তমানে যেসব ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে গর্ভাবস্থায় শিশুদের শারীরিক অস্বাভাবিকতার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি। বস্তুঃ গর্ভাধাণকালে চিকিৎসা করালে শিশু ঠিকমত বাড়বার সুযোগ পায় এবং বেচে থাকার আশাও ‍বৃদ্ধি পায়।

১৪। সব সময় মনে রাখবেন যে রোগ হয়ে গেলে সারানোর চেয়ে রোগ যাতে না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়াটা চিকিৎসায় প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া দরকার। উচ্চ রক্তচাপ পীড়িত ব্যক্তি বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা থাকে যদি তার চিকিৎসা করা হয় এবং তাদের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। আপনি কেমন বোধ করছেন সেটা বড় কথা নয়, আপনার রক্তচাপ ঠিক কতটা সেটাই বড় কথা। রক্ত চাপের মাত্রা জানায় একমাত্র হচ্ছে তা পরিমাপ করা।

       কি করা উচিত নয়

১। হঠ্যাৎ করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না। তাতে করে অস্বাভাবিক রক্তচাপ নতুন করে দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যারা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যারা বেটা ব্লকারস এবং ক্লোনিডাইনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।

২। রক্তচাপ সাধারণ পর্যায়ে নেমে এলেও কখনই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না। কারণ অস্বাভাবিক রক্তচাপের ওষুধ চিরজীবন খেয়ে যাওয়াই নিয়ম।

৩। লবণ খাওয়ার সম্পূর্ন ছেড়ে দেবেন না। তবে আলাদাভাবে লবণ নেবেন না। আর নোনতা জাতীয় খাদ্য যেমন আলুর চিপস, সশ কিংবা আচার পরিহার করে চলার চেষ্টা করবেন। প্রায় ২ গ্রাম করে লবণ প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে। চা বা কফি একেবারেই বন্ধ করবেন না। সীমিত পরিমাণে এই জাতীয় খাদ্য উচ্চ রক্তচাপ আরও ক্ষতি করে বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বস্তুতপক্ষে এই জাতীয় খাদ্যের নিজস্ব গুণে রোগীর শরীরে প্রশান্তি এনে দিতে পারে। অত্যাধিক মদ্যপান  সব সময় ক্ষতিকর কেনানা এতে ট্রাইগ্লিসারাইড সিরামকে ঘন করে দেয় এবং মদ কার্ডিওমাইওপ্যাথি ঘটায়। সম্ভব হলে ধুমপান করবেন না। ধুমপান শুধু হৃদযন্ত্রের রক্ত সরবরাহকারী শিরায় রক্ত জমিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে না বরং হৃদপ্রকোষ্ঠকে তন্তুময় করে তুলে আকষ্মিক মৃত্যুর কারণ ঘটাতে পারে। কারও যদি হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবারহকারী শিরায় রক্ত যাওয়ার অসুখ থাকে, কেননা বেশিরভাগ অতি উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগীই সেই রোগে ভূগে থাকেন।

অনুবাদ: নাজমা রহমান।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar