মেঘলা ঘুরে

মেঘলা ঘুরে

মেঘলা ঘুরে

স্বরুপ সোহান

পাহাড়ের আকাবাঁকা পথ ধরে ছুটে চলেছে আমাদের বাস। চট্রগ্রাম থেকে কাটায় কাটায় সকাল ১০ টায় বাসে চড়েছি আমরা। দলে সবশুদ্ধ আটজন। গন্তব্য আমাদের মেঘলা। শুনেছি দারুন ‍সুন্দর জায়গা। বান্দরবনের সড়ক দিয়ে আমাদের  বাস ছুটছে তো ছুটছেই। একবার দেখছি বাস পাহাড়ের উপর আবার পরক্ষনেই একেবারে নিচে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই ঘন সবুজ পাহাড়। পাহাড়ের উপর ছোট্র ছোট্র ঘর। বেশিরভাগই মাটির। দূরের পাহাড়গুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। পাশে বসা তানভীরকে জিজ্ঞেস করতেই বললো আদিবাসিরা ঐ পাহাড়গুলোতে চাষ করে। চাষ করার আগে ওরা পাহাড়ে খড়কুটো জড়ো করে আগুন দেয়। ঐ আগুনের ধোঁয়া থেকেই বোঝা যায়, ওখানে চাষ করা হবে। বান্দরবনের রাস্তাগুলোতে এতোটাই আঁকাবাঁকা যে বাইরে তাকালেই মনে হয় বাস এক্ষুণি পড়ে যাবে। শত শত ফুট নিচে খাদে। ঘড়ি জানান দিচ্ছে বেলা প্রায় সোয়া ১২ টা। সিটের পেছন থেকে এনাম বললো আর মাত্র মিনিট দশেক পরেই আমরা মেঘালয় পৌছে যাবে। ১০ মিনিটের আগেই বাসের কন্ডাক্টর চেচিয়ে উঠলো,  মেঘলা! মেঘলা! হ্যান্ডারস্যাফ, পানি ইত্যাদি নিয়ে নেমে গেলাম আমরা আটজন।

বান্দরবন শহর এখন থেকে আরো প্রায় ৪ কি. মি. দূরে। বাস আমাদের নামিয়ে দিয়েই ছুটে পালালো বান্দরবনের দিকে।  এই সেই মেঘলা। এতো শুনেছি এই জায়গায় নাম। ততোক্ষনে আমরা সম্বিত ফিরে পেয়েছি। ওর পিছু নিলাম সবাই। চট্রগ্রাম বান্দরবন মহসড়কের পাশ দিয়েই হাঁটলাম কিছুক্ষণ। একটু পরই চোখে পড়ল  মেঘলা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। বড়সড়ো একটি গেট গেটের পাশেই টিকিট কাউন্টার। তপু বললো চল টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি। রাজি গেলাম সবাই। আটটি টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম ভিতরে। গেটের ভিতরে ঢুকতেই বিস্ময়ে সবার মুখ হা হয়ে গেলো এক সঙ্গে। কি অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। গেট থেকে ঢাল বেয়ে নেমে গেছে সিড়ি। বাঁয়ের লেকে টলমলে পানি। চারদিকে পাহাড়। সিঁড়ি বেয়ে একেবারে নিচে নামালাম আমরা। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে এই  সিড়ি। চারদিকেই গাছ আর গাছ। যেন সবুজ রং মাখানো হয়েছে জায়গাটায়। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই সবুজ। আমরা আটজন হঠাত নিস্তব্দ। প্রকৃতির মধ্যে মিশে গেলে কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিস্তব্দতার মধ্য প্রকৃতিই যেন চুপি চুপি কথা বলছে আমাদের সবার সঙ্গে। শাফি ওর ক্যামেরায় শার্টার টিপে চলছে সমানে। কিছুদূর ‍এগুনোর পর আমরা লেকের পাড়ে এসে পৌছালাম। লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক একটি নৌকা। ঘাটে দাড়ানো এক লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক লোকের কাছে জানা গেলো, দড়ি টেনে নৌকা নিয়ে লেকের ওপারে যাওয়া যায়। হুড়মুড় করে আমরা আটজন উঠে পড়লাম নৌকায়। মিনিট চারেক পরই নৌকা এসে ভিড়লো লেকের ওপারে। ওপারে নামতেই চোখে পড়লো সাইনবোর্ড লেখা, পাহাড়ের ওপর চিড়িয়াখানা, তিনটি হরিণ, দুটি অজগর, চারটি শেয়াল, কয়েক প্রজাতির সাপ, আর বেশ কিছু বানর এই সম্বল। তারপরও বেশ সাজানো গোছানো।

বানরের সঙ্গে বাদরামি করলো কিছুক্ষণ লিপু। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড় আর নিচে এঁকে বেঁকে গেছে টলমলে লেক। যেন শিল্পির তুলির টান। নৌকা দিয়ে আবার এপারে চলে এলাম আমরা। পেটে তখন  ছুঁচোর নাচন। পর্যটনের সব কিছু থাকলেও কোনো রেস্টুরেন্ট নেই এখানে। আচে একটি কনফেকশনারি। েএকজনকে প্রশ্ন করে জানা গেলো, বেশিরভাগ লোকই এখানে আসে পিকনিক করতে। আরো জানা গেলো লেকের উপর দিয়ে চমতকার একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তখন লেকটি আরে সুন্দর লাগবে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে পড়লাম আমরা। বান্দরবনের বাস ধরতে হবে আমাদের। এবার আমাদের গন্তব্য বান্দরবন।

আপনাদের জন্য

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবনের বাসে উঠে পড়ুন এবং মেঘালয় এসে নেমে পড়ুন। বাস ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা। মেঘালয় থেকে কোন আবাসিক হোটেলও নেই। তাই এখানে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন না। বনভোজনে যেতে পারেন।

এখানে আগুন জ্বালানো যায়। সুতারাং ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় খাওয়া কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা আগেই করুন। শক্ত জুতো অথবা স্যান্ডেল পরবেন। কেননা, পাহাড়ে উঠতে হবে।

মেঘলা পর্যটনে ঢুকতে টিকিটের মূল্য ২0 টাকা। ক্যামেরা অবশ্যেই সঙ্গে নিন। না হলে জীবনে দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্যগুলো মিস করবেন। সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিস্তদ্ধতার মধ্যে প্রকৃতিই যেন চুপি চুপি কথা বলছে আমাদের সবার সঙ্গে। শাফি ওর ক্যামেরার শার্টার টিপে চলছে সমানে। কিছুদুর এগুনোর পর আমরা লেকের পাড়ে এসে পৌছালাম। লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক লোকের কাছে জানা গেলো, দড়ি টেনে নৌকা নিয়ে লেকের ওপারে যাওয়া যায়। হুড়মুড় করে আমরা আটজন উঠে পড়লাম নৌকায়। মিনিট চারেক পরই নৌকা এসে ভিড়লো লেকের ওপারে। ওপারে নামতেই চোখে পড়লো সাইনবোর্ড। লেখা, ‘পাহাড়ের ওপর চিড়িয়াখানা’। ওঠা শুরু করলাম আমরা। ছোট্র একটি চিড়িয়াখানা তিনটি হরিণ দুটি অজগর, চারটি শেয়াল, কয়েক প্রজাতির সাপ, আর বেশ কিছু বানর, এই সম্বল। তারপরও বেশ সাজানো গোছানো।

বানরের সঙ্গে বাঁদরামি করলো কিছুক্ষণ লিপু। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড় আর নিচে একেবেঁকে গেছে টলমলে লেক। যেন শিল্পির তুলির টান। নৌকা দিয়ে আবার এপারে চলে এলাম আমরা। পেটে তখন ছুঁচোর নাচন। পর্যটনের সব কিছু থাকলেও কোনো রেস্টুরেন্ট নেই এখানে। আছে একটি কনফেকশনারি। একজনকে প্রশ্ন করে জানা গেলো, বেশিরভাগ লোকই এখানে আসে পিকনিক করতে। আরো জানা গেলো লেকের উপর দিয়ে চমৎকার একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তখন লোকটি আরো সুন্দর লাগবে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে  পড়ালাম আমরা। বান্দরবানের বাস ধরতে হবে আমাদের। এবার আমাদের গন্তব্য বান্দরবান।

আপনাদের জন্য

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবানের বাসে উঠে পড়ুন। মেঘালয় এসে নেমে পড়ুন। বাস ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা। মেঘালয় কোনো আবাসিক হোটেল নেই। তাই এখানে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন না। বনভোজনে যেতে পারেন।

ওখানে আগুন জ্বালানো যায়। সুতারাং ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় খাওয়ার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা আগেই করুন।

শক্ত জুতো অথবা স্যান্ড পরবেন। কেননা পাহাড়ে উঠতে হবে।

মেঘলা পর্যটনে ঢুকতে টিকিটের মূল্য ২ টাকা। ক্যামেরা অবশ্যই সঙ্গে নিন। না হলে জীবনে দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্যগুলো মিস করবেন।


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar