ম্যালেরিয়া – প্রতিকার ও প্রতিরোধ

ম্যালেরিয়া – প্রতিকার ও প্রতিরোধ

ম্যালেরিয়া প্রতিকার ও প্রতিরোধ

ডাঃ এস এ খালেক

ম্যালেরিয়া নাম শোনেনি এমন লোক বলা যায় এদেশে নেই- ই। কিছুদিন পূর্বেও আমাদের দেশে প্রায় প্রত্যেক পরিবারে কেউ না কেউ ম্যালেরিয়ায় ভুগতো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত ম্যালেরিয়া নিরোধ প্রকল্পে সফল বাস্তবায়নের পর ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বহুলাংশে কমেছে। তবে ম্যালেরিয়া যে পুরো নির্মূল হয়েছে তা বলা যায় না। আমাদের দেশে মাঝে মধ্যেই এ রোগ দেখা যায়। বিশেষ করে পার্বত্য চট্রগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে এ রোগের প্রকোপ মাঝে মাঝে ঘটে। এসব অঞ্চলের সাথে বর্মা ও আসামের সীমান্ত রয়েছে।

কেমন করে রোগ হয় ?

ম্যালেরিয়ার জীবানুর নাম প্লাসমোডিয়াম। এ এক ধরনের অনুজীবী। প্লাসমোডিয়ামের বহু প্রজাতি আছে যারা মানুষ পশুপাক্ষীর মধ্যে ম্যালেরিয়া সৃষ্টি করে যে সমস্ত প্রজাতি তাদের নাম হলোঃ পাঃ ভাইডেক্স, পাঃ ফ্যালসিপেরাম, পাঃ ওভেলী এবং পাঃ ম্যালেবী।

ভারতীয় উপমহাদেশে কর্মরত থাকাকালে রোনাল্ড রস প্রথম আবিষ্কার করেন নোফিলিস জাতীয় স্ত্রী মশা। রোগাক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত হতে কামড়ের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তির রক্তে ম্যালেরেয়িার জীবাণু ছড়ায়। দংশনকালে রক্তের সাথে মশার উদরে প্লাসমোডিয়াম প্রবেশ করে এবং সেখানে চক্রকারে দৈহিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বংশ বিস্তার করে। প্লাসমোডিয়াম প্রথমে যকৃতে এবং পরে লোহিত কনিকায় পৌছায়, সেখানে জীবানুটি চক্রাকারে বংশবিস্তার করে। তারপর লোহিত কণিকা ফেটে যায় ও নুতন জন্ম নেয়া প্লাসমোডিয়া বেরিয়ে পড়ে েএবং নতুন নতুন লোহিত কণিকাকে আক্রমণ করে।  এইভাবে পর্যায়ক্রমে বহু লোহিত কণিকা ধ্বংস হয় ও রক্তশূণ্যতায় সৃষ্টি হয়। এছাড়া জীবানু ধ্বংস হবার সময় এক প্রকার টক্সিন বা অভিবিষ রক্তে ছাড়ে। এসবের ফলে রোগের লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ সৃষ্টি করে।

       উপসর্গ কি কি

ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণসমূহ নির্ভর করে কোন শ্রেণীর প্লাসমোডিয়াম রোগের জন্য দায়ী তার ওপর। মুলতঃ তিন ধরনের ম্যালেরিয়া আছেঃ বেনাইন টারসিয়ান, ম্যালিগন্যান্ট টারসিয়ান, বেনাইন কোয়ারটান।

বেনাইন টারসিয়ান এবং ম্যালিগন্যান্ট টারসিয়ানে জ্বর আসে ২৪ ঘন্টা পরপর, বেনাইন টারসিয়ানে আসে ৭২ ঘন্টা পরপর।

জ্বরের প্রকৃতিরও লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য আছে। রোগী খুব শীত অনুভব করে এবং সাথে সাথে জ্বর আসে এবং দ্রুত তা বাড়তে থাকে। ১০৪ – ১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত পৌছাতে পারে। শীত এত বেশি লাগে যে, রোগী ঠকঠক করে কাপতে থাকে, দাঁত কামড়ায়, কাথা দু একটা দিয়েও তা কমান যায় না। এর কিছুক্ষণ পর রোগী খুব গরম বোধ করতে শুরু করে এবং সাথে ঘামতে থাকে। সেই সাথে জ্বর কম, শুরু হয় এবং কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিকে নেমে আসে। রোগী আরাম বোধ করে ঘুমিয়ে পড়ে।

রোগীর জ্বর যখন বেশি থাকে তখন সে ভুল বকতে পারে, বমি করতে পারে। মাথায় ব্যথা হয়। পেটের অসুখ ও জন্ডিস দেখা দিতে পারে। প্লীহা ও যকৃত বাড়ে যা ডাক্তারী পরীক্ষার সময় ধরা পড়ে।

       ম্যালিগন্যান্ট টারসিয়ান

ম্যালেরিয়াকে গুরুতর ধরনের অসুখ বলে বিবেচনা করা হয়। কারণ ঐ ধরনের রোগে বিবিধ সাংঘাতিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন (এক) সেরেব্রাল ম্যালেরিয়া, যেখানে রোগীর দেহ শীতল হয়ে যায়। নাড়ী দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। (তিন) হৃদপিন্ডের ক্রিয়া লোপ পেতে পারে। এসব অবস্থায় রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। ঠিক সময় এবং ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে রোগ ক্রমিক হয়ে পড়ে। সে অবস্থায় রোগী শীর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তশূণ্যতা তীব্র আকার ধারণ করে। যকৃত ও প্লীহা বেড়ে সব পেট ভরিয়ে দেয়। রোগী স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে অসমর্থ হয়ে পড়ে। সমস্ত পরিবার অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পতিত হয়।

রক্ত পরীক্ষা করলে লোহিত কণিকার মধ্যে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বা প্লাসমোডিয়াম পাওয়া যায়। তখন রোগ সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়। এছাড়া রোগীর হিমোগ্লোবিন ও শ্বেতকণিকার মাত্রা কমে যায়। পক্ষান্তরে মোনোসাইট ও লিষ্ফোসাইটের সংখ্যা বেড়ে যায়।

চিকিৎসা কি হবে ?

ম্যালেরিয়া রোগের সকল চিকিৎসা চিকিৎসকরেদ হাতে আছে। ক্লোরোকুনই, ৪ এমিনো কুইনোলিন, এমডায়াকুইন খুব অকার্যকর এবং ডাক্তাররা প্রথম তারই একটা ব্যবহার করেন। ৬০০ গ্রামের ট্যাবলেট প্রথমে ও তার ছয় ঘন্টা পর ৩০০ গ্রাম এবং এরপর ৩ -৭ দিন প্রতিদিন দু বার ১৫০ গ্রাম ডোজে খেতে দিতে হয়। এতে কাজ না হলে বিশেষ করের ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়াতে কুইনাইনের প্রয়োজন পড়ে থাকে।

এছাড়া রোগীকে বিছানায় পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পানি খেতে হবে। বমি বেশি হলে এমনকি স্যালাইন দিতে হতে পারে। জ্বর বেশি হলে পানি দিয়ে সারা গা স্পঞ্জ করে দেয়া ভালো। প্যারাসিটামল খেতে দেয়া যেতে পারে।

প্রতিরোধ কেমন করে করবেন ?

প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসাবে মশা নিরোধের ব্যবস্থাই সবচেয়ে ভালো। মশারী ব্যবহারের, সন্ধ্যায় বাহিরে বেরুলে লম্বা হাতা জামা ব্যবহার ও মশা নিরোধক মলম ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বাড়ির আশেপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা;  ডোবা নালাতে মশার ওষুধ যেমন ডি ডি ছিটান, পানি জমতে না পারে তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বিদেশীদের ম্যালেরিয়নাশক ওষুধ যেমন ক্লোরেকুইন ব্যবহারের জন্য অনেকে সুপারিশ করে থাকেন।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar