যক্ষা রোগের অনুপযুক্ত চিকিৎসায় এইচআইভি রোগীর আয়ু সংক্ষিপ্ত

যক্ষা রোগের অনুপযুক্ত চিকিৎসায় এইচআইভি রোগীর আয়ু সংক্ষিপ্ত

যক্ষা রোগের অনুপযুক্ত চিকিৎসায় এইচআইভি রোগীর আয়ু সংক্ষিপ্ত

মোঃ ওবায়দুর রহমান

যক্ষা রোগের অনুপযুক্ত চিকিৎসার ফলে দ্রুত প্রতি বছর  এইডস ভাইরাস সংক্রামিত প্রায় আড়াই লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে। ভূল চিকিৎসায় এদের সুস্বাস্থ্য সম্মত জীবনের অতিরিক্ত দু বছর কেড়ে নিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত দুই তৃতীয়াংশ রোগীর দুর্বল চিকিৎসা অথবা যক্ষা রোগের ভুল পরামর্শ কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর মৃত্যু ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে এ বছর এইডসের কারণে মৃত্যুবরণকারী মোট ছ লাখ রোগীর মধ্যে যক্ষা থেকে  এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হবে দু লাখ ৬৬ হাজার।

এইচআইভ (হিউম্যান ইমিউনো ডিফিসিয়েনসি ভাইরাস) হচেছ এইডস ( একুইয়ার্ড ইমিউনো ডিফিসিনেসি সিনডম) রোগের কারণ যার উপাদান মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যক্ষা বিষয়ক কর্মসুচির পরিচালক ডাঃ আরতা কোচির মতে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ যে ভূলটি করা হচ্ছে তা হলো চিকিৎসকরা এটা নিশ্চিত হতে ব্যর্থ হচ্ছেন যে, প্রতিদিন যক্ষা রোগীদের সম্পূর্ণ বিপরীত ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

অপরিণামদর্শী চিকিৎসার ফলে রোগীর দেহে দীর্ঘদিন ধরে রোগ জীবানু অবস্থান করে। এতে করে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বান্ধব ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবন ঝুকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর তা থেকে এ ধারণাই বদ্ধমুল হতে থাকে যে, রোগী যক্ষা থেকে আরোগ্য লাভ করবে না।

হু র মতে এর জবাব হলো স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা, যাকে সংক্ষেপে ডটস (ডাইকেটলি অবজার্বড ট্রিটমেন্ট সর্টকোর্স) বলা হয়। ডটস এর কৌশল অবলম্বনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী এবং সেচ্ছাসেবক দল যারা যক্ষা রোগীদের ছ মাস ধরে প্রতিদিন নিয়মিত ধৈর্যের সঙ্গে ওষুধ খাওয়াবেন।

এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মাদক সেবনে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। কিন্তু যারা যক্ষা রোগী, মাদক সেবনে তারা ১০০ ভাগ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় শিকার হন।

জাতিসংঘের এইডস কর্মসুচির পরিচালক ডঃ পিটার পিয়ট বলেছেন, এইচআইভি, এইডস এবং যক্ষা এই তিনটি রোগের মধ্যে অংশত অঙ্গাঙ্গি যোগসুত্র রয়েছে।

তিনি বলেন,  জাতিসংঘ এইডস কর্মসূচি যদি  এইচআইভির বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হয় তবে বিশ্ব থেকে যক্ষা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেছেন, বিশ্ব যক্ষা কর্মসূচি যদি যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসুচিকে জোরদারভাবে এগিযে নিতে সক্ষম হয় তবে আমরা এইচআইভি রোগীদের জীবন আরও দীর্ঘায়িত করতে পারব এবং এইডস রোগীদের জন্য যে খরচ হয় তা কিছুটা কমিয়ে আনতে পারব।

বর্তমানে যক্ষা রোগে মৃত্যুবরণকারী ন জন রোগীই এইডস সম্পৃক্ত। কিন্তু এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুনে গিয়ে পৌছাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা এইডস সংক্রামিত এলাকা সমুহের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে যক্ষানাশক ড্রাগ ‘থায়াসিটাজন’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছে।

যদিও এই ড্রাগটি খুব সস্তা কিন্তু যখন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগীর দেহে এটি প্রয়োগ করা হয় তখন দেহ থেকে ভাইরাস ত্বকে সংক্রামিত হয়। এছাড়াও অন্তত ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়।

বিশ্ব যক্ষা কর্মসুচির গবেষনা বিভাগের প্রধান ডাঃ পলনুন বলেছেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে এইডস প্রতিরোধের জন্য আমাদের কর্তব্য স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো দিয়ে সহায়তা করা। আর যক্ষা চিকিৎসায় নিয়োজি কর্মীদের কর্তব্য ভালভাবে অনুধাবন করা, কিভাবে যক্ষা রোগীর দেহে এইচআইভি ভাইরাস নীরবে সংক্রামিত হয়।

ডঃ কোচি বলেন, “যক্ষা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে  এবং এই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে কারণ বিগত দশকগুলোতে যক্ষানাশক কার্যকরী কোনও ওষুধ আবিষ্কারে এ বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “যক্ষার সঠিক ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে আমরা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। তবে আমরা এই ব্যর্থতা থেকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হবো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে  মালটি ড্রাগ রেজিট্যান্স টিবি ( এমডিআরটিবি ) কখনই আপনা আপনি বিস্তার লাভ করে না। এই রোগ শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপযুক্ত যক্ষানাশক ড্রাগ প্রয়োগে কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে।

আধুনিক যক্ষানাশক চিকিৎসা যা সর্টকোর্স কোমোথেরাফী (এলসিসি) নামে পরিচিত তা হলো চারটি যক্ষানাশক ড্রাগের সংমিশ্রণ যার মধ্যে রয়েছে আইসোনিয়াজিয (প্রচলন শুরু ১৯৫২ সাল) রিফামফিসিন (১৯৬৬ সাল), পিরাজিনামাইড (১৯৫২ সাল) বা স্ট্রেপটোমাইসিন।

হু র মন্তব্য, “এ ওষুধগুলোর কার্যকরী ক্ষমতা শতকরা ৯৫ ভাগ এবং ব্যয়ও অতি সামান্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর পূর্ণমাত্রায় চিকিৎসায় খরচ হয় সর্বাসাকুলে্ ১৩ ডলার।

ডঃ সেলম্যান ওয়াকসম্যান ১৯৬১ সালে স্ট্রেপটোমাইসিন উদ্ভাবন করেন যার ব্যবহার উচ্চমূল্য এবং বিষাক্তজনিত কারণে বর্তমানে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া নতুন অপর ১০ টি  ইনজেকশন উদ্ভাবিত হওয়ার পর এটির প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু ১৯৬৬ সালের পর থেকে আজ পর্যণ্ত নতুন যক্ষানাশক কোনও ড্রাগ আবিষ্কৃত হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন েএতে করে ধীরে ধীরে ওই রোগটি আবার জাকিযে বসাতে পারে।

এ প্রসঙ্গে হু র বক্তব্য, “যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তবে তা ব্যক্তি পর্যায়ে এবং সম্প্রদায়গত সকলের জন্যই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ওই পর্যায়ে চিকিৎসা হবে যেমন জটিল তেমনি ব্যয় বহুল।

হু যক্ষা বিষয়ক ডেপুটি ডাইরেক্টর ডঃ রিচার্ড বামর্গানার বলেন, “চিকিৎসা বিহীন যক্ষা আমাদের বিগত শতাব্দীর দিকে টেনে নিয়ে যাবে যদি না আমরা এর বিস্তার ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির দেহে ছড়িয় পড়ার আগেই রোধ করতে পারি।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar