রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

নওরোজ ইমতিয়াজ

একবার এলেই জায়গাটির প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা। শান্ত, সমাহিত, অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হচ্ছে এই রাঙামাটি।

ঢাকা থেকে সরাসরি ডলফিনের বাস যায় সকালে আর রাতে। আর নয়তো চট্রগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর রাঙ্গামাটির বাসে। বিমান বা ট্রেনে যাওয়া সম্ভব নয় রাঙ্গামাটিতে। একটু কষ্ট বৈকি। কিন্তু নিজের দেশকে চেনার জন্য  এগুলো কোন সমস্যা না। রাঙ্গামাটির যেখানটাতেই থামেন সেটাই দেখার মতো জায়গা। যেদিকে তাকানো হোক সেটাই ছবি তোলার মতো সুন্দর। আকাশ, পাহাড় আর পানি। সাথে গাঢ় সবুজ অরণ্য। সবকিছুর বিচিত্র সহাবস্থান শিল্পির কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবার কথা। প্রকৃতি মনে হয় তার অবসর সময়ে একটু একটু করে পরম যত্ন নিয়ে বানিয়েছে গোটা এলাকা। রাঙ্গামাটি জেলাটাই একটা বিরাট পাহাড়ি এলাকা। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে কম বেশৗ এক দেড়শ ফুট ওপরে। পাহাড় কেটে কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। এই ঢালু তো এই খাড়া। তার ওপর বেশ কঠিন কঠিন সব মোড়। ওপাশ থেকে কি আসছে না আসছে বোঝার উপায় নেই। সে কারনে যে আস্তে আস্তে যাবো তারও উপায় নেই । তাহলে গাড়ি উঠবেই না খাড়া ঢাল বেয়ে। গাড়ি ঘোড়া মোড় নেয়ার সময় তাই বিকট শব্দে হর্ন বাজতে হয়। রাঙ্গামাটি শহরে কোনো রিকশ, ভ্যান, সাইকেল নেই। শুধু কিছু স্কুটার ঘোরাফরা করে। স্কুটারের ভাড়াটাও বেশ চমৎকার। নির্দিষ্ট একটা রেঞ্চের মধ্যো যেখানেই যাওয়া যাক জনপ্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া। এর বাইরে গেলে ১০ টাকা। এর বেশি না। রাঙ্গামাটি শহরের অভিজাত এলাকা হচ্ছে বনরূপা। ঢাকার গুলশান, বনানীর মতো। সমস্ত বড় বড় সরকারী, বেসরকারি অফিস আর বসতবাড়ী। তারপর হচ্ছে তবলছড়ি। এটাও বেশ সুন্দর জায়গা। শহরে একটু পরপর নানারকম দোকান, অফিস, বাড়িঘর। সীমান্ত অঞ্চলে থেকে আসা উন্নতমানের কাঠের ব্যবসা আছে। ঢাকা থেকে লোকজন এসে তা দিয়ে দরকার মতো আসবাবপত্র বানিয়ে নিতে পারে। খানিকটা দূরে দূরে নানারকম হ্যান্ডিক্যাফটের দোকান। স্থানীয় উপজাতি মেয়েদের বানানো জামা কাপড়, ব্যাগ, টুপি, মাটির বা কাঠের খেলনা, পুতুল সব পাওয়া যায়।

রাঙ্গামাটি পর্যটনের জন্য বিরাট সুবিধা। পর্যটন করপোরেশনের মোটেল আছে। এসি, ননএসি সবরকম থাকার ব্যবস্থা আছে। আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল সুফিয়া। অগ্রিম বুকিং এর জন্য ফোন নম্বর হলো: ০৩৫১২১৪৫।

পর্যটনের পাশে দেখার জায়গা হলো ঝুলন্ত ব্রিজ। ব্রিজের দুপাশে লেক আর পাহাড়। বোটের ব্যবস্থা আছে। একঘন্টা এক থেকে পাঁচশ টাকা ভাড়া। দেখার মতো আরো আছে পর্যটনের রেস্ট হাউস, শুটিং স্পট, তারপর আরেকটু ভেতরে গেলে আদিবাসীদের গ্রাম, প্রাচীন মন্দির,পুরোনো রাজবাড়ি। স্থানীয় মানুষজন খুব উদারমনা ধরনের, বেশ অতিথি বৎসল। দেখা হলে বন্ধু বন্ধু চেহারা করে এগিয়ে এসে কথাটথা বলে। খুব সহজ সরল। তবে রাঙ্গামাটি এসে বেড়ানোর ভয় একটাই, ম্যালেরিয়া। রাত হলেই বিশাল বিশাল সাইজের মশারা টহল দিতে শুরু করে । শহরের দিকে এই সমস্য অল্প হলেও গ্রামাঞ্চলে বিষয়টা ভয়াবহ পর্যায়ের। অতএব, রাঙ্গামাটি বেড়াতে হলে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক সাথে রাখা জরুরী।

আপনাদের জন্য

  • ঢাকা থেকে সরাসরি শুধু ডলফিন পরিবহনের বাস যায় সকালে আর রাতে।
  • চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির বাস যায়। দুই ঘন্টার রাস্তা। ভাড়া ৩৫ টাকা।
  • ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক নিয়ে নেবেন। এই রোগের বিরাট উপদ্রব রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।
  • রাস্তায় চলাফেরার সময় ট্রাফিক আইন কানুন মেনে চলুন। রং সাইডে চলে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
  • হালকা পোশাক পরুন। ফর্মাল হতে গেলে চলাফেরা সমস্যা্।
  • সাথে একটা ক্যামেরা নেন। ছবি তোলার জন্য এক রকম দৃশ্য আর পাবেন না।

Ask For Rent/ Fare

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

We will let you know the "Rent/Fare" within 10 minutes through SMS or Email.
Call Now ButtonCall Now!
Skip to toolbar