সুন্দর, সুন্দর, সুন্দরবন

সুন্দর, সুন্দর, সুন্দরবন

সুন্দর, সুন্দর, সুন্দরবন

প্রলয় রহমান

সুন্দরবন। প্রকৃতির এক বিরাট বিষ্ময়। প্রায় ২৪ হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত সুন্দরবন শুধু ভারতীয় উপমহাদেশেই নয় পুরো পৃথিবী জুড়ে খ্যাতি কুড়িয়েছে। এতো বড় ম্যানগ্রোভ ফরষ্ট আর নেই। জোয়ার ভাটা, সবুজ বনানী আর বিচিত্র বন্য প্রাণী সব সময় হাতছানি দেয় মানুষকে। ভয়ঙ্কর অথচ কি আশ্চর্য সুন্দর এই সুন্দরবন। ইচ্ছে  করলেই ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবন। প্রতিবছর শীতের সময় প্রকৃতিপাগল। প্রেমিকরা পাড়ি জমায় এই সুন্দরবনে। শুধু এদেশেই নয়, বহু বিদেশী পর্যটক আসেন এই সৌন্দর্য অবলোকন করতে। কিন্তু সবয়েয়ে কষ্টের বিষয়টি হচ্ছে, সৌন্দর্যের পাহাড় হওয়া স্বত্বেও এর যাতায়াত এবং থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল ও দূর্ভোগপূর্ণ। যেদিকে সরকারের কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেই এখনো পর্যন্ত। সাধারণত ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি খুলনা এবং খুলনা থেকে লঞ্চে করে ঘুরে বেড়ানো যায় সুন্দরবন। তবে সরাসরি ট্রেন বা প্লেনে যাওয়া সম্ভব নয়। প্লেনে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে যশোর, পরে বাসে যশোর থেকে খুলনা যাওয়া যায়। ঢাকা থেকেজ বেশ কিছু এসি বাস ও নন এসি বাস চলাচল করে।

সাধারণত এসি বাসে ৩০০ টাকা এবং নন এসি বাসে ১৮০ টাকা নেয়া হয়। হানিফ, শ্যামলী, সুন্দরবন,পর্যটক, খালেক প্রভৃতি এই রুটের বাস। খুলনায় বন অধিদপ্তর থেকে অভয়ারণ্যের পাস সংগ্রহ করতে হয় কিছু নিয়ম কানুনের মধ্য দিয়ে। এরপর খুলনা ও মংলা থেকে লঞ্চে ভাড়া করে যাওয়া যায়। সাধারণত লঞ্চগুলো তিন দিনের জন্য কেবিন দেড় থেকে ২ হাজার টাকা নেয়্ যেহেতু সুন্দরবন অনেকগুলো দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত তাই ঘুরে বেড়াতে সময় লাগে।  এই দিকগুলো চিন্তা করে বাংলাদেশে বর্তমানে বেশ কিছু বেসরকারী পর্যটন সংস্থা গড়ে উঠেছে। যারা সুষ্ঠুভাবে ভ্রমন ও আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গ্রীন চ্যানেল, গাইড ট্যুর লিমিটেড এরকম কিছু সংস্থা যারা পাঁচদিন ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জনপ্রতি ভালোভাবে থাকার ঘোরার ও চারবেলা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। এছাড়াও আর্মস গার্ড দ্বারা ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করে তুলতে সক্ষম। যা বাড়তি ঝামেলা ভ্রমণের মজা নষ্ট করার হাত থেকে বাঁচায়। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই প্রকৃতির অপরূপ লীলা। জীবনের বদ্ধতার মাঝে তাই ছুটে যেতে ইচ্ছা করে সেই প্রকৃতির পানে। লঞ্চ থেকে দেখা যায় গোলপাতায় ছাওয়া রূপলীলসমৃদ্ধ অরণ্যের মাঝে চিত্রা হরিণের পাল যেন অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছে। নদীতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় শিশু, শুশুক, কামট, হাঙ্গর মাঝে মাঝে লাফ দিচ্ছে। রূপসা, ভৈরব, পশুর, বলেশ্বর, কচা, রায়মঙ্গল নদীগুলো এখনো এসে মিলেছে এই মোহনায়। সুন্দরবনের টুরিষ্টগুলো হচ্ছে কটকা, কচিখালী,দুবলারচর ও হীরন পয়েন্ট। এছাড়াও আছে চাঁদেশ্বর, কালুরহাট ইত্যাদি জায়গা। বাঙালি মৌয়ালদের হলুদ জামা ও মাথায় লালপট্রি আকৃষ্ট করে সবাইকে। কটকাতে বেশকটি সুন্দরী কাঠের বংলো আছে, একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারেও আছে। যেখান থেকে গভীর বনের জন্তু ও পাখি দেখা যায়।  এখানে মাঝখান দিয়ে চলে গেছে সরু সরু খাল। ৫-৬ টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে সহজেই ঘুরে বেড়াতে পারেন এসব খালে। সেখানে মাঝে মাঝে কুমির দেখা যায়। তীরে বিষাক্ত লাল কাঁকড়া রয়েছে। এছাড়া বড় বড় পিঁপড়া ও মশার বেশ উৎপাত আছে। এজন্য প্রতিষেধক মলম ও গামবুট পরে চলা উচিত। কচিখালিতে আছে এক বন বিভাগের অফিস ও কিছু পুরানো রেস্ট হাউস। এছাড়া বিরাট বিরাট শুটকির ক্ষেতও চোখে পড়ে। দুবলারচরের প্রধান আকর্ষণ রাশমেলা যা বছরের নভেম্বর মাসে বসে। গভীর বনে ও এই মেলায় আসে দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ। হীরণ পয়েন্ট হচ্ছে বাংলাদেশের দক্ষিণ পম্চিমাঞ্চলের শেষ সীমানা। এখানে পর্যটকদের জন্য হোটেল আছে। আছে পর্যবেক্ষন টাওয়ার যা থেকে বাঘ, হরিণ দেখা যায়। বন বিভাগের নীল কমোল অফিসটিও বেশ সুন্দর।

পরিশেষে যে বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হয় তা হলো বন বিভাগের বন নিয়ন্ত্রনের সঠিক বাস্তবায়নের অভাব। যার ফলে অবাধে কাঠ ও বন্য জন্তু পাচার হচ্ছে।

আপনাদের জন্য:

  • অবশ্যই সঙ্গে করে ওষুধপত্রাদি নেবেন।
  • সঙ্গে দূরবীন ও টুপি নেবেন, গামবুট পারলে ভালো। পাতলা আরামদায়ক পোশাক নেবেন।
  • অবশ্যই অভয়ারণ্যের পাস সঙ্গে রাখবেন সবসময়।
  • সুন্দরবন দেখার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আছে প্যাকেজ ট্যুর। পাশাপাশি বেসরকারি কিছু সংস্থাও বছরে একাধিক প্যাকেজের আয়োজন করে।
  • বাংলাদেশ পর্যটন করপোরশেনে যোগাযোগ ফোন নং- ৮১৯১৯২, ৮১৭৮৫৫।
  • খালেদ রেন্ট এ কার এর ফোনঃ ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭

Ask For Rent/ Fare

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

We will let you know the "Rent/Fare" within 10 minutes through SMS or Email.
Call Now ButtonCall Now!
Skip to toolbar