হরমোন বিষয়ক জটিলতা এবং হরমোন চিকিৎসা

হরমোন বিষয়ক জটিলতা এবং হরমোন চিকিৎসা

হরমোন বিষয়ক জটিলতা এবং হরমোন চিকিৎসা

ডা. মো. ফারুক পাঠান

বন্ধ্যা অবস্থা

স্থায়ী বন্ধ্যাবস্থা অনেক দম্পত্তির এক বিরাট সামাজিক সমস্যা। বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া বা সন্তানের জন্য ২/৩ টি বিয়ের কথাও শোনা যায়। স্ত্রী পুরুষের যেকোন একজন বা ‍দু জনেই এই সমস্যার জন্য সমভাবে দায়ী হতে পারেন। সঠিকভাবে সমস্যা নির্ণয় ও ধৈর্য সহকারে ও আন্তরিকভাবে ধাত্রীবিদ্যা বিশারদকে নিয়ে সম্মিলিত দল গঠন করে পরিপূর্ণ সমাধান দিতে পায়ে এন্ডোক্রেনিকলজী।

মেয়েদের দাড়ি গোঁফ গজানো, স্ত্রী দেহে হরমোন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে স্ত্রী দেহে পুরুষ হরমোনের আধিক্য দেখা দিতে পারে। ফলে মেয়েদের ছেলের মত মুখে, হাতে, পায়ে, বুকের মাঝে উরুর ভেতরের অংশে ও নিতম্বের উপরের অংশে, নিম্নাঙ্গে অতিরিক্ত লোমের আধিক্য দেখা দেয়। অনেক সময় হরমোনের তারতম্য ছাড়াও এমন হতে পারে। একে বলা হয় হিরসুটিসম হরমোনের আধিক্য হলে পুরুষালী শারিরীক গঠন হতে পারে যাকে ভিরলাইজেশন বলা হয়ে থাকে। এটা কেবল দৈহিক সৌন্দর্যে্রর হানি করে সমস্যার সৃষ্টিই করে না সামাজিক ও মানসিক সমস্যাও সৃষ্টি করে।

সেক্স পরিবর্তন ও হরমোন ভারসম্যহীনতা

স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ের ভেতর স্ত্রী ও পুরুষ হরমোন থাকে। পৃথিবী ও প্রকৃতির মতো মানবদেহেও এই হরমনগুলো সমতা বজায় রেখে অবস্থান করে। কোন কারণে এর তারতম্য হলে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ের শরীরে অস্বাভাবিক বিপরীত লিঙ্গ সদৃশ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পুরুষ দেহে টেস্টোটেরণের অভাব হলে বা স্ত্রী হরমোন বেশি নিঃশৃত হতে থাকলে শরীরে নারীসূলভ আচরণ ও দৈহিক পরিবর্তন দেখা দেয়। কেবল তাই নয়, প্রজন বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। কোন মেয়ের ছেলেতে ও কোন ছেলের মেয়েতে রূপান্তরিত হওয়ার খবর ফলাও করে মুখোরোচক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কেবল হরমোনোর তারতম্য নয়, জন্মগতভাবে বিপরীত লিঙ্গ ও উভয় লিঙ্গ নিয়েও কোন শিশু জন্ম নিতে পারে। অনেক সময় শিশুকালে ধরা না গেলেও বয়ঃসন্ধিকালে এ সমস্যা অবশ্যই প্রকাশিত হয়ে থাকে। পরিবর্তিত সেক্সের আর একটি কারণ হল সেক্স ক্রোমোজমের তারতম্য। এটা শুক্র বা ডিম্ব তৈরির সময় শুক্র ও ডিম্ব সম্পৃক্ত হওয়ার সময়ে সেক্স হরমোনের অনিয়মতান্ত্রিক অসংগঠনের কারণে এই তারতম্য দেখা দিতে পারে। ফলে সেক্স অস্পষ্টতা, উভয় লিঙ্গ পরিবর্তন ও স্বতন্ত্রীকরণ সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে এমনকি সামাজিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

মেদ বা ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়া

       শরীর মোটা বা মেদবহুল হওয়া ভুঁড়ি হওয়ার সমস্যা যদিও পশ্চিম দেশগুলোতে বেশ প্রকট, তবে আমাদের দেশে এ সমস্যা নেহায়েত কম নয়। জন্মগত ভাবে বা শিশু বয়সে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। অনেকের বংশগত কারণেও শিশুকাল থেকেই এই ধরনের মেদবহুল বা মোটা শরীর হতে পারে।

এই সাথে অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যা বিকাশ লাভ করে। সেক্স হরমোন স্বল্পতাজনিত লক্ষণাদি দেখা দেয়। নালীবিহীন গ্রন্থির অতিরিক্ত নিঃসরণজনিত কারণে মেদবহুলতার সমস্যা অতি সহজে চিকিৎসার মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব। এই ধরনের মেদবহুলতার কারণ খুঁজে বের করা ও সমাধান দেয়া কিন্তু এন্ডোক্রেনিওলজীর কম দায়িত্ব নয়। সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করাতে পারলে বহুমুত্র, উচ্চ রক্তচাপ রক্তে চর্বির আধিক্য ও এসব থেকে সৃষ্ট শিরা ও ধমনীর সমস্যা বা এথেরোক্লেরোসিস ও থ্রমবোসিস ও হুদপিন্ডের সমস্যা, পিত্তে পাথর, বাত, অস্থিক্ষয় ও আরও অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল

রক্তনালীতে চর্বি জমা হয়ে বিভিন্ন সমস্যা,  যেমন স্ট্রোক ও হৃদযন্ত্রের রোগ বিশ্বের দেশবিদেশের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। হৃদযন্ত্র ও মস্তিস্কের রক্তনালীর বিভিন্ন রোগের অর্ন্তনিহিত কারণের জন্য উচ্চ রক্তচাপ, বহুমুত্র, ধুমপান, অতিরিক্ত ওজন, কায়িক পরিশ্রমের অভাব যেমন দায়ী, তেমনই রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ও কম দায়ী নয়। কোলেস্টেরল ও ট্রাটগ্লাইসেরাইড একক বা সম্মিলিতভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই বেড়ে যাওয়া আনুপাতিক হার একেক অবস্থায় একেক রকম হয়। সাধারণতঃ চর্বি বহন করার জন্য ব্যবহৃত আমিষ লাইপোপ্রোটিনের স্বল্পতা বা অভাবের কারণে রক্তে চর্বি বেড়ে যায়। জন্মগত ও বংশগত কারণ ছাড়াও অন্যান্য রোগের কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। হরমোনোর আধিক্যে বা স্বল্পতার কারণগুলো যা চর্বির অসমতা সৃষ্টি করতে পারে (যেটা সহজেই দূর করা ও চিকিৎসায় নির্মূল সম্ভব) তাদের অন্যতম হল অনিয়ন্ত্রিত, বহুমুত্র, গ্রোথ হরমোনের আধিক্য একরোমেগালী জাইগ্যান্টিজম ফরটিক্যাল হরমোনের আধিক্য কুসিং সিনড্রম থাইরয়েড হরমোনের অভাব।

হাইপো থাইরয়েডিজম, সেক্স হরমোন চিকিৎসা, বৃক্কের বিভিন্ন অসুস্থতা, হেপাটাইটিস, সিরোসিস বিভিন্ন ওষুধ ও অতিরিক্ত পানাভ্যাস। রক্তনালীতে জমা ছাড়াও চামড়ার নীচে চর্বি মজুদকারী কোষ একত্রিত হতে পারে।

শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এই কোষ সমষ্টি চিহ্নিত করে আমরা এই ধরনের রোগের উপস্থিতি সন্দেহ করতে পারি। যেমন চোখের পাতায়, কণিকানালী, হাতের তালু ও হাতের রেখার ভেতর, কনুইয়ের পিছনের চামড়া, পিঠে হাঁটুর উপর এসব স্থানে ছোট বা জলপাই আকারে রক্তাভ বা লালাভ গোটা, পায়ের গোড়ালী বা হাতের মাংসপেশীর রগের ভেতর চর্বি কোষগুলো জমে মোটা হয়ে যাওয়া (জেনথোমাটোসিস) ইত্যাদি।

বহুমুত্রের কথাটা না ই বা বললাম। কারণ প্রতিদিন পত্রিকা পুস্তক, বেতার টেলিভিশনের মাধ্যমে এই রোগের প্রাদুর্ভাব, কারণ ও জটিলতা সম্বন্ধে সবাই অল্পবিস্তার জানতে পারছেন।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/

 


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar