মনোস্নায়বিক রোগঃ হিস্টোরিয়া

মনোস্নায়বিক রোগঃ হিস্টোরিয়া

মনোস্নায়বিক রোগঃ হিস্টোরিয়া

ডাঃ এস কে অপু

আমাদের দেশের জনগোষ্টীর মধ্যে প্রচুর মনোস্নায়বিক রোগ (Psycho neutroius) বিদ্যমান। এর মধ্যে এমন একটি মনোস্নায়বিক রোগ আছে যেখানে রোগী তার প্রাথমিক ও নানারকম গৌন সুযোগ সুবিধা অর্জন ও ভোগ করার জন্য অর্থ্যাৎ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধনের জন্য দৈহিক অসুস্থতার লক্ষণের প্রকাশ ঘটায় কিন্তু সে সর্ম্পকে রোগী মোটেই সচেতন থাকে না। এ রোগ হঠ্যাৎ দৃষ্টিলুপ্তি বা স্মৃতি বিলুপ্তির দ্বারা রোগী বিশেষ কোন বেদনাদায়ক বা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যায়। এ রোগটিই হালো আবেগজনিত ‘মুর্চ্ছারোগ’ বা ‘হিস্টোরিয়া’ কারো মতে ‘হিস্টোরিয়াজনিতমনোস্নায়বিক রোগ (Hysterical psychoncurosis) ।

আমাদের দেশে এ রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের মধ্যে দেখা দেয়। বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জের মহিলারেদ  এ রোগ দেখা দিলে ‘জ্বীনে আছল’ বা ‘তাবিজ করেছে’ বলে তার উপর চলে শারিরীক নির্যাতন এবং অপচিকিৎসা। এর একমাত্র কারণ কুসংস্কারচ্ছন্নতা, সামাজিক অবক্ষয়, অন্ধবিশ্বাস এবং অশিক্ষা। এর ফলে রোগী আরো জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। কিন্তু ইউরোপের মধ্যযুগেও মহিলাদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি ছিল। সমাজের বৈপ্লাবিক পরিবর্তনের ফলে তা অনেক কমে গেছে।

হিস্টোরিয়া কাদের বেশি হয় ? দেখা যায় সমাজে যারা অসুবিধাজনক অবস্থায় বা পরিবেশ থেকে কিংবা নানা সামজিক বিধি নিষেধের কারণে ব্যাক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছা বা অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না তাদের মধ্যে এ রোগ বেশি হয়। তাই আমাদের দেশে অল্পবয়সী মহিলা, শ্রমজীবি মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ  এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

হিস্টোরিয়াকে লঘু মানসিক রোগ হিসেবেই ধরা হয়। মনোরোগ বিদদের মতে রোগীর সংঘাতজনিত উদ্বেগ থেকে সৃষ্টি হয়। এতে কোন জৈবিক কারণ খুজে পাওয়া যায় না।

কারণ ঃ পরিবেশে পরিস্থিতি সৃষ্টির কিছু কিছু উপাদন, ছোটবেলা থেকে ভাবাবেগ সম্পর্কিত নিরাপত্তার অভাব (Lack of emotional Security), সাহসিকতা ও দৃঢ়প্রত্যয়ের সুষ্ঠু বিকাশের অভাবে (lack of development of Confidence ) পরবর্তীকালে হিস্টোরিয়াজনিত অসুস্থতার মাধ্যমে রোগীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ ঘটে।

প্র্রথম বিশ্বযুদ্ধর সময় সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে বেশি হারে িএ রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগণের মধ্যে শিক্ষাগত ও বুদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত বাধাবিঘ্নের কারণেও হিস্টোরিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

হিস্টোরিয়া রোগ সৃষ্টির ফলে রোগীর অতিরিক্ত উদ্বেগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। এর ফলে রোগীর মানসিক সংঘাতজনিত উদ্বেগ দূর হয়। একে তখনন প্রাইমারী গেইন’ বলে। এ সব উপসর্গের কারণে রোগী যখন সাথে সাথে আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সহানুভূতি ও সমর্থন পান তাতে রোগী তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে। একে বলা হয়, সেকেন্ডারী গেইন’ ।

শ্রেণী বিভাগঃ হিস্টোরিয়া দু ধরনের –

১। রূপান্তরমূলক হিস্টোরিয়া (Conversion hysteria)

২। বিচ্ছিন্নতামুলক হিস্টোরিয়া (Dissociation hysteria)

       রূপান্তরমূলক হিস্টোরিয়া

এ শ্রেণীর রোগে রোগী রোগাক্রমণের দৈহিক নির্দশন বেশি প্রকাশ করে। রোগীর অভিযোগ তিনি হঠাৎ চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। কিংবা কথা বলতে ও কানে শুনতে পাচ্ছেন না। কখনো কখনো হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়ার কথা বলেন বা দেহের কোন অংশের অনুভূতি বোধের সম্পূর্ণ বিলুপ্তির কথা বলেন।

কখনো দেখা যায় মায়ের মৃত্যুর পর মেয়ে নিজের মধ্যে তার মায়ের মৃত্যুপর্ব লক্ষণগুলোর  প্রকাশ ঘটায়। এ রোগে একটি মনোযযোগ আর্কষণকারী নির্দশণ হলো এই যে রোগী তার রোগলক্ষণে গুরুতরভাবে অক্ষম বা পংশু হয়ে পড়লেও তাকে এ ব্যাপারে লক্ষণীয়ভাবে নির্বিকার মনে হয়।

এ রোগ দু ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনুভূতি বাহক এবং চালক। অনুভুতিবাহক লক্ষণগুলোতে বিশেষ ইন্দ্রিয় সংক্রান্ত যেমন অন্ধত্ব, বধিরতা এবং ত্বকের বা গভীরতার নানা ধরনের অনুভূতির বিলোপ। এছাড়া থাকতে পারে মাথাধরা, ব্যথা এবং কর্ণনাদ।

চালক লক্ষণগুলোর মধ্যে স্বরলোপ, বাকীনতা, পক্ষাঘাত এবং পেশী কাঠিন্য অন্যতম। এছাড়া কম্পন  খিচুনি, জোরে শব্দ প্রকাশ, চোখের পেশীগুলোর আক্ষেপ কখনো কখনো রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় খিচুনি হলে ‘মৃগী রোগী’ বলে সন্দেহ হতে পারে।

       বিচ্ছিন্নতামুলক হিস্টোরিয়াঃ

এ শ্রেণীর রোগের উপসর্গের মূল কারণই হচ্ছে উদ্বেগ। এর প্রধান প্রধান উপর্সর্গগুলো হচ্ছেঃ মূর্চ্ছা যাওয়া, খিচুনি হওয়া, স্মৃতিভ্রংশতা, সম্মেহ আচ্ছন্ন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এবং বিভিন্ন রূপের বহুব্যক্তিত্ব্য। এখানে রোগীর উদ্বেগ থাকা স্বত্তেও উদ্বেগহীন দেখায়।

যেমনঃ রোগীর দেহের কোন অংশের অবশ করাতেও তার মুখে হাসি থাকে। কখনো কখনো রোগী নড়াচড়া না করে গতিহীন নিশ্চল অবস্থান গ্রহণ করে এমনকি পরিবেশের প্রতি কোন প্রতিক্রিয়া প্রদর্শণ করে না। আবার কখনো কখনো রোগী আবদ্ধ অবস্থায় পাগল বা উন্মাদের মতো আচরণ করে।

চিকিৎসাঃ  এ রোগের চিকিৎসা কষ্টসাধ্য হতে পারে। কিন্তু এ চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান সম্মত। রোগীর সাথে প্রলম্বিত সাক্ষাতকারের মাধ্যমে তার মানসিক সংঘাত বের করতে হবে এবং বুঝতে হবে তারপর ‍দুর করার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কখনো কখনো রোগীর উদ্বেগ দুর করার জন্য ওষুধ দেয়া যেতে পারে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে।

রোগীর  অবস্থা জটিল হলে প্রয়োজনে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা উচিত। সুস্থ হলে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেয়া উচিত এবং সাইকোথেরাপীর সময় রোগীকে তার রোগ সর্ম্পকে ভালো করে বুঝানো উচিত।

 

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কোন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar