পা বাড়ালে সবদিকেই বাংলাদেশ – বাংলাদেশ গন্তব্যস্থল

পা বাড়ালে সবদিকেই বাংলাদেশ – বাংলাদেশ গন্তব্যস্থল

পা বাড়ালে সবদিকেই বাংলাদেশ ঃ – এখানে বাংলাদেশ গন্তব্যস্থল গুলো নিয়ে কাব্যিক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সেই পাড়াগাঁর ভেতরে সমুদ্র আসবে কোথা থেকে? তিস্তা নদীও প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু এমন শব্দ হচ্ছে যেন বনজঙ্গল ভেঙে বুনো হাতির পাল আসছে। একসময় তা এল বনের ওপর দিয়ে। খোলা ছাদে বাতাস, বিজলি আর বৃষ্টি শরীরের কোষে কোষে ঢুকে পড়ে এমন এক আনন্দ জাগাল, মনে হলো যেন আমিই বিজলি, আমিই বাতাস। আমিই আকুল হয়ে ঝরছি আমার ভেতর।

আরেকবার খুলনার পশুর নদে হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টি এল। ছোট লঞ্চটা দুলছে; বৃষ্টির সাদা পর্দা ভেদ করে ১০ হাত দূরে দেখা যায় না। আর কোনো ঘটনা নেই। ঘণ্টা দেড়েক সেই নদে থাকা যেন এক আত্মা ধুয়ে দেওয়া সুখ। পাহাড়ের মতো মেঘরাশি, নদীর উথালপাতাল ঢেউগুলোর লাফ দিয়ে বৃষ্টিকে ছোঁয়া; এই দেখায় কোনো ক্লান্তি নেই। কিংবা কোনো সন্ধ্যায় বান্দরবানের এক পাহাড়ি নদীর পাশের রেস্ট হাউসে থামা। অমন সন্ধ্যা একা লোকের জন্য মন খারাপের, কেবলই নানান কথা মনে করার; তবু তাতেও আনন্দ আছে। ছাই ছাই অন্ধকারের রহস্যে ডুবে যাওয়ার রোমাঞ্চ আছে। পাহাড়ি নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হতে পারে, আহ্‌, নিজেকে মনে পড়ছে। শহরের ব্যতিব্যস্ততার মধ্যে যাকে হারিয়ে ফেলছিলেন, সেই আপনাকে মনে পড়ছে। নিজের আত্মাটার শুশ্রূষা করার দরকার আছে।

একটা ছবি হিজিবিজি, একটা ছবি টলটলে পরিষ্কার। কোনটা ভালো লাগবে আপনার? টিভির ছবির কথা হচ্ছে না। হচ্ছে মনের ছবির কথা। পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহরে বাস করে উৎকৃষ্ট ভাব অর্জন করা যায় না। ঢাকাবাসীর বেশির ভাগেরই মনের ছবিটা এ রকম হিজিবিজি। প্রতিদিনের ব্যবহারে ব্যবহারে জীর্ণ মনটাকে তাজা করতে প্রকৃতি ও মানুষে ভরিয়ে নিতে হয়। ভ্রমণ সেটা দেয়। দূরে গিয়ে ফিরে পাওয়া যায় নিজেকেই।

তাই মাঝেমধ্যে পলায়ন দরকার। বাঁচতে হলে পালাতে হবে। কোথায়? দেশগ্রাম, পাহাড়, অরণ্য, নদী-হাওর-বিল ও পথে-প্রান্তরে—যেদিকে দুচোখ যায়।

অনেকের কাছে বেড়াতে যাওয়া বিরাট আয়োজনের ব্যাপার। তাঁরা শহরে যা করেন, বেড়াতে গিয়েও ডুবে থাকেন তাতেই। যেতে হলে শহুরে ঠাটবাট অভ্যাস ফেলে যাওয়াই ভালো।

বাংলাদেশ কুয়াকাটা সৈকতে অবাক সূর্যোদয় দেখে এক বন্ধু বলে উঠল, ‘আহ্‌ কী সুন্দর!’ অপর বন্ধুটা সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিল। মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুখ তুলে তার জিজ্ঞাসা, ‘কই কই?’

মেঘনার বিশালতা, পাহাড়ের গাম্ভীর্য, সৈকতের সূর্যোদয় কিংবা লাউয়াছড়া বনের পাখির ডাক যাকে দেখিয়ে-বুঝিয়ে দিতে হয়, সে চোখ থাকতেও অন্ধ, মন থাকতেও বিমনা।

পর্যটন এক আধুনিক শহুরে শৌখিনতা। কিন্তু বাংলাদেশের মেট্রোপলিটান নগরের মানুষের জন্য এটা অধিকার। এটা জীবনের প্রয়োজন। তাই সব শ্রেণির মানুষই এখন ঘোরাঘুরির মধ্যে আছে। গ্রামের লোক এখন আকছার বাসভাড়া করে বেড়াতে বের হয়। কেউ যতই স্বদেশের মানচিত্রের স্থানে স্থানে পা ফেলেন, দেশটা তাঁর কাছে ততই বড় ও আপন হতে থাকে। এটাও একধরনের আধুনিকতা। ভ্রমণশীল মানুষের মন উদার হয়। বৈচিত্র্যকে তাঁরা নিতে শেখেন।

আর এর পথ দেখাচ্ছেন আমাদের তরুণ-তরুণীরা। এবারের পর্যটন দিবসে আমাদের বাংলাদেশ পর্যটন দপ্তর অকপটে স্বীকার করেছে, দেশের তরুণেরা দেশের ভেতরেই অজস্র সম্ভাবনাময় পর্যটনস্পট চিনিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা যাচ্ছেন আর ফেসবুকে ছবি দিচ্ছেন। তা দেখে অন্যরাও যাচ্ছেন। এভাবে খুব নীরবে একটা পর্যটন বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে দেশময়। এ যেন দেশ আবিষ্কারের নেশা। যেখানেই পা ফেলো, সেখানেই তোমার বাংলাদেশ।

আর বাংলাদেশ এমনই, শত নষ্টের পরেও এখনো অনেক কিছুই আছে। যেকোনো মহাসড়ক থেকে যেকোনো গ্রামের পথে ঢুকলেই বিস্ময় জাগবেই। হয়তো পেয়ে যাবেন বিরাট দীঘির পাড়ে প্রাচীন বটের ছায়ায় লেখা প্রকৃতির ইতিহাস। বিরিশিরি নদী পেরিয়ে গোলাপি চীনামাটির পাহাড় দেখতে যাচ্ছেন। এমন বৃষ্টি এল, গহন এক বাঁশঝাড়ের মধ্যে থামলেন। সেই অন্ধকার বাঁশঝাড় আপনাকে নিয়ে যাবে দুনিয়ার বাইরের এমন এক নির্জনতায়, যেখানে সময় থমকে আছে। যেমনটা হয়তো বোধ হবে বরেন্দ্র এলাকার কোনো মসজিদ বা মন্দিরের চত্বরে দাঁড়িয়ে। সময়হীনতার সেই বোধ দাম দিয়ে কেনা যায় না। দেশ দেখা আর অ্যামিউজমেন্ট পার্কে বেড়াতে যাওয়া এক নয়। সব আনন্দ হুল্লোড় করে হয় না, ট্যুর গাইডের লেজ ধরে পাওয়া যায় না। প্রকৃতির বিশালতা অথবা গ্রামীণ তুচ্ছতার মধ্যেও অগাধ আনন্দের সূত্র লুকানো আছে। একে আবিষ্কার করে নিতে হয়। কে করবে? আমি করব, তুমি করবে, সে করবে!

আর দেশময় ছড়ানো আছে গল্প। মুন্সিগঞ্জের চরে ডাকাতের গল্প, প্রাচীন কোনো জনপদে কেউ আপনাকে শোনাবে অদ্ভুত রূপকথা। কিংবা উপকূলের জেলেদের কাছে জানবেন হাঙরের সঙ্গে, ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করার গল্প। সেসব গল্প হার মানায় হেমিংওয়ের ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি কিংবা জ্যাক লন্ডনের সি উলফ উপন্যাসের দুঃসাহসী নাবিকের গল্পকে। কোনো গ্রামীণ মেলায় এমন গায়ক-গায়িকার দেখা পাবেন, যাঁর প্রতিভা আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে অনেক কাল। আমাদের লোকজ মেলাগুলোতে গ্রামীণ রঙ্গ-রসিকতার বিপুল উৎসব। যে জানে না, সে পায় না।

মানুষ নিজেরাই যখন অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে জাগিয়ে তুলছে, তখন সরকার কি দিতে পারে না একটু নিরাপত্তা? বাউফলে নদীতে বেড়াতে গিয়ে মা-মেয়ে ধর্ষিত হবেন কেন? কেন অচেনা জায়গায় ওত পেতে থাকবে বখাটে দুর্বৃত্তের দল। কিংবা জুটি দেখলেই নাক গলাতে আসবে পুলিশ? দেশটা সুন্দর হবে তখনই, যখন নিরাপত্তাটাও থাকবে, ভ্রমণশীল লোকের নিজস্বতাকে সম্মান করা হবে। এটা পর্যটন দপ্তরের ব্যাপার না, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। এটা জাতীয়ভাবে উন্নত রুচি ও মানসিকতা অর্জনের ব্যাপার। আমাদের বাংলাদেশ হাজার বছর ধরে বিদেশিদের স্বাগত জানিয়ে আসছে। আমরা এতে অভ্যস্ত। কিন্তু অল্প কিছু লোকের জন্য সমাজ সমতলে চলাচলে বাধা আসে। যা স্বতঃস্ফূর্ত তা-ই সুন্দর। পর্যটনকে স্বতঃস্ফূর্ত রাখতে ‘আদেশক্রমে কর্তৃপক্ষ’ বললেই হবে না, দায়িত্বটা পালন করতে হবে।

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নগরায়ণ হচ্ছে বাংলাদেশে। গ্রামদেশ কথাটাই প্রমাণ, দেশ মানেই গ্রাম। নগরদেশ কেউ বলে না। সেই দেশীয় গ্রামীণ আমেজটা বাঁচিয়ে, তার প্রকৃতির স্বভাবে বাধা না দিয়েও তো উন্নয়ন হতে পারে। কিন্তু মহাসমারোহে উল্টোযাত্রা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিরল প্রকৃতি ভরে উঠছে বাজারে বাজারে, ভবনে ভবনে। দেশের মুখ ঢেকে যাচ্ছে বিলবোর্ডে। চেনাজানা দেশটা হয়তো আর থাকবে না। সব নষ্ট হওয়ার আগেই একবার দেশটা দেখতে বের হোন, সন্তানকে দেখান, বন্ধুদের দেখান। দেশপ্রেম হাওয়া থেকে আসে না।

যতই দেশটার আনাচকানাচে থাকা জীবন ও রূপ দেখবেন, ততই একে আপন মনে হবে। দেশের মধ্যে দেশের মানুষের ভ্রমণ তাই নিছক পর্যটন নয়। তা দেশে ফেরার শিক্ষাসফরও বটে। পর্যটন কেবল পর্যটনকেন্দ্রের ব্যাপার না, শুধু স্থানকেন্দ্রিকও না। পর্যটন প্রকৃতি, মানুষ ও জীবনের মধ্যে প্রবেশের সদর দরজা। যেতে হলে তাই প্রকৃতির ভেতর দিয়ে যাও, মানুষের ভেতর দিয়ে যাও, সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে যাও, জীবন ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাও। বাঁচতে হলে তাই মাঝেমধ্যে পালাও।


নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র চেনাচ্ছেন তরুণেরা

About Bangladesh Tourism

সিলেটের বিছনাকান্দি কিংবা রাতারগুলের কথা পাঁচ-ছয় বছর আগেও খুব বেশি লোকে জানত না। একইভাবে অপরিচিত ছিল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খইয়াছড়া কিংবা শ্রীমঙ্গলের হামহাম ঝরনা। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি তিনাপ সাইতার কিংবা রাঙামাটির ধুপপানি ঝরনার কথাও কি খুব বেশি লোকে জানত! কিন্তু এই জায়গাগুলোই এখন তরুণদের বেড়ানোর প্রধান জায়গা।
তরুণেরা দল বেঁধে এখন এসব এলাকায় বেড়াতে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁবু খাটিয়ে রাত্রি যাপন করছেন। প্রতিনিয়তই তাঁরা খুঁজে বের করছেন ভ্রমণের নতুন জায়গা। এ যেন বাংলাদেশকে নতুন করে চেনা।

Bichanakandi

Bichanakandi

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ড এবং পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, এ দেশের সচ্ছল মানুষদের অনেকে বেড়ানোর জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশে চলে যাচ্ছেন। আবার অবকাঠামোগত সমস্যা, ভিসা-সংকট, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাসহ নানা কারণে ২০১৬ সালে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আসার সংখ্যাও কমছে। কিন্তু এ দেশের তরুণেরা দেশের ভেতরেই নানা জায়গা খুঁজে বের করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মতো আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সকলের জন্য পর্যটন: সর্বজনীন পর্যটনের অভিগম্যতা’। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে পঞ্চম এশীয় পর্যটন মেলা।
ফেসবুকে বাংলাদেশে ভ্রমণবিষয়ক অন্যতম প্রধান গ্রুপের নাম ‘ট্রাভেলারস অব বাংলাদেশ’। দুই লাখ সদস্য এখানে নিয়মিত ভ্রমণসম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। প্রকাশ করেন ছবি। সেখানকার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা কিংবা সিলেটের মতো প্রচলিত জায়গাগুলো ছাড়াও রাঙামাটির বিলাইছড়ির ধুপপানি ঝরনা, মুপ্পোছড়া ঝরনা, মিরসরাইয়ের খইয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ঝরনা, বড় কমলদহ এবং ছাগলকান্ধা ঝরনা, খাগড়াছড়ির হাজাছড়া, দীঘিনালার তৈদুছড়া, শ্রীমঙ্গলের হামহাম ঝরনা, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, জাদুকাঠা নদী, দোয়ারাবাজারের সোনালীচেলা, টেকেরঘাটের লাইমস্টোন লেক, খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি, বান্দরবানের বগা লেক, নীলগিরি, থানচির নাফাখুম, ঢাকার কাছে দোহারের মৈনাকঘাট, সিলেটের জাফলংয়ের সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনা, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, মায়াবন, বরিশালের শাপলা বিল শাতলা, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর—এসব নতুন স্থানে বেড়াতে যাচ্ছেন তরুণেরা।
বাংলাদেশে ভ্রমণবিষয়ক একটি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা বিনয় ভ্রদ্র গতকাল বলেন, এখানকার তরুণেরা নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করছেন। আর অল্প সময়ের মধ্যেই এসব স্থানে বেড়াতে যাচ্ছেন মানুষজন। এভাবেই একের পর এক নতুন স্থান জনপ্রিয় হচ্ছে।
ভ্রমণবিষয়ক আলোকচিত্র সাংবাদিক বিল্লাহ মামুন। তাঁর মতে, তরুণেরা যেসব জায়গায় যাচ্ছেন, অবকাঠামোগত সমস্যা ঠিক করা গেলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেসব জায়গায় বেড়াতে যাবেন।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল হক হাওলাদার বলেন, ‘আমরা দেশের প্রায় আট শ জায়গাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে চার শ প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক স্থাপনা আর বাকি চার শ প্রাকৃতিক। এ ছাড়া এ দেশের তরুণেরা নিয়মিত নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করছেন। সেগুলোও আমরা পর্যটনস্থান হিসেবে যুক্ত করছি। ইতিমধ্যেই সিলেট বিভাগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যগুলোও হবে।’
ট্যুর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশের (আটাব) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২০ লাখ লোক প্রতিবছর দেশের বাইরে বেড়াতে যান। এর মধ্যে ভারতে যান পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটক। এ ছাড়া দেড় লাখ মালয়েশিয়া, এক লাখ পর্যটক থাইল্যান্ডে যান। ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক যান সিঙ্গাপুরে। এ ছাড়া নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা যেতে অন অ্যারাইভাল ভিসা মেলে বলে সেখানেও যাচ্ছেন পর্যটকেরা।
তবে সেই তুলনায় বিদেশ থেকে পর্যটক আসছেন না। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৫ জন, ২০১১ সালে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৭ জন এবং ২০১২ সালে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৩ জন বিদেশি পর্যটক এ দেশে এসেছেন। কিন্তু ২০১৩ সালে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজারে নেমে আসে। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং ২০১৫ সালের টানা অবরোধের পর ২০১৬ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হয়েছিল। এ কারণে ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করে ১০ লাখ বিদেশি আনার লক্ষ্য ঠিক করে সরকার। কিন্তু গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর বিদেশি পর্যটকেরা তাঁদের সফর বাতিল করেন। ফলে এ বছর পর্যটকের সংখ্যা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। তবে এ বছরের প্রথম ছয় মাসের বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা জানাতে পারেনি বিটিবি ও বিপিসি। একইভাবে ২০১৪, ১৫ ও ১৬ সালে কোন দেশ থেকে কত বিদেশি এসেছেন, সে তথ্যও তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
টোয়াবের সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বছরে অন্তত ২০ লাখ লোক দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। কিন্তু সেই তুলনায় বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসছেন না। অথচ যত বেশি বিদেশি আসবেন, ততই অর্থনীতি ভালো হবে। কিন্তু বিদেশিদের আনার জন্য যে প্রচার দরকার, সেটি হচ্ছে না। এমনকি ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করলেও সেই কাজটি হচ্ছে না।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বিদেশি পর্যটক অর্ধেকে নেমে আসে। আমরা ভেবেছিলাম, ২০১৬ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু গুলশানের ঘটনা একটা বড় আঘাত। তবে শুধু পর্যটন নয়, সব ক্ষেত্রেই সেটি হয়েছে। তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছি। আমরা আশা করছি, ২০১৮ সাল নাগাদ বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাবে।’

How can you go to ratarkul:

Just hire a car or micro bus from Khaled rent a car and make your trip done. You can hire a 29 seater tourist bus from us. Please ask for rent.


Where is Bangladesh

Where is Bangladesh ?

AWAY TO THE north, the world’s tallest mountains rise to rip the clouds and receive the snows of Asia. With warmth, the water runs. The sacred Ganges flows southeastward, offering a corridor to the invaders who have, through time, crossed the high passes to the northwest and descended to unsettle and reshape the history of the Indian subcontinent. The Brahmaputra skirts the Himalayas and writhes westward. The rivers meet and merge, moving on to gather the Meghna and distribute streams on their run down to the Bay of Bengal. Their silt has built the widest delta in the world.
Wondrously green, the delta spreads, implacably flat. The topography is handmade, every elevation requiring an equal and opposite excavation. Dug and borne in head loads, earth has been shifted and heaped into platforms. Embanked by rivers or standing in isolation, meandering mounds of earth make islands on the land, surrounded in one season by sheets of silvery water, in another by lush fields of rice.

The earthen platform lifts habitable space out of the damp. The village has one foundation, and it has one roof. Trees stand and branch to weave a canopy of leaves against the sun. Upon the shared foundation, beneath the shared roof, individual buildings are lifted once more on earthen platforms of their own. Built of layers of clay or blocks of clay or impaled posts, they are screened and covered by bamboo and thatch or tin. Domical stacks of rice straw stand among the buildings. The clean, smooth floor of the village widens into spaces for work and contracts into paths, following walls behind which buildings cluster around familial courtyards. Life flows out of the buildings into the courtyards where food is prepared in fair weather, and out of the courtyards into the expanse of the village, shaded by trees and confined by its foundation of earth.
Home is not the frail building. Houses rise and fall. But the place of dwelling remains and familial spaces join, spreading to include, within the comp ass of home, the one building of permanent materials that endures through the cycles of calamity: the mosque or temple.
Devotion accomplishes the minimum of architectural presence in a niche. The mihrab can stand alone, materializing the niche of the Holy Quran in which God’s light gathers and glows through which prayer is sent by the faithful, assembled beneath the sky on high holy days. The Hindu deity can shelter in a roofed niche, a stage of sticks or clay, open to veneration. But generally the holy alcove is enclosed, ideally in masonry buildings wide and shallow, offering one or three doors to the front. Inside the mosque, one or three mihrabs point toward Mecca, so the local congregation will join in orientation with all the others in the world. Inside the sanctuary of the temple, one or three clusters of images look out, drawing the gaze and the prayers of the devotee across the threshold. The long face of the mosque or temple is usually cooled by an arcaded porch. The buildings differ in that a walled courtyard, like the courtyard of the village home, encloses the front of the major temples, while the rural mosque stands free, but they are architecturally alike at the core, and they are alike in function. Both accept devotion and donation, consolidating as symbols of collective pride and settings for collective performance. Both unify the community of faith, providing through repetitive ritual a sacred argument for the interaction that is normal in the middle of the village and that is necessary at its edge where people cooperate to control the relentless waters and force the soil to yield food.
Below and beyond green fields spread into an unfenced patchwork expanding in vast central spaces crossed by raised paths and worked by teams. Villages form forested hillocks on the rim of the horizon.
Settlement on the delta localizes the pattern of the agricultural open field village, found from the Bay of Bengal to the Irish Sea. At the northwestern extremity, on the medieval landscape of England, the stone church, stepping down from tower to nave to chancel, assembled a ring of wooden homes, beyond which the farmer’s holdings scattered through the broad fields. In the middle, in Anatolia, where the pattern consolidated in the Neolithic, the village occupies a slope. The minaret spires above the terraced pile of houses. The fields cluster in the valley below. The rocky pastures ascend to the ridge crest. At the southeastern edge, in Bangladesh, there are sixty-eight thousand villages, rambling toward connection on their mounds, while the fields fan away and the storm clouds gather.
Along its northern and eastern borders, Bangladesh tilts up, but in the middle it is flat and fertile, layered with clay and free of stones. Through it rivers run, receiving lashings of rain and rising slowly into floods that drive people and snakes to higher sites. The wide quiet landscape is incomplete without people. Bangladesh is, like Ireland, predominantly rural; its space is twice that of Ireland, but its population is more than thirty times larger. No view over the land lacks people moving: plowmen following oxen in the mud, boys slinging water from field to field, women in groups, collecting the sun in saris of gold, rose, and crimson, on their walk from the bathing place at the riverside. At night, lanterns prick the dark with amber, marking bamboo stalls along the lanes. The lights flicker with the ceaseless stream of people in numbers in motion.
The great rivers, going south, inscribe a chevron pattern on the land. The Ganges, called the Padma, intersects with the Brahmaputra, called the Jamuna, and flows on to meet the Meghna at the heart of the delta. Just upstream, the Meghna had received the Dhaleswari, and upstream again, the

Dhaleswari had released then regathered the Buriganga. On the northern bank of the Buriganga stands Dhaka, city of the delta.


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar

Subscribe Us

Enter your email address:

Delivered by Khaledrentacar

Skip to toolbar