হৃদরোগ প্রতিরোধ করুণ

হৃদরোগ প্রতিরোধ করুণ

হৃদরোগ প্রতিরোধ করুণ

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

হৃদরোগ হচ্ছে আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বেশি সাধারণ আর ঘাতক রোগ। আজ থেকে ১৫ বছর আগেও এমন একাটা ধারণা ছিল, যদি একবার কারো এই রোগ হয়ে, তা হলে এই রোগ শুধু বেড়েই চলে। এমনটি মনে করা হতো যে, এটি হচ্ছে লাগাতার বেড়ে চলা এক রোগ। বেশ কিছু দশক ধরে আমরা এ রোগে পীড়িত রোগীদের সংখ্যা লাগাতার বেড়ে চলতে দেখেছি আর এ রোগের কোনো চিকিৎসাও ছিল না। বিরাট সংখ্যায় লোকদের হার্ট অ্যাটাক হতো আর তাদের মধ্যে অর্ধেক লোক হাসপাতালে পৌছার আগেই মারা যেতেন।

ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি জানা যবে যে. এ রোগের মূখ্য কারণ হচ্ছে হৃদয়ের ধমণীগুলোয় জমে থাকা ফ্যাটের অর্থ্যাৎ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারইডসের লাগাতার স্থায়ী রূপে জমা হওয়া। আর এ জিনিসিকে আমরা নিজেদের আধুনিক জীবনশৈলী দেয় আরো বাড়িয়ে তুলেছি। আমরা শারিরিক পরিশ্রম করা িএখন প্রায় বন্ধই করে দিয়েছি। সুতারাং আমরা যে তেল, ঘি বা অন্য ফ্যাট দিয়ে তৈরি খাবার খাই, সেগুলোকে আমাদের শরীর পূর্ণরূপে প্রয়োগ করতে পারে না। অনুপযুক্ত ও অতিরিক্ত ফ্যাট, অন্য তত্ত্বগুলোর সহায়তায়, যেমন আধুনিক জীবনের চাপ, ধুমপানের অভ্যাস এবং এ রকম আরো অনেক কারণে শরীর আর হৃদয়ের ধমনীগুলোয় জমা হতে শুরু করে দেয়। যার ফলে হৃদরোগের উৎপত্তি হয়ে পড়ে। আমরা এই সাধারণ ব্যাপারকে বছরের পর বছর ধরে উপেক্ষা করে এসেছি, যার পরিণাম এটিই হয়েছে, যে, মানবসমাহজ এই সর্বদা বেড়ে চলা এবং প্রাণঘাতী হৃদরোগের শিকার হয়েই চলেছে। একটা ভালো খবর হচ্ছে, আমরা নিজেদের জীবনশৈলীতে ছোট ছোট সঠিক পরিবর্তন নিয়ে এলে শুধু যে বেড়ে চলা হৃদরোগকে আটকাতে পারব, তাই নয়; তার সাথে সাথে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। এ কথাকে অন্যভাবে বলতে গেলে, এমন ফ্যাট আর কোলেস্টেরল, যেগুলো হৃদয়ের ধমনীগুলোয় রক্তের প্রবাহকে বাধা প্রধান করে, সেগুলোকে সরানো যেতে পারে।

মেডিক্যাল রিসার্চ এবং এনজিওগ্রাফির প্রমাণের ভিত্তিতে এটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, হৃদরোগকে এখন মেডিক্যাল বিজ্ঞানের যোগাসানের আর্ট, রন্ধনকলা, মানসিক চাপের ব্যবস্থাপনা ধ্যান এবং সাধারণ জ্ঞানের ভিত্তিতে কম করা যেতে পারে এবং শেষ করাও যেতে পারে। আমি এর নাম সিএডিপিআর রেখেছি, যার অর্থ হচ্ছে করোনারি আর্টারি ডিজিস প্রিভেনশন অ্যান্ড রিপ্রেশন। এলোপ্যাথি অর্থ্যাৎ চিকিৎসা বিজ্ঞান মানবশরীরের সর্ম্পকে জ্ঞান রাখে, কোলেস্টেরল জমা হওয়ায় ব্যাপারে জানায়, ট্রাইগ্লিসারাইডসের রাসায়নিক রচনার ব্যাপারে তথ্য প্রদান করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এটাও জানায়, সেগুলো কোনো খাদ্য পদার্থ, যাদের মধ্যে কোলেস্টেরল আর ট্রাইগ্লিসারাইডস পাওয়া যায়; শরীরের কতটা ক্যালরি প্রয়োজন হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ তথ্য ছাড়া আমরা রোগ আর তার কারণগুলোর ব্যাপার জানতে পারি না। আধুনিক মেডিক্যাল যন্ত্র আর পদ্ধতি ছাড়া যেমন ইসিজি, টিএমটি, কোলেস্টেরল টেস্ট প্রভৃতি ছাড়া হৃদরোগ নির্ণয় প্রায় অসম্ভব। একজন মেডিক্যাল ডাক্তার হিসেবে আমি এলোপ্যাথিক চিকিৎসার ভালো জিনিসগুলোকে হৃদরোগের চিকিৎিসায় সফলতাপূর্বক শামিল করেছি।

আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় জীবনের সেসব চাপের ব্যাপারে কোথাও কোনো উল্লেখ নেই, যেগুলো আজকের যুগে, হৃদরোগের ও হার্ট অ্যাটাকের মূখ্য কারণ। এলোপ্যাথিক চিকিৎসা, মানসিক চাপ ও তার মাত্রা আর গভীরতাকে মাপতে অসফল হয়েছে। শুধু কিছু ঘুমের ট্যাবলেট ও অস্থিরতা কম করার ওষুধ ছাড়া আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় এ সমস্রার কোনো সমাধান নেই। যদিও এ চিকিৎসাপ্রণালী এটি জানে যে, মানুষের মস্তিষ্কেই হচ্ছে এসব চাপের বাসস্থান, কিন্তু এলোপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতি এটি পূর্ণরূপে মেনে নিতে অসমর্থ যে, ধ্যান আার মনোচিকিৎসার মাধ্যমে মস্তিস্কে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা সম্ভব। আমরা জানি কেবল কোলেস্টেরল ও ফ্যাটই হৃদরোগের অবরোধের কারণ, কিন্তু আমরা এটা জানানোর চেষ্টা করি না যে, কোলেস্টেরলকে বাদ দিয়ে খাবার কী করে বানানো যাবে। এই চিকিৎসায় ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তাকে তো স্বীকার করে, কিন্তু যোগাসনকে, সেটা হৃদরোগীদের জন্য সুরক্ষিত ব্যায়াম, এখন পর্যন্ত স্বীকার করে নেয়নি, বিড়ম্বনা হচ্ছে, এলোপ্যাথি বিজ্ঞান সাধারণ বুদ্ধিকেও তুলে বসেছে। হৃদরোগের বাস্তবিক সমস্যাগুলোর সমাধান করার বদলে এই বিজ্ঞান সার্জারি এবং এনজিও প্লাষ্টিকে গ্রহণ করেনি। এলোপ্যাথি চিকিৎসা এখন বাস্তবিক সমস্যাগুলোর সমাধান না করে যত বেশি সম্ভব ওষুধ, কেবল ওষুধের ওপর পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অন্য দিকে সিএডিপিআর প্রোগ্রামের অর্ন্তগত হৃদরোগের রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য আমরা জীবনশৈলীর সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলোকে বেছে নিয়েছি এবং এলোপ্যাথি চিকিৎসারও ভালো জিনিসগুলোকে নিয়ে দুটোর অতি উত্তম সংমিশ্রণ করেছি। এই মিশ্রিত পদ্ধতিকে গত ২০ বছরে কিং জর্জ মেডিক্যাল কলেজ (লক্ষৌ), অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (নতুন দিল্লি) ও গোটা ভারতে সিএডিপিআর হৃদয় প্রোগ্রামের বিস্তার এবং বিকাশের সময় বিকশিত করে তোলা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে এ পদ্ধতির সার্থকতা আট হাজার রোগী দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতি বিস্তার করার সময় অপ্র্রত্যক্ষ রূপে হৃদরোগ আটকানোর জন্য আর অবরোধক কম করার জন্য গবেষকেরা লাখো ব্যক্তিকে সহায়তা করেছে।

সিএডিপিআর এক ছোট্র সংস্থা রূপে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ঢাকার ৫৭/১৫ পান্থপথে নিজের কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশের ছয়টি বিভাগের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। মূখ্য রূপে লোকদের মৌখিক প্রশংসা আর সম্ভাবনা দিয়েই এর প্রচার হচ্ছে। যেসব ব্যক্তি এ পদ্ধতির চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তারা অন্যদের প্রেরিত করে তুলেছেন। যারা এ পদ্ধতিকে পছন্দ করেছেন, তারা এর ব্যাপারে অন্যদের জানিয়েছেন। আমরা নিজেদের রোগীদের পরিবারকে সিএডিপিআর পরিবারের অংশ হিসেবে মনে করেছে এবং এ সংস্কৃতির নাম দিয়েছি সিএডিপিআর সংস্কৃতি। আজ এ সংস্কৃতি দেশের প্রতিটি জেলায় প্রচার ও প্রসারপ্রাপ্ত করেছে।

লেখকঃ সিনিয়র কনসালট্যান্ট, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার, ৫৭/১৫, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা।

বিশেষ প্রয়োজনেঃ 

আপনার যে কন সময় এম্বুলেন্স সার্ভিস দরকার হতে পারে। যে কোন ধরনের এম্বুলেন্স সার্ভিস পেতে হলে খালেদ এম্বুলেন্স সার্ভিস এ যোগাযোগ করুন। অথবা কল করুন এখনই ০১৯৩৩২৪৬৫৭৭ – এই নাম্বারটি মনে রাখুন অথবা আপনার মোবাইল এ সেভ করুন এখনই। kmosarrof@gmail.com

আমাদের এম্বুলেন্স সার্ভিস ভিজিট করুনঃ https://khaledrentacar.com/ambulance-service/


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar