Author Archives: Khaled

ঢাকা শহরের যানজট

প্রসঙ্গঃ ঢাকা শহরের যানজট

মোঃ আমিনুল হক

ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়েও এখন মনে হচ্ছে দেশে সুন্দরভাবে বাঁচার অন্য কোথাও সুযোগ থাকলে আজই আমি ঢাকা ত্যাগ করি। এই অভিপ্রায় বোধকরি ৮০ লাখ নগরবাসীর অনেকেরেই। এখানে অনেক দৈনন্দিন সমস্যা। বছর বছর তা পুঞ্জিভূত হয়ে জটিল থেকে জটিলতরই হচ্ছে। আর যে সমস্যাটি নিয়ে সাম্প্রতিককালে বহুল আলোচিত হয়েছে তা দূর্বিষহ যানজট সমস্যা। আজ রাজধানীর অতীব গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মুখোমুখি বাস, ট্রাক, রিকশা, বেবীট্রাক্সি, প্যাচে প্যাচে ঠেলাগাড়ী ইত্যাদি যানবাহন ও পথ পথচারীদের সবকিছুর দুর্ভেদ্য জটাজালে রাজপথ আড়ষ্ট হয়ে থাকার দৃশ্য নিত্যদিনের ঘটনা। রাঙার নিয়ম শৃংঙখলার কোন বালাই নেই। কেউ কাউকে রাস্তা ছাড়তে নারাজ। পিছু হাটারও উপায়ও নেই। সেই সাথে উপকৃত আর্বজনা গাড়ী টেম্পুর চোখ ঝাঝানো কাল ধোঁয়ার দূভোর্গ আর শব্দের দুষণ আজ নগরবাসীর প্রাত্যাহিক জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে পরিণাম জেনেও নিজ সন্তানকেও সেই বিষাক্ত ধোয়া সেবন করিয়ে নিচ্ছি নিয়মিত। রাজপথের এই সমস্যার সংবাদ ও চিত্র এদেশের পত্র পত্রিকায় এত বেশি আর এত ঘন ঘন প্রকাশিত হয় যে সেগুলো এখন আর কারো মনে কোন দাগ কাটে বলে মনে হয় না যদি তা হতো তাহলে সড়কগুলোতে যানবাহন ও পথচারী চলাচল ও তা নিয়ন্ত্রণের যে সৃষ্টিছাড়া কুতি পদ্ধতি এদেশে দাড়িয়ে গিয়েছে তাতে পরিবর্তন আনার প্রয়াস অন্ততঃ চোখে পড়ত। বড়েই দুঃখের বিষয় স্বাধীনতা পরবর্তী আড়াই দশকে দেশে সরকারের পর সরকার এসেছে। কিন্তু এই অতী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির কোন সুরাহা না হয়ে কেবল উপেক্ষিতই রয়ে গেল। ফলে দীর্ঘদিন সমস্যায় জর্জরিত নগরবাসী সেই সমস্যায় জড়িয়ে রইল। এখন আশংকা করা হচ্ছে এই সমস্যায় ভয়াবহতা অচিরেই নগরজীবনকে গ্রাস করে ফেলবে আর সদ্য ব্যস্ত নগরীর কর্মচঞ্চলতা পরিণত হবে স্থবিরতায়। বিষয়টি নিয়ে বছর বছর এবং বিশেষ করে অতি সম্প্রতি এত লেখালেখির পর আবারো কেউ লিখলে কোন ফলোদয় হবে বলে মনে করার কোন কারণ নেই। তবু কিছু কথার অবতারণা না করে পারলাম না।

আজ আমরা ক্রমবর্ধমান যানজটের এই সমস্যার মুখে যেন অসহায় হয়ে এই মহা দুর্যগের অপেক্ষায় আছি ও প্রতিদিন যানজটের বিস্তার ঘটেছে। এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায়, মোড় থেকে মোড়ে, এক গলি থেকে আরেক গলিতে। ফলে নিত্যদিন এক অবর্ণনীয় দূর্ভোগ নগরবাসীর। বস্তুতঃ যানজটের কারণে এখন যন্ত্রচালিত ও মানুষচালিত যানবাহনের গতির মধ্যে পার্থক্য প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে।

যানজট

যানজট

কেন এই যানজট

এই যে সমস্যা আজ এতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তার প্রত্যক্ষ কারণ বহুবার লেখালেখি হয়েছে এবং সকলেই তা জানি। না লিখলে প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ থাকবে বলেই আবারো শুধু উল্লেখ করাঃ

কঃ সড়ক ব্যবহারকারীদের মাঝে আইন শৃংঙ্খলা সর্ম্পকে অজ্ঞতা এবং তা না মানার প্রবণতা।

খঃ সড়ক ফুটপাত অবৈধ দখল / ব্যবহার

গঃ অনভিজ্ঞ যানচালকের এবং ব্যবহার অনুপোযোগী / ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ যানবাহনের সংখ্যাধিক্য।

ঘঃ সড়কের পরিমাণের তুলনায় রিকশা বেবিট্যাক্সির সংখ্যাধিক্য

ঙঃ শ্লথ ও দ্রুতগতির যানবাহনের মিশ্রণ।

চঃ যত্র তত্র বিভিন্ন যানবাহন পার্কিং করার প্রবণতা।

ছঃ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কোন কোনটির অক্ষমতা এবং সবগুলোর মধ্যে সম্বন্বয় অভাব।

জঃ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার আইন প্রয়োগ ও রক্ষায় শৈথিল্য, যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অপারগতা ও ক্ষেত্র বিশেষে অক্ষমতা ও দুর্নিতি।

মোট কথা এহেন দুর্ভোগের পেছনে সরকারী সংস্থা, যানবাহনের মালিক, চালক, সড়ক ফুটপাত ব্যবহারকারী সকলেই কোন না কোনভাবেই কমবেশি দায়ী। কেননা অমাদের দেশে যানবাহন চলাচলের কেবল স্বাধীনতা আছে, নিষেধাজ্ঞা পালন করার নজির নেই। খেয়াল খুশিমতো ট্রাক বাস মিনিবাসের চালকরা ও গাড়ী হাকায়, রিকশা, বেবী ট্যাক্সি, ঠেলাগাড়ীর চালকেরাও গাড়ী চালাচ্ছে। কারো ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিয়ন্ত্রণকারীদের ওপরও যে কারো নিয়ন্ত্রণ আছে তাও বোঝা যায় না। ভয়টা কিন্তু অন্যখানে। বংশ পরাম্পরায়  যে পরিবেশের মধ্যে মানুষ থাকে তাই শেষ পর্যণ্ত মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি হয়ে যা যেমন দরিদ্র ভারতীয়রা দারিদ্রোর মাঝে থাকতে থাকতে তাকে অনেকটা সংস্কৃতি হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছ্ । সে জন্যেই বলেছিলাম ঢাকাসহ সার দেশের সড়কে সড়কে এখন যে অরাজক অবস্থা শুরু হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতির রূপ না নেয়। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ঢাকা শহরের লোকেরা যেন ক্রনান্বয়ে এই ব্যাপারগুলোর বিরক্ত হয়ে উঠেছে এবং মেনেও নিয়েছে।  মনে হয় এই দুর্গতি যেন জনগনের লিখন বলেই মেনে নিয়েছে। এটা হবার কথা ছিল না। দখলকৃত তবু সমস্যাটা এতটা প্রকট হতো না যদি আমাদের মাঝে কিছুটা দায়িত্ববোধ থাকতে।

আধনিকি নগরজীবন মানুষকে যেমন সুযোগ সুবিধা দিয়েছে, জীবনকে করেছে দ্রুততর, আরাম আয়েশপূর্ণ, নানাদিক থেকে সমৃদ্ধ তেমনি সঙ্গে সঙ্গে যান্ত্রিক সভ্যতার অনিবার্য সমস্যা হিসেবেই কতকগুলো অসুবিধাও সৃষ্টি হয়েছে নাগরিক মানুষের জীবনে। এটাই স্বাভাবিক। ভালমন্দ মিলিয়েই জীবন এবং তাই এগুলোকে সে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে হবে। কিন্তু আমাদের মাঝে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসহিষ্ণু, অবৈধ মনোভাব কাজ করে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ব্যাপারে এরূপ অনীহা ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রকট। সকলেই বিশেষ করে গণ পরিবহণসমূহের চালকগণ ট্রাফিক আইন মানতে  নারাজ। এই অভ্যাসের পরিবর্তন অবশ্য বাঞ্চনীয়। কার আগে কে যেতে পারি এই পাল্লায় না নেমে এবং নিয়মকানুন এভাবে অবজ্ঞা না করে কিছুটা ধের্য্য ও নিয়ম শৃংখলার পরিচয় দিলেও এই প্রাত্যহিক যানজটের দুর্বিষহ জ্বালা যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতাম। কিন্তু না। সকলেই নিজের স্বার্থে উর্ধ শ্বাসে ‍ছুটে চলেছি। ডানে বায়ে  বা কারো দিকে তাকানোর ফুসরত নেই। ‍কি ন্যায় কি অন্যায় বাধ্য হয়ে বিবেকের বাইরে যেন অন্যায়কে গ্রহণ করেও চলতে হবে।

সড়ক ও ফুটপাতের

মহানগরীরেোট ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের ৯০ শতাংশের বেশি সিটি কর্পোরেশনের দখলে নেই। হকার ও অন্যন্যা ব্যবসায়ীরা এই ফুটপাত দখর করে আছে। ফুটপাত দখলের পর ইতিমধ্যেই হকাররা রাজপথের দিকেও হাত বাড়িয়েছে ফলে যানচলাচলের রাস্তা ক্রমশঃ সংকুচিত হয়ে পড়েছে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারীর দিকে মেয়র হকার উচ্ছেদের প্রসঙ্গে বলেছিলেন তার আন্তরিকতার স্বত্তেও স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের অসহযোগীতার কারণে তা করা যাচেছ না। অন্যদিকে হকাররা বলেছে, মেয়র বিকল্প জায়গা না দিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তারা ফুটপাত দখল করে রেখেছে। তাদের কয়েকজনের ভাষা এজন্যে প্রতিদিন ৪০ থেকে ১০০ টাকা টাকা দিতে হয় পুলিশকে।  আর পুলিশরা বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে হকার উচ্ছেদে দরকার সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়ন কিন্তু সে জনবল পুলিশের নেই বিভিন্ন মহলের মতে হকাররা রাস্তা ফুটপাত দখল করে রাখবে এটাই কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

সেই পাকিস্তানী আমল থেকেই হকার উচেছদের অভিযান নগরবাসী বারে বারে প্রত্যক্ষ করেছে। হকারদের জন্য একাধিক মার্কেট বসিয়ে পরোক্ষভাবে ফুটপাত দখলকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। হকাররা কিন্তু আজও রাজপথে ছাড়েনি দিনে দিনে তারা আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ার নতুন নতুন সরকারী ভূমিতে মার্কেট গড়ার চাপ প্রয়োগ করে চলেছে। রাজপথ হাইজ্যাকের কাসুন্দিতে হকাররার যে একক নায় তারও নীরব সাক্ষী নগরবাসী।

অভিযোগ আছে যে, হকারদের সাথে এক শ্রেণীর রাজণৈতিক দল/ কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিশেষ মহলের গোপন লেনদেনের জমজমাট কারবারই হকার উচেছদের বিপত্তির মূল উৎসা। সে জন্যেই হয়ত হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে সংশি্‌লষ্ট ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মাঝে মাঝে দু একবার হম্বি তম্বি হুংকার উচ্চারিত হলেও পরবর্তীতে সবপূর্ববৎ। মনে হচ্ছে এই ‘ট্রাডিশন’ অব্যাহতই থাকবে।

আমরা যারা রাস্তাই বের হই তাদের মানসিকাও ভেবে দেখার মত। অনেকেই চাই ঘরের দরজায় রিকশা, রিকশা বসেই রাস্তায়, অফিসের প্রবেশ মুখে কেনাকাটা এবং ইচ্ছামত যেখানে খুশি সেখান থেকেই বাস টেম্পতে উঠানামা। এই অদ্ভুত অভ্যাসের কারণেই আজ দেশের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এলাকার প্রধান সড়কে অবৈধ কাচাবাজার শুধু গড়ে উঠেইনি উত্তোরোত্তর তার বিস্তৃতি ঘটেছে। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকসহ মতিঝিলের অন্যত্র বাজার বসা। যেখানে খাসীর মাংস, গরুর মাংস, বরবটি, মানকচু, কাচকিনি মাছ থেকে কিনা বিকিকিনি হয় জমজমাটের সাথে। েএই চিত্র গোটা মহানগরীর সর্বত্র। যেসব এরাকা একটা শহরের জন্য নান্দনিক দিক থেকে বর্হিবিশ্বে পরিচয় বহন করার কথা। এর ফলে শুধু চলাচলেই বিঘ্ন ঘটছে না বজ্য আর্বজনার পরিমাণ ও বিস্তৃতি উভয়ই ঘটছে। হরতালের দিন কিংবা রাতের বেলা রাস্তা যখন ফাকা হয়ে তখন তা বোঝা যায়। কিছুকাল আগেও কলকাতাকে ময়লা আবর্জনা ও হকারের শহর বলে ব্যঙ্গ করা হতো। বলা হতো পশ্চিম বঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার ভোট ঠিক রাখার জন্য শহরে আর্বজনা পুষছেন। সেই কোলকাতা শহরই আজ হকারমুক্ত হয়ে ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশে বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় তারপরও রাস্তাঘাট হকার ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। পূর্ন হচ্ছে আবর্জণার স্তুপে। একে সময়ের পরিচ্ছন্নতায় রেকর্ডধারী ঢাকার সেই সুনাম আজ ক্ষুন্ন হয়ে গেছে।

       নগরবাসীর প্রত্যাশা এবং রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি ও ফাঁকা বুলি

       ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা ছিল অনেক। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠায় পূর্বে ধারণা দেয়া হয়েছে পূর্বের সরকারের কাছ থেকে সহযোগীতার আশা ছিল । বর্তমানেও বিভিন্ন সংস্থার অসহযোগীতাসহ নানা প্রতিকূলতার কথা বলা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘ তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। নগরবাসী কি পেল? দুই বৎসর পূর্বে মেয়র সড়ক বেদখলদারদের সড়ক ছেড়ে ফুটপাতে উঠার অনুরোধ জানিয়ে যেন ফুটপাত উঠার অনুরোধ জানিয়ে যেন ফুটপাত দখলকে বৈধ করে তুললেন। ফুটপাত সড়ক কোনটাই মুক্ত হলো না। মাস কয়েক আগে এবং অতি সম্প্রতি অবৈধ রিকশা সমলে উচ্ছেদ করার জোর কার্যক্রম নেয়া হলে। অজানা কারণে তা চাপা পড়ে গেল। নুতন করে আশ্বাস দেয়া হলো আগামী মার্চের মধ্যে নতুন ঢাকা উপহার দিবেন। স্থানীয় সরকার পল্লী ‍উন্নয়ন মন্ত্রী ঘোষণা দিলেন ঢাকাকে আর্ন্তজাতিক মানে উন্নীত করা হবে। আর্ন্তজাতিক মান সম্পর্কে তাদের কী ধারণা তা আমরা জানি না। তবে বিষয়গুলো মহানগরবাসীর কাছে যেন শুধু প্রহসনই মনে হচেছ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের নিয়মিত সভা সমাবেশ হওয়ায় ইদানিং শেয়ার বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের দ্বারা মতিঝিল বাণিজ্য এলাকা আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকার প্রাণকেন্দ্র নিত্য যানজট লেগেই আছে। আগের দিনে ধর্মীয় সমাবেশ মজলিশ মহানগরীর পরিচিত দৃশ্য ছিল। কিন্তু তা হতো প্রধান প্রধান সড়ক পরিহার করে এবং সাধারণত রাত ১০ টার পর। এখন সে বালাই নেই। ব্যস্ত নগরীর চলমান স্রোত থামিয়ে দিতে এখন নে সবার মধ্যেই চলছে এক প্রতিযোগীতা।

       ধীরগতির যানবাহনঃ

       আজকের ঢাকা মহানগীরতে যানবাহনের সর্বসাকুল্যে সংখ্যা এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৫৫ লাখ। এর মধ্যে ৩০ লাখ হল ধীরগতির যান রিকশা (লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিকশার সংখ্যা মাত্র ৮০ হাজার)। ধীর গতির এই যান অথচ মোট সড়কের প্রায় ৭৫ ভাগ দখল করেছে। রিকশায় এখন নিয়ম শৃঙ্খলার কোন বালাই নেই, বৈধ অবৈধ বলে কিছু নেই। বছর তিনেক আগেও কোলকাতা ছিল ট্রাফিক ও জনস্বাস্থ্যের বিচারে দুঃ স্বপ্নের নগরী। আর্বজনা স্তুপের ভিতর চলে গিয়েছিল কলকাতা। কিন্তু আজ আর্বজনামুক্ত হতে না পারলেও যানজটের দুর্ভোগ দুর্দশা থেকে কোলকাতাবাসী অনেকাংশে মুক্ত হতে পেরেছে ঠিকই। প্রধান কারণ পাতাল রেল হলেও প্রধান প্রধান সড়ক থেকে রিকশা তুলে দেয়া হয়েছে। তৃতীয় কারণ, ট্রাফিক আইনের ও ব্যবস্থার সুষ্ঠু প্রয়োগ। সুতারাং ঢাকা শহরের ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে রিকশার সংখ্যা হ্রাস এবং পর্যায়ক্রমে তা একেবারে তুলে দেবার কা অব্যশই ভাবতে হবে। সাথে সাথে মেক্সি যানবাহন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।ু

কোলকাতা পশ্চিমবঙ্গের মাকসবাদি সরকারের প্রধান কর্মস্থল হয়েও সেখানে রিকশা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ আামাদের দেশে লাখ লাখ নগরবাসীর সাথে রিকশা উঠিয়ে দেবার কথা উঠলেই এক শ্রেণীর তথাকথিত বামপন্থীগণ সোচ্চার প্রতিবাদ করে বসেন। কারো কারো মতে ইউনিয়নবাজীর মাধ্যমে গরীব রিকশা কর্মীকে শোষণ করে প্রচুর কামাই বন্ধ হয়ে যাবার ভয়েই এই প্রতিবাদ। এছাড়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত এক শ্রেণীর লোকেরা ভাবেন তাদের চলাফেরার কি হবে। কেউ কেউ রিকশাকে আরামদায়ক ও সস্তা ভাবতে পারেন মহানগরীর রাস্তায় ভিড়ে তা কিভাবে আমার বোধগম্য নয়। উপমহাদেশের অন্যান্য নগরীতে রিকশা নেই। সেখানে নানান যানবাহনে চলাফেরা এদেশের মতো ব্যয়সাধ্য নয়। আসলে রিকশা গরীবের বাহন নয় বরং গরীব রিকশাকর্মীর অকাল শরীরপাত ও মানবেতর জীবন যাপনের কারণ হচ্ছে এই রিকশা।

অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে প্রভাব

       ঢাকাকে কেন্দ্র করে দেশের সকল উন্নয়ন ও অর্থনৈতকি কর্মকান্ড আবর্তিত ঢাকার সুস্বাস্থ্যের ওপর দেশের সুষ্ঠুতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু এখানে নিত্যকার দীর্ঘকালীন যানজটের কারণে লাখ লাখ নগরবাসীদের যে মূল্যবান কর্মঘন্টা অপচয় হয় আর্থিক মানদন্ডে বছরে সেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬০ কোটি টাকা। পাশাপাশি কর্মস্থলের সঠিক সময়, ট্রেন, বিমান, লঞ্জ, দূরপাল্লার কোচ ইত্যাদি মিস করা পণ্যসামগ্রীকে পরিবহণ প্রতিবন্ধকতাজনিত কারণে মূল্য স্ফীতি, রুগ্ন ব্যাক্তিকে ডাক্তার হাসপাতালে পরিবহনজনিত বাধা ইত্যাদি যে মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের কারণ হয়ে ‍উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করেছে ( ক্ষেত্র বিশেষে প্রাণ হরণও) তা হিসাব আকাশচুম্বী অংকে দাড়াবে বললে অত্যুক্তি হবে না। দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতিকারক নিত্যদিনের এই বিপত্তি ক্ষতিকারক নিত্যদিনের এই বিপত্তি দূর করার জন্য বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার দেশের শিল্প বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জোর আবেদন জানিয়ে দাবিনামা উচ্চারিত হয়। রাজধানীতে অবাঞ্চিত যানজটের জন্য কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করে উল্লেখ করা হয়ে যে, সড়ক ফুটপাতের ওপর সৃষ্ট অরাজকতা ও অনাচার শুধু নাগরিক জীবনে অশেষ দুগর্তির কারণই নয় এর পরিণতিতে শিল্প বাণিজ্যের স্বাভাবিক কর্মকান্ড বিপর্যস্ত হচ্ছে। কেননা আইন শৃংঙ্খলার ব্যতায় ও আইনানুগ কর্মপ্রবাহে বাধা সৃষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমেই রুদ্ধ করে দেয়। তাই আইন শৃংঙ্খলাকে রক্ষা করতে পারলে উচ্ছৃংখলাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাজধানী কেন্দ্রিক দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নই ত্বরান্বিত হবে তথা উন্নয়ন কর্মকান্ড গতিশীলতা লাভ করবে।

হকারদের দ্বারা সড়ক ফুটপাতের মত রাজধানীর বাসটার্মিনালের প্রসঙ্গে একই কথা চলে। শহরের কেন্দ্রস্থলের ফুলবাড়িয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে প্রায় সব স্ট্যান্ডই অবৈধ। পরিবহন ব্যবসার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বলেছেন, রাস্তার পাশের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডের জন্য আলা জায়গা সরকার দিচ্ছ না বলে এভাবে রাস্তার একাংশ নিয়ে  বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। হকারদের দোকান পসরা ও বাসট্রাকের স্ট্যান্ডের পর ব্যস্ত সড়কগুলোর ২০ শতাংশের বেশি যান চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে না। এদিকে সিটি কর্পোরেশেনের আওতাভুক্ত ২২ টি সুপার মার্কেটসহ ৯০ টি মার্কেটের মধ্যে অধিকাংশ মার্কেটের নিজস্ব পার্কিং এলাকা নেই। ফলে এসব রাস্তার অর্ধেক গাড়ী আমাদের দখলে চলে যাওয়ায় অবশিষ্ট রাস্তায় বহমান গাড়ী রিকশার মধ্যে যট সৃষ্টি প্রায় প্রতিদিনের অনিবার্য ঘটনা। একই কথা চলে সিটি কর্পোরেশনের ২৬ টি সহ মহানগরীর শতাধিক কমিউনিটি সেন্টারের বেলায়। বস্তুতঃ এসব কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন রাস্তাসমূহের অর্ধেকই অব্যবহৃত হয়ে পড়ে। এমনিতেই বাস টেম্পু চালকদের মাঝে যেখানে ইচ্ছা সেখানে বাস টেম্পু দাড় করিয়ে যাত্রী উঠা নামার প্রবণতা প্রকট। আসলে ট্রাফিক আইন অমান্য করার এবং কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা ট্রাক ও গণপরিবহন যানের চালকদের মধ্যেই বেশি পরিলক্ষিত হয়। অবশ্য এর বিপরীতে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চক্ষু মুদে থাকার ট্রাডিশন।

       ওভার ব্রীজ

ওভার ব্রীজের সঙ্গে পথচারীদের পরিচয় দীর্ঘদিনের হলেও তা মধুর নয়। এমনিতেই ভিখারী ও ফেরিওয়ালাদের দ্বারা এগুলো থাকে জবর দখলে। এর ওপর তা যদি হয় অপরিকল্পিত। অতি সম্প্রতি নির্মিত ওভার ব্রীজগুলো যানচালকদের জন্যে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও পথচারীদের জন্যে তা শাস্তিস্বরূপ নিছক বাধ্য হয়েই এগুলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ক্লান্তিভরে নগরবাসী কপাল কুচকিয়ে ব্যবহার করে চলেছে।

অচল নিষেধাজ্ঞা

ইতিপূর্বে মতিঝিল এলাকায় অফিস চলাকালীন সময়ে কোন রিকশা বা ঠেলাগাড়ী চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। এরশাদ আমলেও নগরীর অভ্যন্তরে দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে এসব নিয়ম কানুন ঢাকা নগরীর বুক থেকৈ মনে হয় উঠে গেছে অথবা এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে আছে। ফলে যত্রতত্র রিকশা ট্রাক ঠেলাগাড়ী যখন তখন সরু গলিতেও যেমন তেমনি ঢুকছে বড় রাস্তাতেও।

নিয়ম শৃংঙ্খলার প্রতি উদাসীন্য

নিত্যদিনের এই নৈরাজ্য ও দূর্বিপাকে অতিষ্ঠ নগরাবাসীকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কিন্তু উদ্ভুত এই সমস্যার নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া ঢাকাবাসীর নিষ্কৃতি সম্ভব নয়। এর জণ্যে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর আন্তরিক ও সক্রিয় পদক্ষেপ যেমন দরকার তেমনি জনসাধারনের সহযোগীতা ও সমানভাবে প্রয়োজন কেননা, সবচাইতে যে বিষয়টি গুরুত্বর্পূণ তা হলো নিয়ম শৃংঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করা। নগরীতে ট্রাফিক সংক্রান্ত যেসব নিয়ম কানুন, বিধি নিষেধ ‍চালু আছে তা ‍প্রায় সর্বত্রই প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে িএর সামান্যতমও মানার কোন বালাই নেই বা কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। নিয়ম মানার যে প্রয়াজন আছে বা নিয়ম আসলে অন্য সকলের সাথে নিজের চলাও যে সহজ হয়ে যেতে পারে এই বোধটিই যেন কারো নেই। যে কারণে অহরহই দেখা যায় বেপরোয়া গাড়ী চালনা, অনাবশ্যক হর্ন বাজানো, বিপজ্জনক ওভার টেকিং, হলুদ লাইন  অতিক্রম এবং জেব্রা ক্রসিং এর ওদর (যদিও তা তেমন নাই বললেই চলে) গাড়ী দাড় করানোর প্রতিযোগীতা।

শৃংঙ্খলা প্রসঙ্গে একটি কথা না লিখে পারলাম না। যে দেশে ক্ষমতায় যাবার এবং ক্ষমতায় থাকার লোভে দেশের মঙ্গল চিন্তায় নিয়োজিত ! বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় শৃংঙ্খলা জ্ঞানের যে পরিচয় দিয়েছে এবং বর্তমানে খোদ জাতীয় সংসদের জনপ্রতিনিধিরা যে দৃশ্য প্রদর্শন করেছেন তাতে রাস্তাঘাটে জনসাধারণের দ্বারা সুশৃংঙ্খল আশা করি কোন আক্কেলে। নিয়ম বিধিকে তোয়াক্কা না করার এই প্রবণতা আজ আমাদের জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে শিকড় ছাড়িয়েছে। বস্তুতঃ সমগ্র দেশে সমগ্র সমাজে আইনকে অবজ্ঞা করার যে প্রবণতা দানা বেধেছে তাই নিত্য প্রতিফলিত হচেছ সড়ক মহাসড়কগুলোর বিশৃংঙ্খলা অবস্থার মধ্যে। যে দেশে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক কর্মকান্ডের সকল ক্ষেত্রে আইনের প্রতি অবজ্ঞার ভাব বিরাজ করছে সে দেশের মানুষ কেবল পথ চলার সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এমন মনে করার কোন কারন নেই। আইন সর্ম্পকে যেমন সচেতনাতা প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন আইনকে শ্রদ্ধা করার, আইনকে সবকিছুর উর্ধে স্থান দেওয়ার চেতনার উন্মেষ।

       ভয়াবহ ভবিষ্যৎ রোধে করণীয়

লোক সংখ্যার দিকে থেকে  ঢাকা শহর পৃথিবীর মেগানগরীর সঙ্গে তুলনীয় এবং যে হারে এর লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে পরবর্তী শতাব্দীর প্রারম্ভেই ঢাকা পৃথিবীর ৬/৭ টি মেগানগরীর একটাতে রূপান্তরিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আর বর্তমান এই  সমস্যার বিস্তৃতি ত্বরিতগতিতে রুখতে না পারলে শুধু নগরীর যান ও জন চলাচল তথা সমগ্র পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে এবং কর্মচঞ্চলতা স্থবির হয়ে রাজধানীর প্রাণ প্রবাহ সম্পূর্ণ অচল হয়েই পড়বে না গোটা দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়ে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে। কাজেই ঢাকার স্বাভাবিকজ জীবনযাত্রা ও কর্মতৎপরতা অব্যাহত ও সচল রাখার জন্য এই দুঃষহ অবস্থা থেকে নগরবাসীকে উদ্ধারে বিলম্বের কোন অবকাশ নেই। কেননা যে আশংকা আজ স্পষ্টভাবেই দেখা দিয়েছে তার পূর্বেই আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই অসহনীয় ও নরকীয় যন্ত্রনার নিরসন ও সুরাহাকল্পে দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের সাথে সর্বাগ্রে প্রয়োজন রাস্তায় চলাচলে শৃংঙ্খলা প্রতিস্ঠা করা। যানের ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাদান ও নবায়নে যুগোপোযোগী  নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়াও বাস্তব আইনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জিত সম্ভব নায়। স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থাগুলার মাঝে  ‘ওয়ানওয়ে’ পদ্ধতি ঢাকার জন্য একটা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে না। একটি রাস্তা থেকে যানবাহনের চাপ সাময়িকভাবে কমে আসলেও িএর ফলে অন্য বিকল্প রাস্তাগুলোর ওপর চাপ যে অতিরিক্ত মাত্রায় বাড়বে তা অনুধাবন করা দরকার। তার পরিবর্তে কিছু কিছু প্রধান রাস্তায় ঠেলাগাড়ী ও রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। সেই সাথে যত্রতত্র বাস টেম্পুর স্টপেজের ব্যবস্থা না রাখার প্রতি নজর দিতে হবে। ব্যস্ত এলাকায় পার্কিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। বড় রাস্তাগুলোর পাশের প্রস্তাবিত সকল ইমারতসমূহের নিচতলা পার্কিং এর জন্য অবশ্যই খালি রাখতে হবে এবং পুরাতন ভবনগুলোর নিচতলাতে বাধ্যতা মুলকভাব সংস্কারের মাধ্যমে খালি করে পার্কিং এর ব্যবস্থা করার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে। ময়লা আর্বজনা সঠিকস্থানে নিয়মিতভাবে ফেলা ও অপসারণ করা, ড্রেন ও গ্যাটারকে চলমান রেখে বৃষ্টিজনিত জলবদ্ধতা সৃষ্টি বন্ধকরণ ইত্যাদি কর্মকান্ড মহানগরীরর যানবাহন সংক্রান্ত জটলাকে অনেকাংশে লাঘবে সাহায্য করবে।

প্রতিরাতে যখন রাস্তা ফুটপাত ফাকা থাকে তখন পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় পর্যায়ক্রমে শহরের বাহিনীর সহায়তার পযায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ মাচান, ছাউনিসহ জমে থাকা আর্বজনা পরিষ্কার করা হলে অতি স্বল্প সময়ে তার সুফল পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সামান্য কাজটি কেন করতে পারছে না তা বোধগম্য নয়। পক্ষান্তরে আইল্যান্ডের মাঝে দীর্ঘ গ্রীল দেয়ার মত ব্যয়সাধ্য কাজটি ‘প্রায়রিটি’ ভিত্তিতে পড়ে কিনা ভেবে দেখার মত।  একই বিবেচনায় প্রায় বছর খানেক ধরে কারওয়ান বাজার আন্ডার গ্রাউন্ড বাইপাস নির্মাণের জন্য লাখ লাখ নগরবাসীরকে এমন ভোগান্তি দেয়ার অবশ্যকতাও যুক্তিযুক্ত নয়।

দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে মিনিবাসের উপর নির্ভর না করে অধিক যাত্রী বহনযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা প্রয়োজন। নগরীর চারপাশে প্রায় নির্মিত বন্যনিরোধ বাধ প্রকল্প অচিরেই শেষ করে তার ওপর দেয় দূর পাল্লার ভারী যানবাহন।

 


ভূমিক্ষয়ের কবলে কুয়াকাটা

ভূমিক্ষয়ের কবলে কুয়াকাটা (Kuakata)

  • মিজানুর রহমান কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তান্ডবে কুয়াকাটা সৈকত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভূমিক্ষয়ের কবলে পড়ে সাগর সৈকত ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। ফলে হুমকির মুখে পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা। প্রতি বছর এ মওসুমে ভূমিক্ষয়ের কবলে পড়ে কুয়াকাটা। গত আমাবস্যা ও পূর্নিমার জোতে সাগর সৈকত অন্তত ২০ থেকে ২৫ ফুট ছোট হয়ে গেছে। ফলে সৈকতে গড়ে তোলা ফয়েজ মিয়ার নারকেল বাগানসহ সব বনাঞ্চল এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এমনকি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদের কয়েকটি স্পষ্ট্ও লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম ও পূর্ব দিকে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে বন বিভাগের সৃজিত বাগানের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। অপর দিকে সৈকতপাড়ে থাকা ঝাউবন,নারকেল কুঞ্জ ও শালবন তছনছ হয়ে গেছে এবং বনাঞ্চলের হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়ে রয়েছে। এভাবে ভূমিক্ষয় চলতে থাকলে কুয়াকাটার বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেতরে পানি প্রবেশ করে পর্যটন শিল্পসহ উপকুলীয় হাজার হাজার ঘরবাড়ী বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। পর্যটক শূণ্য হয়ে যাবে কুয়াকাটা। এতে সরকার হারাবে পর্যটন শিল্পের কোটি টাকার রাজস্ব এবং পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত বিনিয়োগকারীরা পড়বেন বিপাকে।

কুয়াকাটা

কুয়াকাটা

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকনের পর পর্যটকদের চিত্তবিনোদনের জন্য দর্শনীয় স্পট হিসেবে গড়ে তোলা জাতীয় উদ্যান ইকোপার্ও ভূমিক্ষয়ের কবলে বিলীন হতে যাচ্ছে। অবিলম্বে ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেয়া উচিত এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

এ ব্যাপারে মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা ইমদাদুল হকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, সমুদ্রভাঙন যদিও ফেরানো সম্ভব নয়, তবে ইতোমধ্যে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কুয়াকাটার জাতীয় উদ্যানসহ বেড়িবাধ লাগোয়া বনাঞ্চল বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ভাঙন রোধের কাজটি হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তাই বিষয়টি তাদের অবহিত করেছি।


কাশি প্রতিরোধে করণীয়

কাশি (cough) প্রতিরোধে করণীয়

সাধারণতভাবে কাশি আলাদা কোনো রোগ নয়। অন্য রোগের উপসর্গ। যেসব রোগে গলা, ফুসফুস বা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হয় সেসব রোগের উপসর্গ হিসেবে কাশি দেখা দেয় এবং কাশি হচ্ছে গলায় ফুসফুসে জমানো শ্লেষ্মা বা জীবানু বের করার প্রক্রিয়া।  এতে শ্বাস প্রক্রিয়া সহজ হয়। কাজেই যখন কাশিতে শ্লেষ্মা বের হচ্ছে তখন তা বন্ধ করতে ওষুধ খাবেন না বরং এমন কিছু করুন যাতে শ্লেষ্মা তরল হয়ে বের হয়ে আসে।

কাশি

কাশি

যেমন

১. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পটাশিয়াম আয়োডাইডেও উপকার হতে পারে।

২. গরম পানির ভাপ নিতে বেশি পরিমাণ গরম পানি বালতিতে নিয়ে উঁচু জায়গায় এসে বালতিসহ মাথা একটি চাদর দিয়ে ঢেকে বালতিসহ মাথা একটি চাদর দিয়ে ঢেকে বালতি থেকে যে বাষ্প উঠছে তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে নাক দিয়ে টেনে নিন। এভাবে প্রায় ১৫ মিনিটের মতো দিনে কয়েকবার করে ভাপ নিন।

৩. সব ধরনের কাশিতে বিশেষ করে শুকনো কাশিতে নিজেদের বানানো সিরাপ দিতে পারেন। (এক ভাগ মধু + ১ ভাগ লেবুর রসের মিশ্রন) দুই অথবা তিন ঘন্টার পরপর এক চামচ করে দেয়া যেতে পারে।

৪. মারাত্মক কাশির কারণে ঘুমোতে না পারলে তবে সিরাপের সঙ্গে কোরাল হাইড্রটের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন তবে শ্লেষ্মার পরিমাণ বেশি বা শব্দসহ কাশির ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার না করাই ভালো।

৫. কাশিতে শব্দ হলে পানির সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে নাক দিয়ে টেনে নিন এতে শ্বাসকষ্ট কমবে।

৬. কি রোগের কারণে কাশি হয়েছে তা খুঁজে বের করে চিকিৎসা করুন। যদি কাঁশি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কাশিতে রক্ত, পুঁজ অথবা দুর্গন্ধ থাকে অথবা যদি তার ওজন কমে যায় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে বা চিকিৎসককে দেখান

৭. যেকোনো কাশি থাকলে আপনি ধুমপান থেকে বিরত থাকুন। কাশি থেকে মুক্তি পেতে হলে যে কারণে কাশি হয়েছে তার চিকিৎসা করুন।

সৈকত নন্দী

রংপুর মেডিকেল কলেজ।


সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীর নানান দুর্ভোগ

সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীর নানান দুর্ভোগ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সমস্যা প্রকট, শিক্ষিতে হার এক শতাংশেরও কম

আবদুল কুদ্দুস রানা

দেশের দক্ষিণ সীমান্তে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার একটি ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন। সদর টেকনাফ থেকে প্রায় ৩০ কি, মি. দূরে ৩ দশমিক ৩৭ বর্গ কি. মি. আয়তনের এই দ্বীপের লোকসংখ্যা 6 হাজার। পেশা ৫ % কৃষি, ৯৫% মাছ শিকার।  দ্বীপের প্রধান সমস্যা ভেড়িবাধ। যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় ছয় মাস এ দ্বীপ মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। শিক্ষা ও স্থাস্থ্য সমস্যা প্রকট। দ্বীপের শিক্ষার হার শতাংশেরও কম। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে নারকেল, পেঁয়াজ অন্যতম। এছাড়া রয়েছে বিপুল মৎস্যসম্পদ।

স্টিমার সার্ভিস দীর্ঘ দিনও চালু হয়নি

সমুদ্রপথে যাতায়াত সমস্যা দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের। সদর টেকনাফ থেকে ৩০ কি. মি. দূরে সেন্টমার্টিনে যেতে ছোট ছোট যান্ত্রিক নৌযান নিয়ে প্রথম নাফ নদী এবং পরে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিতে হয়। বর্ষায় সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে তখন প্রায়্ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে থাকে। অথচ দ্বীপবাসী দীর্ঘদিন ধরে  জানিয়ে আসছে এ পথে স্টিমার সার্ভিস চালুর জন্য। সেন্টামার্টিন দ্বীপে পা পড়েনি এমন কোন রাষ্টপ্রতি, প্রধানমন্ত্রি, উর্দ্ধতন কর্মকর্তা দেশে নাই বলে গর্ব করে  বলে থাকেন দ্বীপের লোকজন। তারা প্রত্যেকেই দ্বীপের উন্নয়নের কথা বলে যান। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেন্টমার্টিন থেকেই আশ্রায়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী তার নির্বাচনী ওয়াদা পূরন করতে এ পথে স্টীমার সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে দ্রুত কিংবা জরুরী সংবাদ আদান প্রদানে এ দ্বীপে কোন সুষ্টু ব্যবস্থা নেই। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি ওয়ারলেস সেট কিছুটা হলেও মানুষের উপকারে আসছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রকৃত খবর নেয়া যায় দু তিন দিন পর। টি এন্ডটির আওতাধীন ভিএইএফ এর একটি স্টেশন স্থাপিত হলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তা অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

হাসপাতাল স্থাপনের আশ্বাস

দ্বীপের স্থাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার হাল করুন। একটি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র থাকলেও ডাক্তারের অনুপস্থিতির কারনে এটি জনগনের কোনো উপকারে আসে না। লোকজনকে বহু কষ্টে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফ হাসপাতালে আসতে হয়। অর্থাভাবে যারা টেকনাফে যেতে পারে না দ্বীপেই তাদের মৃত্যুবরণ করতে হয়।  সমুদ্র দ্বীপে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে দুজন গ্রাম্য ডাক্তার। ওষুধের দোকান রয়েছে দুটি। তিনগুন দামে বিক্রি হয় ওষুধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেন্টমার্টিন এসে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের আশ্বাস দেন। এরপর কিছু তৎপরতা দেখা গেলেও এখন তা বন্ধ। হাসপাতালের জন্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

শিক্ষার হার যেখানে এক শতাংশের কম

দ্বীপের ৬ হাজার অধিবাসীর মধ্যে স্নাতক পাস করেছেন একজন। তিনি বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার সামসুল ইসলাম। এক সময় তিনি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এইচ এস সি পাস একজন ও এস এস সি পাস আছে তিনজন। শিক্ষিতের হার এক শতাংশের কম। উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান বলতে একটি হাই স্কুল। আরো রয়েছে একটি সরকারি, দুটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও পাঁচটি মক্তব।

বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত দ্বীপবাসী

বর্তমান সরকার সারাদেশে ৫৭ বয়সোর্ধ্ধদের জন্য ১০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা চালু করলেও সেন্টমার্টিনবাসী এখনো তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এই দ্বীপের ৯০ জনের তালিকা নির্ণয় করা হয় মার্চ মাসে। শুধুমাত্র ছবির অভাবে তাদেরকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা যাচ্ছে না। এলাকার বয়স্করা ৩০ মাইল দুরে এসে ছবি তোলার প্রয়োজন অনুভব করেছেন না। অনেকের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ছবি তোলার উদ্যোগ নিচ্চিত না। ইতিমধ্যে তালিকাভূক্ত বয়স্কদের কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বয়স্ক ভাতা তাদের ভাগ্যেও জোটে না।

সাইক্লোনের সংকেতে আতঙ্কিত দ্বীপবাসী

ঘূর্ণিঝড় কিংবা সাইক্লোনের সংকেত শুনলেই দ্বীপবাসীর মাঝে নেমে আসে আতঙ্ক। দ্বীপের চতুর্দিকে ভেড়িবাধ না থাকায় ঘূর্ণিঝড় দ্বীপটি প্লাবিত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ১৯৯৪ সালের ২ মে  এবং ১৯৯৬-৯৭ সালের কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপটি প্লাবিত হয়। দ্বীপের তিনটি মাত্র ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজনরে তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।  দ্বীপবাসী চতুর্দিকে পাথরের বাধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

প্রধান পেশা মৎস্য শিকার

দ্বীপের ৯৫ শতাংশ লোকের প্রধান পেশা মৎস্য শিকার। বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে আট মাস সাগরে নামতে পারে। বাকি সময় বেকার থাকে। কারন এই সময় সাগর উত্তাল থাকে। সাগরে জলদস্যূদের উৎপাত, মায়ানমারের নাসাকা বাহিনিীর সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে বহু জেলে নৌকা, জাল, মাছ হারিয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে বহু জেলে। অথচ এখানে নেই কোনো মৎস্যজাত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। দ্বীপে ওঠানামার জন্য নেই কোন জেটি। ফলে জেলেরা ন্যায্যমূল্যে মাছ বিক্রি ও সংরক্ষণ করতে পারে না।

শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য

প্রাকৃতিক সৌন্দ ছাড়াও উদ্ভিদ, প্রাণী ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সেন্টমার্টিন শিক্ষা সফরের জন্য আর্কষণীয়। এখানে দূর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং হাঙ্গর দেখা যায়। জীববিজ্ঞানের ছাত্রদের কৌতূহল মেটাতে তারামাছ, লবস্টার, চিংড়ি, রাজকাকরা, কচ্ছপ, কালামুনাইস, সিপিয়া, মুলস্কাসহ ১০৩ প্রজাতির মাছ এখানে সহজলভ্য।

দ্বীপের চেয়ারম্যান যা বলেন

দ্বীপের চেয়ারম্যান মাস্টার সামসুল ইসলাম জানান দ্বীপের নানা সমস্যার কথা। দ্বীপের চারদিকে পাথরের বাঁধ নির্মাণ, সমুদ্রপথে স্টীমার সার্ভিস চালু, দ্বীপে ওঠানামার জন্য জেটি নির্মাণেল দাবি জানান। তিনি জানান, সেন্টমার্টিনকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে হাজার হাজার পর্যটক দিনে এসেই ফিরে যেতো না। পর্যটকদের জন্যে এখানে থাকা খাওয়ার উন্নত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। চেয়্যারম্যান আরো জানান, শিক্ষার হার বাড়াতে এখানে আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে আরো আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ এবং পানীয় জল সমস্যা নিরসনে দ্বীপে প্রচুর নলকূপ স্থাপন জরুরী। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ হাল বর্ণনা করে তিনি বলেন, কোনো ডাক্তারই এখানে থাকতে চায় না। ফলে লোকজনের দুর্ভোগ বাড়ে। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বহু লোকের মৃত্যু হয়।

সীমান্তবর্তী দ্বীপ বিধায় সেন্টমার্টিন সামরিক স্থাপনার দিক দিয়েও যথেষ্ট গুরুত্বর্পূন। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে সেন্টমার্টিন বাসী তাদের দূর্ভোগের অবসান চায়, পাশাপাশি সরকারও এখানে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করে পেতে পারে বিপুল পরিমান রাজস্ব।


মেঘলা ঘুরে

মেঘলা ঘুরে

স্বরুপ সোহান

পাহাড়ের আকাবাঁকা পথ ধরে ছুটে চলেছে আমাদের বাস। চট্রগ্রাম থেকে কাটায় কাটায় সকাল ১০ টায় বাসে চড়েছি আমরা। দলে সবশুদ্ধ আটজন। গন্তব্য আমাদের মেঘলা। শুনেছি দারুন ‍সুন্দর জায়গা। বান্দরবনের সড়ক দিয়ে আমাদের  বাস ছুটছে তো ছুটছেই। একবার দেখছি বাস পাহাড়ের উপর আবার পরক্ষনেই একেবারে নিচে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই ঘন সবুজ পাহাড়। পাহাড়ের উপর ছোট্র ছোট্র ঘর। বেশিরভাগই মাটির। দূরের পাহাড়গুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। পাশে বসা তানভীরকে জিজ্ঞেস করতেই বললো আদিবাসিরা ঐ পাহাড়গুলোতে চাষ করে। চাষ করার আগে ওরা পাহাড়ে খড়কুটো জড়ো করে আগুন দেয়। ঐ আগুনের ধোঁয়া থেকেই বোঝা যায়, ওখানে চাষ করা হবে। বান্দরবনের রাস্তাগুলোতে এতোটাই আঁকাবাঁকা যে বাইরে তাকালেই মনে হয় বাস এক্ষুণি পড়ে যাবে। শত শত ফুট নিচে খাদে। ঘড়ি জানান দিচ্ছে বেলা প্রায় সোয়া ১২ টা। সিটের পেছন থেকে এনাম বললো আর মাত্র মিনিট দশেক পরেই আমরা মেঘালয় পৌছে যাবে। ১০ মিনিটের আগেই বাসের কন্ডাক্টর চেচিয়ে উঠলো,  মেঘলা! মেঘলা! হ্যান্ডারস্যাফ, পানি ইত্যাদি নিয়ে নেমে গেলাম আমরা আটজন।

বান্দরবন শহর এখন থেকে আরো প্রায় ৪ কি. মি. দূরে। বাস আমাদের নামিয়ে দিয়েই ছুটে পালালো বান্দরবনের দিকে।  এই সেই মেঘলা। এতো শুনেছি এই জায়গায় নাম। ততোক্ষনে আমরা সম্বিত ফিরে পেয়েছি। ওর পিছু নিলাম সবাই। চট্রগ্রাম বান্দরবন মহসড়কের পাশ দিয়েই হাঁটলাম কিছুক্ষণ। একটু পরই চোখে পড়ল  মেঘলা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। বড়সড়ো একটি গেট গেটের পাশেই টিকিট কাউন্টার। তপু বললো চল টিকিট কেটে ঢুকে পড়ি। রাজি গেলাম সবাই। আটটি টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম ভিতরে। গেটের ভিতরে ঢুকতেই বিস্ময়ে সবার মুখ হা হয়ে গেলো এক সঙ্গে। কি অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। গেট থেকে ঢাল বেয়ে নেমে গেছে সিড়ি। বাঁয়ের লেকে টলমলে পানি। চারদিকে পাহাড়। সিঁড়ি বেয়ে একেবারে নিচে নামালাম আমরা। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে এই  সিড়ি। চারদিকেই গাছ আর গাছ। যেন সবুজ রং মাখানো হয়েছে জায়গাটায়। যেদিকেই তাকাই সেদিকেই সবুজ। আমরা আটজন হঠাত নিস্তব্দ। প্রকৃতির মধ্যে মিশে গেলে কারো সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিস্তব্দতার মধ্য প্রকৃতিই যেন চুপি চুপি কথা বলছে আমাদের সবার সঙ্গে। শাফি ওর ক্যামেরায় শার্টার টিপে চলছে সমানে। কিছুদূর ‍এগুনোর পর আমরা লেকের পাড়ে এসে পৌছালাম। লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক একটি নৌকা। ঘাটে দাড়ানো এক লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক লোকের কাছে জানা গেলো, দড়ি টেনে নৌকা নিয়ে লেকের ওপারে যাওয়া যায়। হুড়মুড় করে আমরা আটজন উঠে পড়লাম নৌকায়। মিনিট চারেক পরই নৌকা এসে ভিড়লো লেকের ওপারে। ওপারে নামতেই চোখে পড়লো সাইনবোর্ড লেখা, পাহাড়ের ওপর চিড়িয়াখানা, তিনটি হরিণ, দুটি অজগর, চারটি শেয়াল, কয়েক প্রজাতির সাপ, আর বেশ কিছু বানর এই সম্বল। তারপরও বেশ সাজানো গোছানো।

বানরের সঙ্গে বাদরামি করলো কিছুক্ষণ লিপু। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড় আর নিচে এঁকে বেঁকে গেছে টলমলে লেক। যেন শিল্পির তুলির টান। নৌকা দিয়ে আবার এপারে চলে এলাম আমরা। পেটে তখন  ছুঁচোর নাচন। পর্যটনের সব কিছু থাকলেও কোনো রেস্টুরেন্ট নেই এখানে। আচে একটি কনফেকশনারি। েএকজনকে প্রশ্ন করে জানা গেলো, বেশিরভাগ লোকই এখানে আসে পিকনিক করতে। আরো জানা গেলো লেকের উপর দিয়ে চমতকার একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তখন লেকটি আরে সুন্দর লাগবে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে পড়লাম আমরা। বান্দরবনের বাস ধরতে হবে আমাদের। এবার আমাদের গন্তব্য বান্দরবন।

আপনাদের জন্য

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবনের বাসে উঠে পড়ুন এবং মেঘালয় এসে নেমে পড়ুন। বাস ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা। মেঘালয় থেকে কোন আবাসিক হোটেলও নেই। তাই এখানে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন না। বনভোজনে যেতে পারেন।

এখানে আগুন জ্বালানো যায়। সুতারাং ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় খাওয়া কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা আগেই করুন। শক্ত জুতো অথবা স্যান্ডেল পরবেন। কেননা, পাহাড়ে উঠতে হবে।

মেঘলা পর্যটনে ঢুকতে টিকিটের মূল্য ২0 টাকা। ক্যামেরা অবশ্যেই সঙ্গে নিন। না হলে জীবনে দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্যগুলো মিস করবেন। সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। নিস্তদ্ধতার মধ্যে প্রকৃতিই যেন চুপি চুপি কথা বলছে আমাদের সবার সঙ্গে। শাফি ওর ক্যামেরার শার্টার টিপে চলছে সমানে। কিছুদুর এগুনোর পর আমরা লেকের পাড়ে এসে পৌছালাম। লেকের ঘাটে দড়ি দিয়ে বাঁধা একটি নৌকা। ঘাটে দাঁড়ানো এক লোকের কাছে জানা গেলো, দড়ি টেনে নৌকা নিয়ে লেকের ওপারে যাওয়া যায়। হুড়মুড় করে আমরা আটজন উঠে পড়লাম নৌকায়। মিনিট চারেক পরই নৌকা এসে ভিড়লো লেকের ওপারে। ওপারে নামতেই চোখে পড়লো সাইনবোর্ড। লেখা, ‘পাহাড়ের ওপর চিড়িয়াখানা’। ওঠা শুরু করলাম আমরা। ছোট্র একটি চিড়িয়াখানা তিনটি হরিণ দুটি অজগর, চারটি শেয়াল, কয়েক প্রজাতির সাপ, আর বেশ কিছু বানর, এই সম্বল। তারপরও বেশ সাজানো গোছানো।

বানরের সঙ্গে বাঁদরামি করলো কিছুক্ষণ লিপু। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারদিকে তাকালাম সারি সারি পাহাড় আর নিচে একেবেঁকে গেছে টলমলে লেক। যেন শিল্পির তুলির টান। নৌকা দিয়ে আবার এপারে চলে এলাম আমরা। পেটে তখন ছুঁচোর নাচন। পর্যটনের সব কিছু থাকলেও কোনো রেস্টুরেন্ট নেই এখানে। আছে একটি কনফেকশনারি। একজনকে প্রশ্ন করে জানা গেলো, বেশিরভাগ লোকই এখানে আসে পিকনিক করতে। আরো জানা গেলো লেকের উপর দিয়ে চমৎকার একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তখন লোকটি আরো সুন্দর লাগবে। খাওয়া শেষ হতেই উঠে  পড়ালাম আমরা। বান্দরবানের বাস ধরতে হবে আমাদের। এবার আমাদের গন্তব্য বান্দরবান।

আপনাদের জন্য

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবানের বাসে উঠে পড়ুন। মেঘালয় এসে নেমে পড়ুন। বাস ভাড়া লাগবে ৩০ টাকা। মেঘালয় কোনো আবাসিক হোটেল নেই। তাই এখানে থাকার পরিকল্পনা নিয়ে যাবেন না। বনভোজনে যেতে পারেন।

ওখানে আগুন জ্বালানো যায়। সুতারাং ওখানে গিয়েও রান্না করতে পারেন। মেঘালয় খাওয়ার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাওয়ার ব্যবস্থা আগেই করুন।

শক্ত জুতো অথবা স্যান্ড পরবেন। কেননা পাহাড়ে উঠতে হবে।

মেঘলা পর্যটনে ঢুকতে টিকিটের মূল্য ২ টাকা। ক্যামেরা অবশ্যই সঙ্গে নিন। না হলে জীবনে দেখা অন্যতম সেরা দৃশ্যগুলো মিস করবেন।


বিজয় দিবস – স্মৃতির পথে হাঁটা

 বিজয় দিবস – স্মৃতির পথে হাঁটা

নজরুল ইসলাম

আর পাঁচদিন পর ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস। প্রতি বছর দেখা যায় বিজয় দিবসে শহরের রাস্তায় রাস্তায় অসংখ্য মানুষকে বিজয় মিছিলে, সমাবেশ। বাবা কিংবা মায়ের হাত ধরে ছোটরা, বন্ধুরা এক সঙ্গে দল বেধে। অযথা পরিবারের সবাই মিলে ঘুরছেন সারাদিন। দেখছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মারকগুলো। নকশার পাঠকদের জন্য চলুন ঘুরে আসা যাক এই শহরে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হয়ে থাকা ভাষ্কর্য, স্থান কিংবা যাদুঘর থেকে।

৬ ডিসেম্বর সকাল। ঘুম থেকে উঠেই মনে পড়ল ৭১ এর ঠিক এই দিনেই বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশে হিসেবে  প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি পেয়েছিল। আর এদিনেই নকশার এসাইনমেন্ট নিয়ে দেখা হলো ঢাকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় স্মারকগুলো। গাবতলী টার্মিনাল থেকে বাসে উঠলাম। বন্ধু বাতেনের সৌজন্যে পূর্বাশা হাই চয়েস কোচে করে পৌছে গেলাম সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে। গাবতলী থেকে ২০/৩০ টাকা দিলে লোকাল বাসগুলো নবীনগর বাস স্টপেজে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে একটু এগিয়ে গেলেই স্মৃতিসৌধ। বিজয় দিবস উপলক্ষে ধোয়ামোছার কাজ চলছে স্মৃতিসৌধের। এই ব্যস্ততা, কর্মাচাঞ্চল্য ছাড়িয়ে এক লাফে চোখ চলে যায় ৪৫ মিটার উচু স্মৃতিসৌধের চুড়ায়। ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭১ বাংলাদেশের ইতিহাসের স্মরণীয় এই সাতটি বছরের স্মরণে ৭টি স্তম্ভ নিয়ে এই স্মৃতির মিনার। এখানে এলেই বিজয়ের আনন্দে মনটা ভরে যায়। ৮৪ একর জায়গা নিয়ে এর বিশাল বিস্তৃতি। তার ওপর চারপাশ জুড়ে আছে ২৪ একর জায়গা জুড়ে ‍বৃক্ষবলয়। মিনারের দিকে এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে একটি ফলক, যার মধ্যে লেখা বীরের এ রক্তস্রোত মাতার এ অশ্রুধারা, এ যত মূল্য সেকি ধারার ধলায় হবে হারা/স্বর্গ কি হবে না কেনা/ বিশ্বের ভান্ডারী শুধিবে না এত ঋণ। সত্যিই তো, এ ঋণ আমরা এগুলো শুধবো কিভাবে? এই স্মৃতিসৌধ কেন বানানো হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই ধোয়ামোছায় ব্যস্ত মজিদ বললেন, ৭১ এর গন্ডগোলর লাইগা। যাই হোক, ঘোলা পানির উপর ফুটে থাকা লাল পদ্ম দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম মিনারে। এর উপর বসা নিষেধ, জুতা নিয়ে ওঠা নিষেধ, মিনারের গায়ে লেখা নিষেধ। কিন্তু সবই চলছে। বেরিয়ে গিয়ে রাস্তা পার হলেই পর্যটনের ফুডশপ। ইচ্ছে ছিলো নাস্তাটা সেরে নেয়ার। কিন্তু পকেটের সঙ্গে দামের ফারাক দেখে ইচ্ছেটা মাটি হয়ে গেলো। আবার বাসে চড়ে গাবতলী। আরিচা রোড দিয়ে আসার সময় মনে হলো, এই রাস্তা দিয়েই তো মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ঢাকা আক্রমনের জন্য যাচ্ছিল। তখন তাদের যে আনন্দ হচ্ছিল, মনে হচ্ছে আমারও আজ সেই আনন্দ।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ

গাবতলী নেমে মানিকগঞ্জ হোটেলে নাস্তা সেরে গেলাম মিরপুরের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে। তালগাছে ঘেরা লাল ইটের চারটি মিনারের মাঝে স্মৃতিফলক। এখানেও চলছে ধোয়ামোছার কাজ। এখানেই মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে রাজাকারদের সহায়তার পাকবাহিনী হত্যা করে এদেশের অমূল্য সন্তানদের। এখান থেকে বেরিয়ে গেলাম লালকুঠিতে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারে। গেটে তালা ঝুলছে, খোলা হয়না অনেকদিন। দেশের বিশিষ্ট লেখকদের দান করা অজস্র ভালো বই নাকি একজন সংগঠকদের বাসায় বস্তাবন্ধী হয়ে পড়ে আছে।

আবার চড়লাম রিকশায়, গন্তব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরের নাম বলো রিকশাঅলাকে চেনাতে পারলাম না, বলতে হলো ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর। বুধবারে এটা বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন ১০টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা। ৩ বছর বয়স পর্যন্ত বিনা টিকিটে ঢোকা যায়। বাকিদের ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়। সুন্দর ছিমছাম জাদুঘর। সামনে সিরামিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। ভেতরে অনেক তথ্যমূলক ছবি। ৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে ১২ টায় যে পাঠকক্ষে বসে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা লিখেছিলেন সে কক্ষটিও আছে আগের মতোই, তবে সেখান কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। বাইরে থেকেই যা দেখার দেখে নিতে হয়। ১৫ আগষ্ট রাতে নিহতদের ছবি আছে নিচতলায়। উপরতলায় বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত দ্রবাদি আছে।

শহীদ মিনার

শহীদ মিনার

জাদুঘর থেকে গেলাম রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। বেড়িবাধের পাশে বিশাল জায়গা জুড়ে নির্মিত হচ্ছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ। এখানে ৯১ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রজন্ম ৭১ তৈরি করেছিল ছোট একটি স্মৃতিসৌধ। পরবর্তী ৯৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। কাজ শুরু হয় ৯৭ এর এপ্রিল মাসে। এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বর্তমানে  এর যাতায়াত ব্যবস্থা খুব খারাপ। মোহাম্মদপুর বাসট্যান্ড থেকে ধুলাবালি সমৃদ্ধ দীর্ঘপথ পায়ে হেটে পৌছতে হয় এখানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গেলাম। ঢুকতেই কলাভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা। এটি এখন দাঁড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রতীক হয়ে। অপরাজেয় বাংলা পার হয়ে মধুর ক্যান্টিনে গেলাম। মধুদার মূর্তি কালো কাপড়ে ঢাকা। এখানে হালকা খাওয়া দাওয়া করে টিএসসিতে গেলাম। বাংলা একাডেমীর দেয়ালে সিরামিক দিয়ে আকা আছে ৫২ থেকে ৭১ এর সংগ্রামী দিনের চিত্রমালা। ড্যাসের পেছনে ২৫ মার্চ ৮৮ তে শামীম শিকদারের করা ভাষ্কর্য স্পোপার্জিত স্বাধীনতা পার হয়ে সোজা জাতীয় জাদুঘর। বৃহস্পতি ও শুক্রবার এটা বন্ধ থাকে। খোলা থাকে শনি থেকে বুধবার। শীতকালীন সময়সূচি সকাল ৯.৩০ থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা আর গ্রীষ্মকালীন সময়সুছি সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে বিকেল সোয়া ৫ টা পর্যন্ত। এখানেও ৩ বছর বয়সীরা বিনা পয়সায় ঢুকতে পারে। যাহোক ২০ টাকার টিকিট কিনে ঢুকে পরলাম শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে। এর তিনতলায় আছে মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত দ্রব্য আগ্নেয়াস্ত্র, লাটিসোটা থেকে শুরু করে পাকবাহীনির নিপীড়ন পর্যন্ত সবই আছে এ জাদুঘরে। চিত্রকলার গ্যালারিতেও অধিকাংশ চিত্রকর্মই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। আবার রিকশা, এবারের গন্তব্য সেগুন বাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। রিকশা থেকেই দেখলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেখে কে বলবে ৭১এর ৭ মার্চ এখানেই বয়ে গিয়েচির আগুনের বন্যা।

স্মৃতি সৌধ

স্মৃতি সৌধ

এই পার্কে উপস্থিত লাখো মানুষ হয়ে গিয়েছিল জ্বলন্ত আগুন, আগুনে পুড়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি শোষণ। সে আগুনেরই ক্ষুদ্র রূপ এখন জ্বলছে শিখা চিরন্তন হয়ে। রিকশায় বসেই চোখে পড়ল অশ্লীল একটি ইংরেজী ছবির পোষ্টার। চলছে গুলিস্থান সিনেমা হলে। এই সিনেমা হলটি নাকি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের। ধরণী দ্বিধা হও, এ লজ্জা কোথায রাখি।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর রোববার ছাড়া বাকি সবদিনই সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটা। টিকিট ২০ টাকা। এখানে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু স্মারক, ছবি, পোষ্টার ও পেপারকাটিং আছে। আছে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত দ্রবাদি। সারাদিন এখানে মুক্তিযুদ্ধের গান বাজে, টিভিতে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের ডকুমেন্টরি। প্রাঙ্গণে আছে ক্যাফে, ক্যাফে থিয়েটার, লাইব্রেরি, সেমিনার কক্ষ ও জ্বলন্ত শিখা। আটজন ট্রাস্টি্র উদ্যোগে সেগুনবাগিচার সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত। এরপর গেলাম রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। ঢুকতে হলো না, রাস্তা থেকেই বেশ দেখতে পেলাম মাথা উচু করে দাঁড়িযে আছে স্মৃতির মিনার। ততোক্ষনে শীতের সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বাসায় ফিরছি, বুকপেটে তখনো সাভার স্মৃতিসৌধের ছবি সম্বলিত একটি পঞ্চাশ টাকার নোট। মুক্তিযুদ্বের সবকিছুই সগর্বে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। থাকবে নাইবা কেনো। এই তো আমাদের সর্বশেষ্ট অহংকার। আমরা রক্তের দামে স্বাধীনতা অর্জন করে নিতে পেরেছি।

ছবিঃ আফতাব আহমেদের ‘আমরা তোমাদের ভুলবো না’ বই থেকে নেয়া হয়েছে


সীতাকুন্ড ঘুরে

সীতাকুন্ড ঘুরে

আমাদের বাস সীতাকুন্ড বাজারে এসে থামলো। ঘড়িতে তখন বেলা এগরোটা দশ। চট্রগ্রাম থেকে এখানে পৌঁছাতে সময় খরচা হলে প্রায় দ ঘন্টা। রাস্তার উল্টোদিকেই ভাঙাচোরা নামবিহীন এক হোটেল। এখানে আসার আগেই জানা গিয়েছিল এই হোটেলের কলিজা ভূনা আর পরোটার খ্যাতি নাকি ভুবনজোড়া। তাই এক দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে সোজা হোটেলে। খেতে খেতেই চললো প্ল্যান। আমরা যাবো চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। উঠতে হবে একেবারে চূড়োয়। কাধেঁ আছে হ্যাভারস্যাক। ওটাতে ছুরি, কাঁচি থেকে শুরু করে বাইনোকুলার, ফার্স্ট এইড বক্স সবই আছে। দুই বোতল মিনারেল ওয়াটারও কেনা হলো। বাজারের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি রিকশা। রিকশাওয়ালারা গলা ফাটিয়ে চেচাচ্ছে ঢাল, ঢাল, পাহাড়ের ঢাল। দরদাম করে ১০ টাকায় রফা হলো। শুরু হরো পথ চলা। মাটির রাস্তা, চারপাশে ঘন সবুজ পাহাড়। পাহাড় দিয়ে ঘেরা ছোট্র শহর সীতাকুন্ড। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান বলা যায়। হিন্দু পুরাণের বহু ঘটনার স্বাক্ষী এই সীতাকুন্ড। চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুন্ডের সবচেয়ে উচু পাহাড়। এই পাহাড়ের চুড়ায় রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির। হিন্দুধর্ম ভক্তরা ব্শ্বিাস করন অত্যান্ত পবিত্র এই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করলে মনষ্কমনা পূর্ণ হয়। যাই হোক, রিকশায় যেতে যেতে হঠাৎ পড়লো অসম্ভব সুন্দর আর বিরাট পুকুর। স্বচ্চ পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ দিঘিটি। জানা গেলো, সীতা দেবী এই দিঘিতেই স্লান করতেন। এরপর কিছুদূর এগোতেই চোখে পড়লো একটি বটগাছ। বিশালি এই বটবৃক্ষের চারপাশে লোহা তার দিয়ে ঘেরা। এই বটগাছের ছায়াতেই স্বামী বিবেকানন্দ কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। বটগাছটি পার হতেই এক আশ্রম। বিশাল এই আশ্রম। এই আশ্রম পেরোতেই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢাল। রিকশা থেমে গেল। রিকশা থেকে নেমে আমরা পাহাড়ের ঢালে বেয়ে ওঠা শুরু করলাম। পাহাড় ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকটি মন্দির। নিমতলা মন্দির, ভবনী মন্দির, শ্রী শ্রী সম্ভুনাথ মন্দির এবং একদম চূড়োয় চন্দ্রনাথ মন্দির।

প্রত্যেকটি মন্দির সুন্দর। সম্ভুনাথ মন্দিরেই রয়েছে শিব লিঙ্গের প্রকৃত পাথরটি। যা আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে অলৌকিকভাবে। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চুড়োয় ওটার পথে এই মন্দিরগুলোই হচ্ছে দর্শনীয় স্থান। পাহাড় কেটে কেটে তৈরি করা সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে আমরা চূড়োয় উঠছি। কতোটুকু উঠছি জানি না। হঠাৎ চোখে পড়লো অপূর্ব সুন্দর এক ঝরনা। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে নেমে আসছে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি। এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে ও্ই ঝর্নার পানিতে গোসল করছে। বড়ো অপরূপ সেই ছেলেখেলা! আমাদের পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই বোতলে ঝরনার পানি ভরে নিলাম। আহ, কি মিষ্টি পানি! আবার আমাদের ওপরে ওঠা শুরু হলো। যতোই উপরে উঠছি, ততোই চারদিক পাহাড় যেন বিস্তৃত হচ্ছে। হঠাৎ এক জায়গায় দেখলাম একটা সেতুর মতো তৈরি করা। জানা গেলো ওখানে দাড়িয়ে নাকি হাজার বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের রানী প্রতিদিন সূর্যকে পূজো করতেন। ওই সেতুতে দাড়িঁয়ে সোজা তাকালে সমুদ্র চোখে পড়বে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য। এতোক্ষন খেয়ালই করিনি। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলাম প্রায় দু ঘন্টা কেটে গেছে। চুড়ার দেখা এখনো মেলেনি। উঠছি তো উঠছিই। আরো প্রায় আধঘন্টা পার হলো। ঠিক সেই সময় চন্দ্রনাথ মন্দিরের চূড়োটি চোখে পড়লো। লাফিয়ে উঠলাম আমরা। চলে এসেছি চুড়োয়। চন্দ্রনাথ মন্দিরে তখন কেউ নেই। নির্জন পাহাড়ের চূড়োয় শুধু আমি আর আমার বন্ধু দাড়িয়ে। মন্দিরের সামনে দাড়াতেই মন পবিত্র হয়ে গেলো। আড়াই ঘন্টা পাহাড়ে ওঠার ক্লান্তি নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ মন্দিরের চারপাশে ঘুরে বেড়ালাম আমরা। এবার নিচে নামার পালা।

আপনাদের জন্য –:

  • চট্রগ্রাম থেকে সীতাকুন্ডের বাস ছাড়ে। দু ঘন্টার পথ। ভাড়া ২০ টাকা। ঢাকা থেকে যেতে চাইলে চট্রগ্রামের বাসে উঠে পড়ুন।
  • সীতাকুন্ড বাজারে নেমে পড়বেন। সীতাকুন্ডে ভালো আবাসিক হোটেল নেই। তাই থাকার জায়গা নিশ্চিত করে নিন।
  • পাহাড়ে ওঠার সময়ে হালকা কাপড় চোপড় পরাই ভালো। যেমন, জিন্স, টি শার্ট।
  • হ্যাভারস্যাকে পানি রাখুন। কারণ পাহাড়ে ওঠার পথে ঝরনা দেখার আগে পানি পাবেন না।
  • প্রচুর পরিমানে চকলেট সাথে নিন। কারণ পাহাড়ে উঠলে শরীর সুগারের পরিমান কমতে থাকে। ওপরে উঠবেন আর চকলেট খাবেন।
  • চুড়োয় ওঠার পথে ঝরনার পানিতে গোসল করে নিন। ভালে লাগবে।
  • বাসায় ফিরে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুটো প্যারসিটামল খেয়ে নিন।

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

রাঙ্গামাটির রঙে মন জুড়ালো

নওরোজ ইমতিয়াজ

একবার এলেই জায়গাটির প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা। শান্ত, সমাহিত, অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হচ্ছে এই রাঙামাটি।

ঢাকা থেকে সরাসরি ডলফিনের বাস যায় সকালে আর রাতে। আর নয়তো চট্রগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর রাঙ্গামাটির বাসে। বিমান বা ট্রেনে যাওয়া সম্ভব নয় রাঙ্গামাটিতে। একটু কষ্ট বৈকি। কিন্তু নিজের দেশকে চেনার জন্য  এগুলো কোন সমস্যা না। রাঙ্গামাটির যেখানটাতেই থামেন সেটাই দেখার মতো জায়গা। যেদিকে তাকানো হোক সেটাই ছবি তোলার মতো সুন্দর। আকাশ, পাহাড় আর পানি। সাথে গাঢ় সবুজ অরণ্য। সবকিছুর বিচিত্র সহাবস্থান শিল্পির কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবার কথা। প্রকৃতি মনে হয় তার অবসর সময়ে একটু একটু করে পরম যত্ন নিয়ে বানিয়েছে গোটা এলাকা। রাঙ্গামাটি জেলাটাই একটা বিরাট পাহাড়ি এলাকা। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে কম বেশৗ এক দেড়শ ফুট ওপরে। পাহাড় কেটে কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে। এই ঢালু তো এই খাড়া। তার ওপর বেশ কঠিন কঠিন সব মোড়। ওপাশ থেকে কি আসছে না আসছে বোঝার উপায় নেই। সে কারনে যে আস্তে আস্তে যাবো তারও উপায় নেই । তাহলে গাড়ি উঠবেই না খাড়া ঢাল বেয়ে। গাড়ি ঘোড়া মোড় নেয়ার সময় তাই বিকট শব্দে হর্ন বাজতে হয়। রাঙ্গামাটি শহরে কোনো রিকশ, ভ্যান, সাইকেল নেই। শুধু কিছু স্কুটার ঘোরাফরা করে। স্কুটারের ভাড়াটাও বেশ চমৎকার। নির্দিষ্ট একটা রেঞ্চের মধ্যো যেখানেই যাওয়া যাক জনপ্রতি পাঁচ টাকা ভাড়া। এর বাইরে গেলে ১০ টাকা। এর বেশি না। রাঙ্গামাটি শহরের অভিজাত এলাকা হচ্ছে বনরূপা। ঢাকার গুলশান, বনানীর মতো। সমস্ত বড় বড় সরকারী, বেসরকারি অফিস আর বসতবাড়ী। তারপর হচ্ছে তবলছড়ি। এটাও বেশ সুন্দর জায়গা। শহরে একটু পরপর নানারকম দোকান, অফিস, বাড়িঘর। সীমান্ত অঞ্চলে থেকে আসা উন্নতমানের কাঠের ব্যবসা আছে। ঢাকা থেকে লোকজন এসে তা দিয়ে দরকার মতো আসবাবপত্র বানিয়ে নিতে পারে। খানিকটা দূরে দূরে নানারকম হ্যান্ডিক্যাফটের দোকান। স্থানীয় উপজাতি মেয়েদের বানানো জামা কাপড়, ব্যাগ, টুপি, মাটির বা কাঠের খেলনা, পুতুল সব পাওয়া যায়।

রাঙ্গামাটি পর্যটনের জন্য বিরাট সুবিধা। পর্যটন করপোরেশনের মোটেল আছে। এসি, ননএসি সবরকম থাকার ব্যবস্থা আছে। আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল সুফিয়া। অগ্রিম বুকিং এর জন্য ফোন নম্বর হলো: ০৩৫১২১৪৫।

পর্যটনের পাশে দেখার জায়গা হলো ঝুলন্ত ব্রিজ। ব্রিজের দুপাশে লেক আর পাহাড়। বোটের ব্যবস্থা আছে। একঘন্টা এক থেকে পাঁচশ টাকা ভাড়া। দেখার মতো আরো আছে পর্যটনের রেস্ট হাউস, শুটিং স্পট, তারপর আরেকটু ভেতরে গেলে আদিবাসীদের গ্রাম, প্রাচীন মন্দির,পুরোনো রাজবাড়ি। স্থানীয় মানুষজন খুব উদারমনা ধরনের, বেশ অতিথি বৎসল। দেখা হলে বন্ধু বন্ধু চেহারা করে এগিয়ে এসে কথাটথা বলে। খুব সহজ সরল। তবে রাঙ্গামাটি এসে বেড়ানোর ভয় একটাই, ম্যালেরিয়া। রাত হলেই বিশাল বিশাল সাইজের মশারা টহল দিতে শুরু করে । শহরের দিকে এই সমস্য অল্প হলেও গ্রামাঞ্চলে বিষয়টা ভয়াবহ পর্যায়ের। অতএব, রাঙ্গামাটি বেড়াতে হলে ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক সাথে রাখা জরুরী।

আপনাদের জন্য

  • ঢাকা থেকে সরাসরি শুধু ডলফিন পরিবহনের বাস যায় সকালে আর রাতে।
  • চট্রগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির বাস যায়। দুই ঘন্টার রাস্তা। ভাড়া ৩৫ টাকা।
  • ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক নিয়ে নেবেন। এই রোগের বিরাট উপদ্রব রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।
  • রাস্তায় চলাফেরার সময় ট্রাফিক আইন কানুন মেনে চলুন। রং সাইডে চলে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
  • হালকা পোশাক পরুন। ফর্মাল হতে গেলে চলাফেরা সমস্যা্।
  • সাথে একটা ক্যামেরা নেন। ছবি তোলার জন্য এক রকম দৃশ্য আর পাবেন না।

More earning from tourism

More earning from tourism

DIFFERENT projections established tourism as the fastest growing service industry in the world with good prospects in a large number of countries apart from the handful of countries that presently draw a maximum number of tourists. Hence, it has the potential to experience a boom from a wave of first time visitors. Besides, it has many places of attractions for the tourists.

One big reason for Bangladesh actually receiving a much lesser number of international tourists than it should is the lack of publicity regarding its tourism attractions. The government’s tourism promotion body, the Bangladesh Parjatan Corporation (BPC), has been rather ineffectual in launching and sustaining a campaign in the international tourism circuits about the pleasures of tourism in the country. The commercial wings of the diplomatic missions of the country could play a useful role in this area.

It is imperative to good the BPC and the foreign missions to take up regular tourism related promotional activities. Bangladesh can earn notably bigger amount from tourism than its present earnings and the same can be of much support to its economy when its few export items like ready made garments and shrimps are facing adverse competition. Investment in this sector can be quite gainful. Investors in the domestic sectors of the Bangladesh economy are in search of sound investment areas. It is one area where the returns on investment can be attractive. Domestic tourism in the country, of late, has been showing sharp uptrend’s and the investors can exploit this business opportunity by adopting innovative ways.

Tourist resorts of international standard can be built in the country’s offshore islands and coastal areas. Private sector investors need to be encouraged by the relevant ministry to take up such projects. The government, on its part, can build supportive infrastructures in these potentially lucrative sites and in other areas leading to them so that the investors find it worth their while to take up projects in these areas.

Expansion of this sector is important because it will create jobs and demand for construction materials and other goods and services. Locally, around the tourist sites many services are likely to sparing up. This in turn, is likely to create jobs and economically gainful activities on a bigger scale.

In order to provide back up to the initiatives of private entrepreneurs in the tourism field, the government will have to relax its present outdated rules that deny foreign tourists many of the things they take for granted in countries. Where it has flourished. Extreme rigidity in the selling of alcoholic drinks and allowing of night life that are integral part of tourism internationally, discourage foreign tourists from coming to Bangladesh in increasing number. Therefore, it would be only sensible to drop such prohibitions in an around the tourists spots or at least in tourist spots designed exclusively for the foreign travelers.


Quality of bus service

Quality of bus service

Improved bus service has been encouraged in Dhaka City for the last several years to facilitate easier and comfortable travel. A World Bank aided project contributed specially to this end and a number of private bus companies sprig up in the period with the aim of providing better bus services to people. The companies started off by rendering good services at the outset and sustaining the quality services. However, these services are declining much to the dismay, annoyance and inconveniences of passengers.

It appears that private bus service that earned distinction such as Premium, Nirapad, and to some extent even the state run Bangladesh Road Transport Corporation (BRTC) service have deteriorated in quality. The carrying of limited number of passengers against one seat, etc that has been the distinctive features of these services are seen violated frequently nowadays. Besides, the buses are let our for private trips and the like that causes shortages of vehicles in city services which in turn much increase travel time as schedules of services cannot be maintained.

Therefore, people who have developed the habit of using these services cannot think of an alternative, feel that they are being exploited. The fares charged by these exclusive bus companies, except the state operated BRTC one, are substantially higher than that charged by the ordinary services.

Bus services were promoted in Dhaka with the hope that this form of travel would fast gain acceptance among different categories of commuters in the city. This would reduce dependence on rickshaws and tree wheeler such as baby taxis that create jams and are environmentally hazardous respectively. People’s response to the new bus services was also good. The authorities, thus, are requested to give their attention to pulling up the standards of bus services in the city.


Make booking here

Calendar is loading...
Powered by Booking Calendar
Skip to toolbar